বিশ্বত্রাস বিষধর সাপেদের কাহিনির স্রোত

( পর্ব -২)

Banglalive

১১ ) বেলচার’স সি স্নেক

Banglalive

Banglalive

এটি জলে থাকা সাপ | ভারত মহাসাগরে এই সাপের সন্ধান পাওয়া যায় | ভীরু প্রকৃতির এই সাপটি একান্তই বিরক্ত বোধ না করলে কাউকে দংশন করে না | বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে মৎসজীবীরা মাছ ধরতে জাল ফেলে এই সাপের ছোবলে আক্রান্ত হয়েছেন | এই সাপটিকে খুব বেশি ক্ষতিকারক হিসেবে গণ্য করা হয় না | কারণ এই সাপটি খুব কমই বিষ প্রয়োগ করে | সাধারণত ০.৫ থেকে ১ মিটার দৈর্ঘ্যের হয় | এদের মুখ খুবই ছোট | দাঁত ছোট ও সূচালো হয় |  এরা জলের তলায় ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত থাকতে পারে |  এই সাপটির রঙ হলদেটে ধরনের হয়‚ সঙ্গে থাকে সবুজের ছোপ | সাপটির বিষ কিন্তু মারাত্মক ক্ষতিকারক | এই সাপের কয়েক মিলিগ্রাম বিষে মারা যেতে পারে প্রায় হাজারও মানুষ |

Banglalive

১২ ) ফরেস্ট কোবরা

এরা ব্ল্যাক কোবরা বা ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট-লিপড কোবরা নামেও পরিচিত। প্রধানত আফ্রিকার মধ্য ও পশ্চিমভাগে এদের দেখা যায় ।  ফরেস্ট কোবরার গড় দৈর্ঘ্য ১.৪ থেকে ২.২ মিটার । বিশেষ ক্ষেত্রে এরা ২.৭ মিটার থেকে ৩.১মিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে । প্রধানত নিচু বনাঞ্চল এবং আর্দ্র সাভানা প্রান্তরকে বাসস্থান হিসেবে পছন্দ করে । তবে এদের ভৌগোলিক সীমার অন্তর্গত বিভিন্ন প্রকার স্থানে এরা নিজেদেরকে অভিযোজিত করে নেয়। শুষ্কতর আবহাওয়াযুক্ত অঞ্চলেও এদের দেখা যায়। ফরেস্ট কোবরা সাঁতার কাটতে পারদর্শী এবং সেই কারণেই এদের প্রায়ই অর্ধ-জলচর হিসাবে গণ্য করা হয়। একবার দংশনে এই প্রজাতির সাপেরা এত বেশি বিষ আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে ঢুকিয়ে দেয়, সেই কারণে এরা ভীষণ বিপজ্জনক। এদের কামড়ে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বিষক্রিয়ায় ৩০ থেকে ১২০মিনিটের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে।

১৩ ) ডেজার্ট হর্নড ভাইপার

ডেজার্ট হর্নড ভাইপারের দুই চোখের ওপরে ছোট শিঙের মত দুটি অংশ থাকে | উত্তর আফ্রিকায় এই সাপের দেখা পাওয়া যায় | হর্নড ভাইপার ২৪ ইঞ্চি অবধি লম্বা হতে পারে। গায়ের রঙ হালকা বাদামি বা হলুদ বর্ণের হয়, যা তাদের মরুভূমির পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করে। পাথুরে এলাকা এদের খুব পছন্দ। দিনের বেলা অত্যধিক তাপ থেকে বাঁচতে বালির নিচে লুকিয়ে থাকে এবং সন্ধ্যার পর শিকারে বেরোয় । অন্যান্য সাপের মতো এঁকেবেঁকে চললেও এরা সোজাসুজি সামনে এগোয় না । এই সাপের দংশনে নেক্রোসিস, রক্তক্ষরণ,‚বমি, হেমোরিয়া হলেও দ্রুত সঠিক চিকিৎসায় সেরে যায় |

আরও পড়ুন:  স্নানের সময় পুকুরে পায়ে বাধা কলসে...ডাবের শিষই মায়ের নোলক...বড়িশার ২২৬ বছরের চণ্ডীমেলার ঐতিহ্য

১৪ ) বুমস্ল্যাং

প্রধানত আফ্রিকায় এই সাপ দেখতে পাওয়া যায় | সাপটি গাছেই বসবাস করে | চোখদুটি বড় আকারের হয় | মাথা ছোট | এদের দৈর্ঘ্য ১০০ থেকে ১৬০ সেন্টিমিটার হয় | ওজন সাধারণত ২৯৯.৪ গ্রাম হয় | পুরুষ সাপের রঙ হয় হাল্কা সবুজের সঙ্গে কালো বা নীলের ছোপ | স্ত্রী প্রজাতির সাপগুলি বাদামি হয় | এই সাপ কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই এর বিষক্রিয়া বোঝা যায় না | কামড়ানোর কয়েক ঘন্টা পর শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের জেরে মানুষের মৃত্যু হতে পারে |

১৫ ) কিং কোবরা

ভারত‚ বাংলাদেশ‚ ভুটান‚ মালয়েশিয়া‚ বার্মা‚ চিন‚ সিঙ্গাপুর‚ থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশে কিং কোবরা দেখতে পাওয়া যায় | সাধারণত ৩ থেকে ৪ মিটার লম্বা হয় | রঙ হয় হলদেটে | গায়ে ডোরা কাটা দাগ থাকে | এরা মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে | এর বিষ মারাত্মক ক্ষতিকারক | কিং কোবরা কামড়ালে যদি চিকিৎসা না হয় তাহলে কামড়ানোর আধ ঘন্টার মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তি মারা যেতে পারে | ভারত ও বার্মার কিছু অংশে কিং কোবরার পুজো করা হয়ে থাকে |

১৬ ) ইস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটেল স্নেক

মূলত দক্ষিণ – পূর্ব আমেরিকায় দেখা যায় | ক্যারোলিনা‚ ফ্লোরিডা‚ অ্যালাব্যামা‚ মিসিসিপি প্রভৃতি জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় | দৈর্ঘ্য সাধারণত ২.৫ মিটার | এদের ওজন ১৫ কেজি পর্যন্ত হয় | খুব বেশি আক্রমণাত্মক না হলেও এদের বিষ খুবই ক্ষতিকারক | র‍্যাটেল স্নেক প্রজাতির সবথেকে বেশি ভারি সাপ ইস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটেল স্নেক |

১৭ ) ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটেল স্নেক

ইউনাইটেড স্টেটসের দক্ষিণ পশ্চিমে‚ ক্যালিফোর্নিয়া‚ মেক্সিকো ইত্যাদি জায়গায় পাওয়া যায় | এদের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ সেন্টিমিটার | নানা রঙের হয় | গায়ে ডায়মন্ড আকারের ছাপ থাকায় এদেরকে ডায়মন্ডব্যাক বলা হয় | মেক্সিকোতে সর্বাধিক সর্পদংশনের জন্য দায়ী এই সাপটি | ইস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র‍্যাটেল স্নেকের থেকেও বেশি ক্ষতিকর হয় এদের বিষ |

১৮ ) কোরাল স্নেক

আমেরিকার নানা জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করে এই সাপ | এর এই নামকরণের কারণ হল এই সাপটি নানা রঙবেরঙের হয় | লাল‚ কালো‚ সাদা ইত্যাদি রঙের ডোরা দাগে সাপটিকে দেখতে বেশ সুন্দর লাগে | মানুষের সামনে পড়লে এই সাপ পালিয়ে যায় | কামড়ানোর খবর খুব বেশি পাওয়া যায় না | কিন্তু এই সাপের বিষ প্রতিরোধক ওষুধ বিরল | তাই এই সাপের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে |

আরও পড়ুন:  বছরে ৮ মাস জলের তলায়‚ এই রহস্যময় মন্দিরেই স্বর্গের সিঁড়ি বানাতে শুরু করেছিলেন পঞ্চপাণ্ডব

১৯ ) রাসেলস ভাইপার

ভারতা‚ বাংলাদেশ‚ শ্রীলঙ্কা‚ নেপাল‚ পাকিস্তান‚ মায়ানমার‚ থাইল্যান্ড‚ চিন‚ ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি জায়গার বাসিন্দা রাসেলস ভাইপার |  সাধারণ দৈর্ঘ্য ১২০ সেন্টিমিটার | গায়ের রঙ হয় হলদে বা বাদামি | এই সাপের দংশন অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক | দ্রুত চিকিৎসা না হলে রক্তক্ষরণের ফলে ঘটতে পারে মৃত্যু |

২০ ) কার্পেট পাইথন

পাইথন পরিবারের সদস্য এই বিশালাকার পাইথনটি অস্ট্রেলিয়া‚ নিউগিনি‚ বিসমার্ক দ্বীপপুঞ্জ‚ সোলোমন দ্বীপপুঞ্জের উত্তরাংশ ইত্যাদি স্থানের বাসিন্দা | দৈর্ঘ্য ২ মিটার থেকে ৪ মিটার হয় | এদের ওজন ১৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে | অলিভ‚ কালো‚ সাদা‚ ক্রিম ইত্যাদি অনেক রকম রঙের হয় | সোনালি ডোরা থাকে গায়ে | এরা মানুষকে খুব বেশি আক্রমণ করে না | টিকটিকি‚ ছোট পাখি‚ বাদুড় ছাড়াও পোষ্য কুকুর বা বিড়ালকে আত্মসাৎ  করতে পারে এই সাপ | কোনও শিকারকে কামড়ানোর পর বিশালাকার দেহ দিয়ে পেঁচিয়ে তাদের শরীরের হাড় ভেঙে ফেলে তাদেরকে ভক্ষণ করে এই সাপ |

বাইরে থেকে দেখলে সাপও বেশ নিরীহ এবং সুন্দর জীব‚ কিন্তু একটা মাত্র ছোবলেই জীবনে নেমে আসতে পারে অভিষাপ |

( সমাপ্ত )

গত পর্বের লিঙ্ক –  https://banglalive.com/worlds-most-dangerous-snakes/

NO COMMENTS