কুসংস্কারের বশে শিশুর অতিরিক্ত আঙুল কেটে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেন মা!

অতিরিক্ত অঙ্গ নিয়ে জন্মানো বা জন্মগতভাবে কোনও অঙ্গ না থাকা চিকিৎসার পরিভাষায় খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এই ঘটনা আজাকাল প্রায়শই ঘটে থাকে। কিন্তু দুঃখের বিষয়ে আজও এই ধরণের ঘটনা নিয়ে মানুষের মন কুসংস্কারাচ্ছন্ন।

পাঁচের জায়গায় অতিরিক্ত ছ’টা আঙুল নিয়ে জন্মেছিল মেয়েটি।সদ্যোজাতকে দেখেই মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিল মায়ের। দু’হাতে এবং পায়ে পাঁচের জায়গায় ছ’টা আঙুল মানেই নাকি তা অশুভ! এই মেয়ে তো পরিবারের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে নিয়ে আসবে। তাছাড়া, এই মেয়ের বিয়ে হবে কী করে? তাই ছুরি দিয়ে নিজের মেয়ের আঙুলে বসালেন কোপ। যার ফলও হল মারাত্মক। আঙুল কাটার ঘণ্টা খানেক পরেই মৃত্যু হল শিশুকন্যার।

ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডয়া জেলার সুন্দরদেব গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই গ্রামে কয়েকটি আদিবাসী পরিবার বাস করেন। সেখানকারই তারাবাঈ নামে এক আদিবাসী মহিলা গত ২২ ডিসেম্বর এক শিশুকন্যার জন্ম দেয়। প্রসবের পরই সে দেখে তার মেয়ের হাত ও পায়ে অতিরিক্ত কয়েকটি আঙুল রয়েছে। তাই দেখে তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাকে ইন্ধন জোগাতে থাকে যে এই মেয়ে সংসারে অলক্ষণ বয়ে আনবে। তাই আর দেরি না করে মেয়েকে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে এসে এক কোপে অতিরিক্ত আঙুলগুলো কেটে ফেলে মা। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত মাত্রায় রক্তপাত হতে দেখে, রক্ত বন্ধ করার জন্য ক্ষতস্থানে গোবর লেপে দেয়। এর ঘণ্টাখানেক পরেই মৃত্যু হয় শিশুকন্যার।

পুলিশ জানিয়েছেন, মেয়ের মৃত্যুর খবরও গোপন করে গিয়েছিল ওই আদিবাসী মহিলা। শিশুটির দেহ বাড়ির ভিতরেই মাটি খুঁড়ে পুঁতে দিয়েছিল সে। পরে পরিবারের অন্যদের সন্দেহ হওয়ায় ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। শিশুটির দেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার রুচি বর্ধন মিশ্র জানিয়েছেন, শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছে তারাবাই। পুলিশকে সে বলেছে, মএয়ের হাতে পায়ে অতিরিক্ত আঙুল ছিল, তাই সবাই তাকে বলেছিল যে এই মেয়ে দুর্ভাগ্য বয়ে আনবে, তাছাড়া এমন মেয়েকে কে বিয়ে করবেএইসব ভেবেই সে এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে।

দেশের নানা রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে এখনও যে কী পরিমাণ কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের বীজ মানুষ বহন করে চলেছে তা এই ধরনের খবর সামনে আসলেই বোঝা যায়। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, পঞ্জাবের প্রত্যন্ত গ্রামে এখনও আইনের ফাঁক গলে চলছে কন্যাভ্রুণ হত্যা। ভিন্ন জাতে বিয়ে করলে এখনও পুড়িয়ে মারা হয় মেয়েদের।

পুলিশ জানিয়েছে, খাণ্ডয়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম সুন্দরদেব। একানকার আদিবাসীদের মধ্যে নানা রকম কুসংস্কার রয়েছে। কন্যাসন্তান নিয়ে ছুঁৎমার্গ, ডাইনি প্রথার চল এখনও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে পুরো মাত্রায় রয়েছে। সেই কুসংস্কার থেকেই নিজের সদ্যোজাত কন্যাসন্তানের আঙুল কেটে ফেলতেও দু’বার ভাবেনি তার মা।

ব্লক মেডিক্যাল অফিসার শৈলেন্দ্র কাটারিয়ার কথায়, কন্যা সন্তান জন্মের পর অনেক বেশি সতর্ক থাকার জন্য গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন সদ্য প্রসূতি কীভাবে নিজের শিশুকে বাইরে নিয়ে গিয়ে তার আঙুল কেটে ফেলতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। গাফিলতি প্রমাণিত হলে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কফি হাউসের আড্ডায় গানের চর্চা discussing music over coffee at coffee house

যদি বলো গান

ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্স-এ সারা রাত ক্লাসিক্যাল বাজনা বা গান শোনা ছিল শিক্ষিত ও রুচিমানের অভিজ্ঞান। বাড়িতে আনকোরা কেউ এলে দু-চার জন ওস্তাদজির নাম করে ফেলতে পারলে, অন্য পক্ষের চোখে অপার সম্ভ্রম। শিক্ষিত হওয়ার একটা লক্ষণ ছিল ক্লাসিক্যাল সংগীতের সঙ্গে একটা বন্ধুতা পাতানো।