রাস্তার আলোয় চলে ভবিষ্যতের পাঠ‚ বহু জীবনের আলোর দিশা মুম্বইয়ের ‘অভ্যাস গলি’

abhyas galli mumbai

সূর্য অস্ত গেলে রাস্তায় জ্বলে ওঠে হ্যালোজেনের আলো আর সেই আলোর নীচে পড়বে বলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসে পড়ুয়ার দল। মুম্বইয়ের ‘অভ্যাস গলি’তে এমন চিত্র বছরের পর বছর ধরে প্রতি সন্ধেবেলা দেখা যায়। বড় যৌথ পরিবারের ভিড় ভাট্টা কোলাহলে পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটলে ছাত্রছাত্রীরা বই খাতা পেন নিয়ে হাজির হয় এখানেই, একটু নিভৃতিতে পড়বে বলে। এখানে কেউ তাদের পড়াশোনায় বিরক্ত করে না। দীর্ঘ রাত ধরে নির্বিঘ্নে লেখাপড়া করতে অনেকেই আসে এমন। বেশ নির্জন, শান্ত এই ‘অভ্যাস গলি’। রাস্তার একধারে যতদূর চোখ যায় সবুজ গাছের সারি। কেউ কেউ নাম দিয়েছে ‘পড়াই গলি’। ব্যস্ত ওরলি নাকা থেকে কিছু দূরে পোদ্দার হসপিটালের পেছনে এই গলি বিগত দু’ প্রজন্মের পড়ুয়া ছেলেপুলের জন্য হয়ে উঠেছে স্বর্গ।

রাস্তার আলোগুলিও বেশ উজ্জ্বল ! পথের ধারে ধারে পরিচ্ছন্ন বেঞ্চও পাতা আছে কিছু। বেঞ্চে জায়গা না জুটলে রাস্তার ওপরেই খবরের কাগজ, মাদুর, আসন পেতে বিছিয়ে পড়তে বসে ছাত্ররা। ছাত্রদের জন্যই মূলত আবার নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে এই রাস্তাটিকে। আকর্ষণীয় পথ শিল্প আর প্রেরণা দায়ক বাণী দিয়ে সাজানোও হয়েছে ঢেলে। তাতে এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি হয়েছে যাতে এখানে এলেই পড়ায় মন বসে খুব সহজে। বহু পড়ুয়ার শিক্ষাজীবনে শুভ অবদান রেখেছে এই রাস্তা। এই রাস্তাটি আসল সুদাম কালি আহিরে মার্গ -এর একটি অংশ। কিন্তু অনেক দিন যাবত পড়ুয়াদের আনাগোনা দেখেই অঞ্চলের অধিবাসীরা পুরসভার কাছে প্রস্তাব করে সরকারি ভাবে এই রাস্তার নামটি পালটে ‘অভ্যাস গলি’ রাখা হোক।

বৃহনমুম্বই ইলেকট্রিক সাপ্লাই এন্ড ট্রান্সপোর্ট-এর পক্ষ থেকে উজ্জ্বল আলোর বাতিগুলোও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে পড়ুয়াদের জন্য। নিজে পড়ার জন্যই শুধুমাত্র নয়, এই রাস্তাটি বিখ্যাত গ্রুপ স্টাডির জন্যও। একসঙ্গে জোট বেঁধে পড়াশোনা করে অনেকেরই বেশ উন্নতি হয়েছে। এই গলিতে পড়াশোনা করা প্রাক্তনীরাও নানা সময়ে এসে ছোটদের পড়াশোনায় সাহায্য করে। দেড়শো দুশো স্কোয়্যার ফিটের ছোট্ট পায়রার খোপে যারা থাকে, তারা জানিয়েছে কীভাবে এই গলি তাদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছে। বাড়ির ওইরকম পরিবেশে হয়ত পড়াশোনাটাই হত না। লাইব্রেরিগুলোও তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। তাই এই গলির খোলামেলা পরিবেশে পড়াশোনা করা বাড়ি বা লাইব্রেরির থেকে হাজার গুণে ভালো। বিবিডি চওলের ছোট্ট ছোট্ট আকারের বাড়ির ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই রাস্তাই তাদের পঠনপাঠনের আদর্শ স্থান। সন্ধে সাতটা থেকে ছাত্রছাত্রীরা জড়ো হতে শুরু করে, কেউ কেউ তো সারারাত ধরে পড়ে। তবে সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী দেখা যায় সন্ধে সাতটা থেকে রাত দশটা অবধি। ‘অভ্যাস গলি’ না থাকলে পড়াশোনা সেভাবে হত না অনেক ছাত্রছাত্রীরই। তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিয়েছে এই রাস্তা। অনেক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক আরও বিবিধ সম্মানজনক পেশায় প্রতিষ্ঠিত মানুষের অপরিশোধ্য ঋণ রয়ে গেছে এই বিশেষ পথটির কাছে।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.