বাঙালি সংসারে শাশুড়ি-বৌয়ের বহু অশান্তি মিটিয়ে দেবে ‘মুখার্জীদার বউ’!

সিনেমা নিয়ে পরে লিখছি, দাঁড়ান। আগে একটু লিখে নিই ছবি রিলিজ করার আগে ছবির যে প্রমোশনাল ক্যাম্পেন হয়েছিল, সেটা নিয়ে। আলাদা করে বলতে চাই ছবির টিজার ক্যাম্পেনটার কথা। ওটা দেখতে দেখতে মনে হয়েছিল, এত ছবির এত রকমের টিজার দেখেছি জীবনে, কিন্তু এটার সঙ্গে আর কোনটা বোধহয় তুলনীয় নয়!

ইচ্ছে হলে ইউটিউব খুলে এখনও দেখে নিতে পারেন ওগুলো। প্রথম টিজার আপলোড করার তারিখ ছিল এ বছর ১৮ জানুয়ারি। কী ছিল সেই টিজারে? যেটা ছিল, পরিভাষায় তাকে ‘ভক্স পপুলি’ বলে।

‘ভক্স পপুলি’ মানে? নানা বয়সের নানা মহিলার ‘ইন্টারভিউ বাইট’ নিতে তাঁদের কাছে পৌঁছে গেছিল ক্যামেরা সহ প্রোডাকশনের টিম। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, ‘আপনার বাপের বাড়ি’ কোথায়?

এর উত্তর দিতে কারুর তখন অসুবিধে হয় নি কিছু। কেউ বলছেন বাঁকুড়া, কেউ বলছেন সুন্দরবন, কারুর আবার বাপের বাড়ি বরানগর।

এর পরের প্রশ্ন ছিল, ‘আপনার শ্বশুরবাড়ি’ কোথায়?

একটু আগে বাপের বাড়ি নিয়ে প্রশ্নটার উত্তর দিয়েছিলেন যাঁরা, সেই তাঁদের মুখগুলো একের পর এক তখন রিপিট হচ্ছে ফের। আর উত্তরে কেউ বলছেন, এন্টালি পদ্মপুকুর, কেউ আবার বলছেন পিকনিক গার্ডেন বা ঢাকুরিয়ার কথা।

এই অবধি সব কিছু ঠিক ছিল কিন্তু এর পর থার্ড যে প্রশ্নটা করা হয়, সেটার জন্য বোধহয় তৈরি ছিলেন না কেউ।

প্রশ্নটা হল, এবার বলুন ‘আপনার নিজের বাড়ি’ কোথায়?

ভিডিওটাতে দেখতে পাচ্ছি, এটার উত্তর দিতে গিয়ে থতমত খেয়ে যাচ্ছেন সবাই। আমতা-আমতা করে কেউ বলছেন, ‘নিজের বাড়ি বলতে তো শ্বশুরবাড়িটাই হয়’ কেউ হেসে এটা বলছেন যে, ‘আমার হাজব্যান্ডের বাড়িই আমার বাড়ি’। একজন দেখলাম সাফ বলে দিলেন, ‘মেয়েদের কোন নিজের বাড়ি নেই’। ‘নিজের বাড়ি বলে তো মেয়েদের কিছু হয় না, হয় বরের বাড়ি, বাবার বাড়ি… নয় ছেলে-মেয়ের বাড়ি’! টিজারটা এরপর শেষ হচ্ছে এটা বলে যে, ‘এই ৮ই মার্চ, আপনার নিজের বাড়ি খোঁজার দিন’।

ঠিক ধরেছেন, সেই ৮ মার্চ আসলে ‘মুখার্জীদার বউ’ রিলিজের ডেট!

এত সহজ সরল আটপৌরে স্টাইল নিয়ে তৈরি অথচ লক্ষ্যে এত ফোকাস্‌ড টিজার এর আগে আর কখনও বাংলা ছবিতে দেখেছি বলে মনে পড়ছে না আমার।

জানি না প্রোমোশনের এই প্ল্যানটা কার, কিন্তু তখন থেকেই ছবিটা নিয়ে আমার মুগ্ধ হওয়ার শুরু।

প্রথম চমকটা দেওয়ার পর ক্যাম্পেনের বাকি ভিডিওগুলোও বেশ ভাল। প্রথম টিজারের ছয় দিনের মাথায় দেখলাম আপলোড হল পরের টিজার। এটাও সেই আগের স্টাইলে বানানো। তবে এবার কোশ্চেনের ফোকাস হল আলাদা। রিয়্যাল লাইফ শাশুড়িদের থেকে জানতে চাওয়া হচ্ছে তাঁদের বউমাদের দোষ আর গুণ কী কী। আর কোন কথাগুলো বউমাদেরকে বলতে চেয়েও কখনও আর বলে ওঠা হয় নি তাঁদের।

রিয়্যাল লাইফের এঁদের সঙ্গে সিনেমার শাশুড়িকে মিলিয়ে দেওয়ার জন্যেই বোধহয় ঠিক এর পর দিন আপলোড হল ছবির শাশুড়ি শোভারানির (অভিনয়ে অনসূয়া মজুমদার) ফুটেজ।

পুত্রবধূ অদিতিকে নিয়ে কী ভাবছেন তিনি? ‘তোমার বিয়ের পরদিন তুমি তোমার বান্ধবীকে বলেছিলে, আমাকে নাকি মা ডাকতে তোমার ভাল লাগে না।’ এটা বলার পাশাপাশি শোভারানি শুনিয়ে দিলেন আরও বেশ কিছু অভিমান আর অনুযোগ মাখা কথা।

সিনেমা থেকে আবার রিয়্যাল লাইফে ফিরুন। এবার শাশুড়িকে নিয়ে বউমাদের মতামতের পালা। পরের টিজারে কোন বউমা যেমন এটা বলছেন যে, ‘শাশুড়ি ভাল রান্না করে, রুচিসম্পন্ন’, সেরকম কেউ এটা বলতেও ছাড়লেন না যে, ‘ভীষণ কুচুটে, খুব মিথ্যে কথা বলেন’। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে এল ছবির বউমা অদিতি-র (কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়) ফুটেজ, ‘বউভাতের পরের দিন দুপুরবেলায় সবথেকে ছোট মাছের টুকরোটা তুমি আমায় দিয়েছিলে – তাও গাদার পিস, পেটি ছাড়া আমি খেতে পারি না। আজ আমার নিজের মা হলে কখনও ওই সব থেকে ছোট টুকরোটা আমায় দিতে পারতো?’

কোনটা ‘রিল’ আর কোনটা ‘রিয়্যাল’, সে ব্যাপারটা তখন যেন গুলিয়ে গেল খুব।

বারবার এটা মনে হচ্ছিল যে, টিজার দিয়ে এই ক্যাম্পেনটাও মূল ছবির ইনটিগ্রাল পার্ট। ক্যাম্পেনে অচেনা যে শাশুড়ি আর বউমাদের মুখগুলো একের পর এক ভেসে উঠছিল স্ক্রিনে, এই ‘মুখার্জীদার বউ’ ছবিটা যেন আসলে সেই মহিলাদের নিজের ঘরের রিয়্যাল লাইফ স্টোরি!

শ্বশুরমশাইয়ের শ্রাদ্ধবাসরে নিমন্ত্রিত যে মহিলা গোপন একটা সাঁট দেওয়ার স্টাইল নিয়ে শাশুড়ি মাকে শুনিয়ে দিলেন, ‘এই জন্য বলেছিলাম দিদি যে বাঙাল বাড়িতে বিয়ে দিস না’ তাঁর জেশ্চারটা মাথায় রাখুন প্লিজ। কিংবা নিচের ফ্ল্যাটের পুতুলদি (অপরাজিতা আঢ্য) যখন এটা বলে ফেলল যে, ‘অদিতি আমি তো একা একা বাঁচতে জানি না’ তখন ওঁর বডি ল্যাংগুয়েজ পড়ুন। বুঝতে পারবেন এঁদের সবাই কিন্তু সেই টিজার ক্যাম্পেনে দ্যাখা টুকরো টুকরো মুখের মধ্যে লুকিয়ে রয়ে গেছেন!

যে দু’জন মানুষকে নিয়ে এ ছবির গল্প, তাঁদের একজন হলেন শাশুড়ি। তাঁর নাম শোভারানি। আর অন্যজন তাঁর ছেলের বৌ অদিতি। তবে আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, ওসব নামে কেউ ডাকে না তাঁদের। সমাজের সিস্টেম এসে শিখিয়ে গেছে, দু’জনকে ডাকার জন্য একটা ‘কমন নাম’ই ঢের। আর সেটা হল ‘মুখার্জীদার বউ’!

এই যে জলজ্যান্ত দু’জন মানুষের পরিচয় পুরো হাওয়া করে দিয়ে বরের সারনেম দিয়ে চেনানো হচ্ছে তাঁদের – এমনটা তো এই চারপাশে হতেই দেখছি রোজ। কানেও তো এগুলো শুনতে ততটা খারাপ লাগে না, বলুন? তবে এই সিনেমাটা আন্ডারলাইন করে সবাইকে বুঝিয়ে ছাড়ল, ওই কথাগুলো শোনার হ্যাবিট যদি হয়েও থাকে, আদপেই সেটা ঠিক অভ্যেস নয়। ওভাবে বরের পদবী দিয়ে বউকে চেনালে কার্যত তাঁকে অবহেলা করা হয়।   

আসুন ছবির গল্পে। শ্বশুরমশাই চলে যাওয়ার পর এখন শাশুড়ি শোভারানি খুব একা। বাড়ির বউ অদিতির সঙ্গে খিটিমিটি আরও বেশি। অবস্থাটা বাড়তে বাড়তে এমন হয়ে দাঁড়াচ্ছে যে, প্রায় নাচার হয়ে দু’জন গিয়ে হাজির হচ্ছেন সাইকোলজিস্টের কাছে। মনোবিদ আরাত্রিকা ভট্টাচার্য (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত) আলাদা আলাদা ভাবে দীর্ঘ ‘সেশন’ কাউন্সেলিং করছেন তখন সেই দু’জনের সঙ্গে। আর লম্বা লম্বা আলাপচারিতার মধ্যে দিয়ে একটু করে পরত খুলছে সিস্টেমের খাঁজের মধ্যে জমে থাকা কু-সংস্কার যা আছে।

সিনেমার গল্প যদি জানতে চান তো, সেটা এর থেকে বেশি না। কিন্তু এ ছবিতে সেই টুকুনি এমন ভাবে দ্যাখান হল, যে দেখে চমকে গিয়েছি আমি।

মধ্যবিত্ত জীবন থেকে তুলে আনা টুকরো টুকরো ছবি। প্রত্যেকটা আলাদা সিন যেন আলাদা আলাদা ছোট গল্পের মত! প্রধান দুই চরিত্র ছাড়া আরও বেশ কিছু খুব ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টারের ভিড়! খুব ছোট্ট একটা ক্যারেক্টারের মধ্যেও যেন লুকিয়ে রাখা না-বলা কত কথা! চেনা সংসারের এমন দৃশ্য বাংলা ছবিতে শেষ কবে ধরা দিয়েছিল, মনে পড়ছে না ঠিক!

এই ছবির সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে অনেকে দেখছি টেনে আনছেন ‘পারমিতার একদিন’ (২০০০) নামে বহু-খ্যাত এক ছবি। এটা অবশ্য ঠিকই যে, সেটাও শাশুড়ি আর তাঁর ছেলের বউয়ের স্টোরি। কিন্তু কথাটা কী জানেন? ওই ছবিটা দেখতে গিয়ে আমার অন্তত মনে হয়েছিল, পুরো গল্পটা যিনি বলছেন, তিনি ওই সংসারের কেউ না। তিনি বাইরে থেকে আসা একজন জ্ঞানী-গুণী মানবদরদী কেউ।

আর তার পাশে এই ‘মুখার্জীদার বউ’? এ ছবি যাঁরা তৈরি করেছেন, মনে হচ্ছিল তাঁরা যেন দাঁড়িয়ে আছেন ওই সংসারের মধ্যে গিয়ে, চরিত্রদের পাশে! যাঁদের গল্প বলা হচ্ছে তাঁরা যেন সবাই ছবির নির্দেশক (পৃথা চক্রবর্তী) আর গল্পকারের (সম্রাজ্ঞী বন্দ্যোপাধ্যায়) নিজের ঘরের লোক!

‘পারমিতার একদিন’ থেকে এই ছবিটা যে ঠিক কোথায় আলাদা, এবার সেটা বোঝা গেল তো?

এমন অদ্ভুত সব মোমেন্ট ছবিতে তৈরি হচ্ছিল যে মাঝে মাঝে হাঁ হয়ে যাচ্ছিলাম জাস্ট! একজন পুরুষ দর্শক হিসেবে মনে হচ্ছিল অচেনা এক পৃথিবী চোখের সামনে খুলে গেল যেন পুরো! মনে পড়ছিল প্রথমবার ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ বা ‘সুবর্ণলতা’ পড়তে গিয়ে অনেকটা এই গোছেরই কিছু অনুভূতি মনে এসেছিল যেন!

কখনও আবার মনে হচ্ছিল ইরানের দুঃসাহসিক ছবি-করিয়েদের কথা! মনে হচ্ছিল চেনা কলকাতার মধ্যেও বোধহয় কোন একটা লুকনো এবং অচেনা ‘ইরান’ আছে! এই ছবিতে যে ইরানের কিছুটা হয়তো বের করা গেছে খুঁজে!

তবে ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি মানে এটা নয় যে, ছবির মধ্যে কোন অসঙ্গতি চোখেই পড়ে নি আমার।

যেমন ধরুন, একটা কথা খুব মনে হচ্ছিল যে, মেয়েদের নিয়ে লেখা গল্পতে ছেলেদের প্রোটোটাইপ কি মোটে দুটো? হয় তারা আকাট এবং কিঞ্চিৎ ভিলেন টাইপ হবে। যেমন হল, এই সিনেমার শাশ্বত (বিশ্বনাথ বসু)। যে হাঁই-হাঁই করে চেঁচিয়ে উঠে বলতে থাকে যে, ‘বাবা মারা যাবার পর আমি এ বাড়ির আর্নিং মেম্বার। আমার পয়সায় তোমরা খাও। আমার কথা পছন্দ না হলে দরজা খোলা আছে, রাস্তায় বেরিয়ে যেতে পারো’। আর না হলে হবে সর্বগুণসম্পন্ন সুপারহিরোর মতো। যেমন এ ছবির অজিতেশ (বাদশা মৈত্র)। সিঙ্গেল ফাদার হিসেবে ছেলেকে বড় করছে একা। শুধু ছেলেকে স্কুলে দেওয়া-নেওয়াটাই নয়, তার সঙ্গে নিজে বাড়ির রান্না অবধি করে! সবসময় ধোপদুরস্ত ফিটবাবু সেজে থাকে, আর দামি এসি গাড়ি নিয়ে ঘোরে!

শাশ্বত আর অজিতেশ – এই এক্সট্রিম দুটো ক্যাটেগরি ছাড়া এই দুনিয়ায় কি অন্য কোন ক্যাটেগরির পুরুষ নেই কোন?

তারপর ধরুন, শাশুড়ি আর পুত্রবধূর মনোবিদের কাছে যাওয়ার ব্যাপারটা নিয়েও খটকা লাগছিল বেশ। সিনেমায় দ্যাখান হচ্ছে, রোজ দুপুরে সাইকোলজিস্টের চেম্বারে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু এভাবে রোজ দুপুরে একই পেশেন্টকে কাউন্সেলিংয়ের সময় কি দেন কেউ? খুব বেশি হলে তো সপ্তাহে মোটে একদিন ডেট থাকে! এবং সঙ্গে ভিজিট থাকে চড়া! সিনেমার এই শাশুড়ি-বউমা রোজ রোজ এই ‘সেশন’ ম্যানেজ করল কী করে, শুনি?

রাণাদার (শঙ্কর চক্রবর্তী) ক্যারেকটার যেটা দ্যাখান হল, সেটাও একটু কেমন কেমন যেন! ওই বয়সের একটা লোক এক্সট্রা ম্যারিটাল করতে হলে তো দুপুরে কোন ফ্ল্যাটে কিংবা হোটেল রুমে যাবে! কচি বয়সের একটা মেয়ের হাত ধরে ফুটপাথে হাঁটতে থাকার নামই কি এক্সট্রা ম্যারিটাল নাকি?

ছবিতে আছে মা-বাবা-মেয়ের একসঙ্গে স্কুটার চড়ার সিন। ছোট্ট মেয়ের মাথাতেও যে হেলমেট পরা, সেটা দেখে তো ভালই লাগল খুব। কিন্তু এটা কিছুতে বুঝতে পারছিলাম না যে, বাবা অর্থাৎ শাশ্বতের হেলমেটের স্ট্র্যাপ সবসময়েই খোলা অবস্থায় থাকে কেন? এটা কি অভিনেতা বিশ্বনাথের ভুল? নাকি এটা কনশাসলি করা? কিন্তু কনশাসলি যদি করা হবে তো, ওর সচেতন বৌ ওর এই ভুল কখনও শুধরে দেয় না কেন?

স্কুটার পর্ব শেষ করে এবার ই-মেল পর্বে আসুন। গল্পে এটা দ্যাখান হচ্ছে যে অদিতির সব চাকরির চিঠিই ডাকে এসেছিল, একটাও নাকি ই-মেলে আসে নি! এখন মুশকিল হল, একদিকে তো দ্যাখান হচ্ছে নতুন পাঁচশো টাকার নোট, সেটা থেকে আপনি বুঝতে পারছেন গল্পের সময়কালটা কখন। আর ওদিকে আবার বলা হচ্ছে বছরকয়েক আগে অদিতি যখন চাকরি খুঁজত, তখন নাকি ই-মেলের সুবিধে ছিল না কোন! আপনি বলুন সময়ের এই হিসেবটা বেশ গণ্ডগোলের নয়?

আর এটাও কিছুতে বুঝতে পারি নি যে, চাকরির কল লেটারগুলো কুচিয়ে না ফেলে শাশুড়ি সেগুলো হাতের নাগালে আলমারির মাথায় ডাঁই করে রেখে দিয়েছিলেনটাই বা কেন?

অদিতি ফের সেগুলো খুঁজে পেয়ে কবে বাড়ি মাথায় করবে, সেটা দ্যাখার জন্যে বুঝি?

তবে একটা ব্যাপার মানতে হবে, লজিকে যদি খামতি কিছু থেকেও থাকে, সেটা পুরোপুরি পুষিয়ে গেছে ছবির অভিনেতাদের পারফরম্যান্স দিয়ে। অনসূয়া, কনীনিকা আর অপরাজিতা – ছবিতে এই তিনজন যে অবলীলায় কী করেছেন, শুধু সেটা দ্যাখার জন্যেই তো ছবিটা আবার দ্যাখা যায়!

আর শুধু তো এই তিনজনই না। কয়েক সেকেন্ডের ছোট্ট রোলে যে মানুষেরা ফ্রেমে এসেছেন, তাঁদের দেখেও মনে হয়েছে সিনেমা নয়, জীবন থেকে সরাসরি উঠে এলেন যেন!

একদম নতুন ডিরেক্টর পৃথা এই অভিনয়গুলো বের করে আনলেন কী করে, সেটা দুর্বোধ্য এক রহস্যেরই মতো!

তবে অভিনেতাদের মধ্যে একজনকে নিয়ে আমার আপত্তি আছে একটু। তাঁর চড়া মেক-আপ এই ছবিতে বিসদৃশ মনে হচ্ছিল খুব! বুঝতে পারছিলাম না, রিয়্যাল লাইফে মনোবিদেরা কি নিজের গালে সত্যি অমন পেন্ট চাপিয়ে মডেল সেজে থাকেন? ওই ভূমিকায় অভিনয়ের আগে সেই ডিটেলগুলো ঋতুপর্ণা কি খোঁজও নেন নি আদৌ?

তবে পুরো ছবিটা এত ভাল এবং ছবির শেষের ইমোশনাল কানেক্ট এত তীক্ষ্ণ যে, ছোটখাটো বিচ্যুতি নিয়ে বেশি কথা বলতে চাই না আর।

ছবি দেখে উঠে মনে হচ্ছিল, রিয়্যাল লাইফে যাঁদের বাড়িতে শাশুড়ি-বউতে মন-কষাকষি, তাঁরা একটু এই ছবিটা দেখে আসবেন কি প্লিজ? আপাত বিশ্রী দুনিয়াটাকে নতুন ভাবে বোঝার জন্য ছবিটা কিন্তু হেল্প করে দিতে পারে! কে বলতে পারে, বাঙালি বাড়িতে শাশুড়ি-বউয়ের বহু অশান্তি হয়তো মিটিয়ে দেবে এ ছবি!

পৃথা এবং সম্রাজ্ঞীর নাম এই সেদিনও তো অচেনা ছিল পুরো। আর এখন শুধু মনে হচ্ছে যে, কবে আবার ছবি বানাবেন ওঁরা? আর পরের ছবিটা এর চেয়ে আরও বেশি ভাল হবে তো?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here