হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারির পরেই মৃত্যু মধ্যবয়সীর

মাথায় টাক পড়ে যাওয়ায় অনেকেই ‘হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি’র কথা ভাবেন, কিন্তু এই সার্জারি করাতে গিয়ে মৃত্যু হল তেতাল্লিশ বছর বয়স্ক ব্যক্তির। জানা গিয়েছে শ্রবণ কুমার চৌধুরি নামে ওই ব্যক্তি পেশায় এক ব্যবসায়ী। গত ৭ মার্চ মুম্বইয়ের চিঙ্কপোকলি হাসপাতালে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি করান ওই ব্যক্তি। সার্জারির মাত্র দু’দিন পরেই মৃত্যু হয় তাঁর।

জানা গিয়েছে, গত ৭ মার্চ বাড়ির লোকের অজান্তেই হাসপাতালে গিয়ে হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করান তিনি। জানা গিয়েছে, সার্জারির মাধ্যমে তাঁর মাথায় প্রায় ৯০০০ চুল প্রতিস্থাপন করা হয়। ওইদিন হাসপাতালে শুধু তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর গাড়ির চালক। সার্জারি শেষে বাড়ি ফিরে আসার পর শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। তাঁর স্ত্রী প্রাথমিকভাবে কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। অবস্থা বেগতিক বুঝে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ডঃ এল এইচ হিরানন্দনি হাসপাতালে। ৯মার্চ মৃত্যু হয় তাঁর। জানা গিয়েছে, শ্রবণবাবুর বাড়িতে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী-সহ তিন সন্তান। তিনি যে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি করাবেন, সেকথা জানতেনই না তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মৃত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে মাথায় চুল গজানোর জন্য তিনি পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে ফেলেছিলেন ! তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় চিঙ্কপোকলি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ১৭৪ ধারায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় গাফিলতির কারণে মৃত্যুর অভিযোগে দায়ের করেছে। সেইসঙ্গে এও খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, ওই হাসপাতালে এই ধরণের চিকিৎসার পরিকাঠামো ছিল কি না !

যে চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা করেছিলেন তাঁদের কথায়, অ্যানাফাইল্যাটিক শক থেকে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এর ফলে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, শ্বাসনালীর প্রদাহ, এমনকী মৃত্যু পর্যন্তও হতে পারে বলে জানান চিকিৎসকরা। ১৫ ঘণ্টা দীর্ঘ এই সার্জারির পরে চিঙ্কপোকলি হাসপাতাল থেকে তাঁকে পেইনকিলার জাতীয় কিছু ওষুধ দেওয়া হয়েছিল, বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর যা বাড়ি ফেরার পর থেকে তিনি ঠিকভাবে গ্রহণ করেননি, তার জন্য সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলেও জানান চিকিৎসকরা। তাঁরা আরও জানিয়েছেন যে, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এই সার্জারি করা উচিত না।

ডারমেটোলজিস্টদের কথায়, আগের থেকে হেয়ার ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট-এর ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত অনেক পরিবর্তন এসেছে। দু’রকমভাবে চুল প্রতিস্থাপন হয়ে থাকে। প্রথমত, দেহের অন্য জায়গা থেকে লোম নিয়ে মাথায় প্রতিস্থাপন করা হয় এবং দ্বিতীয়ত, মাথার যে অংশে চুল কম সেখানে হেয়ারস্ট্রিপ বসানো হয়ে থাকে। এক একটা হেয়ারস্ট্রিপে ৫০০-২০০০ গ্রাফট থাকে, এক একটা গ্রাফট একাধিক চুল থাকে। এছাড়াও আর একটা পদ্ধতি রয়েছে যেখানে ম্যানুয়াল এক্সটেনশনের মাধ্যমেও চুল প্রতিস্থাপন করা হয়ে থাকে। এখানেই শেষ নয়, সার্জারির পর আসল চিকিৎসা শুরু হয়, যেখানে চিকিৎসকের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। কারণ সার্জারির পড়ে ব্যথা বা ইনফেকশন এড়াতে অ্যান্টিবায়োটিক বা পেইনকিলার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। আর এইসব ওষুধ চিকিৎসকের নির্দেশমতো যথাযথ সময়ে না নিলে হতে পারে বিপদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here