২০৫০-এর মধ্যে জলের নিচে তলিয়ে যাবে মুম্বই, কলকাতা: দাবি নয়া গবেষণায়

856

ক্লাইমেট সেন্ট্রাল নামে এক মার্কিন সংস্থার গবেষণায় সম্প্রতি উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাদের দাবি, আগামী ত্রিশ বছরের মধ্যেই (অর্থাৎ ২০৫০ সাল নাগাদ) উপকূলীয় বন্যায় বানভাসি হতে পারেন ভারতের সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষ। এবং যে এলাকাগুলির ক্ষতির আশঙ্কা সবথেকে বেশি তার মধ্যে রয়েছে মুম্বই, নভি মুম্বই ও কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বিশ্বজুড়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমনের পরিমান কমাতে না পারলে এর থেকে মুক্তির কোনও আশা নেই। এই গবেষণার জন্য কোস্টাল-ডিইএম নামে এক বিশেষ ধরনের ডিজিটাল এলিভেশন মডেল ব্যবহার করা হয়েছে যা আগে খুব একটা ব্যবহৃত হত না। 

ক্লাইমেট সেন্ট্রালের তরফে সম্প্রতি নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। তাতে দাবি করা হয়, নাসা (NASA) যে শাটল রেডার টোপোগ্রাফি মিশন (SRTM)-এর মাধ্যমে বন্যার ঝুঁকির মূল্যায়ন করে, তাতে বিস্তর গলদ রয়েছে। সেই মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী ত্রিশ বছরে ভারতে কেবল পঞ্চাশ লক্ষ মানুষের বানভাসি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্লাইমেট সেন্ট্রালের দাবি অনুযায়ী, সংখ্যাটা সাড়ে তিন কোটির চেয়ে বেশি বৈ কম নয়। 

ক্লাইমেট সেন্ট্রাল আরও জানাচ্ছে, নাসা (NASA) আকাশের কাছাকাছি ভূখণ্ডের উচ্চতা মাপবার সময় ভূপৃষ্ঠ থেকে না-মেপে গাছের ওপর থেকে, বাড়ির ছাদ থেকে মাপে। কোস্টাল-ডিইএম এই ধরনের তারতম্য কমাতে অনেকটাই সাহায্য করবে, কারণ এই মডেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence or IE) সাহায্যে কাজ করে। ফলে এই মডেলে যে নতুন মান পাওয়া যাচ্ছে তা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছেন আবহবিদেরা। কোস্টাল-ডিইএম অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্য বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে উপকূলীয় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন অন্তত তিন মিলিয়ন মানুষ। সমুদ্রতল এমনভাবে পাকাপাকি উঠে আসবে বর্তমান ভূখণ্ডের উপর, যেখানে এখন অন্ততপক্ষে দেড়শো মিলিয়ন মানুষের বাস। এবং এই ঘটনার অধিকাংশটাই ঘটবে এশিয়ার আটটি দেশে যার মধ্যে ভারত অন্যতম। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকবে বাংলাদেশ ও চিন। বাংলাদেশের ৯৩ মিলিয়ন ও চিনের ৪২ মিলিয়ন মানুষ বানভাসি হতে পারেন বলে গবেষণায় প্রকাশ।   

গত শতাব্দিতেই সমুদ্রপৃষ্ঠ ১১ থেকে ১৬ সেন্টিমিটার উঠে এসেছে। নয়া শতাব্দিতে কিঞ্চিৎ বেড়েছে সচেতনতা। কার্বন নির্গমন কমানো হয়েছে অনেকটাই। আবহবিদদের আশা ছিল, এবার ০.৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থাকবে সমুদ্রপৃষ্ঠের ওঠানামা। কিন্তু ক্লাইমেট সেন্ট্রালের গবেষণায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কার্বন নির্গমন আর বাড়লেই দ্রুতবেগে শুরু হয়ে যাবে আন্টার্কটিকার বরফের চাঙড় গলার প্রক্রিয়া। সে ক্ষেত্রে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে পারে দু’মিটারেরও বেশি, যার জেরে জলের নিচে তলিয়ে যাবে এশিয়ার বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড। 

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.