রসিকতার পরিণাম মৃত্যু ও কারাদণ্ড

মজার ছলে কোনও কাজ করতে গেলে তার ফল যে কত মারাত্মক হতে পারে, তার আদর্শ উদাহরণ মুম্বই-য়ের এই ঘটনা। ২০১৫ সালে মজার ছলে নিজের এক সহকর্মীর পায়ুতে গাড়ির চাকা পরিষ্কার করার পাইপ দিয়ে হাওয়া ভরে দিয়েছিল ছেচল্লিশ বছর বয়স্ক সন্তোষ আরেকার। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় আটচল্লিশ বছর বয়সী ইয়াকুব শেখ-এর। এরপরে কেটে গিয়েছে বেশ খানিকটা সময়।

২০১৫ সালের এই ঘটনার ঠিক পরেই পুলিশ গ্রেফতার করে সন্তোষ আরেকার নামে ওই ব্যক্তিকে। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। দু’বার জামিনের আবেদন করে সন্তোষ। কিন্তু দু’বারই তা নাকচ করে দেয় আদালত। অবশেষে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করল মুম্বই-য়ের এক নিম্ন আদালত। আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তোষকে চার বছরের কারাদণ্ডে দন্ডিত করা হয়েছে এবং মৃতের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বই-য়ের একটি গাড়ির সার্ভিসিং স্টেশনে। এই ঘটনার পর গাড়ি সার্ভিস স্টেশনের অন্যান্য সহকর্মীরাই প্রথমে ইয়াকুবের পশ্চাতদেশ থেকে পাইপটি বের করেন। তারপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সন্তোষের আইনজীবী অবশ্য জানিয়েছেন, সহকর্মীকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল না সন্তোষের। সন্তোষ মজার ছলেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আদালতে জানায় তার আইনজীবী। কিন্তু এর পরে পুলিশের করা চার্জশিটে প্রশ্ন তুলে মুম্বই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইয়াকুবের স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। এই মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী আর এক সহকর্মী আব্দুল খানের কথায়, আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় তাঁরা হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ইয়াকুবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। আর এই ঘটনার বিশ্লেষণ করে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here