টানা ১৭ দিন ধরে এটিএম-এ নজরদারি‚ অবশেষে তরুণীর ফাঁদে প্রতারক

টানা ১৭ দিন ধরে এটিএম-এর দ্বারস্থ হয়ে অবশেষে হাতে নাতে ধরা পড়ল জালিয়াত। ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছে মুম্বই-এর বান্দ্রাতে।

বছর ৩৫-এর এক তরুণী থানায় এসে অভিযোগ করেন যে, মুম্বইয়ের বান্দ্রায় তাঁর অফিসের সামনে একটি এটিএম থেকে তাঁকে ঠিকিয়ে এটিএম কার্ড জালিয়াতি করে,  অ্যাকাউন্ট থেকে নাকি টাকা তুলে নিয়েছে বছর ৩৬-এর এক যুবক । পুলিশ জানিয়েছে, ওই অভিযুক্ত যুবকের নাম ভূপেন্দ্র মিশ্র । প্রায় দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পরিকল্পনা করেই সে নাকি এমনটা করেছে বলে ধারণা পুলিশের। পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছেন, এবং এটাই প্রথম বার নয়, এর আগেও আরও অনেকের সঙ্গেই এমনটা ঘটিয়েছে ওই প্রতারক ।আরও জানা গিয়েছে যে, তার নামে মুম্বইয়ের বিভিন্ন থানায় ইতিমধ্যেই সাতটি মামলা দায়ের করা আছে।

বান্দ্রা থানার পুলিশ জানিয়েছে, গত মাসের ১৮ তারিখে বান্দ্রা স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে পালি হিলের অফিসে যাচ্ছিলেন ওয়াডলা এলাকার বাসিন্দা রেহানা শেখ। বান্দ্রায় তাঁর অফিসের সামনের একটি এটিএম-এ টাকা তোলার জন্য ঢোকেন তিনি। কিন্তু যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে টাকা তুলতে সমস্যা হয় তাঁর। ঠিক সেই সময়েই এটিএমের কাচের দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল ভূপেন্দ্র। রেহানাকে টাকা তুলতে সাহায্য করার অজুহাতে এটিএম কাউন্টারের ভিতরে ঢোকে সে। রেহানাকে কথার জালে ফাঁসিয়ে তাঁর কাছ থেকে ডেবিট কার্ডের যাবতীয় তথ্য জেনে নেয়। এমনকী জেনে নেয় রেহানার পাসওয়ার্ডও। তারপরেও অবশ্য টাকা তুলতে পারেনি রেহানা। এর পরে এটিএম থেকে বেরিয়ে অফিসে চলে যান রেহানা।

তারপরেই ঘটে আসল ঘটনা। অফিসে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ফোনে মেসেজ পান যে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে দশ হাজার টাকা। সঙ্গে সঙ্গে ওই এটিএম কাউন্টারে ছুটে আসেন রেহানা। এবং খুব স্বাভাবিকভাবেই তখন সেখানে কেউই ছিল না।

কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি রেহানা। ওই ঘটনার পরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি তিনি প্রতিদিন একবার করে ওই এটিএম-এ যেতেন তিনি। বেশ খানিক্ষণ ঘোরাঘুরি করে আবার ফিরে আসতেন। কারণ তিনি কোনও না কোনওভাবে নিশ্চিত ছিলেন যে, অপরাধী এক বার না এক বার ঘটনাস্থলে ফিরে আসবে। ১৭ দিন এইভাবেই চলতে থাকে।

অবশেষে জালে ধরা পড়ে অপরাধী। গত ৪ জানিয়ারী বান্দ্রার ওই এটিএম কাউন্টারের বাইরেই অভিযুক্ত যুবককে দেখতে পান রেহানা। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ফোন করে খবর দেন তিনি। যেহেতু ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা ছিল সেহেতু, পুলিশের কাজ আরও সহজ হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ হাতেনাতে ধরে ফেলে অভিযুক্ত প্রতারককে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here