মন্দির আর মসজিদের মাঝখানে আজও জয়ী মানবিকতাই

মন্দির আর মসজিদের মাঝখানে আজও জয়ী মানবিকতাই

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

চারিদিকে যখন রাম না রহিম, মন্দির না মসজিদ, তখনই ধর্মের বেড়াজাল টপকে মানুষের মনের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে আরেকজন মানুষই। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ঘুমন্ত শহর ডুয়ার্স। তারও ভিতরে ছোট্ট একটি জায়গা বনেরহাট। বনেরহাটেরই এক মুসলিম বাসিন্দা নিজের হিন্দু সহকর্মীর শেষকৃত্য সম্পাদনের জন্যে কামিয়ে ফেললেন নিজের গোঁফ।

মৃত সঞ্জন কুমার বিশ্বাস বনেরহাট হাই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। সেই স্কুলেরই আরেক শিক্ষক ও সঞ্জন কুমার বিশ্বাসের সহকর্মী আশফাক আহমেদ। আশফাকবাবু তাঁর স্ত্রী, ন’ বছরের পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে সঞ্জনবাবুর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান পালন করেছেন । পালন করেছেন এগারো দিনের অশৌচও। রীতিমতো নিয়ম – আচার মেনে সম্পন্ন হয়েছে সমস্ত কাজ। সঞ্জনবাবু বনেরহাট হাই স্কুল থেকে ২০০৫ সালে অবসর নেন। আশফাকবাবু এখনও স্কুলে পড়াচ্ছেন।

১৯৯৯ সালে যখন ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে আশফাকবাবু স্কুলে যোগদান করেন তখন তিনি পেয়েছিলেন একমাত্র ওয়ার্ক এডুকেশন শিক্ষক সঞ্জনবাবুরই সহায়তা । সঞ্জনবাবুকে তিনি নিজের মেন্টর, পথপ্রদর্শক এবং সহায়ক হিসেবে মনে করে এসেছেন সবসময়ই ।  আশফাকবাবু স্কুলে যোগদান করার সময় স্কুলের একশ বছর পূর্তি ছিল। তিনি মুসলিম হওয়ায় অনেকেই সেসময় নানারকমের সমস্যা তৈরি করলেও সঞ্জনই তাঁর পাশে দাঁড়ান। মাথার ওপর ছাদ না জোটায় আশফাকবাবুকে নিজের বাড়িতে থাকতেও দেন সঞ্জনবাবু। সেখানে তিনি জাতপাতকে আমল দেননি। 

স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক মুকুল বর্মণ বলেছেন যে, সঞ্জনবাবু অনেক মানুষের মনেই দাগ কেটে গেছেন। কিন্তু আশফাককে তিনি যেভাবে স্পর্শ করতে পেরেছেন তা বলাই বাহুল্য। এমনকি তাঁর মৃত্যুর পরেও আশফাকের ভিতরকার মানবিকতাকে তিনি বাইরে আনতে পেরেছেন।

সঞ্জনবাবুর বাবা মুর্শিদাবাদের কান্দির বাসিন্দা। তিনিও আশফাকবাবুর এই কাজের বিরোধিতা করেননি। আশফাকবাবু বলেছেন যে তিনি সবসময়ই মনে করেন তাঁর তিনজন পিতা – তাঁকে জন্ম দিয়েছেন যিনি, তাঁর শিক্ষক এবং সঞ্জনবাবু। লোকে কী বলল তাকে তিনি প্রাধান্য দেননি । বরঞ্চ যা করার প্রয়োজন ছিল তাই-ই করেছেন। তিনি যাঁর শ্রাদ্ধ করেছেন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় ও বিনম্রতা থেকেই একাজ করেছেন বলে মনে করেন তিনি । সঞ্জনবাবু ও আশফাকবাবুর মতো মানুষেরাই জীবনকে জাতপাতের সংকীর্ণতার উর্দ্ধে নিয়ে গিয়ে বারবার জিতিয়ে দিচ্ছেন মানবিকতাকে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Handpulled_Rikshaw_of_Kolkata

আমি যে রিসকাওয়ালা

ব্যস্তসমস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে কাটিয়ে হেলেদুলে যেতে আমার ভালই লাগে। ছাপড়া আর মুঙ্গের জেলার বহু ভূমিহীন কৃষকের রিকশায় আমার ছোটবেলা কেটেছে। যে ছোট বেলায় আনন্দ মিশে আছে, যে ছোট-বড় বেলায় ওদের কষ্ট মিশে আছে, যে বড় বেলায় ওদের অনুপস্থিতির যন্ত্রণা মিশে আছে। থাকবেও চির দিন।