গলনাঙ্ক

183

যশমাল্য আর তার মিলনকালীন অ্যাক্টিভিটিটা সম্পূর্ণ আলাদা | মিলিত অবস্থায় অনেক, অজস্র কথা বলে যশ | যশ মনে করে নারী-পুরুষের মিলনের মধ্যে একটা পাশবিকতা আছে, রতিক্রিয়া বিষয়টা এখনও রয়ে গেছে আদিমতার স্তরে, এবং যৌনতার সময় নারী আনন্দ পাক বা না পাক সে আসলে এক ধরনের ক্যাপটিভেটেড অবস্থায় থাকে | কোনও মেয়ে যদি সত্যিই স্বাধীন হতে চায় পুরুষের হাত থেকে তাহলে তার শরীরের মধ্যে পুরুষের রিলিজড হতে থাকা ফোর্সটা তাকে আনন্দ দিতে পারে না! খুবই অদ্ভুত মানুষ যশমাল্য সন্দেহ নেই | নারী-পুরুষের মিলন সম্পর্কে সবচেয়ে অনুৎসাহিত করে দেওয়ার কথাগুলো, অপ্রিয় কথাগুলো তখনই অত কনভিকশনের সঙ্গে বলতে থাকে যখন তারা পরস্পর পরস্পরের বাহুলগ্ন হয়ে এই কাজটাই করছে! যশমাল্য যেন যৌন দর্শনের প্র্যাকটিকল ক্লাস নিচ্ছে মনে হতে পারে যে কারও | এবং গর্বীও শোনে, বুঝতে চেষ্টা করে, মতামত দেয় | শারীরিক সংযোগের সময় মন আলগা হয়ে থাকে বলেই তো সম্ভব হয় সেটা! ঠিক এই জায়গাতাতেই বোঝা যায় যশ আর তার সম্পর্কটা প্রেমের নয় | সম্পর্কটা ইলাসটিকের মতো, টেনে ধরা যায় অনেক দূর অব্দি | নির্দিষ্ট গন্ডির বাইরে চলে যাওয়া যায় | সজাগ জায়গা থেকে প্রসারিত হতে হতে এমন চেতন অবচেতনের যোগফল ঘটে যে গর্বী অনায়াসে ব্যক্ত করতে পারে তার যৌন জীবনে পাওয়া উপলব্ধিগুলো | সে বলতে পারে মিলনের সময় কত একা একা লাগে তার, মনে হয় মানুষের শরীরের যে ড্রয়িং সেই ড্রয়িং বরাবর হেঁটে যাচ্ছে একাকিত্ব একটা পিঁপড়ের মতো! এরকম কথা শুনে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে যশ | ‘ইমেজারিটা সাংঘাতিক গর্বী! একদম সিনেমাটিক! এই জন্য আমি বলি তোর মধ্যে সিনেমা আছে | হয়তো শরীর জোড়া আদরের সময় ওই পিঁপড়ের উঠে আসাটা অনেক বেশি সেনসেশন ক্রিয়েট করছে একজনের মধ্যে | আসলে আমরা কেউ জানতে পারি না সঙ্গমরত অবস্থায় আমাদের পার্টনার ঠিক কী ভাবছে! ভেরি ট্রু, ভেরি ট্র্যাজিকও! এটাই সম্পর্কের ট্র্যাজিডি!’

(সে ডলে নিজেকে প্রাণপণ একাগ্রতায়, তার যোনির ভেতর সঞ্চালিত হয় পুরুষের হাতল, একটা খরতা ছুঁয়েই থাকে তার অতলকে তখন, তারপরও সীমা ভেঙে যেতে চায় ভেতরে, আরও ভেতরে, ধাক্কা দিয়ে দিয়ে পেটের ভেতরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন করে জট পাকিয়ে দিতে চায় — তখন তাকে দেখায় উন্মাদিনীর মতো, ঝুঁকে পড়ে পুরুষের ওপর সমস্ত দেহভার নিয়ে, কোমর উপছানো থোকা থোকা চুল ঝাঁপ দিয়ে ঢেকে দেয় পুরুষের চোখ-মুখ, ডুবন্ত মানুষের ভেলা তখন পুরুষটি, মুখ হাঁ করে আছে | একটা হাত দিয়ে খামচে ধরে আছে তার নিতম্ব, অন্য হাত দিয়ে টেনে আনতে চাইছে তার স্তন মুখের কাছে, দাঁতে কামড়ে টেনে নিচ্ছে বৃন্ত — ক্রমশ তার সময় হয়ে আসছে আসার | তলপেটের অনেক গভীরে গুঁড়ি মেরে মেরে এগিয়ে আসছে এক্সট্যাসি, সহস্র সূচাগ্র অনুভূতির পদশব্দ, এই সময় দূর থেকে শোনা যায় দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা ট্রেনের হুইসিল, এক্ষুনি চারপাশের মাটি কাঁপিয়ে দিয়ে দাবড়ে দিয়ে ঝমঝমিয়ে ছুটে বেরিয়ে যাবে ট্রেনটা — শরীর আরও আরও ভারী হয়ে যায় এই সময় তার | কিন্তু এত ঝরে তরল যে মনে হতে থাকে যে কোনও মুহূর্তে মর্মান্তিকভাবে হড়কে পড়ে যাবে সে পুরুষটির ওপর থেকে | সে তাই আরও জোরে চেপে ধরে পুরুষকে — আর ঠিক এই সময় তার মাথার ভেতর খুলে যায় একটা স্ক্রিন | ফিরে আসে একটা দৃশ্য — সে দেখতে পায় একটা টানেল, অন্ধকার ঘুটঘুটে, ছোট্ট সুড়ঙ্গ, দেয়াল চেপে আসছে প্রায় পিঠের ওপর, নড়াচড়া করার জায়গা নেই | নিজেকে ডলার, নিজেকে ঝাঁকানোর উপায় নেই | সে দেখতে পায় টানেলের ভেতর সে নিজে আর একজন পুরুষ, মুখে দেখা যাচ্ছে না |

এরকমই হয় সব সময়, শরীর যখন পারঙ্গমতার তুঙ্গে, আনন্দের তুঙ্গে তখন মাথার ভেতর ফুটে ওঠে অন্ধকারাচ্ছন্ন সুড়ঙ্গ, বদ্ধ গর্ভগৃহ, কিংবা খনি প্রদেশ, সেখানেও ঘটে যায় আর একটা শরীরী মিলন | আরও একটা ভীষণ আকুতিময় যৌনতা, তীব্র তীব্র চরিতার্থতায় সে নিজেই ব্যাপ্ত সেখানে কারও সঙ্গে, অচেনা কেউ, অচেনা তার হাত, পা, বাহুবন্ধন, হাজার মৌমাছির ঝাঁক সেখানেও বন বন শব্দে ডানা ঝাপটায় তার শরীরের ভেতর | সে বুঝতে পারে মাথার ভেতর ওই মেয়েটাও সে নিজেই, বেকায়দায় ছিটকে গিয়ে আবার যোনিমুখে পুরুষাঙ্গের ফিরে আসার সে-ই ভোগ করছে ওখানেও | সব কিছু তার সঙ্গে সঙ্গে তার মত করে ঘটে ওখানেও আর এই সময় দুটো সম্ভোগ সুখ একই সঙ্গে অনুভব করতে করতে অসহায় সে বুঝতে পারে না কোনটা বেশি উল্লাস জাগাচ্ছে, কোনটা অধিক বিহার! মাথার ভেতর ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কোনওভাবে প্রতিরোধ করতে পারে না সে, চায়-ও না হয়ত, অথচ তার মন ফিরে আসতে চায় শরীরের ঘটনাস্থলে, বাস্তবের পুরুষের কাছে, বাস্তবের উদযাপিত মিলনে | আর এই অন্তর্জগত, এই পার্সোনাল ক্রিয়েশনের সঙ্গে স্পর্শস্পৃষ্ট সুখের দ্বন্দ্বের ভেতর, টানাপোড়েনের ভেতর ট্রেন ঝমঝমিয়ে চলে যায় কতগুলো অতুলনীয় মুহূর্তের পরিব্রজ্যায়, গনগনে হয়ে ওঠে প্রতিটা রোমকূপ এবং তারও অনেকক্ষণ পর অব্দি যোনিপথ জুড়ে অন্যমনস্ক ঝিঁ, ঝিঁর আর্তি — কিন্তু এই juxtaposition of erotic fantasy and real sexuality শেষ অব্দি তাকে বাধ্য করে ভাবতে রেজাল্ট ইরর-ই এসেছে আবার! আসলে যেন কিছুই না, একটা দীর্ঘ মাস্টারবেশন ব্যাপারটা! ফলে সে উঠে পড়ে যেই বা পুরুষটি তার ওপর থেকে নেমে যায় যেই, তার প্রবেশ পথ বন্ধ হতে না হতেই ওই পুরুষ ফ্যালনা হয়ে যায় তার কাছে | সে তখন চায় উঠে আয়নার সামনে দাঁড়াতে, নিজেকে দেখতে, ক্লাচ খুঁজে চুল আটকাতে | পিপাসায় মরে যায় সে তখন আর বেরিয়ে পড়তে চায় রাস্তায়, জোরে জোরে অনালোকিত জায়গায় হাঁটতে চায়, দৌড়োতে চায়, না পারলে রাগ হয় তার…)

বারবার অস্বীকার করায় খুব রেগে উঠল রানী, ‘তুমি বলতে চাইছো তোমার যশের প্রতি কোনও অ্যাটাচমেন্ট নেই?’

সোজাসুজি কথা বলে বলে সবাই একটু সমঝে চলে রানীকে, এবং ওই কারণেই রানীকে পছন্দ করে গর্বী | কিন্তু অনেক সময় হয় না একটা সত্যকে ভেতরে পুরো মাত্রায় জেনেও মুখের ভাষায় ঠিক মত ব্যক্ত করতে গিয়ে হিমসিম খেয়ে যায় আচ্ছা আচ্ছা মানুষ — রানীর তীক্ষ্ণ প্রশ্নের সামনে গর্বীরও তাই হল! সে রানীকে বলল, ‘অ্যাটাচমেন্ট তো আছেই, কিন্তু সেটা কোনও বিরাট ব্যক্তিগত অ্যাটাচমেন্ট নয়! ট্রাস্ট মি! তুমি যেটা বারবার ইনসিস্ট করছো — প্রেম — প্রেম নয়! প্রেম মানে তো একটা মানুষের সঙ্গে আদ্যপ্রান্ত জড়িয়ে যাওয়া রানী? ভেতরে ভেতরে সেই মানুষটাকে সব সময় ছুঁয়ে ছুঁয়ে বাঁচা | যশের প্রতি তো আমার সে রকম মনোভাব নয়! প্রেম মানে অবশ্যই কমিটেড রিলেশনশিপ-এ এন্টার করা, যশের প্রতি আমার কোনও কমিটমেন্ট নেই, আই গো অ্যারাউন্ড উইথ সো মেনি পিপল, কারও ব্যাপারেই আমি সিরিয়াস নই | আর যশের দিক থেকে কী আছে না আছে আমি তো জানিই না!’

‘যশ সেটা জানে?’ রানীর মুখটা গম্ভীর এখন |

‘কী?’

‘ইউ গো অ্যারাউন্ড উইথ আদার গাইস?’

‘নিশ্চই জানে! আমি আলাদা করে কিছু বলিনি!’ সে থতমত খেয়ে গেল | তার বয়সী মেয়ের একটা দুটো বন্ধু থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক? প্রথম যেদিন যশ আদর করেছিল তাকে, ওপেন আপ করতে করতে জানতে চেয়েছিল, ‘তুই কি ভার্জিন?’ সে বলেছিল, ‘না!’ ব্যস | ‘বাট ইউ স্লিপ উইথ যশ! ডোন্ট ইউ?’
এবার একটু রাগ হল তার, ভারী নিঃশ্বাস ফেলল সে, মাথা নাড়ল, ‘হ্যাঁ!’
‘কতজনের সঙ্গে তোমার এই লেভেলের রিলেশন গর্বী?’
সে সোজা হয়ে বসল, সরাসরি তাকাল রানীর চোখের দিকে | সত্যি বলতেই পারত গর্বী, কিন্তু বলল না | ‘ভেবে দেখতে হবে রানী!’ বলল সে | ‘তবে তুমি যদি ভাবো আই গো টো বেড উইথ হু-এভার আই কাম অ্যাক্রস তাহলে ভুল ভাবছো!’
‘হু এভার টার্নস ইউ অন?’
উত্তর দিল না গর্বী, দীর্ঘশ্বাস ফেলল একটা শুধু | চোখ ফেটে জলও আসতে পারত তার, এভাবে কেউ কখনও কথা বলেনি তার সঙ্গে কিন্তু যেই সে ভাবল ব্যাপারটা যেভাবে দাঁড়াচ্ছে রানীর সামনে তাতে রানীর কথা বা প্রশ্নগুলো তো অযৌক্তিক নয় | এমনকি রানীর শেষ প্রশ্নের উত্তরেও তো তার হ্যাঁ-ই বলা উচিত | এমন কেউ যদি আসে যে ওই জায়গায় সাড়া ফেলবে গর্বীর, কোনও কারণ তো নেই তার সঙ্গে গর্বীর না শোয়ার? সে সতীত্বে বিশ্বাস করে না, কাউকে নিজের সম্পর্কে কথা দেয়নি কোন, তাহলে তার দিক থেকে বাধাটা কোথায়? চারপাশে তার চেনা শোনা সবাই তাই-ই করে থাকে | সাহানাকেই ধরা যাক | চিত্রকের ব্যাপারে শুরুতে এত সিরিয়াস ছিল না সাহানা, তখন ওর আরও দু-একজন বয়ফ্রেন্ড ছিল | তাদের সঙ্গে উইক এন্ডে এদিক ওদিক চলেও যেত ও | তারপর অনেক গোলমেলে ঘটনার মধ্যে দিয়ে সাহানা রিয়েলাইজ করল ও চিত্রকের প্রেমে পড়েছে | সেই সময় আবার চিত্রকের সঙ্গে ওর ঝগড়া-ঝাঁটি চলছে | সেই নিয়ে এত কান্নাকাটি, কত চাপ! শেষ অব্দি চিত্রকের সঙ্গে যখন সব ঠিকঠাক হল তখন ওই সব বয়ফ্রেন্ডের চিহ্ন-ও রইল না সাহানার আশেপাশে! ফুটিয়ে দিল সবাইকে | এই ফাঁদে পড়া অবস্থাতেও গর্বীর দুঃখ হল সাহানার জন্য এই কারণে, কি ভুলই না করেছে চিত্রকের সঙ্গে প্রেম করে | হাড়ে দুব্বো গজিয়ে দিয়েছে চিত্রক সাহানার!

তাকে চুপ করে থাকতে দেখে রানীই কথা বলল আবার, ‘তুমি জানো গর্বী, আই কেয়ার ফর যশ আ লট!’
শান্তভাবে মাথা নাড়ল সে, ‘সাত বছর আগে যখন ডিভোর্স হল ওর তখন থেকে যশ একা | বিজ্ঞাপন জগতে, সিনেমার জগতে গুচ্ছের মেয়েদের ভিড় | এখন ওর এত নাম, মেয়েরা ঘিরে আছে ওকে | কিন্তু এত বছরে যশকে আমি কখনও কারও ব্যাপারে উৎসাহ দেখাতে দেখিনি | আমি ওর সব জানি | আমি বলছি ও তোমাকে চায়, ভালবাসে | ওর এই ডেভেলপমেন্ট-টা হয়ত তুমি কোনও কারণে লক্ষ্য করোনি | কিন্তু যে কোনও মেয়েই এসব খুব সহজে বুঝে যায় | তোমারও বোঝা উচিত ছিল |’

গর্বী দূরে দাঁড়িয়ে থাকা যশের দিকে তাকাল | চিত্রাঙ্গদার সঙ্গে খুব মনোযোগ দিয়ে কোনও আলোচনা করছে, জ্বলে যাচ্ছে হাতের সিগারেট বেখেয়ালে, মনে কি হয়নি? হ্যাঁ, মনে হয়েছে | ইদানীং একটু বেশিই মনে হয়েছে | তবু সে রানীকে বলল, ‘যশের সঙ্গে আমার যা সম্পর্ক এরকম কিছু হলে যশ আমাকে বলত, সোজাসুজি বলত |’

‘বলত না, যশের পক্ষে তোমাকে এটা বলা সহজ নয় | তুমি এখনও একটা প্রায় বাচ্চা মেয়ে, জীবন শুরুই করোনি, সেখানে যশ একজন বিয়াল্লিশের ডিভোর্সি | অনেকটা এজ গ্যাপ তোমাদের | তুমি ওর সঙ্গে একটা এক্সপেরিমেন্টাল সম্পর্কে থাকতে পারো কিন্তু তুমি যেমন উড়নচণ্ডী মেয়ে বেশি ধরতে গেলে যদি পালিয়ে যাও? ভয় পেয়ে যাও? তোমাদের এই জেনারেশনটার তো এটাই প্রবলেম, কমিটমেন্টকে ভয় পাও তোমরা | ধরা পড়তে চাও না, বাধা পড়তে চাও না!’

‘তুমি কি নিজেকে এই জেনারেশনের বলবে না?’

‘আমি তোমার থেকে কমপক্ষে বারো বছরের বড় | আই অ্যাম থার্টি-ফাইভ!’

‘তোমাকে দেখে বোঝা যায় না | আমার থেকে তুমি অনেক বেশি ফ্যাশনেবল, অনেক ট্রেন্ডি, আমার তো বাবা, মা নেই, কেউ কিছু বলার নেই‚ কিন্তু সবাই জানে তোমার ফ্যামিলি কলকাতাতেই থাকে‚ খুবই রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে তুমি কিন্তু তুমি সবার সামনে দিয়েই একটা-লিভ-ইন রিলেশনশিপে আছো! তুমি অনেক বেশি সাহসী!’

একটু ভাবল রানী, ‘লিভ-ইন করছি কারণ ঋষি এখনও ডিভোর্স পায়নি | তুমি জানো না গর্বী এই রিলেশনশিপটা নিয়ে আমি কত ইনসিকিওরড! সারাক্ষণ আমার ভয় হয় ঋষি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে | একটু ঝগড়া-ঝাঁটি হলেই আমি ভেঙেচুরে একসা হয়ে যাই | এভাবে কেউ বাঁচতে চায় না | তোমার বয়েসে আমিও অনেক কিছু করেছি | আই হ্যাড ফান | বম্বেতে কী নাইট লাইফ ছিল আমাদের! ও সব হয়ে গেছে, নাউ আই ওয়ান্ট তো সেটেল ডাউন প্রপারলি, গেরস্থ মানুষের মত বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে…!’ থেমে গেল রানী, উদাস হয়ে গেল চোখ দুটো, ‘আচ্ছা, আমাদের চারপাশ থেকে দুধওলা, ধোপাওনা, মুদির দোকান, ফর্দ-মেলানো এসব উঠেই গেছে বলো? সিনেমায় মাঝে মাঝে আজকাল এগুলো দেখানোর চেষ্টা হয় একটা টাইম পিরিয়ডকে ধরতে, কিন্তু ঠিক ব্লেন্ড করতে পারে না!’
সে বলল, ‘আমি এসব কখনও দেখিই নি | হস্টেলে বড় হয়েছি!’
‘ও, তাই? কিন্তু আমি তোমাকে যেটা বলতে চাইছি গর্বী, সেটা হলো যশ ইজ ইন লাভ উইথ ইউ!’
‘তুমি কি করে জানলে? যশ বলেছে?’
‘ইন আ ওয়ে…!’
‘যেমন্?’
‘সেদিন যশ আমার বাড়িতে ডিনার খেতে এসেছিল, ঘুরে ফিরে বারবার তোমার কথা বলছিল..!’

এতক্ষণ রানীর সঙ্গে একভাবে চলছিল তার কথোপকথন, এবার একটা অন্য অস্বস্তি হতে শুরু করল তার | সে ভাবল যশমাল্য যাই বলে থাকুক সেটা শুনে গর্বী যেন রানীকে উড়িয়ে দিতে পারে, রানীর বক্তব্যকে অসার প্রমাণ করতে পারে | সে চায় না, যশের সঙ্গে এই সম্পর্কটার কোনও পরিবর্তন সে চায় না!

রানী বলতে লাগল, ‘তোমার পাসপোর্ট নেই, পাসপোর্টটা যাতে তাড়াতাড়ি হয়ে যায়, যাতে তুমে ইউনিটের সঙ্গে বিদেশে ট্র্যাভেল করতে পারো — এসব বলছিল | যখন ঘুরে ফিরে দেখছি তোমার কথাই বলছে | ‘গর্বী ডোপ করে‚ বারণ করলে শোনে না, গর্বী এই করে, ওই করে’ | তখন আমিই ঠাট্টা করে বললাম, ‘কী ব্যাপার্? সারাক্ষণ গর্বী গর্বী করছো কেন? প্রেমে পড়েছো নাকি?’ তখন সে চোখ বন্ধ করে ফেলল, গা শির শির করছে তার | তখন যশ বলল, ‘হতে পারে আমি প্রেমে পড়েছি | রাতদিন মেয়েটাকে মিস করি আজকাল, মনে হয় সব সময় আমার পাশে পাশে যদি থাকত গর্বী ভীষণ ভালো লাগত | এখন তো সকালটা ও মোটামুটি আমার সঙ্গেই থাকে, ঘুরঘুর করে সারা ফ্ল্যাটে, জোরে জোরে কথা বলে, অকারণে বিরক্ত হয় আমার ওপর | তারপর চলে গেলে ফাঁকা ফাঁকা লাগে কেমন | গর্বী, ওর বন্ধুবান্ধব, ওদের ভাবনা-চিন্তা, ওদের বিশ্বাস, এই অল্টারনেটিভ লাইফ-স্টাইল — সব মিলিয়ে কোথাও একটা শি’জ বিকাম মাই কানেকশান উইথ রিয়েল ওয়ার্ল্ড’!’

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.