কোনও এক অজানা রহস্যজনক কারণে এই বনের সব গাছ একইরকম ভাবে বাঁকা

246

এক রহস্যের আধার নিজের মধ্যে জমিয়ে রেখেছে পোল্যান্ডের ক্রুকড ফরেস্ট | উত্তরপশ্চিম পোল্যান্ডের ক্রুক ফরেস্টের অন্তত ৪০০ টি পাইন গাছের আকারেই রয়েছে এমন এক বিশেষত্ব যা পৃথিবীর অন্য সমস্ত পাইন জঙ্গল থেকে আলাদা করে তুলেছে ক্রুক ফরেস্টকে | কিন্তু কী সেই বিশেষত্ব?

ক্রুক ফরেস্টের পাইন গাছগুলির প্রত্যেকটিরই তলার অংশটিতে C আকৃতির একটি বাঁক দেখতে পাওয়া যায় ( ছবিতে দেখুন ) | শত শত পাইন গাছের এমন অদ্ভুত আকার দেখে মনে হতেই পারে হয়ত কোনও কল্পবিজ্ঞানের কাহিনির জগতে এসে পড়েছেন | কিন্তু তা নয় | আদতেই ক্রুক ফরেস্টের পাইন গাছের সারিতে অবস্থিত গাছগুলি অদ্ভুতদর্শন | ক্রুক ফরেস্টের প্রতিটি গাছেই রয়েছে এই C আকৃতির বাঁকটি এবং বাঁকটি শুধুমাত্র গাছগুলির নিচের দিকেই রয়েছে | গাছগুলির উপরের অংশগুলি একেবারে স্বাভাবিক গাছের মতই সোজা বেড়ে উঠেছে | তবে শুধুমাত্র গাছের নিচের অংশেই এই রহস্যজনক বাঁক কেন? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন গাছটি যখন বাঁক পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের ছিল তখনই এমন কোনও ঘটনা ঘটে যার জন্য প্রত্যেকটি গাছের গোড়ার দিকেই C আকৃতির একটি বাঁক তৈরি হয়ে যায় | এবং শুধুমাত্র কয়েকটি গাছের ক্ষেত্রে নয়‚ ওই অঞ্চলের সবকটি গাছের উপরেই প্রভাব বিস্তার করেছে কোনও একটি কারণ যার জন্য প্রতিটি গাছের আকার একেবারে একই ধাঁচের |

 ফরেস্টের বয়স প্রায় ৮০ বছর | অনুমান করা হয় যে কারণে ক্রুকড ফরেস্টের গাছগুলির এই বিশেষ আকার হয়েছে সেই কারণটি কার্যকর হয়েছিল যখন‚ তখন জঙ্গলের গাছগুলির বয়স ছিল প্রায় ৭ বছর | অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব তখনও  এসে পৌঁছয়নি | ফরেস্টের গাছগুলির এমন বিশেষ আকার হল কীভাবে সে বিষয়ে নানা আঞ্চলিক কিংবদন্তি প্রচলিত আছে |

অনেকে বলেন ১৯৩০ সাল নাগাদ একদল চাষি ওই অঞ্চলটিতে বসবাস করতে শুরু করে ওখানে পাইন গাছগুলি লাগিয়েছিলেন | তাঁরা ইচ্ছে করেই গাছগুলিতে এমনভাবে আঘাত করেন যাতে ওই বিশেষ আকৃতিটি তৈরি হতে পারে | এই গাছগুলির সাহায্যে তাঁরা হয়ত বা নানা রকমের কাঠের জিনিস যেমন আসবাবপত্র‚ জাহাজের ম্যান্টেল ইত্যাদি বানানোর পরিকল্পনা করেছিলেন | কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়ানক তাণ্ডবলীলায় তাঁদের পরিকল্পনা সফল হওয়ার আগেই তাঁদের বিদায় ঘটেছিল | তাই তাঁদের লাগানো বিশেষ আকৃতির গাছগুলি এভাবেই রয়ে গেছে | যদিও এ কাহিনির সত্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট মতপার্থক্য আছে | এছাড়াও অনুমান করা হয় কোনও বিধ্বংসী তুষারঝড়ের প্রকোপে বেঁকে গিয়েছিল গাছগুলির গোড়ার দিকের অংশগুলি | ঠান্ডায় বরফের মধ্যে গাছগুলি জমে যায় | তারপর বরফ না গলা অবধি ওই ভাবেই থাকায় গাছগুলি বক্র আকৃতির হয়ে যায় | 

আদতে গাছগুলি বেঁকে যাওয়ার কারণ যে কী তা প্রমাণিত হয়নি | কারণ খুবই অদ্ভুতভাবে ওই অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের গাছগুলির আকারের কোনও বিশেষ পরিবর্তন কিন্তু লক্ষ করা যায় না | দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চলটি একেবারেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল | তাই আসল কারণ সন্ধান করার মত আঞ্চলিক কোনও মানুষও এখানে ছিল না | 

১৯৭০ সালে একটি হিট ও পাওয়ার প্ল্যান্ট এই অঞ্চলে স্থাপিত হলে ধীরে ধীরে আবারও এখানে জনবসতি গড়ে ওঠে |  ক্রুকড ফরেস্টের ২২ সারি C আকৃতিবিশিষ্ট পাইন গাছের রহস্য তাদের শিকড়ের সঙ্গে মাটির তলাতেই প্রোথিত হয়ে আছে | এর এই ভয়াল ভৌতিক অদ্ভুত দর্শনের জন্য পর্যটকরা প্রায়শই ক্রুকড ফরেস্টে ঘুরতে যান |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.