ডাকবাক্স বা বাড়ির দরজায় টাকাভর্তি খাম ফেলে দিয়ে যাচ্ছে আড়ালে থাকা রবিনহুড

আজকের দিনেও হঠাৎ যদি গল্পের পাতা থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবেই দেখা দেন রবিনহুড ? দিয়েওছেন দেখা‚ স্পেনের উত্তরাংশে ভিল্লারামেইল নামের একটি গ্রামে | সেখানকার প্রায় ১৫ জন বাসিন্দা জানিয়েছেন তাঁরা নিজেদের বাড়ির দরজার তলায় অথবা পোস্টবাক্সে খামে ভরা ১০০ ইউরো পর্যন্ত অর্থ পেয়েছেন | অথচ কে এই টাকা পাঠিয়েছে তার কোনও হদিশই মেলেনি |

বাদামি খামে ১০০ ইউরো পর্যন্ত অর্থের সঙ্গে সঙ্গে কেউ কেউ আবার প্রাপকের নাম‚ ঠিকানা অথবা কিছু শব্দ লেখা দেখতে পান | একটি খামের মধ্যে যেমন পাওয়া গেছে “The princess of the household” লেখা | কিন্তু এর মাধ্যমে প্রেরক যে কী বোঝাতে চাইছে তা এখনও ধাঁধাই রয়ে গেছে | ছোট্ট এই গ্রাম ভিল্লারামেইলের বাসিন্দার সংখ্যাই মাত্র ৮০০ জনের মত | বাছা বাছা কয়েকজনই কেন নাম না জানা প্রেরকের কাছ থেকে টাকা ভরা খাম পাচ্ছে তাই নিয়ে ঘনিয়ে উঠেছে রহস্য | স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলি অজ্ঞাতপরিচয়‚ না-জানা-কারণে টাকা পাঠানো এই মানুষটিকে ‘ ভিল্লারামেইলের রবিনহুড ‘ নামে অভিহিত করছে | কারণ রবিনহুডের মতই সাধারণ মানুষের কাছে পরিচয় প্রকাশ না করেও টাকা উপহার পাঠাচ্ছেন এই মানুষটি |

কে কোন কারণে কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে টাকা পাঠাচ্ছে তার কোনও হদিশ মিলছে না | ছেলের সঙ্গে থাকা এক বিধবা মহিলা‚ ছোট্ট খুদের বাবা-মা এক দম্পতি‚ বয়স্ক দম্পতি বা মধ্যবয়সী দম্পতিরা টাকা পেয়েছেন | তাই প্রাপকদের কোনও সাধারণ বৈশিষ্ট্যর জন্য টাকা পাঠানো হচ্ছে কিনা তাও স্পষ্ট ভাবে বলা যাচ্ছে না | এঁদের একে অপরের সঙ্গে কোনও ওতপ্রোত যোগাযোগ থাকারও খবর পাওয়া যায়নি |

টাকা পেয়ে দ্বিধাগ্রস্ত প্রাপকরা পুলিশকে জানান | প্রথমে সকলেই ভেবেছিলেন খামে ভরে কেউ নকল টাকা পাঠিয়ে মজা করেছে | কিন্তু যাচাই করে দেখা যায় টাকা নকল নয়‚ আসলই | এবং যেহেতু এই ঘটনাটি কোনও অপরাধ নয় তাই কোনও পুলিশি তদন্ত করাও সম্ভব নয় বলে জানান শহরের মেয়র | তাই নিজে থেকে আত্মপ্রকাশ না করলে ‘ ভিল্লারামেইলের রবিনহুড ‘ রহস্যের সমাধান করা সহজ হবে বলে মনে করা যায় না |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here