এ বার কি তবে প্রমাণিত হতে চলেছে চাঁদের পিঠে জলের অস্তিত্ব ?

169

সেই দিন হয়তো আর বেশি দূরে নেই, যখন চাঁদের বুকে খুঁজে পাওয়া যাবে প্রাণের অস্তিত্ব। অন্তত সেই সম্ভাবনার কথায় স্পষ্ট করছে দ্য ন্যাশলান অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ওরফে নাসা। নীল গ্রহের বাইরেও যে এবার প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে, সে নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত বিজ্ঞানীরা। কোন ঘটনায় বিজ্ঞানীদের মনে তৈরি হয়েছে এমন নিশ্চয়তা?

এই সুবিশাল বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনও গ্রহে কি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে বা কোনদিন ছিল কি না, এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য মানুষ অপেক্ষা করছে বহুকাল। মহাকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নক্ষত্রপুঞ্জের কাছে থাকা নতুন কোনও গ্রহে বা চাঁদ কিংবা মঙ্গল গ্রহে জলের অস্তিত্ব রয়েছে কিনা, তার অনুসন্ধান বহুদিন ধরে চালানো হয়েছে। কারণ, জল থাকলে সেখানেই নতুন প্রাণের সম্ভাবনা থেকে যায়। হয়তো এভাবেই কোথাও পাওয়া যেতে পারে মানুষ বা মানুষের থেকেও উন্নত কোনও জীবের অস্তিত্ব। সেইমতো ২০০৯ সালে নাসা ‘এলক্রস’ নামে একটি প্রকল্প শুরু করে, যেখানে চাঁদের কক্ষপথ ধরে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে দেখার জন্য “লুনার রিকোনেসেন্সে অর্বিটার” বা এলআরও নামে আরেকটি মহাকাশযান পাঠানো হয়। নাসার ‘এলক্রস’ নামের এই অভিযানের মাধ্যমে চাঁদের মধ্যে একটি গহ্বরে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বরফ পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যায়। আর এর ফলেই চাঁদে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার অনেকগুলি সম্ভাবনা খুলে যায়। এরপর ২০০৮ সালে ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন তথা ইসরো প্রথম চাঁদের মাটিতে জলের অস্তিত্ব আবিষ্কার করে চন্দ্রযান- ওয়ান-এর সাহায্যে।

সম্প্রতি, জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, মহাকাশ গবেষকরা নাসার লুনার রিকনাসেন্স অর্বিটর (এলআরও)-কে ব্যবহার করে, চন্দ্রপৃষ্ঠে জলের কণার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। নাসার মহাকাশযান লুনার অ্যাটমোস্ফিয়ার ডাস্ট এনভায়রনমেন্ট এক্সপ্লোরার তথা LADEE-র সাহায্যে এক অভিনব দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে। প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে যে, চাঁদের মাটিতে জলের অস্তিত্ব বর্তমান। এর অত্যাধুনিক ‘লাইম্যান আলফা ম্যাপিং প্রজেক্ট’ বা সংক্ষেপে ‘ল্যাম্প’ প্রযুক্তির সাহায্যেই এটা সম্ভব হয়েছে। ২০১৩ সালের শেষ থেকে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই মহাকাশযানটি চাঁদের পরিবেশ সম্পর্কে নানারকম তথ্য দিয়েছে। সেখান থেকেই জানা গিয়েছিল যে, চাঁদের পরিবেশ ধূলিকণায় ভরপুর। এবার LADEE-র সাহায্যেই প্রমাণ পাওয়া গেল যে চাঁদের মাটিতে রয়েছে জল। আর এই জল চাঁদের ভুপৃষ্ঠে জমে আছে বরফকণা রূপে। আর এই বরফের উপরেই রয়েছে মোটা ধুলোর আস্তরণ। যার ফলে এতদিন ধরে কোনও কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্যে তোলা যায়নি এই বরফের ছবি।

তাহলে মনে হতে পারে কীভাবে মহাকাশযানের চোখে ধরা পড়ল জলের ছবি? নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চন্দ্রপৃষ্ঠে উল্কাপিণ্ড আছড়ে পড়ার সময়ে ধরা পড়েছে এক অবিশ্বাস্য ছবি। যখনই প্রবল গতিতে চাঁদের বুকে আঘাত এনেছে উল্কা, তখনই চাঁদের মাটি ফুঁড়ে ছিটকে বেরচ্ছে বরফের কুচি। তবে অদ্ভুতভাবে যে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে তা হল, বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চাঁদের বায়ুমন্ডলের উত্তাপই বরফকণাকে বিলীন করে দিচ্ছে। প্রসঙ্গত, চাঁদের মাটিতে জলের উৎস কোনও একটি জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। অন্তত কুড়ি থেকে পঁচিশটি জায়গায় জলের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে।

তবে চাঁদের বুকে উল্কাপিন্ডের আঘাতে একপ্রকার লাভই হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। কারণ চাঁদে যে জল থাকতে পারে- সে সম্পর্কে অনুমান থাকলেও তার কোনও প্রমাণ মেলেনি এতদিন। অবশেষে অনুমান সত্যি হল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এই উল্কাগুলি যে চন্দ্রপৃষ্ঠে খুব বেশি ক্ষত সৃষ্টি করেছে এমনটা নয়। এই উল্কাগুলির বেশিরভাগই চাঁদের ভূমির উপরিতলের তিন থেকে চার ইঞ্চি গভীরে আঘাত করেছে।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.