প্রতিযোগিতার যুগের এই সময়ের ব্যস্ততায় নয় থেকে নব্বই – সব বয়সের মানুষেরই জীবনযাত্রায় হয়েছে আমুল পরিবর্তন | এখন যেহেতু বেশিরভাগ মহিলারাই অফিসে কাজ করেন তাই বাড়ির কাজকর্ম করার সময় বিশেষ পান না | শারীরিকভাবে নিস্ক্রিয় জীবনযাত্রায় তাই জাঁকিয়ে বসছে নানান রোগের উপসর্গ | মহিলাদের একটা অতি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিও | পিসিওর প্রাথমিক কিছু প্রবণতা হল ওভারি বা জরায়ুতে সিস্ট হওয়া‚ অনিয়মিত ঋতুস্রাব‚ চুল উঠে যাওয়া‚ ওজন বেড়ে যাওয়া এবং ব্রণর উৎপাত | যদিও পিসিওর নানা কারণ থাকে তবে একটি সাধারণ কারণ হল হরমোনক্ষরণের ক্ষেত্রে অনিয়ম | আপনার পিসিও থাকলে অতি অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন | পিসিও কখনওই পুরোপুরি সারিয়ে তোলা যায় না | তবে জীবনযাপনে কিছু সহজ অভ্যাস পিসিও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে |

১| কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাওয়ার পরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ে তা নির্ণয়ের একটি উপায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্স। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের খাবার খেলে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়ে। কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের খাবার খেলে পিসিওর উপসর্গগুলো কমানো যায়। এজন্যই পিসিও আক্রান্তদের কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার কম খাওয়া উচিৎ। শস্যদানাজাতীয় খাবার খাওয়া বেশি করে খাওয়া উচিত।

২| একেবারে পেট ভরে খাবেন না। আবার অনেকক্ষণ ধরে না খেয়েও থাকবেন না। কয়েক ঘন্টা বাদে বাদে অল্প অল্প করে খাবার খান।

৩| পিসিওর আরেকটি সমস্যা ওজন বৃদ্ধি পাওয়া। আপনি যদি ওভারওয়েট হন তবে প্রথমেই আপনাকে ওজন কমাতে হবে। ওজন কমানোর জন্য দরকার সঠিক খাওয়াদাওয়া ও নিয়মিত শরীরচর্চা। শরীরচর্চা করার অভ্যাস করুন। যদি সময়ের অভাবে নিয়মিত শরীরচর্চা করার সুযোগ না থাকে তাহলে অন্তত নিয়মিত ঘন্টাখানেক হাঁটুন বা জগিং করুন। শরীরচর্চা করলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে যার ফলে ঋতুস্রাবও নিয়মিত হবে।

Banglalive-8

৪| লো ফ্যাট লো কার্বজাতীয় খাবার খাওয়া বেশি করে খান।

Banglalive-9

৫|  খাদ্যতালিকায় যোগ করুন প্রোটিনজাতীয় খাবার। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ব্লাডসুগারের মাত্রা স্থিতিশীল রাখে ও পেট ভরা রাখে। ডিম, সিদ্ধ ছোলা, বাদাম, মাংস, মটরশুঁটি ও শিম জাতীয় খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস, খেতে পারেন।

আরও পড়ুন:  স্বেদবিন্দুতেও গরল ! বিষকন্যাদের আলিঙ্গনেও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তেন কামুক রাজারা

৬| মেথি দেহের গ্লুকোজের সহনশীলতা মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ওজন কমাতেও সাহায্য করে। ৩ চামচ মেথিবীজ ভাল করে ধুয়ে সারারাত দেড় কাপ জলে ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে, দুপুরে ও রাতে খাওয়ার ৫ মিনিট আগে এই মেথি ভেজানো জল খান। খেতে পারেন মেথি শাকও।

৭| সকালে খালি পেটে ১০টি তুলসীপাতা চিবিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া তুলসীপাতা সিদ্ধ করা জল নিয়মিত খেতে পারেন।

৮| ভাজাভুজির বদলে রোস্টেড খাবার খেলে ভাল।

৯| ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ আমলকিতে রয়েছে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের এবং নারীদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষমতা। দেহের ওজনও কমাতে সাহায্য করে আমলকি। আমলকির রস ঈষদুষ্ণ জলের সঙ্গে মিশিয়ে পান করুন। এছাড়া কাঁচা বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন।

১০| এক গ্লাস জলে ১ চামচ মধুর সঙ্গে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে ভাল। এটি দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করবে। তবে মনে রাখতে হবে জলে মধু মিশিয়ে কখনওই জল গরম করা যাবে না বা সেই মিশ্রণটি রেখে দিয়ে পরে খাওয়া যাবে না। এতে মধুর কার্যকারিতা নষ্ট হয় এবং তখন এটি দেহের ওজন বাড়ায়।

১১| ওমেগা ৩ ও ওমেগা ৬ এর সমৃদ্ধ তিসি বীজে লিগনান নামক এক ধরনের প্রোটিন থাকে যা টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে। তিসি বীজ দেহের গ্লুকোজ এবং ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পিসিওর বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে। তিসি বীজ গুঁড়ো করে খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। জলের সঙ্গেও সামান্য কিছুটা মিশিয়েও খেতে পারেন।

১২| ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার ( যেমন আমন্ড বাদাম‚ কাজু বাদাম‚ পালং শাক‚ কলা ইত্যাদি ) খাদ্যতালিকায় যোগ করুন।

১৩| পিসিওর সমস্যা থাকলে আজই কফিকে জানাতে হবে বিদায়। কারণ কফিতে থাকা ক্যাফিন ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ প্রভাবিত করে। কফির বদলে বেছে নিন হার্বাল টি বা গ্রিন টি।

আরও পড়ুন:  সর্পদেবীর পুজোর মন্ত্র শিস ! যুগ যুগ ধরে এই জনজাতির ধরা সাপের বিষেই বিষক্ষয় দংশনের

১৪| আয়রন সমৃদ্ধ খাবার ( যেমন পালং শাক‚ ডিম‚ ব্রকোলি ইত্যাদি ) খাওয়ার চেষ্টা করুন |

১৫| দারচিনিতে রয়েছে রক্তের শর্করার মাত্রা স্থির রাখার ক্ষমতা। মিল্কশেক বা দইয়ে মিশিয়ে দারচিনি খেতে পারেন। কেক বা মাফিন তৈরিতে ব্যবহার করতে পারেন বা চায়ের সাথে সামান্য দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়েও খেতে পারেন। এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম, তাই ওজন বাড়ারও কোনও চিন্তা থাকবে না।

NO COMMENTS