জানেন মাল্টি ট্যালেন্টেড টুথব্রাশ অনেক কাজে লাগে?

টুথব্রাশের কাজ কি? একটা বাচ্চাও জানে, রোজ দাঁত ব্রাশ করতে কাজে লাগে এই বস্তুটি। অনেকেই হয়তো এটা জানেন না, টুথব্রাশ আসলে মাল্টি ট্যালেন্টেড। দাঁত ব্রাশ করা ছাড়াও একে আরও অন্য অনেক কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন—-

নখ ঝলমলে: দাঁতের মতো নখ পরিষ্কার করতেও টুথব্রাশ সিদ্ধহস্ত। কীভাবে? আপনি যদি সারাক্ষণ নেলপলিশে নখ রাঙিয়ে রাখেন তাহলে খেয়াল করে দেখবেন, একটা সময়ের পর নখে হলদেটে ছোপ ধরে। নেলপলিশের কেমিক্যাল পরত নখ ঢেকে রাখার ফলে অক্সিজেন পায় না নখ। ফলে, বিবর্ণ হয়ে পড়ে। এই সমস্যা এড়াতে বেকিং সোডা আর পাতিলেবুর রস মিশিয়ে একটা মিশ্রণ তৈরি করুন। সেই মিশ্রণ ব্রাশে করে নখে মাখিয়ে রাখুন মিনিট পনেরো। তারপর, ব্রাশ দিয়ে হালকা হাতে ঘষে ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিন। হলদে ভাব সরে নখ আগের মত ঝকঝকে। শেষে নখে ময়েশ্চারাইজার লাগানো মাস্ট।

পরিষ্কার কর্ণার: বাড়িতে ময়লা বেশি জমে কোণায় বা কর্ণারে। যেখানে সহজে ঝাঁটা, ন্যাতা বা আপনার হাত পৌঁছোয় না। যেমন, সিঙ্ক বা বেসিনের কর্ণার, তাকের খাঁজ, টাইলসের ফাঁক ইত্যাদি ইত্যাদি। গোটা বাড়ির মতো এইসব কোণা-কাঞ্চি ঝকঝকে রাখতে ভরসা রাখুন টুথব্রাশের ওপর। ব্রাশে লিক্যুইড সোপ লাগিয়ে ঘষে নিন এইসব জায়গা। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে নিন। মশা, মাছি, পোকামাকড়ের মুক্তি পাবেন সহজেই।

হেয়ার কেয়ার: ইদানিং আমরা বেশির ভাগ সময় এসিতে কাটাই। অতিরিক্ত ঠান্ডা হাওয়ার নীচে থাকার ফলে ত্বকের মতো চুলও রুক্ষ হয়ে পড়ে সহজেই। আর সেই রুক্ষ চুল ম্যানেজ করা বড্ড ঝামেলার। এখানেও আপনার রক্ষাকর্তা টুথব্রাশ। কীভাবে?   হেয়ার স্প্রে বা জেল ব্রাশে করে নিয়ে যে জায়গার চুল ম্যানেজ করতে পারছেন না সেখানে লাগিয়ে নিন। চুল বশ নিমেষে।

আর্টে ব্রাশ: বাচ্চার হাতের কাজে স্প্রে পেন্ট চাই? রং গুলে তাতে ব্রাশ ডুবিয়ে আঙুলের সাহায্যে পাতার ওপর ছিটিয়ে দিন। স্প্রে পেন্টের নিখুঁত এফেক্ট দেখে খুশি হবে বাচ্চা। একইভাবে নিজেকে একটু খুশি করুন। লম্বা নখে আর্টিস্টিক কারুকাজ ফোটাতে নখরঞ্জনীর ওপর ব্রাশ দিয়ে ডট এঁকে নিন। এক্ষেত্রে অবশ্যই অন্য নেলপলিশ ব্যবহার করবেন। নিজের এই শিল্পকর্মে শুধু নিজে নন, মুগ্ধ হবেন আপনার গুণমুগ্ধরাও।

হোঁট গুলাবি: ব্রাশের ছোঁয়ায়। অতিরিক্ত এসি বা ভিটামিনের অভাবে অনেকেরই সারা বছর ঠোঁট ফাঁটে। তাঁদের জন্য সহজ সমাধান, পেট্রোলিয়াম জেলিতে চিনি গুঁড়ো মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখুন। এটা ঠোঁটের স্ক্রাবার। মিনিট পাঁচেক পরে বেবি ব্রাশ দিয়ে ঘষে নিন। নরম ব্রাশ মরা কোষ সরিয়ে ঠোঁটকে করে তুলবে উজ্জ্বল। চিনির গুঁডো, পেট্রোলিয়াম জেলির বদলে দুধের সর আর মধু মিশিয়ে পেস্ট বানিয়েও লাগাতে পারেন। ঠোঁট ভালো করে ধুয়ে শেষে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে ভুলবেন না।

চুলের যত্নে: টেনশনে, অযত্নে চুল পড়ে যাচ্ছে? চিন্তা করবেন না। বরং টি ট্রি অয়েল ব্রাশে লাগিয়ে চুলের গোড়ায় মাসাজ করুন রোজ। এই সমস্যাও কমবে ব্রাশের গুণে।   

    

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here