তাঁর আদরের মুমতাজ মহল শুয়ে আছেন সামান্য এক যুদ্ধ শিবিরে | এও দেখতে হল মুঘল সম্রাট শাহজাহানকে ! মুমূর্ষু প্রেয়সীকে দেখে কাতর হয়ে পড়েছিলেন জাহাঙ্গীর-পুত্র | ওই অবস্থায় স্বামীর হাত ধরে কাকুতি জানালেন মুমতাজ | বানাতে হবে এমন এক সৌধ‚ যা স্মারক হয়ে থাকবে তাঁদের অমর প্রেমের | মুমতাজের মৃত্যুবার্ষিকীতে সেখানে যাবেন তাঁর স্বামী | এবং‚ যেটি সবথেকে আশ্চর্যের‚ মুমতাজের মৃত্যুর পরে শাহজাহান যেন আবার বিয়ে করেন |

Banglalive

সবকটি কথা রেখেছিলেন শাহজাহান | তাজমহল বানাতে সময় লেগেছিল ২০-২২ বছর | তবে বেশি সময় লাগেনি মুমতাজের বোনকে বিয়ে করতে | সম্ভবত নিজের সন্তানদের সতীন-নজর থেকে বাঁচাতে এই অনুরোধ করে গিয়েছিলেন মুমতাজ |

১৬৩১ সালের জুন মাসে বুরহানপুরে ( আজকের মধ্যপ্রদেশে ) প্রয়াত হন মুমতাজ | ৩৭ বছর বয়সী সম্রাজ্ঞীকে সমাহিত করা হয় প্রমোদ উদ্যান জাইনাবাদে | এই বাগান বানিয়েছিলেন শাহজাহানের কাকা দানিয়েল |

জাইনাবাদে মুমতাজ শায়িত ছিলেন ৬ মাস | আগ্রায় যমুনার তীরে স্থান নির্বাচন করা হয়ে গেলেই শাহজাহান নির্দেশ দেন এ বার নিয়ে আসতে হবে তাঁর আদরের মুমতাজকে | তাঁর নির্দেশে রওনা দেন পুত্র শাহ সুজা | সোনার শবাধারে করে নিয়ে আসেন মায়ের দেহ | প্রথমে যমুনার তীরে এক জায়গায় সমাহিত করা হয় মুমতাজকে | ততদিনে অবশ্য শুরু হয়ে গেছে তাজমহল বানানোর কাজ | সে এক এলাহি আয়োজন |

প্রধান স্থপতি ছিলেন আহমদ শাহ লহৌরি | তাঁর নির্দেশে কাজ করেছিলেন কয়েক হাজার শিল্পী এবং মিস্ত্রি | এক হাজারের বেশি হাতি গোটা এশিয়া মহাদেশ ঢুঁড়ে বয়ে এনেছিল অমূল্য রত্নরাজি |

তাজের মূল উপকরণ মার্বেল পাথর বা মর্মর এসেছিল রাজস্থানের মারকানা থেকে | সাজানোর জন্য দামী রত্নগুলো অবশ্য এসেছিল ভারতের বাইরে থেকে | তিব্বত থেকে এসেছিল টারকোয়াইজ‚ গজনী বা আজকের আফগানিস্তান থেকে এসে জমা হয় লাপিস লাজুলি‚ চিন থেকে আমদানি হয় স্বচ্ছ স্ফটিক আর সবুজ জেড পাথর | সিংহল আর আরব দেশের বণিকদের থেকে কেনা হয় স্যাফায়ার | পরম যত্নে তা খোদাই করা হয় তাজের সর্বাঙ্গে | একটা একটা করে |

সবুজ ঘাস আর যমুনার নীল জলের সঙ্গে মানানসই করে তৈরি হয়েছিল তাজ | এমনভাবে‚ যাতে এর মর্মর দেওয়াল প্রতিফলিত করে আকাশের রং | তাই সারাদিন বারবার নিজের রং পাল্টে ফেলে এই প্রেমসৌধ | একেবারে ভোরে সে থাকে হাল্কা গোলাপি | বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটে ওঠে দুধসাদা রং | সূর্যাস্তের সময় সোনালি আর পূর্ণিমায় অপার্থিব রজতাভ |

তাজমহলের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর খুব বেশিদিন বাইরে থাকেননি শাহজাহান | ছেলের হাতে বন্দি হয়েছিলেন | তাজে মুমতাজের পাশে শেষ শয্যায় শায়িত হওয়ার আগে অবধি ছোট্ট একফালি জানালাই ছিল তাঁর অনিমেষ নয়নের গন্তব্য | ওখান দিয়েই তিনি মানসভ্রমণে পৌঁছে যেতেন তাজ মহলে শায়িত স্ত্রী মুমতাজের কাছে |  

সেদিনের যৌবনবতী যমুনা আজ জরাগ্রস্ত বৃদ্ধা | তার তীরে দাঁড়িয়ে আছে প্রেমের মর্মর সৌধ | সময়ের গালে একটি অশ্রুবিন্দু হয়ে |

ঋণস্বীকার :  Islam Today : A Short Introduction to the Muslim World by Akbar Ahmed & other sources

আরও পড়ুন:  'তারে জমিন পর'-এর ঈশানের মতোই ডিসলেক্সিয়ার বাধা অতিক্রম করে বোর্ডের পরীক্ষায় দ্বিতীয় বেঙ্গালুরুর আদিত্য

আরও পড়ুন : ১৯ বছরের দাম্পত্যে সন্তান ১৪ জন‚ শেষ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু নূরজাহানের ভাইঝি শাহজাহানের প্রিয়তমা পত্নী মুমতাজ মহলের http://banglalive.com/intimate-erotic-relationship-shahjahan-mumtaz-had-14-children-in-their-19-years-of-marriage/

NO COMMENTS