যদি ঢোঁড়া হয়!

744

২০১৬ সালের নতুন বছরে সেরা জোকসটা ছেড়েছে পাকিস্তান| সেই রাষ্ট্র যে আমাদের প্রতিবেশী এবং যার প্রতি বন্ধুতা ও মৈত্রীর বার্তা দিতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মাত্র কিছুদিন আগেই পুষ্পস্তবক হাতে সোজা পৌঁছে গিয়েছিলেন লাহোরে সে দেশের উজির-এ-আজম নওয়াজ শরিফের বাড়ি| তাঁকে জানিয়েছিলেন জন্মদিনের শুভেচ্ছা| এর ক’দিনের মধ্যে ঘটল পাঠানকোটের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী হামলা|

পাকিস্তান বলছে, তারা এই সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করছে| বাপরে বাপ, শুধু নিন্দা নয় –তীব্র নিন্দা! তারা আরও বলছে, ভারত সরকার, ভারতের জনগণ এবং নিহত ও আহতদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি| উহ্ ভাবা যায়, ভাসা ভাসা সমবেদনা নয় – গভীর সমবেদনা! হ্যাঁ, এটাই তো বাঞ্চনীয়; এক বন্ধুর বিপদে আর এক বন্ধু তো এমন মনোভাবই ব্যক্ত করে| কিন্তু আসুন, একটা ছোট্ট প্রশ্নোত্তর পর্ব সেরে নেওয়া যাক|

যে সন্ত্রাসবাদীরা হামলা চালিয়েছে তারা কোন দেশের নাগরিক?
উত্তর –পাকিস্তান|

তারা অস্ত্র পেল কথা থেকে?
উত্তর – পাকিস্তানা|

তারা প্রশিক্ষণ লাভ করেছে কোথায়?
উত্তর – পাকিস্তানের মাটিতে|

আসলে, পাকিস্তান এমন একটা রাষ্ট্র যে ভারতবিদ্বেষ দিয়ে সকালের ব্রেকফাস্ট সারে, ভারতবিদ্বেষ মেখে দুপুরের ভাত খায়, সন্ধ্যায় তার চায়ের সঙ্গে নিমকিকুচোর মতো থাকে ভারতবিদ্বেষ| যে রাষ্ট্রনায়ক যত ভারতবিদ্বেষ দেখান তাঁর জনপ্রিয়তা তত বাড়ে| নির্বাচনে জয়লাভ অনায়াস হয় তাঁর|

জানি, এই জায়গায় একটা জোরালো প্রতিবাদ উঠবে| আমাদের দেশেরই উদারনৈতিক ইন্টেলেকচুয়ালরা গলার শির ফুলিয়ে চিত্কার করবে –ছিঃ ছিঃ, এ কেমন সংকীর্ণতা; একটা দেশের সব মানুষই কি খারাপ হতে পারে! ঠিকই! একটা দেশের তাবৎ মানুষই মন্দ বা একটা মানুষের চরিত্রের সবদিকই কদাকার –এমনটা কখনওই হতে পারে না| এমন গভীর দার্শনিক তত্ত্ব অল্প অল্প হলেও বুঝি| কিন্তু এটা কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না, পাকিস্তান নামক দেশটির সিংহভাগ মানুষ ভারতবিদ্বেষী| ভারতের সর্বনাশ দেখলে তাদের সুখনিদ্রা গভীর হয়| ভারতের সমৃদ্ধি দেখলে তাদের গায়ে বিছুটির জ্বালা ধরে| সেই জন্যই সে দেশের রাষ্ট্রনায়কদের জনপ্রিয়তা কুড়োবার সহজতম পন্থা হলো ভারতের পাকা ধানে মই দেওয়া|

আরও একটা লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হলো, বিভিন্ন সময় আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীরা প্রতিবেশী এই দেশটির সঙ্গে যখনই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, মৈত্রীর বন্ধনকে মজবুত করার চেষ্টা চালিয়েছেন, অনতিবিলম্বে অধিকতর সন্ত্রাস চালিয়ে প্রতিদান দিয়েছে তারা| ১৯৯৯-এ তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ির উদ্যোগে শুরু হয়েছিল দিল্লী-লাহোর বাসযাত্রা| তার তিন মাসের মধ্যে পাকিস্তান প্রতিদান দিয়েছিল কার্গিল আক্রমন করে| বহু নির্ভীক সৈনিকের প্রাণের মূল্যে মুক্ত হয়েছিল কার্গিল| তার পরেও বৈরিতার পথে না হেঁটে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আলাপ-আলোচনার মধ্যে দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ককে দৃঢ় করার বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন সেখানে|রিটার্ন-গিফট আমরা পেয়েছি কিছুদিন পরেই| আমাদের গণতন্ত্রের সর্ব্বোচ মন্দির সংসদ ভবন আক্রান্ত হয়েছে পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গি দ্বারা|

সুতরাং, আমাদের দুর্দিনে, আমাদের বিপদকালে পাকিস্তানের অন্তর কেমন বেদনাহত হয় তা আমাদের বিলক্ষণ জানা হয়ে গেছে| ফলে তাদের তীব্র নিন্দা কিংবা গভীর সমবেদনা হাস্যকৌতুকের বেশি কিছু বোধ হয় না| এবং সেই সঙ্গে মনে পড়ে যায় সেই গল্পটির কথা|পাশাপাশি দুই পরিবারে ঘোরতর বিরোধ| একদিন এক পরিবারের ছেলেকে সাপে কাটল| সংবাদ পেয়ে অন্য পরিবারের গিন্নি বিলাপ করতে লাগল কপাল চাপড়ে| কর্তা বলল, কাঁদছ কেন, ওদের ছেলেকে সাপে কেটেছে, এ তো বড় সুখের কথা| গিন্নি বলল, কিন্তু সাপটা যদি নির্বিষ ঢোঁড়া হয়!

হ্যাঁ, পাকিস্তান আমাদের তেমনই প্রতিবেশী|

Advertisements

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.