রাজমর্যাদা হারিয়ে করা বিয়েও ভেঙে গেছে‚ রাজকুমারী এবার ভোটের ময়দানে

থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটেছিল ১৯৩২ সালে । তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আজও রাজপরিবারের প্রভাব বর্তমান । এবার আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য লড়বেন রাজা মহা বাজিরালঙ্গকর্ণের  দিদি ৬৭ বছরের রাজকুমারী উবোলরতনা । আর তাই স্বাভাবিকভাবেই এই ঘোষণায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে তাইল্যান্ডে । রাজকুমারী সেদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনাবাত্রার সমর্থক ‘থাই রক্ষা চার্ট পার্টি’-র একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন । তবে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তাঁর নিজস্ব নাকি এতে রাজপরিবারেরও সায় রয়েছে কি না তা যদিও এখনও স্পষ্ট নয় ।

দেশের টালমাটাল রাজনীতিতে ভারসাম্য আনতেই প্রথা ভেঙে এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন রাজকুমারী উবোলরতনা । সেদেশের এক কূটনীতিবিদ-এর কথায়,  উবোলরতনার রাজনীতিতে পা দেওয়ার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে । তাঁর রাজনীতির ময়দানে আসার ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আসতে পারে আমুল পরিবর্তন । তাঁর কথায়, পরিস্থিতি শান্ত হতে পারে । আবার এখনকার থেকেও বেশি অশান্ত হয়ে উঠতে পারে ।

রাজকুমারী উবোলরতনা ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি থেকে গণিত ও জৈব-রয়াসনে স্নাতক ডিগ্রি গ্রহণ করেন। তারপর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া থেকে গণস্বাস্থ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন তিনি। ১৯৭২ সালে তাঁর মার্কিন সহপাঠী পিটার জেনসেনকে বিয়ে করার জন্য নিজের রাজকীয় মর্যাদা বিজর্সন দেন তিনি। যদিও ১৯৯৮ সালে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তার আগে ২৬ বছর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করেছেন। ২০০১ সালে থাইল্যান্ডে ফিরে রাজ দায়িত্ব পালন করা শুরু করেন রাজকুমারী উবোলরতনা, যদিও তিনি আর কখনও পূর্ণ রাজকীয় মর্যাদা ফিরে পাননি। রাজপরিবারের অন্দরে এবং প্রজাদের কাছে ‘রানির মেয়ে’ হিসেবে সম্বোধন করা হত তাঁকে।  ২০০৪ সালের সুনামিতে নিজের ছেলেকেও হারান তিনি। এর পর থেকে একাধিক প্রচারমূলক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদক-বিরোধী প্রচার চালানোয় তাঁর অবদান রয়েছে।

তবে, বোনের প্রধানমন্ত্রীত্বের লড়াইয়ে নামা ‘অনুচিত’ এবং ‘অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেছেন তাঁর ভাই রাজা মহা বাজিরালঙ্গকর্ণ। ১৯৩২ সাল থেকে থাইল্যান্ডে সাংবিধানিক সরকার ব্যবস্থা চালু হলেও জনগণের কাছে রাজপরিবারের গুরুত্ব এখনও অপরিসীম। বিশেষত রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোনও সংকট দেখা দিলে এখনও রাজা তাঁর সমাধানসূত্র খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। তবে রাজনীতির বাইরে থাকাই রাজপরিবারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তাই রাজকুমারী উবোলরতনার এই পদক্ষেপে থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের রাজনীতির বাইরে থাকার প্রথা ভঙ্গ হবে বলেও জানিয়েছেন রাজা মহা বাজিরালঙ্গকর্ণের । আগামী শুক্রবারের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আগামী ২৪ মার্চ থাইল্যান্ডে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজা মহা বাজিরালঙ্গকর্নের আপত্তির কারণে এখন নির্বাচন কমিশন উবোলরতনাকে নির্বাচনে দাঁড়াতে দেবে কিনা এখন সেটাই দেখার ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here