দস্যু থেকে দাবানল ! বিপদের মধ্যেই রোজ ৩০০ কিমি পথ তরুণীর পাড়ি সাইকেলে

এশিয়ার দ্রুততম মেয়ে হিসেবে গোটা দুনিয়া সাইকেলে ঘুরে ফেললেন পুনের কিশোরী বেদাঙ্গী কুলকার্নি। মাত্র ১৫৯ দিনে সাইকেলে চেপে গোটা দুনিয়া ঘুরেছেন তিনি।  অস্ট্রেলিয়ার পারথ থেকে বেরিয়ে ২৯,০০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে কলকাতা পৌঁছে এই রেকর্ড গড়েছেন তিনি । কলকাতা থেকে ফিরবেন নিজের শহর পুণায় |

দেশের ইংরেজি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, গোটা পথে অজস্র বিপদের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। কোথাও ছুরি ধরে তাঁর জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কখনও পড়েছেন দাবানলের মধ্যে, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় বন্য পশুরাও তাড়া করেছে একাধিকবার । বেদাঙ্গী জানান, প্রত্যেক দিন প্রায় ৩০০ কিলোমিটার করে সাইকেল চালাতে হত তাঁকে । এই রেকর্ড গড়ার জন্য তাঁকে ২৯০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই হত । কিন্তু ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাওয়ার পাত্রী নন তিনি । বিপদের সঙ্গে মোকাবিলা করে নিজের লক্ষ্যে স্থির থেকেছেন বেদাঙ্গী ।

অস্ট্রেলিয়ার পারথ থেকে যাত্রা শুরু করে প্রথমে তিনি পৌঁছান ব্রিসবেন-এ । সেখান থেকে ফ্লাইটে তিনি নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন-এ । পুরো নিউজিল্যান্ড সাইকেলে ঘুরে ফ্লাইটে পশ্চিম কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছন । আকাশপথে এরপরের গন্তব্য ইউরোপের আইসল্যান্ড | আইসল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড ঘুরে রাশিয়ায় প্রবেশ করেন । সেখান থেকে ৪০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। বেদাঙ্গী  জানিয়েছেন, বেশিরভাগ পথ তিনি একাই ঘুরেছেন, কিন্তু কিছুটা পথে তাঁর বাবা-মাও তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন।

পুনের নিগড়ি শহরের মেয়ে বেদাঙ্গী স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করতেন ইউকে-র ইউভার্সিটি অফ বোর্নমাউথ-এ। সেখানেই সাইকেলের নেশা পেয়ে বসে তাঁকে। সাইকেল চালিয়ে নতুন রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি । নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে বেশি সময় নেননি বেদাঙ্গী। যাত্রা যখন শুরু করেছিলেন, তখন বয়স ছিল ১৯, পথেই ২০ বছরের জন্মদিন কাটান তিনি। এশিয়ার মধ্যে দ্রুততম মেয়ে হিসেবে সাইকেলে পৃথিবী ঘোরার রেকর্ডের সার্টিফিকেটি হাতে পেতে সময় লাগবে ৮-৯ মাস।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

spring-bird-2295435_1280

এত বেশি জাগ্রত, না থাকলে ভাল হত

বসন্ত ব্যাপারটা এখন যেন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেছে। বসন্ত নিয়ে এত আহ্লাদ করার কী আছে বোঝা দায়! বসন্তের শুরুটা তো