(বাংলার দিদি NO 1 এখন তিনি | রচনা ব্যানার্জী | এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা এখন টেলিভিশনের রানি | প্রাণ খোলা আড্ডায় মাতলেন বাংলালাইভের পাঠকদের জন্য )

সাক্ষাৎকার : তন্ময় দত্তগুপ্ত


আপনি ছিলেন ঝুমঝুম ব্যানার্জী।সিনেমায় এসে হলেন রচনা ব্যানার্জী।সেই ঝুমঝুম মেয়েটার কথা আজ কিছু মনে পড়ে ?

রচনা ব্যানার্জী : অনেক দিন আগের ঘটনা।আমি খুব কম বয়সে সিনেমা জগতে আসি ।তখন ছিল স্কুল লাইফ।অনেক বন্ধু বান্ধব ছিল।খুব সিম্পল ছিলাম।ঝুমঝুমের কথা আজ আর তেমন মনে পড়ে না।এই জগতে চলে এসেছি বলে আজ ওই নামটা ফেড হয়ে গেছে। সুখেন দাস আমাকে তার ছবিতে সুযোগ দেন।সুখেন দাস আমার নাম দেন রচনা।

সিনেমায় আসার আগে অভিনয় নিয়ে কোনও ধারণা ছিল?

রচনা ব্যানার্জী : না, তেমন ধারণা ছিল না।কিন্তু আমি বহুবার বিউটি কনটেস্টে পার্টিসিপেট করেছি।কখনও মিস ক্যালকাটা হয়েছি।কখনও মিস ইন্ডিয়া কনটেস্টে মিস বিউটিফুল স্মাইলের খেতাব অর্জন করেছি।একটা গ্রুমিংয়ের মধ্যে ছিলাম।তাই সিনেমায় সুযোগ পেতে সুবিধা হয়েছে।একের পর এক সিনেমায় অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে অডিও ভিস্যুয়াল মিডিয়ায় কাজের একটা অভিজ্ঞতা হয়।তারপর আর পিছনে 
ফিরে তাকাতে হয়নি।একের পর এক কাজ এসেছে। 

আপনি বাংলা, হিন্দি বাদেও প্রচুর তামিল উড়িয়া ছবিতে কাজ করেছেন।কী মনে হয়েছে অন্য ভাষার ছবিতে কাজ করে?

রচনা ব্যানার্জী : ওরা অনেক বেশি প্রফেশনাল ।এখন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিও অনেক প্রফেশনাল হয়েছে।সেই সময়ে উড়িয়া, তামিল ছবির ইনফাস্ট্রাকচার অনেক উন্নত ছিল।ওদের বাজেট অনেক বেশি থাকত।তাই ওখানে কাজ করতে পেরেছি।ওদের সাবজেক্ট সিলেকশনের মধ্যে একটা নিজস্বতা ছিল।ওরা কিন্তু অন্য ছবির স্টোরি কপি করত না।ওদের সঙ্গে কাজ করে আমার বেশ ভালোই লাগত। 

প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জীর সঙ্গেই আপনার ছবির সংখ্যা ৩৫।একদম হিট জুটি।আমার প্রশ্নটা অন্য জায়গায়।সেটা হল একের পর এক হিট কমার্শিয়াল ছবিতে যখন অভিনয় করছেন তখন ঋতুপর্ণ ঘোষের মতো পরিচালকের কাছে থেকে কাজের কোনও অফার পেয়েছিলেন? 

রচনা ব্যানার্জী : আসলে আমি কমার্শিয়াল ছবি নিয়ে এত ব্যস্ত ছিলাম যে এসব ভাবনা মাথায় আসেনি।আমাকে কে ডাকল আর কে ডাকল না — এই সব না ভেবে আমি আমার মতো ফুল দমে কাজ করে গেছি।আমি ৩৬৫ দিন কাজে ব্যস্ত থাকতাম।আর সত্যি কথা হল ওই প্যারালাল সিনেমায় তখন উপযুক্ত পারিশ্রমিক কেউ দিত না।বাণিজ্যিক ছবির মতো বাজেট ওই ধারার ছবিতে থাকে না।আমার হাতে কাজ না থাকলে হয়ত ওইসব চিন্তা আসত। 

টাকা সবারই প্রয়োজন।এরপরেও তো গ্রেট ফিল্মমেকারদের সঙ্গে কাজ করার একটা স্বপ্ন সবার থাকে।আপনার তেমন কোনও স্বপ্ন ছিল না?

রচনা ব্যানার্জী : ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবি আমি দেখেছি।কাজ করতে পারলে ভালো হত।কিন্তু কাজ করিনি বলে আমার সেরকম কোনও ক্ষোভ নেই। আমি চিরকালই এমন।যেটা হবে, হবে।যেটা হবে না,হবে না।

আপনি একটা ইন্টারভিউতে বলেছিলেন যে ভালো ছবির অফার পেলেও আপনি মাচার অনুষ্ঠান ছেড়ে যাবেন না।এটা ব্যস্ততার কারণে নাকি স্রেফ টাকার জন্য?

রচনা ব্যানার্জী : আমি ব্যস্ত থাকতে চাই।এবং সেটা যেভাবেই হোক।এটা আমার সোজাসাপটা বক্তব্য।কাজে ব্যস্ত থাকাটাই আমার কাছে জরুরি।আমি কোন ধারার ছবির কাজ করছি —সেটা আমার কাছে ফ্যাক্টর নয়।ভালো রোজগার করছি;এটা ম্যাটার করে।জীবনে আমি কী পেলাম না— সেটা নিয়ে আমি ভাবতে  চাই না।

আপনি বহু জায়গায় বলেছেন,যে আপনি ডিরেক্টর প্রোডিউসারের ঘরে ঘরে গিয়ে কাজের জন্য ভিক্ষা চান না।তাহলে এতো কাজ যে করলেন,সেই কাজ কি সহজ পথেই এসেছে?

রচনা ব্যানার্জী : একদম সহজ ভাবেই এসেছে।কাউকে ফোন করে কাজ চাওয়ার অভ্যাস আমার নেই।

টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে পাবলিক রিলেশন ছাড়া সারভাইভ করা সম্ভব?

রচনা ব্যানার্জী : এখনকার দিনে পাবলিক রিলেশন ছাড়া কাজ পাওয়া অসুবিধা।আমার সময়ে আমি এই অসুবিধা ফেস করিনি।এখন অনেক চ্যানেল। অনেক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।এখন সকলের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো না রাখলে কাজ পেতে সমস্যা হতে পারে।

যে সময় আপনি একের পর এক বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করছেন,সেই সময় খুব স্পষ্ট ভাবেই বাংলা ছবির মধ্যে একটা মেরুকরণ দেখা গেছে।সেটা হল, গ্রামের দর্শকের জন্য ছবি আর শহুরে দর্শকের জন্য ছবি। আপনি যে ধরনের ছবিতে অভিনয় করতেন,সেই ছবি শহুরে দর্শক খুব একটা দেখত না।সেটা ছিল গ্রামের দর্শকের ছবি।এটা কখনও ফিল করেছেন?

রচনা ব্যানার্জী : জানেন আমি বহু চরিত্রে অভিনয় করে খুব খুশি ছিলাম।আমি  কমার্শিয়াল মুভির অ্যাকট্রেস।প্যারালাল মুভি নিয়ে আমার কোনও কালেই খুব একটা অ্যাট্রাকশন ছিল না।হয়ত অফার পেলে  নিশ্চয়ই কাজ করতাম।কিন্তু ওই ছবির অফার আসেনি বলে আমার কোনও দুঃখ নেই।

আপনি মুম্বইতে ‘সূর্যবংশম’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের মতো লেজেণ্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন।সেই এক্সপিরিয়েন্স কিছু শেয়ার করুন।

রচনা ব্যানার্জী : অমিতাভ বচ্চন নিজেই একজন ইন্সটিটিউট।’সূর্যবংশম’ ছবিতে ওনার সঙ্গে অভিনয় করে অনেক কিছু শিখেছি।ভদ্রতা, সভ্যতা এবং একাগ্রতার উদাহরণ হলেন অমিতাভ বচ্চন।আমার খুব অবাক লেগেছে অমিতজির ব্যবহার দেখে।উনি সব সময় আমাকে রচনাজি বলে সম্বোধন করতেন। 

ওনার সঙ্গে কাজ করার আর কোনও স্মরণীয় মুহূর্ত আছে?

রচনা ব্যানার্জী : ‘সূর্যবংশম’ ছবিতে আমার ক্যারেক্টারের ডায়লগগুলো অমিতজির বিরুদ্ধে ছিল। আমি তাতে খুব বিব্রত বোধ করছিলাম।আমি ডিরেক্টরকে বলেছিলাম,অমিতজিকে আমি এত খারাপ কথা বলতে পারব না।এই কথা ওরা অমিতজিকে জানায়।অমিতজি আমাকে ওঁর মেকআপ ভ্যানে ডেকে পাঠান।আমাকে বলেন —‘আপনি আপনার ক্যারেক্টরের কথা চিন্তা করুন।আপনি আপনার ক্যারেক্টারের ডিমাণ্ড অনুযায়ী ডায়লগ বলুন।আর মনে রাখবেন ডায়লগগুলো আপনি আমাকে বলছেন না।বলছেন আমার অভিনীত চরিত্রকে’।এরপর আর আমার কোনও অসুবিধা হয়নি।খুব স্বাভাবিক ভাবেই ওনার সঙ্গে অভিনয় করেছি। 

‘সূর্যবংশমের’ পরে আর ওনার সঙ্গে দেখা হয়েছে বা কাজের সুযোগ হয়েছে? 

রচনা ব্যানার্জী : না, আর দেখা হয়নি।বাংলা ছবির কাজ নিয়ে আমি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ি।তাই সব কিছু ছেড়ে মুম্বই গিয়ে স্ট্রাগল করার কোনও যুক্তি খুঁজে পাইনি। মুম্বইয়ে কাজের জন্য আমি চেষ্টাই করিনি।আর ‘সূর্যবংশমের’ শুটিং হয়েছিল হায়দ্রাবাদে।মুম্বইতে নয়।মুম্বইয়ের সঙ্গে আমার কোনও কানেকশন ছিল না।

এখন মুম্বই থেকে অফার পেলে কাজ করবেন?

রচনা ব্যানার্জী : না।আমি আমার কাজের ব্যাপারে ভীষণ চুজি।আমি ‘দিদি NO 1’ করে খুব ভালো আছি।আমি মুম্বইতে কাজ করার জন্য পাগলের মতো ছুটব না।আমি করিনা কপূর হতে পারব না।আলিয়া ভাটও হব না।আর রিয়ালিটি হল,আমার পেছনে কোনও মহেশ ভাট বা সঈফ আলি খান নেই।তাই ইঁদুর দৌড়ে দৌড়ানোর আমার কোনও ইচ্ছে নেই।

তার মানে কি এটা যে বলিউডে গডফাদার ছাড়া কাজ পাওয়া মুশকিল ? 

রচনা ব্যানার্জী : হ্যাঁ।পেছনে বড় মানুষ না থাকলে কাজ পাওয়া মুশকিল।

টালিউডে কাজ পেতে গেলেও কি এই সমস্ত তথাকথিত বড় মানুষের প্রয়োজন?

রচনা ব্যানার্জী : না, বাংলা ছবির ক্ষেত্রে তেমন এক্সপিরিয়েন্স হয়নি।তবে এখানকার নায়িকা মুম্বইতে গেলে ওই রকম সিচুয়েশন হতে পারে।তখন না ঘরকা না ঘটকা অবস্থা হয়।মুম্বই গিয়ে দোরে দোরে ঘোরার থেকে নিজের জায়গায় রাজ করা অনেক ভালো। 

আপনি ‘দিদি NO 1’-এর কথা বলেন।এই গেম শো কি আপনার কেরিয়ারে আরেকটা টার্নিং পয়েন্ট?

রচনা ব্যানার্জী : নিশ্চয়ই।এই শো-র প্রত্যেকটা এপিসোড আমার কাছে মেমোরেবল।প্রত্যেক জন দিদি আমার কাছে স্পেশাল।মেমোরেবল-তো বটেই।আলাদা করে নির্দিষ্ট কোনও ঘটনা বা মুহূর্তের কথা বলতে পারব না।’দিদি NO 1′ আমার কাছে ভেরি স্পেশাল।

এই ‘দিদি NO 1’-এর সেটে আগুন লাগে।ঘটনা এমন পর্যায়ে পৌছায় যে আপনাকে হসপিটালে অ্যাডমিট হতে হয়।এরপরেও আপনি ফুল এনার্জি নিয়ে আবার ‘দিদি NO 1’-এ ফিরে আসেন।এই ক্রাইসিস পিরিয়ড থেকে নিজেকে ওভারকাম করলেন কী করে?

রচনা ব্যানার্জী : রিকভারের এক মাত্র কারণ হল মানুষের ভালোবাসা। আর ওই শো-র জনপ্রিয়তা।ওটা একটা পাস্ট ইনসিডেন্ট।ওরকম হয়েই থাকে।ওই ঘটনা আজ আর কেউ মনে রাখেনি।

সকলে বলেন পশ্চিমবঙ্গে এখন দুই দিদি।একজন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যজন আপনি।তবে আপনি ‘দিদি NO 1’।কী বলবেন এ ব্যাপারে?

রচনা ব্যানার্জী : এ বাবা না, না।আমি যে শো-টা করি সেটার নাম ‘দিদি NO 1’।তার বাইরে আর কিছু নয়।

বাস্তবের রচনা ব্যানার্জী কি ‘দিদি NO 1’-এর মতোই  নাম্বার ওয়ান? 

রচনা ব্যানার্জী : বাস্তবে একেবারেই আমি ‘দিদি NO 1’-এর মতো নই।বাস্তবে আমি খুব সাধারণ একজন।যে আর দশটা সাধারণ মানুষের সাথে মিলে গল্প করে।আড্ডা দেয়।আমি অসাধারণ কিছু নই।আর ‘দিদি NO 1’ তো পশ্চিমবঙ্গের দিদিরা।আমি কেন হব!

আপনি বলছেন বাস্তব জীবনে আপনি ‘দিদি NO 1’ নন।কিন্তু সিনেমায় আপনি এত বছর নাম্বার ওয়ান হয়েই আছেন।কোনও রকম কম্প্রোমাইজ না করে।তা দিদিদের কী বলবেন,জীবনে কম্প্রোমাইজ করতে নাকি রুখে দাঁড়াতে?

রচনা ব্যানার্জী : দেখুন আপনি কী কাজ করছেন, তার ওপরে ডিপেন্ড করবে আপনার কম্প্রোমাইজের চরিত্র।জীবনে অনেক পরিস্থিতি আসে যেখানে কম্প্রোমাইজ করতে হয়।এটা নির্ভর করে কার কী সমস্যা এবং সেটাকে সে কীভাবে হ্যাণ্ডেল করছে।তবে বলব আমার এই শো দিদিদের অনেক সজাগ করেছে।তারা এখন অনেক ম্যাচিওরড হয়েছেন।এই শোটা দেখলেই দিদিরা বুঝবেন;জীবনে তাদের কখন কী ডিসিশন নিতে হবে। 

ভালো খারাপ নিয়েই জীবন। আপনার জীবনে খারাপ অভিজ্ঞতাগুলি কী? 

রচনা ব্যানার্জী : এই মুহূর্তে ওই ধরনের পেইনফুল এক্সপিরিয়েন্স মেনশন করে বলতে পারব না।জীবনের অনেক ঘটনা থেকে অনেক কিছু শেখা যায়।দুঃখের সময় যে সমস্ত নেগেটিভ বিষয় আসে,তার মধ্যে থেকেও পজিটিভ পথের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।আমি জীবনে অনেক ভুল করেছি।সেই ভুল কাজ থেকেও শিখেছি।পরবর্তী সময় তাই আর ওই ভুলগুলো রিপিট করিনি।আসলে ভুল করতে করতেই একদিন মানুষ ঠিক করে। তখন আর ভুলের পুনরাবৃত্তি হয় না।আজও আমি  শিখছি।শেখার কোনও শেষ নেই।

আপনি নিজে শিখছেন,অপরকেও শেখাতে কখনও ইচ্ছে হয়?

রচনা ব্যানার্জী : আমি নিজেই শিখছি।বিশেষ করে ‘দিদি NO 1′-এর’ দিদিদের কাছ থেকে শিখছি।আর ইন্সটিটিউটের মাধ্যেম কাউকে কিছু শেখাবার ইচ্ছে আমার অন্তত এই মুহূর্তে নেই।ভবিষ্যতে কী করব —আমি জানি না।

অনেক বছর ধরে অনেক কাজ করলেন।অনেক খ্যাতি,যশ পেলেন।এখন আর কী স্বপ্ন আছে?

রচনা ব্যানার্জী : আমি অভিনেত্রী।অভিনয়ের স্বপ্ন থাকবেই।মনে হয় আরো অনেক ভালো কাজ করতে হবে।এই স্বপ্ন চিরকাল থেকেই যাবে।

আপনি শিবপ্রসাদ এবং নন্দিতা রায়ের ‘রামধনু’-তে কাজ করছেন।চরিত্রটা একটু অন্যরকম।ওই শিক্ষিকার চরিত্রে নিজেকে কীভাবে প্রিপেয়ার করেছিলেন?

রচনা ব্যানার্জী : না, সেভাবে কিছু তৈরি করতে হয়নি।আমার বহু বছরের এক্সপিরিয়েন্সকে কাজে লাগিয়েছি।নন্দিতাদি যে রকম বলেছেন;তেমনই করেছি।

জীবনের কাছ থেকে আর কিছু ডিসকভার করার ইচ্ছে আছে?

রচনা ব্যানার্জী : পুরো পৃথিবীটাই পরে আছে।তার কিছু দেখার ইচ্ছে আছে।ছেলেকে ভালো করে মানুষ করতে হবে।ওর মধ্যে যদি কোনও কোয়ালিটি থাকে, সেটাকে ডিসকভার করতে হবে।ও আগে বড় হোক,তারপর দেখা যাক ভগবান ওর কপালে কী লিখেছেন।

আপনি ভগবানে বিশ্বাসী?

রচনা ব্যানার্জী : নিশ্চয়ই।

ছেলেকে মানুষ করা,সিনেমা করা বাদে আর কী করেন? 

রচনা ব্যানার্জী : টিভি দেখি।বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে দেখা করতে যাই।অনেকে ক্লাবে যায়।পার্টি করে।আমি ওসব করি না।পার্টি, ক্লাব বাদে বন্ধুর সাথে কথা বলা আমার কাছে বেশি ইম্পরটেন্ট।এক থেকে নব্বই পার্সেন্ট জায়গা জুড়ে আছে আমার ছেলে।বাদ বাকি দশ পার্সেন্ট আমার বন্ধু বান্ধব।

আর কাজ কত পার্সেন্ট?

রচনা ব্যানার্জী : কাজ তো থাকবেই। কাজ নিয়েই তো এত বছর চলছি।ওটা জীবনের অঙ্গ হয়ে গেছে।কিন্তু মনের অঙ্গ হল ছেলে,বন্ধু বান্ধব,সংসার।জীবনে চলার পথে কাজ এবং মন—দুটোরই প্রয়োজন।

আপনাদের সময়ের কাজের ধরন এবং এখনকার কাজের সিস্টেমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য কিছু নজরে পড়ছে?

রচনা ব্যানার্জী : এখন কাজের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।অনেক ভালো ভালো ডিরেক্টর আসছেন।বহু মানুষ কাজ পাচ্ছেন।মানুষের রুজি রোজগার বেড়েছে।আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক নতুন শিল্পী এসেছেন।

হ্যাঁ, এটা সত্যি, অনেকের রুজি রোজগারের ব্যবস্থা হয়েছে।এও সত্যি অনেক নতুন আর্টিস্ট এসেছেন।কিন্তু প্রশ্নটা হল কাজের কোয়ালিটির কি উন্নতি হচ্ছে?

রচনা ব্যানার্জী : দেখুন সময়ের সঙ্গে সব কিছু বদলায়।আপনাকে অ্যাকসেপ্ট করে নিতে হবে।আগে আমরা মুকেশের গান শুনতাম। এখন অনেক গায়ক গায়িকা এসেছেন।আগে দিনে চার পাঁচটা কাজ হত।এখন পঞ্চান্নটা কাজ হয়।আমি মনে করি এখনকার সিস্টেমের মধ্যে অনেক পজিটিভ দিক আছে।সেগুলোকে গ্রহণ করতে হবে।পুরনো ধারণা আঁকড়ে থাকলে চলবে না।

আপনি মুকেশের কথা বললেন।মুকেশ, মহম্মদ রফি,কিশোর কুমারের গান আজও আমরা শুনি।তাদেরকে এখনও আমরা স্মরণ করি।এখনকার গায়ক গায়িকাদের গান কি আমরা সেভাবে শুনি? 

রচনা ব্যানার্জী : না, এখনকার সিঙ্গারদের গান আমরা সেভাবে মনে রাখি না।তার জন্যতো ইন্ডাস্ট্রিতে সিঙ্গার কম আসছে না ! এটাই ইন্ডাস্ট্রির ট্রেণ্ড।এই হাওয়াতেই সকলের গা ভাসাতে হবে।

আরও পড়ুন:  প্রকাশ্যে খিলাড়িকে হুমকি দিলেন টুইংকেল খান্না! কিন্তু কেন?


আপনি ঈশ্বর বিশ্বাসের কথা বললেন।ঈশ্বরের কাছে কী প্রার্থনা করেন? 

রচনা ব্যানার্জী : সব সময় যেন সুস্থ থাকি।শরীর যেন সব সময় ভালো থাকে। 

দর্শকদের জন্য কিছু বলবেন?

রচনা ব্যানার্জী : এত বছর দর্শকদের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছি।সেটাই যেন সারাজীবন পাই। আপনাদের আশীর্বাদ, শুভেচ্ছা আমার কাম্য

Banglalive-8

2 COMMENTS

  1. these people dont have guts & passion to make it big coming out of comfort zone..
    khali lambi lambi baatein … all bakwas

    & kareena kapur is self made & done her share of struggle .. her husband never spoonfeed her
    Mumbai salutes brave passionate people .. lagey raho strugglers or whatevr u call them madam ..

    Sitting in a shitty backward state , stop showing real achievers down ..
    Tumhare jaise didi or apa or Aai .. India mein bhare padhe hain ..

    Tumhe Mumbai pe koi lega nai . kiyu ki tum jaise aate jaate hain ..
    for that dont try to show others down ..