রাজ বব্বর‚ স্মিতা ও নাদিরা : ত্রিভুজ প্রেমের ফলে ক্ষতি হয়েছিল অনেকেরই

প্রয়াত অভিনেত্রী স্মিতা পাটিলকে একজন কিংবদন্তী বলাই যায় | মাত্র দশ বছরের অভিনয় জীবনে উনি ৮০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন | সাত এবং আটের দশকের প্যারালল সিনেমায় ওঁর অবদান চিরকাল মনে রাখবে দর্শক |

১৯৮২ সালে মুক্তি পায় ‘আর্থ’ | অনেকেই মনে করেন এটা পরিচালক মহেশ ভট্টের আত্মজীবনী | ছবিতে ওঁর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক দেখানো হয় | এই ছবিতে ‘অন্য মহিলার’ চরিত্রে দেখা যায় স্মিতা পাটিলকে | তখনো কিন্তু কেউ জানত না স্মিতার অভিনীত চরিত্র একদিন ওঁর জীবনে সত্যি হয়ে দাঁড়াবে | স্মিতার বিয়ে হয় রাজ বব্বরের সঙ্গে | তখন কিন্তু রাজ বিবাহিত নাদিরা বব্বরের সঙ্গে | আজকে রইলো ওঁদের ত্রিভুজ প্রেমের গল্প |

রাজ বব্বর ও নাদিরা বব্বরের বিয়ে 

রাজ বব্বর ও নাদিরা জাহীরের আলাপ হয় ছাত্র অবস্থায় দিল্লির ন্যশনল স্কুল অফ ড্রামে-তে | নাদিরা রাজের থেকে চার বছরের বড় ছিলেন | ফলে রাজ যখন একজন থিয়েটার অ্যাক্টর হওয়ার জন্য সংগ্রাম করছিলেন‚ নাদিরা তখন নিজের লেখা নাটকের পরিচালনা করছিলেন | নাদিরার লেখা একটা নাটকে অভিনয় করতে গিয়ে রাজ ও নাদিরা একে অপরের প্রেমে পড়েন | রাজ নাদিরাকে বিয়ের জন্য প্রপোজ করেন | পরে ১৯৭৫ সালে ওঁদের বিয়ে হয় |

ওঁদের দু’জনের কেউই তখন প্রতিষ্ঠিত ছিলেন না তাই ওঁরা নাদিরার মায়ের এক কামরার ঘরে থাকতেন | এক বছর বাদে জন্মায় ওঁদের প্রথম সন্তান‚ জুহি বব্বর | পরিবার চালানোর মত পয়সা রাজের কাছে ছিল না | তাই উনি ওঁর স্কুটার ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করে সেই টাকা নাদিরাকে দিয়ে মুম্বই পাড়ি দেন‚ অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে |

কয়েক বছরের মধ্যেই রাজ নিজেকে বি-টাউনে প্রতিষ্ঠিত করতে সফল হন | ১৯৭৯ সালে নাদিরা মুম্বইতে রাজের কাছে শিফট করেন | ১৯৮১ সালে জন্মায় ওঁদের দ্বিতীয় সন্তান আর্য বব্বর | ওই একই বছর নাদিরা নিজের থিয়েটার গ্রুপ ‘একজুটে’র প্রতিষ্ঠা করেন | একজুটে এখনো মুম্বাইয়ের অন্যতম থিয়েটার গ্রুপের একটা | সব যখন ভালো চলছিল রাজ আর নাদিরার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার |

রাজ বব্বর ও স্মিতা পাটিলের প্রেম 

রাজ ও স্মিতার আলাপ হয় ১৯৮২ সালে ‘ভিগি রাতে ‘ ছবির সেটে | রাজ তখন দুই সন্তান ও নাদিরাকে নিয়ে সুখে সংসার করছেন | কিন্তু ধীরে ধীরে ওঁর কৃষ্ণবর্ণ স্মিতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে লাগল | অবশ্য শুধু রাজই নয়‚ স্মিতাও ওঁর প্রতি সমান আকর্ষণ অনুভব করেন | রাজ ও স্মিতা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন | পরে রাজ একটা সাক্ষাৎকারে এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন ‘অনেকেই মনে করে আমার নাদিরার সঙ্গে সমস্যা চলছিল তাই আমার স্মিতার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় | এটা সত্যি নয় | আমার আর স্মিতার সম্পর্ক কখন কী করে হল জানি না | শুধু জানি হয়ে গেল | জুহিও খুব পছন্দ করে স্মিতাকে |’

স্মিতা ও রাজের বিয়ে 

স্মিতা ও রাজের সম্পর্কে অনেক কথাই কানে গিয়েছিল নদিরার | কিন্তু উনি তা গুজব বলে উড়িয়ে দেন | পরে রাজের কাছে থেকে উনি স্মিতার সঙ্গে ওঁর বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্কের কথা জানতে পারেন | ভেঙে পড়েন নাদিরা | ২০১৩-তে দেওয়া একটা সাক্ষাৎকারে নাদিরা বলেন ‘আমার দুই সন্তান আর থিয়েটারের কথা ভেবে আমি নিজেকে সামলে নিলাম |’

নারীভিত্তিক ছবিতে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করার জন্য স্মিতা বিখ্যাত ছিলেন | কিন্তু সেই নারীবাদীরাই ওঁকে নাদিরার ঘর ভাঙার জন্য দোষারোপ করেন | এর ফলে রাজ ও স্মিতার বিবাহিত জীবনের প্রথম দিকটা বেশ অশান্তির মধ্যে কেটেছিল |

রাজ ও স্মিতার বিয়ের পর ১৯৮৬ সালে সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয় | ফলে প্রতীক বব্বরকে জন্ম দেওয়ার কয়েকদিনর মধ্যে মারা যান স্মিতা পাটিল | তখন ওঁর মাত্র ৩১ বছর বয়স | রাজ সেই সময় একটা সাক্ষাৎকারে বলেন ‘আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম | আমি কাজে ডুব দিলাম দুঃখ ভুলতে | কিন্তু ক্ষত সারতে বহুদিন সময় লেগেছিল |’

স্মিতার মৃত্যুর পর রাজ আবার নাদিরার কাছে ফিরে যান | নাদিরাও ওঁকে গ্রহণ করে নেন | অন্যদিকে প্রতীক ওঁর দাদু দিদার কাছে মানুষ হন | পরে বড় হয়ে প্রতীক বহুবার বলেছেন ওঁর বাবা রাজ বব্বর ওঁকে অবহেলা করেছেন | মা-বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রতীক মাদক নিতেও আরম্ভ করেন | পরে প্রতীকের দিদার মৃত্যুর ফলে রাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় প্রতীকের | এই সময় নাদিরা এবং ওঁর দুই সন্তান প্রতীককে ওঁদের পরিবারে গ্রহণ করে নেন |

এই ত্রিভুজ প্রেম কাহিনি শুধু যে রাজ বব্বর‚ স্মিতা পাটিল আর নাদিরা বব্বরের জীবনে প্রভাব ফেলেছিল তা কিন্তু নয় | এর ফলে প্রভাবিত হন প্রতীক বব্বরের জীবনও |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here