আস্তিনে ৮০ হাজারের বেশি সফল গোয়েন্দাগিরি‚ ভোটের মরসুমে দম ফেলার ফুরসৎ নেই বাস্তবের মিতিন মাসির

1246

গল্পের বইয়ের পাতা বা পর্দায় নয়, তিনি রক্তমাংসের ‘গোয়েন্দা গিন্নি’। তাঁকে চেনে গোটা দেশ। তিনি রজনী পণ্ডিত। গত তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সমাধান করেছেন একের পর এক কেসের। এই মুহূর্তে রজনী ব্যস্ত ভোট নিয়ে। না, তিনি নির্বাচনে দাঁড়াননি। কিন্তু প্রতিটি নির্বাচনের সময়ই রজনী বা তাঁর মতো প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটরদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। ২০১৯-এর লোকসভাও তার ব্যতিক্রম নয়।

কিন্তু নির্বাচনের সঙ্গে গোয়েন্দাদের সম্পর্ক কী ? এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রজনী জানাচ্ছেন, ‘‘পুরোটাই গোপনীয়। আসলে রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের কোনও প্রার্থী বা বিরোধী দলের কোনও প্রার্থী সম্পর্কে সন্দেহজনক কিছু দেখলেই তদন্তের জন্য আমাদের ডাক দেন। কখনও আমাদের দেখতে হয় প্রচারের অর্থ কোথা থেকে আসছে সেটাও।’’ আসলে বিশ্বের বৃহত্তম লোকসভা নির্বাচনে খরচ হওয়া অর্থ চোখ কপালে তুলে দেয়। কোনও কোনও বিশেষজ্ঞের মতে, এবারের নির্বাচনে অঙ্কটা সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি। স্বাভাবিক ভাবেই এই সব টাকার উৎস ইত্যাদি বিষয়ে গোয়েন্দাগিরির অবকাশ প্রচুর। প্রতিটি দলই চায় অন্য দলের খরচ করা টাকার হিসেবে গরমিল খুঁজে বের করতে।

৫৭ বছরের রজনী জানাচ্ছেন, জানুয়ারি থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁদের ব্যস্ততা। প্রয়োজনমতো রাজনৈতিক দলগুলির মিটিং-মিছিল ইত্যাদিতেও যেতে হয় তাঁদের। বোঝাই যাচ্ছে সব মিলিয়ে ব্যস্ততা একেবারে চরমে। ভোটের বাজারে গোয়েন্দাদের চাহিদা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বহু কেস তাঁরা নিতেও পারেন না। ইন্ডিয়া’স অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট ডিটেকটিভস অ্যান্ড ইনভেস্টিগেটরস-এর চেয়ারম্যান কানওয়ার বিক্রম সিংহ জানাচ্ছেন, নানা দিক মিলিয়ে গোয়ে‌ন্দাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। একজন প্রার্থীর স্থানীয় এলাকায় কেমন ভাবমূর্তি, প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা তাঁর নিজের সম্প্রদায়ে তাঁর ভূমিকা— এমনই নানা বিষয়ে খোঁজখবর করতে হয়।

২২ বছর বয়সে কলেজে পড়াকালীনই পণ্ডিতের গোয়েন্দাগিরিতে হাতেখড়ি। এক ছাত্রীর অধঃপতনের দিকটি তিনি তুলে ধরেছিলেন তাঁর বাবা-মা’র কাছে। মেয়েটি নেশা করত। বাবা-মাকে লুকিয়ে ছেলেদের সঙ্গে গোপন অভিসারে যেত। তদন্ত করে সেই সত্য আবিষ্কার করেন রজনী। সেই শুরু। ক্রমে গোয়েন্দা হিসেবে দেশের অন্যতম সেরা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরা।

তবে রজনীর জীবনের সবচেয়ে কঠিন কেসটিতে তাঁকে অজ্ঞাতবাসে থাকতে হয়েছিল ছ’মাস। একটি বাড়িতে পরিচারিকা সেজে থেকে তিনি তদন্ত চালিয়ে গিয়েছিলেন। সমাধান করেছিলেন একটি জোড়া খুনের কেসের। এক মহিলা তাঁর স্বামীকে খুন করেছিলেন বিষ প্রয়োগ করে। তারপরে তিনি নিজের ছেলেকেও খুন করান ভাড়াটে খুনি দিয়ে। ছ’মাস সেই মহিলার বাড়িতে পরিচারিকা সেজে থেকেছিলেন রজনী। তারপর সমস্ত প্রমাণ একত্রিত করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই মহিলা ও ভাড়াটে খুনিকে পুলিশ এরপর শ্রীঘরে পাঠায়।

এ যাবৎ আশি হাজারের উপরে কেসের সমাধান করেছেন রজনী। যার দৌলতে অসংখ্য পুরস্কারও পেয়েছেন। লিখেছেন দু’টি বইও। রজনী জানাচ্ছেন, মহিলা গোয়েন্দাদের চাহিদা পুরুষ গোয়েন্দাদের চেয়ে অনেক বেশি। তাঁর মতে, হয়তো অনেকেই মনে করেন মহিলারা বেশি অনুভূতিপ্রবণ হন।

জীবন শেষ পর্যন্ত তিনি গোয়েন্দাগিরিই করতে চান বলে জান‌িয়েছেন রজনী। রাজনীতিবিদরাও রেহাই পান না তাঁর তীক্ষ্ণ নজর থেকে। সাধে কি আর তাঁকে বলা হয় ভারতের ‘মিস মার্পল’? আগাথা ক্রিস্টির বিখ্যাত ওই গোয়েন্দার মতোই তিনিও তাক লাগান। তবে কোনও তৈরি করা কাহিনি নয়, সত্যি জীবনে।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.