রাজেশ খান্না | ভারতের প্রথম সুপারস্টার উনি |  একের পর এক হিট ছবি তো আছেই এছাড়াও বেশ কয়েকজন অভিনেত্রীর সঙ্গে নাম জড়িয়েছে ওঁর | পরবর্তীকালে অবশ্য উনি ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন | কিন্তু তার আগে ওঁর ব্রেক আপ হয়ে যায় অঞ্জু  মহেন্দ্রুর সঙ্গে | এই নিয়ে সেই সময় যথেষ্ট জলঘোলা হয়েছিল | আসুন আজ কান পাতা যাক রাজেশ ও অঞ্জুর প্রেম কাহিনি শুনতে |

রাজেশ খান্নার আসল নাম যতীন খান্না | চব্বিশ বছর বয়সে আখরি খতছবি দিয়ে ডেব্যু হয় ওঁর | এই ছবি বক্স অফিসে একেবারেই চলেনি | কিন্তু রাজেশের অভিনয়ের বেশ প্রশংসা হয় এবং বেশ কয়েকটা ছবির জন্য অফার পান | ১৯৭১ সালে মুক্তি পায় হাতি মেরে সাথী | এই ছবি রাজেশ কে একজন সুপারস্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে | 

Banglalive-8

অঞ্জু একজন ভারতীয় অভিনেত্রী‚ মডেল এবং ফ্যাশন ডিজাইনার | অঞ্জু যখন ইন্ড্রাস্ট্রিতে পা রেখেছিলেন রাজেশ কিন্তু ততদিনে একজন প্রতিষ্ঠিত সুপারস্টার | কিন্তু তাও ওঁদের মধ্যে গভীর ভালবাসার জন্ম হয় | দুজনের কী করে আলাপ হয়েছিল তা জানা যায় না | তবে রাজেশ সর্বসমক্ষেই ওঁদের প্রেমের কথা জাহির করতেন | ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ অবধি লিভ ইন সম্পর্ক ছিল ওঁদের |

Banglalive-9

রাজেশের মা খুব পছন্দ করতেন অঞ্জু কে | ছেলের যখন সাতাশ বছর বয়েস হল‚ উনি রাজেশ কে বলেন অঞ্জুকে বিয়ে করতে | কিন্তু ১৯৭১ সালে রাজেশ যখন অঞ্জু কে বিয়ের জন্য প্রপোজ করেন‚ উনি তা ফিরিয়ে দেন কারণ উনি আগে নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্র্তিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন | রাজেশ কিন্তু এরপর বেশ কয়েকবার অঞুর কাছে সম্মতি চান বিয়ের জন্য | ইতিমধ্যে উনি একটা বাংলো বাড়ি উপহার দেন অঞ্জু কে | কিন্তু এর মাঝেই শোনা যায় অঞ্জু নাকি ক্রিকেট লেজেন্ড স্যর গ্যারি সোবার্সের সঙ্গে প্রেম করছেন | অবশ্য ওঁদের সম্পর্ক খুব বেশীদিন টেঁকেনি | এরপর অঞ্জু ও ইমতিয়াজ আলিকে নিয়েও বিভিন্ন গুজব শোনা যায় | 

অঞ্জুর বারবার বিয়েতে অনিচ্ছা প্রকাশ করার ফলে রাজেশও বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন | একটা সাক্ষাৎকারে রাজেশকেই দোষী করেছিলেন অঞ্জু | ওঁর কথায় রাজেশ ছিলেন বেশ পুরনো চিন্তাধারার মানুষ | সফল অভিনেতা হওয়া সত্ত্বেও উনি নাকি খুবই গোঁড়া ছিলেন | এর ফলে প্রায় রোজই ওঁদের মধ্যে বিবাদ হত | অঞ্জু আরো জানান একদিকে রাজেশ গোঁড়া প্রকৃতির ছিলেন কিন্তু অন্যদিকে ওঁর পছন্দ ছিল আলট্রা মর্ডান মহিলা | এতে অঞ্জু নাকি খুবই বিভ্রান্ত হতেন | উনি স্কার্ট পরলে রাজেশ ওঁকে শাড়ি পরতে বলতেন | আবার শাড়ি পরলে উনি বলতেন অঞ্জু নাকি ভারতীয় নারী সাজার চেষ্টা করছেন |

অন্য একটা সাক্ষাৎকারে অঞ্জু আরো বলেন ১৯৬৯ এর আগে রাজেশ অভিনীত বেশ কিছু ছবি অসফল হয় | এর ফলে রাজেশের মন মেজাজ ভালো থাকত না | এবং উনি নাকি খুবি মুডি‚ বদমেজাজী ও খিটখিটে হয়ে উঠেছিলেন |

অন্যদিকে রাজেশ বলেন‚ অঞ্জু নাকি ওঁকে সময় দিতেন না | ওঁর কথায় সারাদিন স্টুডিওতে কাটানোর পর বাড়ি ফিরে দেখতাম অঞ্জু আমার জন্য একটা নোট রেখে গেছে‚ যাতে লেখা‚ ও অমুকের পার্টিতে গেছে | বা ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে দেখাতাম অঞ্জু ওর বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত | বেশিরভাগ সন্ধে আমাকে একা কাটাতে হতো |

এখানেই শেষ নয় সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পরপরই রাজেশ খান্না চেয়েছিলেন অঞ্জু নিজের কেরিয়ার বিসর্জন দিন | রাজেশ নিজেও এই কথা স্বীকার করেছিলেন | বিভিন্ন কারণের ফলে ১৯৭২ সালে ওঁদের ব্রেক আপ হয়ে যায় |

রাজেশ ও অঞ্জুর বিচ্ছদের এক বছর বাদে ১৯৭৩ সালে রাজেশ ও ডিম্পল কাপাডিয়ার বিয়ে হয় | গুজব শোনা যায় রাজেশ নাকি অঞ্জুর ওপর বদলা নেওয়ার জন্য ওঁর কেরিয়ার শেষ করে দেন | ওঁদের সম্পর্ক এতটাই বিষিয়ে গেছিল যে অনেকটা ঘুরপথ হলেও রাজেশ ওঁর বিয়ের বরযাত্রী অঞ্জুর বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে গেছিলেন | সেই থেকে ১৯৮৮ সাল অবধি রাজেশ আর অঞ্জু দীর্ঘ ১৭ বছর একে অপরের সঙ্গে কথা বলেননি |

হ্যাঁ, বহুবছর পর ২০১২ সালে যখন রাজেশ খান্না মারা যান ওঁর পাশে ছিলেন অঞ্জু | পরে মহেশ ভট্ট বলেছিলেন যখন জানতে পারলেন রাজেশ খান্না আর নেই প্রথমেই আমার অঞ্জুর কথা মনে এলো | কারণ আমি জানতাম রাজেশের মৃত্যুতে প্রভাবিত হবে অঞ্জু | আমি রাতে ওর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম | তখন জানতে পারলাম রাজেশের মৃত্যুর কয়েকবছর আগে অঞ্জু আর রাজেশ আবার কাছাকাছি এসেছিলেন | রাজেশ অসুস্থ ছিলেন‚ ওঁকে দেখাশোনার ভার অঞ্জু নিজের হতে তুলে নিয়েছিলেন | ওঁকে হাসপাতালেও নিয়ে যেত অঞ্জু | অঞ্জু কান্না ভেজা চোখে আমাকে সেদিন বলেছিল আমার একমাত্র সান্ত্বনা যখন উনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আমি ওঁর হাত ধরে ছিলাম |

আরও পড়ুন:  টুইটারে সুইমিং কস্টিউম পরে ছবি পোস্ট করে লজ্জিত বিগ-বি!?

NO COMMENTS