সুন্দরী‚ হেতাল গাছে ঘেরা দক্ষিণ রায়ের ডেরার নতুন স্বীকৃতি

316

রামসরের স্বীকৃতিতে ভারতের সুন্দরবন অঞ্চল পেল আন্তর্জাতিক জলাভূমির গুরুত্ব ও দেশের সর্ববৃহৎ সংরক্ষিত জলাভূমির হওয়ার স্বীকৃতি | পূর্ব কলকাতার জলাভূমির পরেই দ্বিতীয় স্থান পেল সুন্দরবনের জলাভূমি অঞ্চলটি | রামসরের জেনেভার সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে |

কঙ্গো রিভার বেসিন ও অ্যামাজনের মোহনা অঞ্চলের জলাভূমির সমান গুরুত্ব রয়েছে সুন্দরবন অঞ্চলের |  রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের বাসস্থান সুন্দরবনের জলাভূমি অঞ্চল | এখানে বাঘ ছাড়াও আশ্রয় নিয়েছে নর্দার্ন রিভার টেরাপিন‚ ইরাওয়াডি ডলফিন‚ ফিশিং ক্যাটের মত বিরল প্রজাতির জীবেরাও | এছাড়াও প্রতি বছরই বহু সংখ্যক পরিযায়ী পাখি সুন্দরবনের জলাভূমি অঞ্চলে আসে | 

১৯৭২ সালে গঠিত রামসর সম্মেলন হল একটি আন্তঃসরকারি চুক্তি যা পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিগুলির সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রদান করে | ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে সুন্দরবনের জলাভূমি অঞ্চলকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল | বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্যাঞ্চলের বিচিত্র জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই ঘোষণা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ |

রামসরের পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি পাওয়ার পর সুন্দরবন অঞ্চলের রক্ষণাবেক্ষণে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেই মনে করছেন অনেক পরিবেশবিশেষজ্ঞরা | সমুদ্রের কাছেই অবস্থিত এই জলাভূমি অঞ্চল মূল ভূখণ্ডকে ঘূর্ণিঝড়‚ জোয়ার ও সমুদ্রের নোনাজলের প্রবেশ থেকে রক্ষা করে | এই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও সুন্দরবনের জলাভূমির গুরুত্ব বৃদ্ধি পেল | এই অঞ্চলের পরিবেশ যাতে সুরক্ষিত থাকে সেই প্রচেষ্টায় আরও জোর দেওয়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.