ভেস্তে গেল পরিকল্পনা ! প্রথম মিলনের আগে বাঘের থাবায় বাঘিনীর অকালমৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ান বাঘ সম্প্রতি একটি বিপন্ন প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তারা সংখ্যায় ৪০০-র কাছাকাছি । লন্ডনের জেএসএল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সুমাত্রার এই বিরল এবং ছোট প্রজাতির বাঘিনীকে মিলনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে নতুন সঙ্গী অসীমের কাছে। ‘ইউরোপীয় কনজারভেশন প্রোগ্রাম’-এর পরিকল্পনা অনুযায়ী অসীমকে লন্ডনের জেএসএল চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়েছিল ।

পরিকল্পনা ছিল অসীম ও বাঘিনী মেলাটির মধ্যে মেলামেশার মাধ্যমে তাদের প্রজাতির বাঘের সংখ্যা বাড়ানো। আর তাই প্রথম দিনে মিলনের পূর্বে দু’জনের তরফ থেকে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত আশা করেছিল চিড়িয়াখানার কর্মীরা। কিন্তু ফল হল উল্টো, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রথমে একে অপরকে দেখে তারা এতটাই গর্জন শুরু করে যে, চিড়িয়াখানার কর্মীরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাননি। তাদের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখে মেলাটি-কে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হল না। কিছু করে ওঠার আগেই মেলাটির উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে অসীম। নিমেষে ক্ষতবিক্ষত করে তাকে এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মেলাটির !

সাত বছর বয়সী অসীমকে ১০ দিন আগে আনা হয়েছিল সেখানে এবং দু’টি বাঘকে কাছাকাছি দু’টি ঘেরাটোপের মধ্যে রাখা হয় যেখানে তারা পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা করতে না পারলেও একে অপরের ঘ্রাণ নিতে পারবে। কয়েকদিন পর বিশেষজ্ঞদের মনে হয়েছিল এ বার তাদের এক খাঁচায় ছেড়ে দেখা যেতে পারে। সেই মতো  সকালে দুজনের খাঁচার মাঝখানের দরজা খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু অসীম যে মেলাটিকে ওইভাবে আক্রমণ করবে, তা আসলে ভাবতে পারেননি কেউই।  ঘটনার পরে সেই দিনের জন্য বাঘের খাঁচা বন্ধ করে দেয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। মেলাটির এই অকালমৃত্যুতে লন্ডনের জেএসএল চিড়িয়াখানায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here