ব্রেকিং নিউজ : অবশেষে সন্দীপ রায়ও রিমেক ছবি বানালেন!

তরুণ মজুমদারের ছবি ‘দাদার কীর্তি’ (১৯৮০) আর নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখুজ্জের ছবি ‘রামধনু’-র (২০১৪) মধ্যে মিল কোথায় বলতে পারেন? কিংবা সত্যজিৎ রায়ের ছবি ‘দেবী’ (১৯৬০) আর অনীক দত্তের ছবি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর (২০১৩) মধ্যেই বা ঠিক কোথায় মোক্ষম একটা মিল? কোথায় মিল তপন সিংহের ‘কাবুলিওয়ালা’ (১৯৫৭) আর ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘রেনকোট’-এর (২০০৪) মধ্যে? খুব বেশি চাপ নেবার দরকার নেই, উত্তরটা বলেই দিচ্ছি | মিলটা হল এই যে, যে কটা ছবির নাম করেছি, এর সবকটা ছবিরই উদ্ভব ঘটেছে সাহিত্যের গর্ভগৃহ থেকে | তাই বলে উপন্যাস নয় কিন্তু | মোটে চার-পাঁচ পাতার একেকটা ছোটগল্প | আর তার ওপর ভিত্তি করে হীরের টুকরোর মতো একেকটা সব পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছায়াছবি | সত্যি বলতে কি, এরকম উদাহরণ আরও অগুন্তি আছে | সত্যি তো! অল্প কয়েকটা পাতায় লুকিয়ে থাকা শব্দেরা কখন যে কোন উত্তেজনায় ফেলে দেয় সিনেমা-করিয়েদের, আমার-আপনার মতো আম-আদমিরা তার আর কতটুকু বোঝে বলুন? আর সেই শব্দ-প্রসূত উত্তেজনার চোটেই না চলছিত্র স্রষ্টারা লিখে ফেলেন গোটা চিত্রনাট্য, তৈরি হয়ে যায় দুর্দান্ত সব সিনেমা |

মোটে কয়েক পাতার ছোটগল্প থেকে তৈরি সিনেমাটা সবসময়েই যে পূর্ণদৈর্ঘ্যের হবে, তার অবশ্য কোনও মানে নেই | টুকরো টুকরো সব ছোটগল্প থেকে টুকরো টুকরো ছবিও তৈরি হয়ে উঠতে পারে, আর তারপর সেগুলোকে একসঙ্গে জুড়ে তৈরি হতে পারে আস্ত একটা ছবি | ঠিক ধরেছেন, এই ঘরানাতেই স্বয়ং সত্যজিৎ রায় বানিয়েছিলেন ‘তিন কন্যা’ (১৯৬১, তিনটি ছোটগল্প), ‘কাপুরুষ ও মহাপুরুষ’ (১৯৬৫, দুটি গল্প) | তপন সিংহ বানিয়েছিলেন ‘শতাব্দীর কন্যা’ (১৯৯৯, পাঁচটি ছোটগল্প), আবার ছয়জন আলাদা পরিচালক মিলে ছয় রিপু নিয়ে ছয়টি ছোট ছবি তৈরি করে পুরো প্যাকেজটাকে একটা গোটা ছবির রূপও দিয়েছেন, তৈরি হয়েছিল ‘এক মুঠো ছবি’ (২০০৫) | অন্য পারিচালকদের কথা যদি বাদও দেন, খোদ সন্দীপ রায় নিজেই এইভাবে সিনেমা বানিয়েছেন এর আগে | ‘যেখানে ভূতের ভয়’ (২০১২) মনে পড়ছে? সত্যজিৎ রায়ের লেখা তারিণীখুড়োর দুখানা গল্পের সঙ্গে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা ভূতের গল্প জোর করে জুড়ে দিয়ে, তৈরি হয়েছিল সেই ছবি | শরদিন্দুর গল্পের রাইটস কিনেছেন, শুধু সেই জোর থেকে শরদিন্দুর কাহিনিতে সত্যজিতের তৈরি চরিত্রকে ফিটিং করিয়ে দিতে তাঁর একটুও বাধেনি|

সেই সন্দীপ রায়ের নতুন ছবি ‘চার’ দেখতে বসে চমকে উঠতে হল কোন কারণে, সেটাই এবার বিশদে বলব | ধরে নিচ্ছি, তুমুল প্রচারের দৌলতে এতদিনে আপনারা সবাই এটুকু জেনে ফেলেছেন যে, সন্দীপ রায়ের এই নতুন ছবির নাম ‘চার’, কারণ এই ছবিও আসলে চারটে ছোটগল্পের একত্র সংকলন | এখন আর পাঁচটা এই জাতীয় সংকলন থেকে এই সংকলনটা এইখানে আলাদা যে, অন্য সংকলনগুলোয় গল্পগুলোর মধ্যে কোথাও না কোথাও একটা বিষয়গত সাদৃশ্য থাকে | এভাবেই এই ঘরানার ছবিগুলো কখনও হয়ে ওঠে নারীর গল্প, কখনও পুরুষের গল্প, কখনও রিপুর গল্প আবার কখনও বা ভূতের গল্প | সন্দীপের নতুন ছবিটার বিশেষত্ব অবশ্য এটাই যে, এই ছবির চারটে গল্পের মধ্যে তেমন কোনও থিমগত মিল আদৌ পাওয়া যাবে না | তাহলে ছবিগুলো একসঙ্গে বাঁধা যাবে কোন উপায়ে? খবরের কাগজে ইন্টারভিউতে পরিচালকের দিব্যি মেজাজি মতামত শোনা গেল : ‘…একদম আলাদা চারটে গল্প | তাদের লুক আলাদা, কাস্ট আলাদা | কিন্তু … চারটে গল্পের শেষেই একটা মোচড় আছে | … আর রয়েছে একটা মানবিক দিক | সেই দিক থেকে একটা কানেকটিভিটি তো আছেই | … আসলে এখন দর্শক নানারকম গল্প নিচ্ছেন … নানা রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছে বাংলা ছবিতে | সেটা ভালো লক্ষণ |’ (এবেলা, ১১ জুন) |

তাহলে কি মানেটা এটাই দাঁড়াল যে, বাংলা ছবির দর্শকেরা নানান রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা হজম করতে শিখেছেন, এই ভরসাতেই একদম আলাদা রকমের চারটে গল্পকে এক ছবিতে গেঁথে সন্দীপের এই এক্সপেরিমেন্ট? বেশ, বোঝা গেল | এবার তাহলে আসুন জেনে নিই, কীভাবে এই গল্পগুলোকে খুঁজে বের করলেন পরিচালকমশাই | সেটা জানতে হলে, সন্দীপ রায়েরই আরেকটা সাক্ষাৎকারের একটু চোখ বুলিয়ে নিতে হবে | সেটা আবার বেরিয়েছিল ইংরেজি কাগজে, ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর t2 ক্রোড়পত্রে |

১ জুন ছাপা হওয়া সেই সাক্ষাৎকারে সন্দীপ বলছেন ; ‘… ওয়ান গুড থিং ওয়াস ডিউরিং দ্য মেকিং অফ ‘যেখানে ভূতের ভয়’, আই হ্যাড রেড আ লট অফ শর্ট স্টোরিজ, অ্যান্ড আই ফাউন্ড আ ফিউ স্টোরিজ রিয়্যালি ইনটারেস্টিং | আই ডিসাইডেড অন দ্য ফোর স্টোরিজ দেন |’ সরল বাংলায় এর মানেটা বোধহয় এইরকম দাঁড়াল যে, ‘যেখানে ভূতের ভয়’ তৈরির সময় অনেকগুলো ছোটগল্প পড়তে পড়তে সন্দীপ রায় খুঁজে পেয়েছিলেন এই ছবির গল্প চারখানাকে | এই অবদি পড়ার পর কী হল জানেন, থমকে গেলাম খুব | মনে মনে যেন টের পেতে থাকলাম, এই ছবির আসল গোলমালটা লুকিয়ে আছে ঠিক এইখানটাতেই | সন্দীপ কাগজে সেদিন যা বলেছিলেন, ঠিক বলেননি | এক খবরের কাগজ যদি না তাঁকে পুরো মিসকোট করে থাকে, তো বলতেই হয়, ‘চার’ ছবির প্রচারটাই শুরু হল পরিচালকের বলা মিথ্যে কথার কাঁধে ভর দিয়ে |

তা নয় তো কী শুনি? বললেই হল যে, ২০১২ সালে ‘যেখানে ভূতের ভয়’ ছবিটা শুট করতে গিয়ে সন্দীপ খুঁজে পেয়েছিলেন ‘চার’ ছবির এই গল্পগুলোকে? সোজা কথা শুনে রাখুন, এই ছবির চারটে গল্পের মধ্যে তিনটে গল্প অবলম্বনে স্বয়ং সন্দীপ রায় নিজেই এর আগেই বানিয়েছিলেন টেলিভিশনের ছবি | সেসব আজকের কথা নয়, ১২-১৩ বছর আগের কথা হবে, কোনোটা তো আরও বেশি | খুব স্বাভাবিকভাবেই এরপর প্রশ্ন ওঠে, সে কী! কোথায়? কবে? কখন?

তাহলে তো আমাকে ইতিহাসের খাতা খুলে বসতে হয় | শুনে রাখুন — ২০০১ সালে পুজোর সময় ই টিভি বাংলা চ্যানেলের জন্যে সন্দীপ রায় বানিয়েছিলেন ছয় এপিসোডের ছোট সিরিয়াল ‘সত্যজিতের প্রিয় গল্প’ | সেই সিরিয়াল প্রযোজনা করেছিলেন ই টিভি নেটওয়ার্কের মালিক অন্ধ্রের নামী শিল্পপতি রামোজী রাও স্বয়ং | সেই সিরিয়ালের অন্যতম অংশ ছিল ‘বটেশ্বরের অবদান’ ছোটগল্পটি | তার মানে কি দাঁড়াল? এই ছোটগল্পটি সন্দীপবাবুর নজরে এসেছে মোটেই এই ২০১২ সালে নয়, আরও বহু বছর আগে |

হ্যাঁ | এই ‘বহু বছর’ আগে মানে সেই ২০০১ সালেও নয়, তারও বহু আগে, সেই গত শতকে | সেই সময়ে সত্যজিৎ রায় জীবিত, আর তাঁর তত্ত্বাবধানে পুত্র সন্দীপ দিল্লি দূরদর্শনের জন্য বানাচ্ছেন ‘সত্যজিৎ রায় প্রেজেন্টস’ নামে এক টেলি-ধারাবাহিক | সেই হিন্দি ধারাবাহিকের জন্যেই প্রথম ‘বটেশ্বরের অবদান’ গল্পটাকে পর্দায় নিয়ে আসেন সন্দীপ, আর সে যাত্রা তার চিত্রনাট্য লেখেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায় | তার অনেক বছর পরে ই টিভি বাংলার জন্য বাংলা ভাষায় একই গল্পের শুটিং করতে গিয়ে একদম একই চিত্রনাট্য অনুসরণ করেন সন্দীপ, আর বাংলা সিরিয়াল শুরুর ক্রেডিটে সুতরাং লেখাও থাকে ‘চিত্রনাট্য : সত্যজিৎ রায়’ বলে | ঘটনাচক্রে বাংলা টেলিভিশনের জন্যে তৈরি এই ‘বটেশ্বরের অবদান’-এর ডি ভি ডি এসে পৌঁছেছে আমার হাতে, আর ‘চার’ দেখতে যাবার ঠিক আগে তারিয়ে তারিয়ে বসে দেখেও নিলাম সেটা |

যে ছবি এর আগে একবার হিন্দি আর একবার বাংলায় বানানো হয়েই গেছে, সেই ছবি আবার বাংলায় বড় পর্দার জন্যে বানাতে গেলে তাকে ‘রিমেক ছবি’ ছাড়া আর কী বলব বলুন? এই ‘ চার’ ছবির মধ্যে প্রথম গল্পটাই হল গিয়ে আগেই দু-দু বার বানিয়ে ফেলা সেই ‘বটেশ্বরের অবদান’ | হল-এ বসে প্রায় দম বন্ধ হয়ে এল দেখে যে এক-আধটা খুচখাচ সংলাপের বদল ছাড়া ই টিভি বাংলার সেই ছবির চিত্রনাট্যটাই একেবারে এই ছবিতে কাট-টু-কাট তুলে ধরে বসিয়ে দিয়েছেন সন্দীপ | শুধু সেটুকুই নয়, সত্যজিৎ রায়ের লেখা সেই চিত্রনাট্যটার লেখক হিসেবে এই ছবিতে তিনি লিখে দিয়েছেন নিজের নাম! ছবির শুরুতে পর্দা জুড়ে ক্রেডিট গেল ‘চিত্রনাট্য সংগীত ও পরিচালনা : সন্দীপ রায়’ ! এই ছবির সংগীত-অংশ কতটা সন্দীপের আর কতটা সত্যজিতের সেই অহেতুক বিতর্কে রুচি নেই একটুও | শুধু এটুকু বলি যে, কী হবে, যদি এই মরসুমে ফস করে কোনোদিন ই টিভি বাংলা সেই পুরনো সিরিয়ালটা রিপিট টেলিকাস্ট করতে শুরু করে? তখন লজ্জায় মুখ ঢেকে চুপ করে বসে থাকা ছাড়া আর কোনও গতি থাকবে কি?

তাই বলে সত্যজিতের সেই পুরনো চিত্রনাট্যের সঙ্গে কি অবারের চিত্রনাট্যের কোনও ফারাকই নেই? সন্দীপ দাবি করতে পারেন, যে, আছে | খানকতক জায়গায় খানকতক নতুন সংলাপ জুড়ে দিয়েছেন তিনি, তফাৎ বলতে এটুকুই | বাকি সব এক | ১৯৫৬ সালে লেখা পরশুরামের অনবদ্য ছোটগল্পকে আশির দশকের শেষভাগে এনে ফেলতে সেসময় যে বদলটুকু করেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায়, তার বেশি বদল খুব একটা কিছু করে ওঠার ধক দেখাতে পারেননি সুপুত্র সন্দীপ, সে তাঁর এই নির্মাণের সাল যতই ২০১৩ হোক না কেন | জোর করে গল্পের পাত্রপাত্রীদের হাতে মোবাইল ফোন গুঁজে দিয়েছেন বটে, আর ক্যালেন্ডারকে ক্লোজ ফ্রেমে ধরে সালটাকে ২০১৩ বলে ছেপে দিয়েছেন পর্দায় | কিন্তু একবারও একটু মগজ খাটিয়ে ভেবে দেখেননি, পরশুরামের পঞ্চাশের দশকে বা সত্যজিতের আশির দশকে যা সমাজ-বাস্তবতার অংশ ছিল, আজ শতাব্দীর এই উলটো পারে পৌঁছেও কি সেই সমাজ-বাস্তবতা কাট-টু-কাট একই রকম রয়ে যায়, নাকি পালটে যায় আমূল?

মুচমুচে মজারু ভাষায় পরশুরাম লিখেছিলেন নামী ঔপন্যাসিক বটেশ্বর শিকদার আর তাঁর এক ধারাবাহিক উপন্যাস নিয়ে পাঠক সমাজের তীব্র দোলাচলের গপ্পো | বয়স্ক লেখকের ধারাবাহিক সাহিত্য সৃষ্টিতে প্রাক-স্যাটেলাইট টিভি-যুগের মানুষেরা কেমন আলোড়িত হতেন, সে আমরা সবাই জানি | নামী সাহিত্যপত্র ‘দেশ’ সেসময় ছিল সাপ্তাহিক, শনিবার ভোরবেলা দেশ বাড়িতে না আসা পর্যন্ত পাঠককুল টেনশনে হাঁকপাঁক করত বলে শোনা যায় | তার সঙ্গে আজকের দিনটা মিলিয়ে দেখুন একটু | চাহিদা কমে যাওয়ায় সেই সাহিত্যপত্র বছর কুড়ি আগেই ভোল বদলে শুধু যে সাপ্তাহিক থেকে পাক্ষিক হয়ে গেছে তাই নয়, ধারাবাহিক উপন্যাস ছেপে পাঠক বাজারে বৃহৎ আলোড়ন তোলা এখন সেই পত্রিকার কাছে স্বপ্নের মতো ব্যাপার |

নামী সাহিত্যপত্রের যখন এই অবস্থা, তখন সন্দীপ দেখাচ্ছেন, মামুলি মধ্যবিত্ত তরুণী এক গৃহবধূ টিভি সিরিয়াল না দেখে বোলপুর-নিবাসী সাহিত্যিক-রচিত এক কাল্পনিক চরিত্রের মরা-বাঁচা নিয়ে উথাল-পাথাল হয়ে ছটফটাচ্ছে! সাহিত্য পত্রিকার নামটা অবদি পালটে আধুনিক করার পরিশ্রম করেননি সন্দীপ, তাই রয়ে গেছে পরশুরামের দেওয়া পুরনো সেই ‘প্রগামিণী’ নামটাই | গোটা বিষয়টাই আজকের প্রেক্ষিতে এতটাই অপরিণত যে, ভাবনাটা ভাবতে গেলেই হেঁচকি লাগে জোরদার | মজাটা কোথায় জানেন? পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে পাওয়া চিত্রনাট্যটিকে কাট-পেস্ট করে ছেপে না দিয়ে আরেকটু বুদ্ধি খাটালে এই ছবি মজার একটা নতুন ডাইমেনশন খুলে দিতে পারত অনায়াসে | কী রকম বলি শুনুন | ধরুন না সটান এই গল্পটাকেই এনে ফেলা হল আজকের টালিগঞ্জের সিরিয়াল-পাড়ায়, আর বটেশ্বর সিকদার বোলপুরের সাহিত্যিক না হয়ে, হয়ে বসলেন মেগাসিরিয়ালের চিত্রনাট্যকার | তাঁর কলমের সামনে টিভির নেশায় আচ্ছন্ন অলকাকে বিবশ হয়ে ছটফটাতে দেখলে এক ঝটকায় চিনে নেওয়া যেত না কি এই নতুন শতকটাকে? তবে কিনা, পরশুরামের এমন নতুন ইন্টারপ্রিটেশন করতে গেলে বুকের দম চাই যথেষ্ট, এমনি এমনি যে এসব হবে না, সেও তো সত্যি |

২০০১-এ তৈরি সেই সাবেক ‘বটেশ্বরের অবদান’ সিরিয়ালে বটেশ্বরের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং | ১২-১৩ বছর পরে সিনেমার জন্যে রিমেক করতে নেমে এই কাস্টিং চেঞ্জ করেননি সন্দীপ, একই রেখেছেন | বদলে গেছে অবশ্য অন্য কাস্টিংগুলো | আগেরবার প্রিয়ব্রত সেজেছিলেন পীযূষ গাঙ্গুলি, এবার শুভ্রজিৎ দত্ত | আগেরবার ডক্টর সঞ্জীব চাটুজ্যে সেজেছিলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী, এবার শাশ্বত চ্যাটার্জি | আগেরবার কদম্বনীলা ওরফে অনিলা সেজেছিলেন দোলন রায়, এবারে শ্রীলেখা মিত্র | দু দফাতেই এই ছবির সম্পাদনার ভার সামলেছেন সুব্রত রায়, মেক আপ সামলেছেন শ্রী দাস আর সাজসজ্জা সামলেছেন ললিতা রায় | টিভি সিরিয়াল থেকে বড় পর্দায় কাট-পেস্টের খেলাটা ঠিক কোন লেভেলে চলেছে, বুঝলেন তো?

‘চার’ ছবিতে এর পরের গল্প ‘দুই বন্ধু’ | বিষম খাবেন না প্লিজ, শুনে রাখুন এই ছবিটাও এর আগে ছোট পর্দার জন্যে বানিয়ে ফেলেছিলেন সন্দীপ রায় | ৯ জুন এবেলা-র সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী খুল্লামখুল্লা বলেও ফেলেছেন সেটা | তিনি বলছেন : ‘এই গল্পটাই বাবুদা (সন্দীপ রায়) বছর কুড়ি আগে শুট করেছিলেন | আর রনিদা (রজতাভ) এই চরিত্রটাই করেছিল |’ এরপর আর চেপে না রেখে আড্ডায় উপস্থিত রজতাভও বিষয়টা মেনে নিয়ে বলে দেন : ‘তখন বাবুদা উদ্যোগ নিয়েছিলেন ছোট পর্দার জন্য বেশ কয়েকটা সত্যজিতের গল্প করার | তারপর কোনও কারণে কাজটা দেখানো যায়নি | … এত বছর বাদে ফের সেই চরিত্রে অভিনয় করলাম | মনে হচ্ছে, একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল | … আমি তো আগেও একবার এক গল্পেতেই কাজ করেছি| তার ভিত্তিতেই বলছি, সামান্য কিছু শটের হয়তো হের ফের হয়েছে | তবে গল্পের কাঠামোটা একই রয়েছে | এমনকি শুটিংটাও হয়েছে একই লোকেশনে |’

বুঝুন কান্ডকারখানা| ‘বটেশ্বরের অবদান’-মার্কা কাট-পেস্ট কারবার তার মানে চলেছে এই ‘দুই বন্ধু’ গল্পটাতেও | পুরনো সেই ‘দুই বন্ধু’-র ডিভিডি এখন হাতের সামনে নেই বলে, দুটো ছবির মিল-টিলগুলো ওইভাবে মিলিয়ে মিলিয়ে বলতে পারছি না বটে | তবে ভেতরে ভেতরে যে ঠিক কী হয়ে থাকতে পারে, তার কিছুটা আঁচ কি আপনি রজতাভর ওই ওপেন কনফেসন থেকেই পাচ্ছেন না?

পাক্কা ২৫ বছর আগে ‘সন্দেশ’ পত্রিকার জন্যে লেখা সত্যজিত রায়ের এই ছোট গল্পের মূল ভার্সনে দুই প্রায় অভিন্ন হৃদয় বন্ধুকে তাদের স্কুল জীবনে এক সম্ভাব্য ছাড়াছাড়ির মুখে পড়তে দেখি আমরা | বিচ্ছেদের ঠিক আগে তারা ঠিক করেছিল যে তারা দুনিয়ার যেখানেই থাকুক না কেন, দুজনে দুজনের সঙ্গে দেখা করবে ঠিক ২০ বছর পরে, কলকাতার লাইট হাউস সিনেমার সামনে | মূল গল্পে এই দেখা করার দিনটা ছিল ৭ অক্টোবর, ১৯৮৯| এই গল্পটাকেও প্রাণপণে সমকালীন করে তোলার চেষ্টায় সন্দীপ ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে গল্পটাকে এনে ফেলেছেন ৬ অক্টোবর, ২০১৩-তে, বছরের ফারাকটাকে বাড়িয়ে ২৫ বছর করে দিয়েছেন | ইন্টারনেট আর ফেসবুকের যুগে অভিন্ন হৃদয় দুই বন্ধু আর এইভাবে দুজনে দুজনের থেকে আলাদা হয়ে থাকতে পারে কিনা‚ সে সব নিয়ে ভাবতে বসার ভুল করেনি আদপেই | শুধু যেটা করেছেন, গল্পের লোকেশনটাকে জোর করে লাইট হাউস থেকে টেনে সরিয়ে নিয়ে গেছেন ইন্দিরা সিনেমা হলে | লোকেশনটাকে লাইট হাউস রেখে দেওয়ার সাহস দেখালে বাংলা ছবির দর্পণে চিরতরে গ্রথিত হয়ে যেত যুগবদলের এক নির্মম সত্যিকথা — সেদিনের নামী সিনেমা হল এখন পালটে গিয়ে কাপড় জামার গমগমে এক দোকানমাত্র |

কিন্তু না | লাইট হাউস নামের সিনেমা হলটাকে ছুঁয়ে যুগবদলের এই তিক্ত সত্যি দেখানোর দায় কি এক সামান্য বিনোদনী চিত্র-পরিচালকের থাকে? তবে সন্দীপের ক্যামেরা যে এভাবে শুধু যুগান্তরের চিহ্নটাকেই এড়িয়ে গেল, তাই নয় | ধরা পড়ল না এমন কি সম-সময়ের স্বাভাবিক চিহ্নটুকুও | তাই ৬ অক্টোবর ২০১৩ যখন তাঁর ক্যামেরা পাক খেতে থাকল কলকাতার রাস্তায় রাস্তায়, তখন শহরের কোথাও এক ছটাকও প্যান্ডেল বাঁধার কোনও দৃশ্য চোখে পড়ল না | চরিত্রগুলোর কথাবার্তায় কোথাও একফোঁটা পুজোর গন্ধ এসে মিশল না | অথচ কী কান্ড দেখুন, ২০১৩ সালে মহালয়া ছিল ৪ অক্টোবর | মানে ৬ অক্টোবরে — আমাদের গল্পের দিনটায় রীতিমতো দেবীপক্ষ চলছে !

এই গল্পের অন্যতমা মুখ্য চরিত্র মহিম (পীযূষ গাঙ্গুলি) জনপ্রিয় সাহিত্যিক হওয়া সত্ত্বেও একবারও উল্লেখ করল না কোনও পুজোসংখ্যায় তার সদ্য বেরনো কোনও লেখার কথা, ভাবা যায়! এইসবের কারণ কিন্তু ওই একটাই | বইয়ের পাতা আর পুরনো খাতা খুলে পৈতৃক সম্পত্তি কাট-টু-কাট ছেপে গেছেন পরিচালক, কোথাও একবারও কোনও চরিত্রের অতলে ডুব দিয়ে তুলে আনতে চাননি তার মনের কোনও লুকনো মুক্তো |

ইন্টারভ্যালের পরের গল্প ‘কাগতাড়ুয়া’ ২৮ বছর আগে সন্দেশ পত্রিকার জন্যে লেখা সত্যজিতের গল্প | আজ্ঞে হ্যাঁ, এটাও রিমেক | শুনুন তাহলে পরিচালক স্বয়ং ‘প্রতিদিন’ কাগজের ক্রোড়পত্রে (১৩ জুন) কী বলছেন |

‘সাংবাদিক : আচ্ছা, কাকতাড়ুয়া গল্পটা কি টেলিভিশনের জন্যে করেছিলেন ?

সন্দীপ রায় : হ্যাঁ, শাশ্বতই করেছিল | কিন্তু কখনও টেলিকাস্ট হয়নি | আমার আক্ষেপ ছিল, ভেবেছিলাম কখনও বড় পর্দার জন্য করব | এবার হল |’

ছোট পর্দার জন্যে আগেই রীতিমতো শুট করে এপিসোড তৈরি করে ফেলা সেই ছবি ‘কাগতাড়ুয়া’ একবার কোনও এক সূত্রে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার | ছবিটা আমি দেখি অসমাপ্ত অবস্থায়, তখনও সেই ছবিতে আবহসঙ্গীত বা ফোলি সাউন্ড, কিছুই বসেনি | সেদিন ছবি দেখতে দেখতেই টের পেয়েছিলাম, ছোট পর্দার বাজেটের সঙ্গে মানানসই করে সাজিয়ে কত কম খরচে টুক করে হাইওয়ের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে একটা আস্ত এপিসোড শুট করে ফেলেছিলেন সন্দীপ রায় | এতদিন পর সেই একই গল্প নিয়ে বড়পর্দার ছবি | কি আর বলবো, পাল্টায়নি বিশেষ কিছুই | শুধু একটা বদল ছাড়া | মূল গল্পে মৃগাঙ্কশেখর মুখোপাধ্যায় ছিলেন জনপ্রিয় সাহিত্যিক | এই ছবিতে সন্দীপীয় কলমের মারপ্যাঁচে তিনি কিনা হয়ে গেলেন নামী সঙ্গীত শিল্পী |

এতে অসুবিধা কিছু নেই অবশ্য | অসুবিধা শুধু এইটুকু যে দীর্ঘ সময় ধরে হাইওয়ের পাশে বসে অপেক্ষা করতে হল এই সঙ্গীতশিল্পী মৃগাঙ্ককে, অথচ সাকুল্যে দু-তিনটের বেশি গাড়ি পাস করতে দেখা গেল না তাঁর পাশ দিয়ে | দুর্গাপুর-পানাগড় হাইওয়ে নিয়ে যাদের ক্ষীনতম অভিজ্ঞতাও রয়েছে, তাঁরাই বলতে পারবেন, আদৌ এটা সম্ভব কিনা | মজার আরেকটা কথা শুনুন | সিনেমার ফার্স্ট হাফে ‘বটেশ্বরের অবদান’ গল্পে শাশ্বত-শ্রীলেখা ছিলেন স্বামী-স্ত্রীর ভূমিকায় | এই ‘কাগতাড়ুয়া’ গল্পেও ফের তাঁরাই আবার স্বামী-স্ত্রী ! রক্ষে এই যে এই গল্পে শ্রীলেখাকে শেষ অবদি আর পর্দায় দেখা যায়নি, শুধু ফোনে তাঁর কন্ঠস্বর শুনিয়েই কাজ সেরেছেন পরিচালক | শেষের ক্রেডিটে তাঁর নামও গেছে ‘বিশেষ ডাবিং’ শিরোনামে | এখন কথা হলো গিয়ে এই বাংলায় অভিনেতা কি কিছু কম পড়েছিল সন্দীপবাবু? যে একই অভিনেতা-অভিনেত্রীকে নিয়ে দু-দুটো গল্পের শুটিং সেরে ফেলতে হল ? নতুন কাউকে খুঁজে বের করার ঝুঁকি নিতে বলছি না, পুরনো যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে ঋত্বিক চক্রবর্তী নামে একটি ছেলে চমকে দেবার মতো অভিনয় করছেন এখন | এই গল্পে অদ্ভুত মানিয়ে যেত তাঁকে, জানেন! আর এর পাশাপাশি ফোনের সংলাপগুলোয় আমরা যদি শুনতে পেতাম ঋত্বিকের অভিনেত্রী স্ত্রী অপরাজিতার গলা, তখন এই রিভিউ লিখতে বসে ডিটেলের মজার জন্যে আপনাকে দুশো সাবাশি না দিয়ে পারতাম না দাদা | কিন্তু সে সব মজা বা আর হল কোথায় | মনে হল, এত কিছু ভেবে দেখার ইচ্ছে বা অবসর, কোনওটাই পাননি আপনি, যেমন করে হোক, ছবি চটপট শেষ করার তাড়াটাই ছিল টপ প্রায়োরিটি |

‘চার’ ছবির এই চারটে গল্পের মধ্যে যতদূর মনে হয় একমাত্র অরিজিনাল ছবি হল শেষ গল্পটা — ‘পরীক্ষা’| ৬৭ বছর আগে লেখা শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ছোটগল্পটাকে অন্য আর বাকি তিনটে গল্পের মতোই বইয়ের পাতা থেকে একেবারে সিনেমার পর্দায় কাট-পেস্ট করে বসিয়ে দিয়েছেন পরিচালক, কোনও নতুন মজা, নতুন মোচড়, কিস্যু নেই | তবে হ্যাঁ, বাকি আর তিনটে গল্পে যেভাবে চরিত্রদের হাতে সেলফোন তুলে দিয়ে সেগুলোকে প্রাণপণে আধুনিক করে তোলার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন নির্মাতা, এই গল্পটার ক্ষেত্রে কোনও এক রহস্যময় কারণে সেই চেষ্টা করেননি একফোঁটাও | উল্টে গল্পটার সময়কালটাকে সেই গত শতকের মাঝবরাবরই রেখে দিয়েছেন পরিচালক | সেটাকে আন্ডারলাইন করার তাগিদে এই গল্পটায় পৌঁছে সাদা-কালো হয়ে গেছে ছবির রং | তা সেটা তো আর আঙ্গিক হিসেবে এমন নতুন কিছু নয়, ঋতুপর্ণ যখন ‘দোসর’ (২০০৬) বানিয়েছেন, কিংবা কমলেশ্বর যখন বানিয়েছেন ‘মেঘে ঢাকা তারা’ (২০১৩), তখন তাঁরাও তো সাদা-কালো ফ্রেমের রঙেই সিনেমার তুলি ডুবিয়ে নিয়েছিলেন, নাকি? আর গল্পের বিষয় ? সে বিষয়ে সত্যি বলতে কি, যত কম বলা যায় ততই ভাল | সন্দীপ রায়ের ক্যামেরায় এক ছোটদের অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি ছাড়া আর কিছু যে আদৌ খোলে না, সে তো বক্স অফিসে বারংবার প্রমাণিত সত্যি, আমি আর নতুন কথা কী বলব? এই গল্পে শরদিন্দু বিরচিত নরনারীর সরস প্রেম-আখ্যান তাই নার্ভাস পরিচালকের হাতে যেন রীতিমতো বেসামাল |

গল্পটা একলাইনে এইরকম : ঠিক যেদিন সকালবেলা মণিকার (কোয়েল মল্লিক) বাবার কাছে গিয়ে মণিকাকে বিয়ের বাসনা ব্যক্ত করেছে বিনায়ক (আবির চট্টোপাধ্যায়), ঠিক সেদিন রাত সাড়ে দশটার সময় নিজের সেই ভাবী স্বামীর চিরিত্রের পরীক্ষা নিতে তাঁর বাড়িতে হাজির মণিকা স্বয়ং | এখন এই গল্পটা শুট করতে গিয়ে পরিচালকের মনে হঠাৎ কেন পুরনো দিনের বাংলা ছবিকে ট্রিবিউট দেওয়ার বাসনা জেগে উঠল, আর কেন তিনি সাজানো সেটের সাজানো চাঁদটার জন্যে ‘চায়না বল’ আলো ব্যবহার করে বসলেন, ঈশ্বর জানেন | ছবির একেবারে শেষ দৃশ্যে কোয়েল, থুড়ি মণিকার দেওয়াল জোড়া পোট্রেট দেখে তো আমার হঠাৎ সেই রানি অরুন্ধতীর কথাই মনে পড়ে গেল | সেই ছবিতেও কোয়েলের ঠিক এইরকম দেওয়াল জোড়া পোর্ট্রেট দেখেছিলাম না ? শরদিন্দুর মূল গল্পে এই অংশটি অবশ্যই নেই | অর্থাৎ এই সংযোজনটুকু সন্দীপের একেবারে নিজস্ব বলে ধরে নিতে পারি | কিন্তু, এর আদৌ কোনও দরকার ছিল কি?

৯০ মিনিটের মধ্যে ব্যাক-টু-ব্যাক চারটে গল্প দেখে ফেলার অভিজ্ঞতা দর্শকের কাছে নতুন কিছু নয় | বাংলা ছবির হিসেব তো আগেই দিয়েছি, হিন্দি ছবিতেও এই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় মাঝে মাঝেই | ‘দশ কাহানিয়া’ (২০০৭) ছবিটার কথা মনে পড়ছে ? কিংবা ‘বোম্বে টকিজ’ (২০১৩)? রামগোপাল ভার্মার ছবি ‘ডরনা মানা হ্যায়’ (২০০৩) আর ‘ডরনা জরুরি হ্যায়’ (২০০৬) তো নির্ঘাৎ দেখেছেন | এগারটা ছোট গল্পের সমন্বয়ে তৈরি ছবি ‘মুম্বই কাটিং’ তো বাণিজ্যিক ভাবে কোনওদিন আর রিলিজই করল না !

বলিউডি যে ছবিগুলোর নাম করলাম, সেই ছবিগুলো সম্ভব হলে আবার দেখুন | বুঝতে পারবেন, প্রতিটা ছবির পেছনে রয়েছে কেমন আন্তরিক পরিশ্রম | পাশাপাশি মিলিয়ে দেখুন সন্দীপের ‘চার’ | টের পাবেন, কোনওমতে নিজের আগে বানানো টেলিছবি রিমেক করে এ হলো শর্টকাট সাকসেস খোঁজার চেনা তরিকা | কিন্তু সাকসেস অত সহজে যে আসে না, সেটা কি অনেকবার ঠেকেও কোনও কোনও মানুষ শিখতে পারেন না?

শীতকালে ছুটির মরসুমে এই ছবি রিলিজ করলে তবু বোধহয় বক্স অফিসে কিছুটা সাড়া পড়ত | কিন্তু গত শীতের পুরো সময়টা তো ‘চাঁদের পাহাড়’-ই গিলে খেয়ে ফেলল, তার পাশাপাশি সন্দীপের ‘চার’ মার্কেটে গিয়ে পড়লে জাস্ট ঝড়ের মুখে কুটোর মতো উড়ে যেত! বুদ্ধিমান প্রযোজকরা তাই সেই রাস্তায় না হেঁটে ছবি রিলিজ করালেন পাক্কা ছয় মাস পরে | কিন্তু এখন একে যা প্যাচপ্যাচে গরম, তার ওপর আবার গরমের ছুটিটাও শেষ হয়ে গেছে | এই অবস্থায় হল-এ এই রিমেক ছবি দেখতে যাবেন কয়জন?

বড় সাধ করে ইতিপূর্বে যে ছবিটার নাম রেখেছিলেন ‘হিটলিস্ট’, সেটাই মর্মান্তিক ফ্লপ হয়ে বুকের পাথর হয়ে চেপে বসেছিল একদিন | এবার এই রিমেক ছবি ‘চার’-এর ভাগ্যে কী ঘটবে, সেটা না হয় আমি আর না-ই বা বললাম |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here