দ্রৌপদীকে কেন বিবাহ করেননি তাঁর চিরসখা শ্রীকৃষ্ণ ?

দ্রৌপদীকে কেন বিবাহ করেননি তাঁর চিরসখা শ্রীকৃষ্ণ ?

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

শ্রীকৃষ্ণ কেন দ্রৌপদীকে বিয়ে করতে চাইলেন না ? বিশুদ্ধবাদীরা কানে আঙুল দিলেও এই সঙ্গত প্রশ্ন খুব স্বাভাবিক | কারণ দ্রৌপদী ছিলেন ওই সময়কার শ্রেষ্ঠ সুন্দরী | এরকম একজন নারীকে বিয়ে না করে শুধু তাঁর সখা হয়েই থেকে গেলেন পীতাম্বর |

এর পিছনে অবশ্য আমি সে ও সখার কোনও গল্প নেই | কোনও কোনও সূত্র বলে, স্বয়ং দ্রুপদেরও ইচ্ছে ছিল, শ্রীকৃষ্ণ তাঁর জামাই হোন | এই বাসনার নেপথ্যে আবার লুকিয়ে আছে প্রতিশোধের বাসনা |

দ্রোণাচার্য একসময় দ্রুপদের অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন | কিন্তু ক্রমে তাঁদের সেই সম্পর্ক পাল্টে যায় | দ্রুপদের শত্রু হয়ে ওঠেন দ্রোণাচার্য | একদা প্রিয় বন্ধু দ্রোণের হাতে অপমানের কথা ভুলতে পারেননি দ্রুপদ | তিনি চেয়েছিলেন এমন একজন কেউ তাঁর জামাই হোক, যিনি অনায়াসে হারাতে পারবেন দ্রোণকে | সেক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণর থেকে যোগ্যতর আর কে হতে পারে ?

শ্রীকৃষ্ণের প্রতি গভীর অনুভূতি ছিল দ্রৌপদীর | তাঁর এক পরিচারিকা‚ নাম নিতম্বিনী‚ এনে দিত কৃষ্ণের সংবাদ | দ্রৌপদীর অনুরাগ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল ছিলেন শ্রীকৃষ্ণও |

তিনি দ্রৌপদীকে বলেছিলেন‚ কেন তিনি তাঁকে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করতে অপারগ | কারণ কৃষ্ণা পৃথিবীতে এসেছেন নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে | তাঁর আগমনের মধ্যে নিহিত ছিল পথচ্যুত‚ ধর্মভ্রষ্ট ক্ষত্রিয় অর্থাৎ কুরু বংশের বিনাশ | তাই‚ অভীষ্ট পূরণে তাঁকে হতেই হবে কুরু-প্রতিপক্ষ পাণ্ডবদের স্ত্রী |

শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শমতো দ্রুপদ কন্যা তাই অর্জুনকেই মনে স্থান দেন সম্ভাব্য স্বামী হিসেবে | কারণ কৃষ্ণ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন‚ তিনি অর্জুনের আত্মা | তাই‚ বহিরঙ্গে বিবাহ না হলেও আত্মার মিলন তো হয়েই যাচ্ছে |

শোনা যায়, কন্যার পাণিগ্রহণের প্রস্তাব কৃষ্ণের কাছে পেরেওছিলেন দ্রুপদ | কিন্তু স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের মনে অন্য কিছু ছিল | তিনি দ্রুপদকে বলেন, পাঞ্চালীর জন্য তিনি অন্য পাত্র দেখে রেখেছেন |

পাত্র হিসেবে অর্জুনের নাম শোনার পরে কিছুটা সন্দিগ্ধ হন দ্রুপদ | কারণ তৃতীয় পাণ্ডব ছিলেন আচার্য দ্রোণের প্রিয় শিষ্য | কিন্তু দ্রুপদকে রাজি করালেন বংশীধারী |

এরপর স্বয়ম্বর সভায় অর্জুনের দ্বারা মাছের চোখ বিদ্ধ এবং দ্রৌপদীর বরমাল্য গ্রহণ | ততক্ষণে
অবশ্য দ্রৌপদীর সঙ্গে চিরসখার নিবিড় সম্পর্কে আবদ্ধ হন শ্রীকৃষ্ণ |

কৃষ্ণ-কৃষ্ণার এই বন্ধুত্ব অটুট থেকেছে মহাকাব্যের শেষ পৃষ্ঠা অবধি | সে দ্যূতসভায় বস্ত্রহরণই হোক বা অজ্ঞাতবাসে দুর্বাসা মুনির শাপের হাত থেকে রক্ষাই হোক | সখা কৃষ্ণের বরাভয় সবসময় রক্ষা করে এসেছে তাঁর সখী, পাঞ্চালীকে |

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply

Handpulled_Rikshaw_of_Kolkata

আমি যে রিসকাওয়ালা

ব্যস্তসমস্ত রাস্তার মধ্যে দিয়ে কাটিয়ে কাটিয়ে হেলেদুলে যেতে আমার ভালই লাগে। ছাপড়া আর মুঙ্গের জেলার বহু ভূমিহীন কৃষকের রিকশায় আমার ছোটবেলা কেটেছে। যে ছোট বেলায় আনন্দ মিশে আছে, যে ছোট-বড় বেলায় ওদের কষ্ট মিশে আছে, যে বড় বেলায় ওদের অনুপস্থিতির যন্ত্রণা মিশে আছে। থাকবেও চির দিন।