৬৫ বছরে হাতে প্রথম পিস্তল‚ অসংখ্য পদকের মাঝে শার্প শুটার রিভলবার দাদি

641

চন্দ্রো তোমর, বর্তমানে যাঁর বয়স ছিয়াশি বছর। উত্তরপ্রদেশের বাগপত জেলার জোহরি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ছয় সন্তান ও পনেরো জন নাতিপুতি নিয়ে বেশ ভরপুর সংসার। কখনও স্কুলে যাননি তিনি, তাই নেই কোনও পুঁথিগত শিক্ষা। ১৯৯৯ সালে বয়স যখন পয়ষট্টি, তখন নাতনির বায়না রাখতে একদিন‌ জোবরি রাইফেল ক্লাব-এ যান তার সঙ্গে। নাতনির ইচ্ছে রাইফেল চালানো শেখা। সেখানে গিয়ে একটি পিস্তল তুলে নিয়ে, নিজে থেকেই টার্গেট প্র্যাকটিস করতে শুরু করেন তিনি। তাঁর নির্ভুল নিশানার দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে যান সেখানে উপস্থিত সকলে। সেখান থেকেই আচমকা বদলে যায় তাঁর জীবন।

এরপর তিনি গোপনে তার শুটিং প্রশিক্ষণ চালিয়ে যান। শুরুতে অনেকেই তাঁকে নিয়ে হাসাহাসি করত। কিন্তু কোনও কথাতেই কান দেননি তিনি। এখন তিনি একজন বিখ্যাত, জাতীয় পর্যায়ের শ্যুটার। জাতীয় স্তরে দশ মিটার পিস্তল ইভেন্টে, পঁচিশটি জাতীয় স্তরের পদক জিতেছেন চন্দ্র তোমর।

দাদির ও ক্লাবের কোচ পাঠান পরে সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, “দাদি জন্ম থেকেই শ্যুটিং স্কিল নিয়ে জন্মেছেন। ঈশ্বর তাকে এই গুণ দিয়েই পাঠিয়েছেন। কারণ তিনি স্থির হাত আর তীক্ষ্ণ চোখ নিয়ে জন্মেছেন”। দু’বছর কোচ পাঠানের কাছে ট্রেনিং নিয়ে প্রথম প্রতিযোগিতায় নামেন তিনি।

যে গ্রামে মেয়েরা স্কুলে যায় না, বাড়ির বাইরে কাজ বা চাকরি করার অনুমতি নেই, সেখানে একজন বৃদ্ধার পক্ষে পিস্তল ধরা সত্যিই খুব কঠিন কাজ। তবে সেই অসাধ্য সাধন করেছেন তিনি। বর্তমানে নিজের প্রাইভেট শ্যুটিং রেঞ্জেই প্র্যাকটিস করেন তিনি। সেখানে প্রচুর নতুন ছেলেমেয়েদের ট্রেনিং দেন। তাঁর অনেক ছাত্রীই ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও যোগ দিয়েছেন ইতিমধ্যেই।

এখন তিনি নেমেছেন সমাজ থেকে যৌতুককে বিদায় করতে। ভারতের উত্তরপ্রদেশে যৌতুকের দাবিতে নারী হত্যার ঘটনা হামেশাই ঘটে। তবে ‘দাদি’ যে গ্রামে বসবাস করেন, সেখানে কার সাধ্য যে বিয়েতে যৌতুক দাবি করে। গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, ‘যৌতুক চাইলে দাদি গুলি করবে। আর তাঁর নিশানা, শিকারি বাজের মতো তীক্ষ্ণ।’

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.