কেমন হয় সাধারণ জীবন ? জানতে বিলাসব্যসন ছেড়ে দরিদ্রের ঘরে ধনীর পুত্র

ধনী ব্যবসায়ীর ছেলে অ্যালেক্সের জীবনযাপন ছিল এমনই বিলাসবহুল যে মধ্যবিত্ত মানুষ তা শুধু স্বপ্নেই দেখতে পারে | ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের মিডলসব্রোহর ব্যবসায়ীপুত্র অ্যালেক্সের প্রসাধনীর উপকরণই অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো | চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের মতোই ট্যুইস্ট তাঁর জীবনে | ইচ্ছে হল‚ একবার সব বিলাসব্যসন ছেড়ে সাধারণ জীবন যাপন করবেন |

কুড়ি বছর বয়সী অ্যালেক্স‚ যিনি বর্তমানে নিজের বাবার বিরাট ব্যবসা সামলান তিনিই কিনা বিলাসবহুল জীবন থেকে নেমে এলেন দিনআনাদিনখাওয়া মানুষদের জীবনের মাঝখানে ! বল্টনের নিম্নবিত্ত পরিবার অ্যান্থনি‚ জেন এবং তাঁদের দুবছরের ছোট্ট খুদে জ্যাকসনের সঙ্গে মাটির কাছাকাছি থাকবেন বলে আকাশ থেকে নেমে এলেন অ্যালেক্স | কিন্তু কেন ?

অ্যান্থনি সপ্তাহে ছদিন কাজ করে মাস গেলে রোজগার করেন £১‚০০০ (ভারতীয় মূল্যে প্রায় ৯১ হাজার টাকা)‚ যা দিয়ে তাঁদের সংসারের যাবতীয় খরচ চালাতে হয় | বাড়িভাড়া‚ খাবার খরচ ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে তাঁদের হাতে অবশিষ্ট থাকে মাত্র £৪০ (ভারতীয় মূল্যে প্রায় ৩ হাজার ৬ শো টাকা) | এই দুই সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থনীতির দুই পরিবার হঠাৎ করেই এক হয়ে গেল | কারণ অ্যালেক্স অ্যান্থনি ও জেনের সঙ্গে থেকে তাঁদের রোজকার জীবনযাপনকে কাছ থেকে দেখতে ও জানতে চেয়েছিলেন | সেই কারণেই অ্যালেক্স এসে ওঠেন অ্যান্থনির বাড়িতে |

রান্নাবান্নার কাজ করতে জানতেন না অ্যালেক্স | জেন তাঁকে রান্না শেখান | একসঙ্গে অ্যালেক্স ও জেন থাকার জায়গাটি পরিষ্কারও করেন | টাকার অভাবে অ্যালেক্সের বাড়িতে একটি খাটও ছিল না | মাটিতেই শুতে হত তাঁদেরকে | এই অবস্থা দেখে অ্যালেক্স নিজেই খাটবিছানার ব্যবস্থা করে দেন | এই সহানুভূতি ও সাহায্য পেয়ে জেন নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি | অ্যালেক্সের জন্যই প্রথমবার বিছানায় শুতে পারার সুযোগ হয় অ্যান্থনির পরিবারের | এরপরেই ধীরে ধীরে আরও বেশি করে অ্যান্থনির জীবনযাপনের সঙ্গে মিশে যেতে থাকেন অ্যালেক্স |

পেশায় সেলসম্যান অ্যালেক্স মাত্র £১৫এ (ভারতীয় মূল্যে প্রায় ১ হাজার ৩ শো টাকাচারজনের জন্য বল্টন মার্কেট থেকে কিনে নিয়ে আসেন মুরগির মাংস‚ আলু‚ কিছু শাকসবজি এবং মিষ্টি | প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি এত কম টাকায় এতকিছু কেনা সম্ভব হতে পারে | জিনিসপত্র কেনার পরে তিনি উপলব্ধি করেন যেসব জিনিস খুব সহজেই পেয়ে গিয়ে অবহেলা করে এসেছেন‚ সেই জিনিসগুলির মূল্য আদতে ঠিক কতখানি |

নিজেদের সঞ্চয়ের টাকায় পরিবারকে নিয়ে ব্ল্যাকপুল ঘুরতে গিয়েছিলেন অ্যান্থনি | কিন্তু সেখানে পৌঁছবার খানিক পরেই তাঁদের সমস্ত অর্থ চুরি হয়ে যাওয়ায় কপর্দকশূন্য হয়ে ফিরে আসতে হয় তাঁদের | প্রতিদিনের কাজ সেরে অতিরিক্ত কিছু রোজগারের আশায় কাজের পরেও বল্টন টাউন সেন্টারে ১‚০০০ টি লিফলেট বিলি করেন অ্যান্থনি | এত কষ্ট করে নিজেদের জীবন চালানোর পরিশ্রম নিজের চোখে দেখে অ্যালেক্সের জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ পাল্টে যায় | জেন ও অ্যান্থনিকে ব্ল্যাকপুল ঘুরতে যাওয়ার সব খরচই অ্যালেক্স নিজে দিতে চান | জীবনের ছোট ছোট জিনিসগুলির মাহাত্ম উপলব্ধি করানোর জন্য অ্যান্থনি ও জেনকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অ্যালেক্স | জানিয়েছেন এবার থেকে নিজের মায়ের রান্নাবান্নায় সাহায্য করার সঙ্গেই নিজের জীবনে পাওয়া সমস্ত ছোটবড় জিনিসের কদরও করবেন তিনি |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here