চেয়েছিলেন নিখরচায় প্রেমিকার মন গলাতে‚ তারপর একদিন গোটা দ্বীপেরই মালিক হলেন রিচার্ড…

পৃথিবীতে রয়েছেন এমনও কিছু মানুষ যাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন চাইলেই সব স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব | তাঁদেরই মধ্যে একজন হলেন স্যর রিচার্ড ব্র্যানসন | বহু মানুষের কাছে তিনি একজন আদর্শ | ভার্জিন-এর কর্ণধার তিনি | তাঁর নিজের একটি ব্যক্তিগত বিলাসবহুল দ্বীপ রয়েছে | আজ্ঞে হ্যাঁ‚ ঠিকই ধরেছেন‚ একটি গোটা দ্বীপ |

ভার্জিন গোর্দার উত্তরাংশে বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের অন্তর্গত এই নেকার আইল্যান্ড যার সম্পূর্ণ মালিকানা রিচার্ডের অধীনে | ফ্লোরিডার মায়ামির দক্ষিণপূর্ব অংশে দ্য ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস নামে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত দ্বীপ অবস্থান করছে | রিচার্ড ভার্জিন গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন | ভার্জিন প্রপার্টিজের বিলাসবহুল সম্পত্তির অন্তর্গত এই বিলাসবহুল নেকার দ্বীপটি |

সপ্তদশ শতকের একজন ডাচ স্কোয়াড্রন কমান্ডার জোহানেস দে নেকরের নাম অনুসারে এই দ্বীপটির নাম নেকার দেওয়া হয়েছিল | ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের কিছু অংশ বিক্রির কথা উঠলে রিচার্ড জায়গাটি পরিদর্শন করতে সেখানে যান | দ্বীপে পৌঁছনোর পরে তাঁদের একটি বিলাসবহুল ভিলায় থকাতে দেওয়া হয় এবং হেলিকপ্টারে করে গোটা জায়গাটি ঘুরিয়ে দেখানো হয় | সব দ্বীপগুলির মধ্যে রিচার্ডের সবথেকে পছন্দ হয়েছিল নেকার দ্বীপটিই | কিন্তু মূল্য জনিত সমস্যার কারণে সেই সময় দ্বীপটি কিনতে পারেননি রিচার্ড |  

এর প্রায় একবছর পরই দ্বীপটির তৎকালীন মালিক জন লিটলটনের কাছ থেকে$১২০‚০০০এ ( ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা ) দ্বীপটি কেনেন রিচার্ড | ভার্জিন গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করার মাত্র ছবছর পরেই ২৮ বছর বয়সে নেকার দ্বীপটি কিনে ফেলেন রিচার্ড | সরকারের পক্ষ থেকে রিচার্ডকে শর্ত দেওয়া হয় যে তাঁকে ওই দ্বীপটিকে চার বছরের মধ্যে একটি রিসর্ট হিসেবে তৈরি করতে হবে | সরকারের সেই শর্ত মেনে নিয়েই নেকার দ্বীপকে একটি রিসর্টে পরিণত করা হয় |

নেকার দ্বীপটি বিশ্বের একটি অন্যতম বিলাসবহুল রিসর্ট হিসেবে পরিচিত | তিন বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্থাপত্যবিদ ও ডিজাইনাররা এই বিলাসদ্বীপটিকে সাজিয়ে তুলেছেন | দ্বীপের প্রধান ভিলাটি বালিনিজ স্থাপত্যের | সেটিকে সাজানো হয়েছে স্থানীয় পাথর‚ ব্রাজিলিয়ান হার্ডউড‚ এশিয়ান অ্যান্টিক‚ ভারতীয় কম্বল‚ বালির শিল্পকার্য‚ ফেব্রিক এবং বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র দিয়ে |

পঞ্চাশ কোটি লিটার জলের সুইমিং পুলটি দেশের সবথেকে বড় ব্যক্তিগত সুইমিং পুলগুলির মধ্যে অন্যতম  | দ্বীপটিতে একটি প্রধান বাড়ি সহ তিনটি ভিলা এবং একটি বোটহাউস আছে | এতে মোট ২২ জন মানুষ থাকতে পারেন | প্রতি রাতে থাকার খরচ পড়বে £৯‚২০০‚ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় আট লক্ষ টাকা | নুসা নদীর ৩৬০ ডিগ্রি প্যানারোমিক ভ্যিউও পাওয়া যাবে এই দ্বীপে থাকলে | 

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Illustration by Suvamoy Mitra for Editorial বিয়েবাড়ির ভোজ পংক্তিভোজ সম্পাদকীয়

একা কুম্ভ রক্ষা করে…

আগের কালে বিয়েবাড়ির ভাঁড়ার ঘরের এক জন জবরদস্ত ম্যানেজার থাকতেন। সাধারণত, মেসোমশাই, বয়সে অনেক বড় জামাইবাবু, সেজ কাকু, পাড়াতুতো দাদা