চেয়েছিলেন নিখরচায় প্রেমিকার মন গলাতে‚ তারপর একদিন গোটা দ্বীপেরই মালিক হলেন রিচার্ড…

1196

পৃথিবীতে রয়েছেন এমনও কিছু মানুষ যাঁরা দেখিয়ে দিয়েছেন চাইলেই সব স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব | তাঁদেরই মধ্যে একজন হলেন স্যর রিচার্ড ব্র্যানসন | বহু মানুষের কাছে তিনি একজন আদর্শ | ভার্জিন-এর কর্ণধার তিনি | তাঁর নিজের একটি ব্যক্তিগত বিলাসবহুল দ্বীপ রয়েছে | আজ্ঞে হ্যাঁ‚ ঠিকই ধরেছেন‚ একটি গোটা দ্বীপ |

ভার্জিন গোর্দার উত্তরাংশে বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের অন্তর্গত এই নেকার আইল্যান্ড যার সম্পূর্ণ মালিকানা রিচার্ডের অধীনে | ফ্লোরিডার মায়ামির দক্ষিণপূর্ব অংশে দ্য ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস নামে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত দ্বীপ অবস্থান করছে | রিচার্ড ভার্জিন গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন | ভার্জিন প্রপার্টিজের বিলাসবহুল সম্পত্তির অন্তর্গত এই বিলাসবহুল নেকার দ্বীপটি |

সপ্তদশ শতকের একজন ডাচ স্কোয়াড্রন কমান্ডার জোহানেস দে নেকরের নাম অনুসারে এই দ্বীপটির নাম নেকার দেওয়া হয়েছিল | ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের কিছু অংশ বিক্রির কথা উঠলে রিচার্ড জায়গাটি পরিদর্শন করতে সেখানে যান | দ্বীপে পৌঁছনোর পরে তাঁদের একটি বিলাসবহুল ভিলায় থকাতে দেওয়া হয় এবং হেলিকপ্টারে করে গোটা জায়গাটি ঘুরিয়ে দেখানো হয় | সব দ্বীপগুলির মধ্যে রিচার্ডের সবথেকে পছন্দ হয়েছিল নেকার দ্বীপটিই | কিন্তু মূল্য জনিত সমস্যার কারণে সেই সময় দ্বীপটি কিনতে পারেননি রিচার্ড |  

এর প্রায় একবছর পরই দ্বীপটির তৎকালীন মালিক জন লিটলটনের কাছ থেকে$১২০‚০০০এ ( ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮২ লক্ষ টাকা ) দ্বীপটি কেনেন রিচার্ড | ভার্জিন গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করার মাত্র ছবছর পরেই ২৮ বছর বয়সে নেকার দ্বীপটি কিনে ফেলেন রিচার্ড | সরকারের পক্ষ থেকে রিচার্ডকে শর্ত দেওয়া হয় যে তাঁকে ওই দ্বীপটিকে চার বছরের মধ্যে একটি রিসর্ট হিসেবে তৈরি করতে হবে | সরকারের সেই শর্ত মেনে নিয়েই নেকার দ্বীপকে একটি রিসর্টে পরিণত করা হয় |

নেকার দ্বীপটি বিশ্বের একটি অন্যতম বিলাসবহুল রিসর্ট হিসেবে পরিচিত | তিন বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্থাপত্যবিদ ও ডিজাইনাররা এই বিলাসদ্বীপটিকে সাজিয়ে তুলেছেন | দ্বীপের প্রধান ভিলাটি বালিনিজ স্থাপত্যের | সেটিকে সাজানো হয়েছে স্থানীয় পাথর‚ ব্রাজিলিয়ান হার্ডউড‚ এশিয়ান অ্যান্টিক‚ ভারতীয় কম্বল‚ বালির শিল্পকার্য‚ ফেব্রিক এবং বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র দিয়ে |

পঞ্চাশ কোটি লিটার জলের সুইমিং পুলটি দেশের সবথেকে বড় ব্যক্তিগত সুইমিং পুলগুলির মধ্যে অন্যতম  | দ্বীপটিতে একটি প্রধান বাড়ি সহ তিনটি ভিলা এবং একটি বোটহাউস আছে | এতে মোট ২২ জন মানুষ থাকতে পারেন | প্রতি রাতে থাকার খরচ পড়বে £৯‚২০০‚ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় আট লক্ষ টাকা | নুসা নদীর ৩৬০ ডিগ্রি প্যানারোমিক ভ্যিউও পাওয়া যাবে এই দ্বীপে থাকলে | 

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.