হোমোসেক্সুয়ালিটি আমাদের এখানে ক্রিমিনালাইজড : ঋদ্ধি সেন

মাত্র ১৯ বছর বয়সে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ঋদ্ধি সেন | তবু নাকি বদলায়নি মানসিকতা‚ লাইফস্টাইল | সিনেমা‚ থিয়েটার‚ প্রেম আরও অনেক কিছু নিয়ে আড্ডা দিলেন তন্ময় দত্ত গুপ্তর সঙ্গে

জাতীয় পুরস্কার পেলেন।আপনাকে ঘিরে মিডিয়ায় এখন তো খুব আলোচনা।জীবন তো পুরো বদলে গেল?

ঋদ্ধি সেন : জীবন একটু তো বদলেছেই।আমার জাতীয় পুরস্কার পাওয়াকে দু’ভাবে দেখা যায়।এই পুরস্কার একটা ভরসার জায়গা।এই পুরস্কার পেলে মানুষের এক্সপেকটেশন অনেক বেড়ে যায়।আমার নিজস্ব জীবনের একটা ফিলোসফি আছে।জীবনকে দেখার সেই ফিলোসফি  বদলায়নি।আমার লাইফ স্টাইলও পালটায়নি।

আপনার বাবা মানে কৌশিক সেনের ইন্টারভিউ করতে গিয়ে আপনাকে দেখেছি।আপনাদের ফ্ল্যাটের নীচে বন্ধুদের সঙ্গে আপনি ক্রিকেট খেলছিলেন।সেই জীবন কি এখনও কাটাতে পারেন? 

ঋদ্ধি সেন : বলছি।তার আগে আপনি আমাকে তুমি করে বলুন।আমি আপনার থেকে অনেক ছোট।যে ফ্যামিলিতে আমি বিলং করি,সেই ফ্যামিলিতে ছোট থেকে আমি দেখেছি সাংবাদিকদের আসা যাওয়া।বাবাকে ইন্টারভিউ করা।বাবা মার ছবি তোলা।এটা আমাকে অনেক হেল্প করেছে।মিডিয়া বা লাইম লাইট আমার কাছে নতুন কিছু নয়।আমার বড় হয়ে ওঠাটা একটু আলাদা।আমি কৌশিক সেন-রেশমি সেনের ছেলে।চিত্রা সেনের নাতি।আমি সব সময় অ্যাডিশনাল একটা অ্যাটেনশন পেয়ে এসেছি।কিন্তু এর একটা ডিসঅ্যাডভান্টেজ আছে।

ডিসএ্যাডভান্টেজ কেন?

ঋদ্ধি সেন : কারণ বাবা মা’র পরিচয় থেকে বেরিয়ে এসে নিজের ইমেজ তৈরি করতে হয়।বাবা মা কীভাবে মিডিয়াকে ডিল করেছে,সেটা ছোট থেকে দেখেছি।আলাদা করে মিডিয়ার আলো বা পপুলারিটি আমাকে খুব একটা এফেক্ট করেনি।

তুমি বাবা মা’র কথা বললে।তোমার ঠাকুমার কথা বললে।তোমার ঠাকুমা একজন প্রবীণ অভিনেত্রী।চিত্রা সেনের সঙ্গে অভিনয়ের ব্যাপারে কেমন আলাপ আলোচনা হতো?

ঋদ্ধি সেন : আমার প্রথম নাটক আম্মার সঙ্গে।নাটকের নাম ‘প্রাচ্য’। ছোটবেলা থেকে আমি দেখেছি আমাদের বাড়িতে শঙ্খ ঘোষ,দেবেশ রায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রপ্রসাদ সেন গুপ্ত-র মতো মানুষ আসছেন।কনস্ট্যান্টলি এদের সঙ্গে ইন্টার‍্যাকশান হয়েছে।সরাসরি ইন্টার‍্যাকশান না হলেও আমি দেখেছি বাবা, মা, আম্মা এঁদের সঙ্গে কথা বলছে।এই কথা শোনাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।এই হেলদি পরিবেশ থেকে একজন বাচ্চার পিক আপ করতে সুবিধা হয়।ছোটবেলার এই অ্যাম্বিয়েন্স আর এই এনরিচ পরিবেশের জন্য আমি অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে পারিনি।

ধরো যাক যাদে তোমার মতো ব্যাকগ্রাউণ্ড নেই তার ক্ষেত্রে এই জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া কতোটা কঠিন? 

ঋদ্ধি সেন : সত্যি আমি খুব লাকি।আমার পরিবার একটা অ্যাক্টিং স্কুল।যার অভিনয় চর্চার ব্যাকগ্রাউণ্ড নেই,তার লড়াইটা কঠিন।কিন্তু একটা পয়েন্টের পর নিজেকে গ্রুম করতে হয়।তা না হলে শত পরিবারিক সুনাম কোনও কাজে আসে না।কাজের জায়গায় একজন স্টারের
ছেলে আর নরম্যাল পরিবার থেকে আসা ছেলে প্রায় সমান।সেখানে তাকে তার কাজ দেখাতে হবে।পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই নিজেকে এস্টাব্লিশ করতে হবে।আমার মনে হয় সেল্ফ গ্রুমিং খুব ইম্পরটেন্ট।আমি কী ধরনের মানুষের সঙ্গে মিশব —সেটা সব সময়ে বাবা মা’র
বলে দেওয়া সম্ভব নয়।বন্ধু সার্কল এবং সুস্থ সার্কল খুব প্রয়োজন।

জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার আগে তোমাকে রাজ্য সরকার থেকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল।তুমি সেটা রিফিউজ করেছিলে।কেন?

ঋদ্ধি সেন : ভেরি সিম্পল লজিক।ন্যাশনল অ্যাওয়ার্ডের জুরি মেম্বাররা ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানুষজন।তাদের সিদ্ধান্তের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকে না। রাজ্য সরকারের মহানায়ক সম্মান আমি রিফিউজ করেছিলাম তিনটে কারণে। সবে তখন আমি কেরিয়ার শুরু করছি।সেই সময় যারা পুরস্কারের জন্য আমাকে সিলেক্ট করেছিলেন,তারা কেউ সিনেমার মানুষ নন।তাই আমি ওই অ্যাওয়ার্ড নেই নি। 

কিন্তু ঋদ্ধি সব জায়গাতেই তো পলিটিক্যাল প্রভাব থাক।ন্যাশোনাল অ্যাওয়ার্ডে কি কোনও রকম পলিটিক্যাল ইনফ্লয়েন্স নেই?

ঋদ্ধি সেন : অনেকের একটা ভুল ধারণা আছে।তারা মনে করেন ন্যাশোনাল অ্যাওয়ার্ডের মধ্যেও বিজেপির রং আছে।কিন্তু উইকিপিডিয়া পড়লেই বোঝা যায় এর সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই।সেটা হলে নিউটন আর নগর কীর্ত্তন-এর মতো ছবিকে ন্যাশনল অ্যাওয়ার্ডের 
আওতায় আনা হতো না।নিউটন অ্যান্টি গভর্ণমেন্ট ফিল্ম।নগর কীর্ত্তন হোমো সেক্সুয়ালিটির ওপর তৈরি।হোমো সেক্সুয়ালটি আমাদের এখানে ক্রিমিনালাইজড।নগর কীর্ত্তন পাঠানোর সময় সেন্সরের সমস্যা হয়েছিল।এ বছর জুরিরা আউটস্ট্যান্ডিং কাজ করছে।পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্স থাকলে এটা হতো না।

হোমোসেক্সুয়ালিটি প্রাচীন সময়েও ছিল।আজকের সময়ও আছে।তোমার কি মনে হয় না যৌনতাকে বড় বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে ?

ঋদ্ধি সেন : একজন পরিচালকের এ ব্যাপারে অনেস্ট থাকা প্রয়োজন।এখন অনেক পর্ন কমেডি ফিল্ম তৈরি হয়।এগুলোর কোনও যুক্তি দেখি না, এগুলোকে এনকারেজ করার কোনও কারণ দেখি না।আর আজ ইন্টারনেটের যুগে সেন্সরশিপ বোকা বোকা লাগে।একটা ছবিকে ‘A’ সার্টিফিকেট দিলেও কিছু হবে না।কারণ কিছুদিনের মধ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওই ছবি ডাউনলোড করে দেখা যাবে।পড়াশোনা না জানা মানুষের কাছেও ইন্টারনেট চলে আসছে।সেটা প্রপারলি কীভাবে হ্যাণ্ডেল করতে হবে,সেটা অনেকেই জানে না।আবার আমরা ডিজিটাল ইন্ডিয়া নিয়ে লাফালাফি করছি।আইটেম নাম্বার বা যৌনতা ব্যবহার করে অনেক বাজে ছবি হচ্ছে।সেন্সেবল ফিল্ম মেকাররা যৌনতাকে লজিক্যালি ব্যবহার করেন।এটা নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই। চিন্তার বিষয় হলো ইন্টারনেট।ইন্টারনেটে সারাক্ষণ চাইল্ড পর্ন পাওয়া যায়।আমি এটার বিরুদ্ধে।ইন্টারনেট খুব ভালো বিষয়।কিন্তু আমাদের দেশে অশিক্ষার সংখ্যা এতো বেশি যে ইন্টারনেট ইউস করা একটা রিস্কি জায়গা চলে গেছে।

তুমি সেন্সর বোর্ডের কথা বললে।উত্তম, সুচিত্রা, সৌমিত্রর আমলে সিনেমায় সিগারেট খাওয়া জল ভাত ব্যাপার ছিল ।এখন চূড়ান্ত যৌনদৃশ্যে আপত্তি না থাকলেও,পর্দায় সিগারেট খেলে স্মোকিং কিলস বা এ ধরনের স্ট্যাটুটরি ওয়ার্নিং থাকে।এটা না হলে সেন্সর বোর্ড
আটকে দেয়।এর যুক্তি কোথায়?

ঋদ্ধি সেন : এগুলো পয়েন্টলেস।আজ ‘উড়তা পাঞ্জাব”-এর মতো ছবি পাশ করতে সময় লাগে।কিন্তু একটা পর্ন ছবি কী করে পাশ হচ্ছে!সেখানে তো কোনও কাঁচি পড়ছে না।এমনকী অশ্লীল আইটেম নাম্বার পাশ হচ্ছে।এখন এই সেন্সরশিপের জন্য লোকের কিছু যায় আসছে না।এখন ছবির বৃত্তটা অনেক বড় হয়েছে।লোকে নেটফ্লিক্স থেকে ছবি ডাউনলোড করে দেখছে।ভালো ভালো ওয়েব সিরিজ তৈরি হচ্ছে।মানুষ হলে কতটা যাবে সেটাও চিন্তার বিষয়।সেন্সরশিপের বোকামোগুলো ভাঙ্গা উচিত।

তোমার প্রথম ক্যামেরা ফেস করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ঋদ্ধি সেন : আলাদা কিছু নয়।দুটোই কম্পোজিট আর্ট।দুটোই কালেকটিভ আর্ট।দুটোই টিম ওয়ার্কের ওপর ডিপেনডেন্ট।সিনেমার অ্যাক্টরদের খুব ডিসিপ্লিন মেনটেন করতে হয়।ভালো সিনেমার শুটিংয়ের সময় ঠিক সময় রাতে ঘুমিয়ে পড়তে হয়।কারণ ঘুম কম হলে পরের দিনের শুটিংয়ে;অ্যাক্টরের চোখের কোলে হালকা ডার্ক শ্যাডো দেখা দিতে পারে।নাসিরুদ্দিন শাহ’র একটা ইন্টারভিউ পড়েছিলাম।খুব ভালো লেগেছিল।
উনি বলেছিলেন —“অনেকে বলেন থিয়েটারে হালকা ওভারঅ্যাক্টিং করতে হয়।আর সিনেমার শর্ত আণ্ডার অ্যাক্টিং।যারা এরকম বলেন;তারা অভিনয়ের কিছুই জানেন না।অভিনয় দু’রকমের হতে পারে।ভালো অথবা মন্দ”।দুটো মাধ্যমের অভিনয়ে আজ খুব একটা ম্যাটার করে না।এই ডিফারেন্সটা আমি খুব একটা মাথায় রাখি না।দুটো অভিনয়ের রেশিওতে পরিবর্তন হতে পারে।ক্যামেরা লং শটে আমাকে ধরলে অভিনয় অন্যরকম করতে হবে।টাইট ক্লোজ আপে ধরলে এক্সপ্রেশনের হেরফের হবে।স্টেজ আর সিনেমার বেসিকটা এক।

সামনে আর কী কী কাজ করছ?

ঋদ্ধি সেন : সামনে নগর কীর্ত্তন রিলিজ করছে। একটা হিন্দি ছবি রিলিজ করবে।যেটা প্রোডিওস করছেন অজয় দেবগন।ওই ছবিতে কাজলও অভিনয় করছেন। ওটার অনেকটা শুটিং শেষ হয়ে গেছে।বাকি শুটিং মে মাসে শেষ হবে।আর ২৯ মে স্বপ্নসন্ধানীর নতুন নাটক নামছে।বাবার পরিচালনায়।অঞ্জন দত্ত অভিনয় করছেন।ভ্যানগগের ওপর নাটকটা নির্মিত।সেই নাটকে আমি অভিনয় করছি।পুরোদমে রিহার্সাল চলছে।

ন্যাশনল লেভেলের ছবিতে অভিনয় করার সময় তোমার অ্যাটেনশন কি অনেক বেশি থাকে?

ঋদ্ধি সেন : এটার উত্তর হলো নগর কীর্ত্তন।একটা রিজিওনাল ছবিতে অভিনয়ের জন্যই সবাই আমাকে চিনল।আমি কোনও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করে ন্যাশনল অ্যাওয়ার্ড পাইনি।নগর কীর্ত্তন নামটা এখন সবাই জানে।রিজিওনাল সিনেমা এখন ন্যাশনলি অনেক পপুলার।

তোমার একটা ইম্পরটেন্ট ইন্টারভিউতে তুমি বলেছ —ব্যক্তিগত ভাবে কারোর কাউকে খারাপ লাগতেই পারে।কিন্তু তাই বলে তার কাজ খারাপ হয়ে যায় না।কিন্তু ঋদ্ধি;আমাদের এখানে কারোর কাউকে খারাপ লাগলে তার কাজকেও বদনাম করা হয়।এই সাইকোলজির কারণ কী বলে মনে হয়?

ঋদ্ধি সেন : আমার মনে হয় এর কারণ ইন্টারনেট।আজ ইন্টারনেট আছে বলে যে যাকে খুশি গালাগাল করতে পারে।ঠিকঠাক ক্রিটিসাইজ করতে গেলে আমাদের সময় ব্যয় করতে হবে।পড়াশোনা করতে হবে।ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব কিছুই চুটকিতে হয়ে যায়।ইন্টারনেটে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন অনেক বেশি দেখা যায়।সোশ্যাল মিডিয়ায় সকলেই খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।ফলে মানুষই এই ব্যালেন্সটা হারিয়ে ফেলছে।আজ মানুষ খুব চট জলদি সব কিছু করে ফেলতে চায়।আমার মনে হয় এই কারণেই এই ইরর‍্যাশনল ডিসিশন জন্মায়।

সবাই নিজের বাবার কাজকে ভালো বলে।সেখানে অন্ধত্ব থাকে।অদ্ভুত ভাবে তুমি বলেছ,টিকটিকি নাটকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ের কাছে তোমার বাবা হাওয়া হয়ে গেছে।এরকম অনেস্ট রিঅ্যাকশন ভাবাই যায় না।এতো সহজ কথা সহজ ভাবে কী করে বলো? 

ঋদ্ধি সেন : আমি আমার বাবার ব্যাপারে বায়াসড ।কিন্তু কোনও ছবিতে সৌমিত্র দাদুকে বেটার লাগলে বেটার বলব।এটাকে হাণ্ড্রেড পারসেন্ট সমর্থন করা উচিত।সত্যি টিকটিকিতে সৌমিত্র দাদুর অভিনয় বাবার থেকে বেটার লেগেছে।এখানে মিথ্যা বলে কি লাভ!

তুমি বললে ২৯ মে তোমাদের ভ্যানগগের ওপর নতুন নাটক নামবে।ভ্যান গগের চরিত্রে অঞ্জন দত্ত অভিনয় করবেন।আগে ফ্রেশ ছেল মেয়েদের থিয়েটারে অভিনয় করানো হতো।এখন পপুলার অভিনেতাদের দিয়ে থিয়েটারে অভিনয় করানো হয়।এটা কি থিয়েটারকে জনপ্রিয় করার প্রয়াস?

ঋদ্ধি সেন : এটা ডিপেন্ড করে।অনেক সময় সিনেমায় স্টার নেওয়া হয়।অনেক দর্শকের কাছে পৌছানোর জন্য থিয়েটারেও মাঝে মাঝে সেটা হয়।আমাদের স্বপ্নসন্ধানীর গর্বের জায়গা হলো,আমাদের ৩০ থেকে ৩২ জন মেম্বার আছে।আমন্ত্রিত শিল্পীদের দিয়ে অভিনয় করালেও আমাদের দলে ইউথদের একটা ভূমিকা থাকে।বাবা সেই ভাবেই কাস্ট করে।লোকে সেটা দেখে খুব খুশি হয়।মুখ্য চরিত্র বাদেও প্রত্যেকটা চরিত্র খুব ইম্পরটেন্ট হয়ে ওঠে।একটা সিনের জন্য যদি কেউ অভিনয় করে, তাহলে তার চরিত্রটাও খুব সুন্দর করে তৈরি করা হয়।প্রত্যেকটা চরিত্র ইকুয়ালি ইম্পরটেন্ট।দর্শক প্রত্যেক জনকে আলাদা করে নোটিশ করে।

অঞ্জন দত্ত প্রথম কোনও অন্য দলে অভিনয় করছেন।ভ্যানগগের চরিত্র নিয়ে কী ধরনের কথাবার্তা হয়েছে তোমাদের মধ্যে?

ঋদ্ধি সেন : শ্রীজাতদার একটা উপন্যাস ‘তারা ভরা আকাশে’।বাবার এই উপন্যাস পড়ে খুব ভালো লাগে।বাবা নাট্যরূপ দেয়।নাটকটার নাম দেয় ‘তারায় তারায়’।ওই স্ক্রিপ্ট পড়ে আমার মনে হয়েছিল কলকাতা শহরে ভিনসেন্ট ভ্যানগগের চরিত্র অঞ্জন দত্ত ছাড়া কেউ করতে পারবে না।আর অঞ্জন দত্ত অভিনয় করতে সব থেকে ভালোবাসে।অঞ্জনদার ভেতর প্রচণ্ড অভিনয়ের খিদে আছে।বাবা অঞ্জনদার বাড়িতে  স্ক্রিপ্ট শোনাতে যায়।স্ক্রিপ্ট শুনে অঞ্জন দার খুবই ভালো লাগে।এবং ওনার চিরকাল ভ্যানগগকে ফ্যাসিনেটিং লাগে।উনি স্ক্রিপ্ট শুনেই হ্যাঁ বলেন।এবং সেদিন বিকেলে তিনি নিজের মোবাইলে নানা অ্যাঙ্গেলে সেলফি তোলেন।উনি দেখার চেষ্টা করেন আরো কী কী করলে ওনাকে ভ্যানগগের মতো লাগবে।প্রথম দিন রিহার্সালের সময় উনি পুরোপুরি প্রিপেয়ারড হয়ে আসেন।ওনার সংস্পর্শে আসতে পারা আমাদের কাছে বিরাট বড় প্রাপ্তি।

বুঝতে পারছি।এছাড়া আর কোনও অভিজ্ঞতা ?

ঋদ্ধি সেন : অঞ্জনদার সঙ্গে মহড়া মানে নিছক মহড়া নয়।নানা অভিজ্ঞতার কথা উনি শুনিয়েছেন।মৃণাল সেনের সঙ্গে কাজের কথা,জার্মানিতে থাকার সময় অসাধারণ সব ঘটনা;যা শুনে আমরা সমৃদ্ধ হয়েছি।এই নাটকটাতে অঞ্জন দত্ত যেভাবে অভিনয় করছেন;সেটা, মানে
দিস ইস গোয়িং টু বি ওয়ান অব হিস বেস্ট অ্যাক্টিং।

অঞ্জন দত্ত সম্পর্কে অনেকেই বলেন —উনি ঠিক সময়ে আসেন না।অনেক দেরি করে আসেন।তেমন কোনও এক্সপিরিয়েন্স হয়েছে?

ঋদ্ধি সেন : আমাদের রিহার্সাল টাইম সাড়ে ছ’টা।উনি প্রত‍্যেকবার পৌনে ছ’টায় চলে এসেছেন।ওনার পাংচুয়ালিটি দেখে আমাদের কোনও দ্বিধা দ্বন্দ্ব নেই।

অঞ্জন দত্ত একবার আমাকে বলেছিলেন, বিদেশের থিয়েটারে একজন থিয়েটার কর্মী শুধুমাত্র থিয়েটার করেই রোজগার করেন।আমাদের এখানে অনেক কিছু করার পর একজনকে থিয়েটার করতে হয়।ঋদ্ধি এখানে থিয়েটার কেন কারোর পেশা হয়ে উঠল না?

ঋদ্ধি সেন : আমরা আনফরচুনেট।আমাদের ইনফাস্ট্রাকচারে গণ্ডগোল আছে।সরকার থেকে থিয়েটারের জন্য কোনওরকম ইনিসিয়েটিভ নেওয়া হয় না।সরকারি গ্রাণ্ট আমরা পাই।কিন্তু যে পরিস্থিতিতে গ্রাণ্ট পাওয়া হয়,সেই পরিস্থিতি খুব কঠিন।ইন্ডিপেনডেন্ট স্পনসরেরাও ইন্টারেস্টেড হয় না।কোথাও তারা ভয় পায়।ঠিক ভালো সিনেমার মতো।ভালো সিনেমা প্রোডিওস করতে অনেকে ভয় পায়।থিয়েটারের ক্ষেত্রেও তাই।আমরা গ্র্যান্ট থেকে দলের ছেলে মেয়েদের মিনিমাম মান্থলি একটা স্যালারি দেওয়ার চেষ্টা করি।প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে থিয়েটার করতে আসা মানুষজনকে আমরা আশাহত করতে চাই না।বিদেশে রয়াল শেক্সপিয়র কোম্পানীতে সকলেই থিয়েটার থেকে রোজগার করেন।বাবা নিজেই বলে যে বাবা মা’র যদি থিয়েটার থেকে রোজগার করার উপায় থাকত তাহলে কেউ আর সিনেমা করত না।অঞ্জন দত্ত বিদেশের থিয়েটার সম্পর্কে খুব সুন্দর একটা এক্সপিরিয়েন্স শেয়ার করেছেন।

কেমন এক্সপিরিয়েন্স?

ঋদ্ধি সেন : বিদেশে সমুদ্রের পাশে ওপেন এয়ারে অঞ্জনদা থিয়েটার দেখেছেন।সমুদ্রের ঠিক পাশেই স্টেজ।এবং সানসেটের সময় সেখানে জিসাসকে ক্রসিফাই করা হয়।দর্শকেরা সবাই ছাতা নিয়ে সেই থিয়েটার দেখে।নাটকের মাঝে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়।তাতে কেউ চিন্তিত হয় না।ছাতা খুলে রেইনকোট পরে আবার থিয়েটার দেখতে থাকে।সুতরাং ভালো অডিয়েন্স হওয়াটাও খুব দরকারি।

তুমি আরো পরিণত হলে থিয়েটার ডিরেক্ট করবে।তখন সময় আরো কঠিন হবে।চাকুরীজীবী মানুষের থিয়েটার করার সময় আরো কমবে।থিয়েটারকে দেওয়ার মতো সময় কি আর তেমন থাকবে?

ঋদ্ধি সেন : সময় খুঁজে বার করতে হয়।চাইলেই সময় বার করা যায়।আমার বাবা মা সাংঘাতিক ব্যস্ত।আমার বাবা মা তাও একটা সিনেমা দেখাও মিস করে না।বা আমিও করি না।অঞ্জন দত্ত কি কম ব্যস্ত মানুষ!তারপরেও তো উনি থিয়েটার করছেন।সময় না থাকার এক্সকিউজ দিতে গেলে অনেক রকম এক্সকিউজ দিতে হয়।

তুমি গীটার বাজিয়ে গান কর।গান নিয়ে আলাদা করে কিছু করার ইচ্ছে আছে?

ঋদ্ধি সেন : আমি দেশ বিদেশের গান শুনতে খুব পছন্দ করি।গান আমার খুব ব্যক্তিগত ভালোবাসা।এই ভালোবাসার সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে।অঞ্জনদা আমাকে বলেছে —“সব সময় গীটার বাজিয়ে গান বা কনসার্ট না করলেও, মিউজিকের একটা কমফোর্ট জোনআছে।অভিনয়ের মানসিক প্রস্তুতির সময় বাধা পেলে মিউজিক তোকে হেল্প করবে”।মিউজিককে বিক্রি করার কোনও ইচ্ছে আমার নেই।

তোমার আর সুরঙ্গনার সম্পর্ক নিয়ে মিডিয়ায় এখন খুব চর্চা চলছে।তুমি সম্পর্ক, ভালোবাসাকে কীভাবে দেখো?

ঋদ্ধি সেন : ছোটবেলা থেকে বাবা মায়ের সম্পর্ক দেখে বড় হয়েছি।আমার বাবা মা ক্লাস টেন থেকে দুজনে প্রেম করছে।তাদের বিবাহিত সম্পর্কের প্রায় পঁচিশ বছর হতে চলছে।বাবা মার বন্ধুত্বটা এতো স্ট্রং যে সেটা খুব ইন্সপায়ার করে।আমার দু তিন জন কাছের বন্ধু যারা আছে, তাদের সঙ্গে খুব কানেক্ট করতে পারি।তাদের সঙ্গে খুব বাজে জোক নিয়ে কথা বলে পারি।আবার ইম্পরটেন্ট পলিটিক্যাল সিচুয়েশন নিয়ে কথা বলতে পারি।আমার বন্ধুরা ফেসবুক, নাইটক্লাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।তাদের বাইরের একটা জীবন আছে।সুরঙ্গনা আমার খুব
কাছের একজন বন্ধু।কাজের শেষে বাড়ি ফিরে এসে আমি কাদের সঙ্গে কাটাচ্ছি, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।নাম খ্যাতি হওয়ার পরে বাড়ি ফিরে এসে সময় কাটানোর মত কেউ না থাকলে —সেই জীবনের কোনও মানে নেই।আমি খুব হ্যাপি যে আমার বন্ধু সার্কলের মধ্যে
বাবা মা পড়ে।আমি প্রেম করি বা যাই করি,বাবা মা সেটা খুব ভালোভাবে জানে।তারা এনজয়ও করে।

2 COMMENTS

  1. ভালো সিনেমা মানে কি যেগুলো নন্দনে চলে? কিন্তু নন্দনে যা চলে তার বেশীর ভাগ আমার কাছে খাঁজা বলে মনে হয় । এখন মিডিয়া সেই ” ট্র্যাশ ” সিনেমা গুলোকে সস্তার গিমিক চড়িয়ে ” ভালো ” বলে চালাবার চেষ্টা করছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here