নতুন সমাচার

156

নতুন সমাচার ১

নতুন একটা পাখি

এমন রংদার বড় পেখমওয়ালা জমকপূর্ণ পাখি পৃথিবীতে আগে কেউ কখনও দেখেনি | আর তার জন্মস্থানও অনেক দূরে, আমাদের সভ্যতা থেকে আড়ালে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে‚ তার বেঁচে থাকা আমাদের বহু বন্দিত জ্ঞান-বেষ্টনীর নাগালের বাইরে |

আর লোকটা একটা বহুজাতিক সার্কাস কোম্পানির রিক্রুটমেন্ট এজেন্ট | পেটের তাগিদে লোকটা একজন আগ্রাসী পরিবেশবিদের মতো চারিদিকে দৌড়ে বেড়াত | এইভাবে ঘুরতে ঘুরতে একদিন সে সবার অলক্ষ্যে ওই পাহাড়টায় পৌঁছে পেয়ে গেল গুপ্তধনের খোঁজ | পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উঠতে উঠতে কোথাও কিছু নেই, হঠাৎ দেখে পাখিটা তার দীঘল রঙিন পালকগুলো আস্তে আস্তে নাড়া দিচ্ছে, পেখমটা একবার ছোট আর একবার বড় করছে, যেন বা নিজের সেরাটা নেড়েচেড়ে দেখছে | বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে ওপরওলাকে সেলাম ঠোকা ছাড়া লোকটার আর কিছু করার ছিল না; আর সাথে সাথে তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে থাকে তাকে টিঁকে থাকার আরেকটা সুযোগ দেওয়ার জন্য |

আমার নাম শ্যাম, আমি অনেক নীচের একটা শহর থেকে শুধু তোমাকে দেখব বলে এতদূর এসেছি, লোকটা হেসে, জহুরীর মুগ্ধতায় সামান্য মাথা দোলাতে দোলাতে বলে, পাখিটা আগে কোনওদিন মানুষ দ্যাখেনি | কিন্তু লোকটার হাসি দেখে পাখিটার কে জানে কেন মনে হয় ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই |

— আমি একটা পাখি, আমার কোনও নাম নেই |

— আমি তোমার মতো এত সুন্দর পাখি জীবনেও দেখিনি!

— আমিও এই পাহাড়ে অন্য কিছু কিছু প্রাণী দেখেছি, কিন্তু তোমার মতো সুন্দর করে হাসতে,যেচে এসে আলাপ করতে, কথা বলতে কাউকে দেখিনি |

— তুমি আমার সঙ্গে আমাদের শহরে যাবে? আমাদের দলে আরও নানান জন্তু-জানোয়ার, আর অনেক মানুষ আছে | আমরা নানান দেশে নানান জায়গায় ঘুরে ঘুরে লোকজনকে খেলা দেখাই | আমাদের এই দলটাকে সার্কাস বলে | আর আমাদের যা যা দরকার আমরা এর মধ্যেই সব পেয়ে যাই — খাবারদাবার‚ ডাক্তারপাতি, দরকারি জিনিসপত্র কেনার টাকা, প্রয়োজন মতো ছুটি, লোকজনের আমাদের খেলা ভাল লাগলে অনেক প্রশংসা |

— তুমি যা যা বললে সে সবের যে কি দরকার ভাই আমার জানা নেই | আমি আমার খাবারদাবার এখানেই পেয়ে যাই, এখানেই জন্ম থেকে আছি; বাঁচি, মরি, এখানেই আমি খুশি | তাহলে আর তোমার সঙ্গে যাব কেন?

— তুমি ঠিকই বলছ, কিন্তু আমাদের সঙ্গে গেলে তুমি অনেক নতুন নতুন জায়গা, নতুন নতুন জিনিস দেখতে পাবে | এই পাহাড়ে যত প্রাণী দেখেছ, তার থেকে অনেক বেশি, রকমারি জন্তুজানোয়ার দেখতে পাবে | একবার গিয়েই দ্যাখো না | ভাল না লাগলে আবার ফিরে আসতে কতক্ষণ?

— তারা সবাই তোমার মতো হাসিখুশি?

শ্যাম আরেকবার হাসে | যে যা বোঝে | কিন্তু এই পাখিটা ওর দরকার |

শ্যামের দুনিয়া-চষা অল টেরেইন গাড়ি দূর্গম পাহাড় নিখুঁতভাবে পেরিয়ে লম্বা পথা পাড়ি দিয়ে আমাদের সভ্যতায় এসে পৌঁছয় | আর পাখিটার কাছে পুরো ব্যাপারটা যেন এক লহমায় ঘটে যায় | অনেক নতুন জায়গা, নতুন নতুন জিনিস, খিদে পেলেই পছন্দমতো পর্যাপ্ত খাবার — পাখিটা সত্যি বিভ্রান্তিতে বাক্যিহারা হয়ে যায় |

সার্কাস কোম্পানির লোকজনও মোহিত হয়ে যায় | এই পাখিকে নিয়ে কিই বা করবে আর কি করবে না ভাবতে না পেরে তা ভাবতে নতুন এক কনসালটেন্ট রাখা হয় | শ্যামের অভাবনীয় মাইনে বাড়ে | আর পাখিটাকে এমন সুন্দর বাসা দেওয়া হয় যা কোনও পাখি কোন ছাড়া, কোনও মানুষ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি |

নতুন উদ্যমে সার্কাস কোম্পনির শো সাজান হয় | প্রশংসার বন্যা‚ বাঁধভাঙা দর্শক সমাগম, অভূতপূর্ব ডিভিডেন্ড পে আউট | আর আমাদের পাখিটাও ক্রমশ বাকি সব শিখে যায় — প্রয়োজন, অবসর, ছুটি, খুশি, প্রশংসা আর সব কিছুর বিনিময়ে টাকা | শ্যামকে আর ওপরওলাকে ধন্যবাদ দেয় ওকে এসব কিছু উপভোগ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য | যখনই দরকার হত ও ওর পেখম আরও বড় করে মেলে ধরত, যখনই বাজনা শুরু হত ও ওর পাখনা নাচাতে শুরু করত, আর এও একদিন বুঝতে শিখল এখানে এটাই ওর করার, অন্ততঃ যতদিন অবধি ও মঞ্চে আছে |

এরপর একদিন এল যখন ও ক্লান্ত হতে শুরু করল | ও আরও লম্বা ছুটি চাইতে শিখল, ওর সৌন্দর্যের নতুনতর প্রয়োগ দাবী করতে শিখল | একান্তভাবে নিজের জন্য জায়গা চাইতে শিখল | শুধুমাত্র একটা সৌন্দর্য থেকে কবে কিভাবে জানি সুন্দর হয়ে উঠল | এবং নিজের অজান্তেই শ্যামের খোঁজ করতে লাগল |

শ্যাম ওর নতুন কাজ সেরে ফিরে এলে পর একদিন ওদের দেখা হল | এবং শ্যাম ওদের প্রথম দেখার মতই মিষ্টি করে হেসে বলল, ‘হাই হ্যান্ডসাম! কি খবর্?’ এবার বেরিয়ে শ্যাম যোগাড় করে এনেছে একটা দূর্লভ হালকা সবুজ পাতা‚ সাদা ডাল আর নীল আর পিচ রঙ মেশানো ফুলের গাছ |

— আমার আর ভাল লাগছে না শ্যাম! তোমাদের ওই বস্তাপচা বাজনার সঙ্গে সঙ্গে ডানা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি!

— আমাদের বাজনা নয় বস, সবই তাঁর্ | তিনিই আমাদের বেহালা দিয়েছেন, কান দিয়েছেন, সুরকার দিয়েছেন | শ্যাম সামান্য একটু কাঁধ শ্রাগ করে, বলে ডানা নাড়াব না নাড়াব না সেটা আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে |

পাখি এতদিনে শ্যামের দেওয়া কথামতো প্রয়োজন, অবসর, ছুটি, খুশি, প্রশংসার পাশাপাশি যুক্তি-তক্কো, মেনে নেওয়া – না নেওয়াও শিখে গ্যাছে |

ডানা নাড়াব না নাড়াব না তা নিয়ে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া করার জন্য নতুন পাখি অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি নেয় |

সার্কাস কোম্পানিও ওর স্বেচ্ছা নির্বাসনে বিশেষ আপত্তি করে না | ও অনেক ব্যবসা দিয়েছে গত দু-তিন বছরে | একটা ব্রেক সবারই দরকার, শুধু অন্য কোনও কোম্পানিতে না গেলেই হল | ওদের বাজনাদার স্যাক্সোফোনে একটা দারুণ কাজ করেছে, নতুন নীল-পিচ ফুলটার সঙ্গে ভীষণ যাচ্ছে | কোম্পানির এম ডি বললেন, শ্যাম, সত্যি তোমার জবাব নেই!

শ্যাম ছোট্ট একটা শ্বাস ফেলল, একবার যেন বা মুখ না তুলেও ওপরওলাকে দেখে নিল | কারণ ও জানে ও লা-জবাব নয়, শুধু এবারটাও ওর ওপরওলা ওকে জিতিয়ে দিয়েছে |

কিন্তু ও এম ডি-র কথার আপত্তিও করে না |

অন্যদের বিভ্রান্ত করারই বা কি দরকার?

নতুন সমাচার ২

দম্পতি ও কফিঅলা

ওরা সদ্য বিবাহিত, পরস্পরের কাছে অন্ততঃ এতটা পরিচিত নয় যে পরিচিত লোকজন আর ছোটবেলা থেকে চেনা পরিবেশের বাইরে দুজনে মিলে কয়েকদিনের জন্য ঘুরতে যাবে বা এক ছাদের নীচে নির্দ্বিধায় রাত কাটাবে | ওদের মধ্যে একজন ওদের বিয়ে ঠিক হবার সময় থেকেই এরকম কিছুর জন্য তৈরি ছিল, মনের মানুষটার সাথে যে যে ভাবে থাকতে চেয়েছে সেভাবে থাকতে পারবে ভেবেই পুলকিত | আরেকজন যখন যেমন তখন তেমনের জন্য প্রস্তুত ছিল, যেমন জন্মের সময় বাবা-মা হাসিমুখে নবজাতককে মেনে নেন |

জানলার পাশে মুখোমুখি দুটো সিটে বসে ওরা যাচ্ছিল | কাছাকাছির একটা পরিচিত বেড়াবার জায়গায়, মধুচন্দ্রিমায়, অজানা প্রাপ্তির আশায় | পরস্পরের প্রতি চোরাচাহনি, সুযোগ আসলেই আড়ষ্ট ভাবে ছুঁয়ে যাওয়া, নবদম্পতি হিসাবে সহযাত্রীদের চোখে চিহ্ণিত না হওয়ার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে তড়িতাহত হওয়ায় ওরা তখন বিভোর |

প্রথার দেবতা ভীষণ খুশি হন আরেক জোড়া মানুষের বিয়ে দেখে | সৃষ্টির রহস্য বুঝতে গেলে তোমাদের বিয়ে করতে হবে, করতেই হবে | উনি খুশি হয়ে নবদম্পতিকে যখন চাই তখন একটা ইচ্ছেপূরণের বর দেন |

আর আছেন প্রথা ভাঙার দেবী | বিয়ে করলে মানেই যে তোমরা সৃষ্টির উৎসবে অংশে নিলে তা নয়, তুমি শুধু একটা বৃত্ত-ঘূর্ণির জগতে ঢুকে পড়লে মাত্র | এই দেবী কোনও বর-টরের ধার ধারেন না; যোগ্যতা মতন জিতে নাও তোমার পাওনা |

এই দুই দেব-দেবী একই সঙ্গে থাকেন | প্রথার দেবতা জানেন উনিই ঠিক, আর প্রথা ভাঙার দেবী মানেন উনি অনিবার্য | আর দুজনেই নিজের নিজের মাপকাঠিতে ফেলে, বিচার করে জীবনের শেষে আমাদের বিজয়ের স্বান্তনা পুরস্কার দেন |

ও দিকে বর পেয়ে তো নবদম্পতি মহা খুশি! মেয়েটি জানলা দিয়ে কিছুক্ষণ আগে একটা জঙ্গলের মধ্যে একটা পরিত্যক্ত মন্দির দেখেছিল | ওর খুব ইচ্ছে হয় ওর সামনে বসা এই লোকটার সাথেই ওই ভাঙা মন্দিরটায় ওর আবার বিয়ে হোক, ওরা দুজনে মন্দিরের পেছনের জঙ্গলের অনর্গল আড়ালে দুজনের শরীর চিনবে নতুন করে | ওর সামনে বসে থাকা মানুষটা, ওর মেলায় কেনা সাধের বুড়ির চুল, নিমেষে ফুরিয়ে যাওয়া মন না ভরা একটা লোভ, ঠোঁটে লেগে থাকা একটা আঠালো মিষ্টতা |

আর বর পেয়ে ছেলেটার মনে হয় ও-ও যদি একটু আগে দেখা দুটো রেল লাইন মেশার মাঝখানের সবুজ ঘাসের মজাদার ঢাল বেয়ে নামতে থাকা ভেড়ার পালের সঙ্গে মিশে যেতে পারত! পাহাড়ি নদীর মতো! আরও মনে হয়, এই মেয়েটাও যদি ওর সাথে থাকত ভেড়ার পালে! যদি মেয়েটাও জানতে পারত জীবন আসলে নিজেই কতটা উপভোগ্য!

সব দেখে-জেনে দেবী দীর্ঘশ্বাস ফ্যালেন | প্রথামাফিকভাবে তুমি কখনোই সবাইকে খুশি করতে পারো না! বড় জোর একটা ইচ্ছের বাতাবরণ আর তা পূরণের সম্ভাবনার আভাস দিতে পার মাত্র |

দেবতা তর্কে যান না | আসলে তর্কের চেষ্টাই করেন না | সবাই জানে প্রবলতম ইচ্ছে পূরণ হবেই, আর দূর্বল ইচ্ছেগুলোর ক্ষেত্রে বলা হবে, সামনের বার ঠিক হবে, দেখো!

হঠাৎ ট্রেন থেমে যায় | কোনও স্টেশন নেই কিচ্ছু না; এক কফি-চা অলা কে জানে কোথা থেকে কামরায় উদয় হয় আর ভীষণ অন্তরঙ্গ গলায় বলতে আরম্ভ করে, “গরম গরম কফি – , কড়া-মিঠে চা—-“, প্রায় সবাই খুশি হয়ে চা-কফি চেয়ে হঠাৎ করে ট্রেন থেমে যাবার কারণ জানতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে |

মেয়েটি সবার অলক্ষে ট্রেন থেকে নেমে ভাঙা মন্দিরটার দিকে দ্রুত পায়ে দু-পাঁচ পা হাঁটতে না হাঁটতে দৌড়তে শুরু করে | আর দৌড়তে দৌড়তে পেছন ফিরে তারস্বরে বিড়বিড় করে ওর স্বামীকে ডাকতে থাকে, আমার সাথে এসো, প্লিজ, আর ফিসফিস করে বলতে থাকে তোমার দুটি পায়ে পড়ি!

ছেলেটা শুনতে পায় না | সত্যি বলতে কি মেয়েটাকে ‘চা না কফি’ সাধতে গিয়ে ও দেখল মেয়েটা তার জায়গায় নেই | ‘আপনারা কেউ দেখেছেন আমার স্ত্রীকে?’, ও সহযাত্রীদের জিজ্ঞাসা করে |

কেউই কিছু বলতে পারে না | ‘দেখুন টয়লেটে হয়তো’ গোছের উত্তরে থেমে যায় তাদের প্রতিক্রিয়া | -‘উনি নেমে ওদিকে গেছেন’, কফিঅলা চোখ টিপে লোকটিকে ট্রেনের পিছন দিকে ইশারা করে |

কি হয়েছে বুঝতে না পেরে ছেলেটিও তাড়াতাড়ি কোনওরকমে ট্রেন থেকে নেমে পড়ে | গত কয়েকদিনের মধুর স্মৃতি ঝলমলিয়ে মেয়েটার উজ্জ্বল পোশাক মনে হয় যেন ছেলেটার কয়েক হাত সামনে থেকে মিলিয়ে মিলিয়ে যায় |

‘তুমি কোথায়-য়-য়-য়! আমার কথা শুনতে পাচ্ছ-ও-ও! বলে ছেলেটা চেঁচাতে থাকে আর কফিঅলার দেখান পথে পাগলের মতো হন্তদন্ত হাঁটতে থাকে |

মেয়েটা বেশ কিছুটা দৌড়োনোর পরে ভগ্নদশা মন্দিরটায় গিয়ে পৌঁছায়, বোধহয় কয়েক দশক ধরে কেউ মন্দিরটার ছায়াও মাড়ায় নি | ভেঙে পড় কাঠামো-খিলানের মধ্যে অসংখ্য চেনা অচেনা মূর্তির স্তূপের সামনে মেয়েটা চোখ বুজে বসে পড়ে | কোনটা বিগ্রহ আর কোনটা রেখে যাওয়া বিসর্জিত মূর্তি তা খেয়াল করা মেয়েটির কাছে অবান্তর | বুকের ঢিপঢিপানি ক্রমে দামামার অনুভূতিতে পরিণত হয় | শুরু হয় ছেলেটার জন্য প্রতীক্ষা |

আর ছেলেটা, ততক্ষণে মেয়েটাকে দেখতে পাবার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছে | চা-কফিঅলার ইশারার ট্রেনের পেছন দিকটায় দৌড়তে দৌড়তে একসময় ট্রেনটা শেষ হয়ে যায় | এবার? দু পাশে ধূ ধূ’র পর ধূ ধূ, তারপর বিক্ষিপ্ত লোকালয় | অনিশ্চিত, ট্রেন লাইন ধরে হাঁটতে থাকে লোকটা | আর হাঁটতে হাঁটতেই এক সময় দুই রেললাইনের মাঝের সেই সবুজ ঢালটায় পৌঁছে যায়, ভেড়ার পালটাকে ঢাল বেয়ে নামতে দ্যাখে | আর তখনই আবার মেয়েটার নাম ধরে ডেকে বলে, তুমি যেখানেই থাকো, আমি আমার সব বোধ এবং অনুভূতি নিয়ে তোমার জন্য এখানে, এদের সাথে অপেক্ষা করব |

ওদের দুজনেই বহু বছর অপেক্ষা করে | এবং একটা সময় আসে যখন দুজনেই পরস্পরকে পাবার আশা ছেড়ে দেয়, আর শ্লথ মনে পা টেনে টেনে ট্রেনের দিকে ফিরে আসে | আর কামরায় উঠে দুজন দুজনকে খুঁজে পায় | ক্রমাগত কান্না, আনন্দ, দোষারোপ, স্বান্তনা, আশ্লেষ আর আদরে তখন ওদের পাগল পাগল অবস্থা |

দেবী মুচকি হাসেন | সমাপ্ত | ইচ্ছে কখনো পূরণ হয় না, আমরা যা পাই, তাই আমাদের ইচ্ছে ছিল বলে মেনে নিই |

দেবতাও হাসেন | দেখলে তো, সত্যি সত্যি কিছু চাইলে তা পাবেই পাবে |

–“গরম গরম কফি—, কড়া-মিঠে চা—“, কফিঅলা হেঁকে যায় | “তাড়াতাড়ি করুন দাদা, নেমে যাব, সিগন্যাল হয়ে গ্যাছে, ট্রেন ছেড়ে দেবে; হুইসল মারছে” |

সবাই পয়সা দিয়ে দেয় |

আর নবদম্পতি মগ্ন হয়ে দ্যাখে কি ভাবে লোকটা চলন্ত ট্রেন থেকে মসৃণ ভাবে নেমে ওদের একটা মিষ্টি হাসি আর রাজেশ খান্নার মতো চোখ টেপা দিয়ে হাওয়ায় দুলতে থাকা ফসলের ক্ষেতে মিলিয়ে যায় |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.