মাত্র ১৪ বছর বয়সে ঋষি কপূরের প্রেমে পড়েন নীতু সিং | ঋষি তখন একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা | অন্যদিকে নীতু তখন সবে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ আরম্ভ করেছেন | ওঁদের রুপোলি পর্দায় প্রথম একসঙ্গে দেখা যায় ১৯৭৪ এর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি জহরিলা ইনসান ‘-এ |

Banglalive

এই সুন্দর জুটির জন্য কিন্তু লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট ছিল না | চিন্টু মানে ঋষি মাঝে মাঝেই নীতুকে ছবির সেটে জ্বালাতন করতেন | নীতু হয়তো মেক আপ শেষ করে পরবর্তী দৃশ্যের জন্য নিজের ডায়লগ মুখস্থ করছেন‚ ঋষি সেই সময় চুপি চুপি এসে নীতুর সারা মুখে কাজল ঘষে দিলেন | বলা যেতে পারে একেবারে ফিল্মি স্টাইলে নীতু সেই সুপুরুষ যুবকের প্রেমে পড়লেন যে তাঁকে সব সময় জ্বালাতন করত | অন্যদিকে ঋষিও নীতুর প্রেমে পড়লেন |

মা রাজী সিং এর সঙ্গে নীতু সিং

কিন্তু নীতুর মা রাজী ওঁদের সম্পর্কে খুশি ছিলেন না | নীতুর মাত্র ১৪ বছর বয়স‚ তখনো সেরকম প্রতিষ্ঠাও পাননি‚ এইসব কারণে চিন্তিত ছিলেন উনি | নীতু আর ঋষির সম্পর্কের কথা যাতে জানাজানি না হয় তাই ওঁরা যখনি ডেটে যেতেন‚ ওঁদের সঙ্গে উনি নীতুর তুতো ভাইকে পাঠাতেন |

কয়েকবছর প্রেম করার পর ঋষি নীতুকে বিয়ের জন্য প্রপোজ করেন | এতে নীতুর মা রাজী দারুণ খুশি হন | কিন্তু নীতু এতে সম্মতি দিতে পারছিলেন না | কারণ ওঁর টাকাতেই সংসার চলতো‚ এবং উনি চাইছিলেন না ওঁর মা কে এই অবস্থায় একা ছেড়ে আসতে | ঋষি অবশ্য মুহূর্তে সমস্যার সমাধান করে দিলেন | উনি বিয়ের পর নীতুর মা রাজীকে ওঁদের সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ দিলেন |

ঋষি-নীতুর এনগেজমেন্টের কথাও বেশ ফিল্মি স্টাইলে জানা যায় | দিল্লিতে ঋষির পরিবার একটা বিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলেন | সেখানে হঠাৎ ওঁরা সিদ্ধান্ত নেন ওই মুহূর্তে ঋষি আর নীতুর এনগেজমেন্টের কথা সবাইকে জানাবেন | এই আকস্মিক অ্যানাউন্সমেন্টে নীতু এতটাই ঘাবড়ে যান যে ঋষিকে ওঁকে মদ খাইয়ে শান্ত করতে হয় | এর কিছুদিন বাদে ১৯৮০ সালের ২২ জানুয়ারি ওঁদের বিয়ে হয়ে যায় |

কপূর খানদানের রীতি অনুযায়ী বিয়ের পর নীতুকে অভিনয় ছেড়ে গৃহবধু হতে হলো | উনি তাই করলেন | বিয়ের আগে বেশ কয়েকটা ছবি সই করেছিলেন উনি | সেইসব ছবি এবং সাইনিং অ্যামাউন্ট ফিরিয়ে দিলেন | অনেকেই বলেন যে  এই সময় নীতুকে জোর করে কপূর বংশের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয় | কিন্তু নীতু জানান উনি নিজের ইচ্ছায় এমনটা করেছেন |

৯-এর দশকের শেষ দিকে শোনা যায় ঋষি কপূর একজন মদ্যপে পরিণত হয়েছেন | এও শোনা যায় নীতু নাকি ওঁর বিরুদ্ধে বধু নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেছেন | আরো শোনা যায় এই কারণে নাকি নীতু ঘর ছেড়ে চলে গেছেন | পরে অবশ্য নীতু আবার ওঁর স্বামী আর বাচ্চাদের কছে ফিরে যান |

পরে একটা সাক্ষাৎকারে এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নীতু বলেন সব দম্পতিদের জীবনেই এমন একটা সময় আসে যখন দুজনের মতের মিল হয় না | আমার আর ঋষির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে | এটা বাইরের লোক বুঝবে না | আর এর সমাধান শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীই করতে পারবে | সৌভাগ্যবশত আমরা আমাদের সমস্যা মিটিয়ে ফেলতে পেরেছি | এখন সব ঠিক আছে | 

ঋষি আর নীতু রুপোলি পর্দায় আবার ফিরে আসেন ৩০ বছর পর লাভ আজ কাল ছবিতে | এছাড়াও ওঁদের দেখা গেছে দো দুনি চার আর বেশরম ছবিতে | ওঁদের মেয়ে ঋদ্ধিমা একজন সফল ফ্যাশন ডিজাইনার | ওঁর ২০০৬ সালে দিল্লির ব্যবসায়ী ভরত সাহানির সঙ্গে বিয়ে হয় | অন্যদিকে ওঁদের ছেলে রণবীর কপূর এই মুহূর্তে বি-টাউনের অন্যতম হটেস্ট অ্যাকটরদের মধ্যে একজন | ঋষি-নীতুর দাম্পত্য জীবন ভালোয় মন্দয় বেশ কেটে যাচ্ছে |

 

আরও পড়ুন:  কাচতে গিয়ে সাদা পোশাকে রঙ লাগিয়ে ফেলায় পরিচারিকার গায়ে হাত তুললেন কিম শর্মা

NO COMMENTS