দেহদানের শপথে ‘ঋতু’ পরিবর্তন

মৃত্যু | এই ছোট্ট শব্দে লুকিয়ে আছে আজীবনের জিজ্ঞাসা | ‘দেহপট সনে নট সকলই হারায়’…এ সত্য জেনেও আমরা মানতে পারিনা | আর সেই মৃত্যু নিয়েই স্থির অবিচল সঙ্কল্প নিয়ে ফেললেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত | বলা ভাল তাঁর এ সিদ্ধান্ত মৃত্যু পরবর্তী সময়ের | সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার এক প্রেক্ষাগৃহে মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারপত্রে সই করেন ঋতুপর্ণা | স্নিগ্ধতার প্রতিমূর্তি ঋতু এভাবেই ধরা দিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় | মরণোত্তর দেহদানে আগ্রহী হতে আহ্বান জানালেন গোটা সমাজকে |

“যে সভাঘরে আমি দাঁড়িয়ে আছি, এর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে | পাশেই আমার স্কুল, গোখেল গার্লস | স্কুলে পড়ার সময়ে এখানে অনেক অনুষ্ঠান করেছি | আজ সেখানেই জীবনের এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পেরে খুব আনন্দ হচ্ছে”| শান্তভাবে জানালেন ঋতুপর্ণা |বরাভয় দিলেন সকলকে |
মৃত্যুর পরেও প্রাণ থেকে প্রাণে থেকে যাওয়ার আকাঙ্খায় কি এই সিদ্ধান্ত? “আমি সব সময়ে আমার জীবনকে ইউটিলাইজ করতে চেয়েছি | আমার কাজ যেন আমার মৃত্যুর সঙ্গেই শেষ না হয়ে যায় | এটাই আমার চাওয়া” | অকপট জানালেন টলিসম্রাজ্ঞী |

জড়িয়ে-জাপটে বেঁচে থাকার পর ‘আমার আমিটা’কে দান করাতে তবে এত আপত্তি কেন আমাদের? ঋতুর কথায়, “আসলে ব্যাপারটা খুব সায়েন্টিফিক | আমার ছোট পিসেমশাই ড. কল্যাণময় সেন অনেক ছোটবেলাতেই এই ব্যাপারটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন | তখন থেকেই আমি এই ব্যাপারে ভীষণ রকম ইন্সপায়ার্ড | কনফিডেন্টও বলতে পারেন | শুধু সইটা বাকি ছিল”|

সভায় উপস্থিত সুধীজনদের অনেকেই এ বিষয়ে একমত | বর্ষীয়ান কবি শঙ্খ ঘোষও মরণোত্তর দেহদানের ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন | জানালেন, মানুষের সামাজিক সংস্কার তো থাকেই | সকলের পক্ষে মরণোত্তর দেহদান করা সম্ভব হয় না |কেউ আবার সঠিক তথ্যের অভাবে, কোথায় যোগাযোগ করবেন, কিভাবে কাজটা এগোবে, তা জানতে না পেরে কাজটা করে উঠতে পারেন না | এছাড়া পরিবারের তরফ থেকে বাধা তো আসেই | কিন্তু এই ধরনের সঙ্কল্প আমাদের সমাজের পক্ষেই মঙ্গল”|

যে সংস্থার হয়ে মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করলেন ঋতু, দেবদূত ঘোষ সেই সংস্থার তরফে জনসচেতনতার লক্ষ্যে তৈরি করেছেন একটি তথ্যচিত্রও, ‘প্রাণ থেকে প্রাণে’ | জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যপারে যাওয়ার এ এক অনন্ত যাত্রা | ঋতু-পরিবর্তনের এ যেন এক মহা আখ্যান |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here