আর নেই ভয়, বয়স্করাও শীতকে করুন জমিয়ে ENJOY!!

1794

শীত মানে পাতা খসা, শীত মানে রুখু ত্বক, শীত মানে জবুথবু, শীত চুলোর দোরে যাক…

শীত ১৮-র কাছে যতটাই উপভোগ্য, ৬৮-র কাছে ততটাই আপদ-বালাই| কেন? কেন আবার!! এই  মরশুম এলেই গাঁটে, গাঁটে যন্ত্রণা, বুকে কফ জমে সাই-সাই শব্দ, নিউমোনিয়া, হাঁপানি—আরো শত-সহস্র রোগের ফিরিস্তি| এর পরেও বলবেন শীত সিনিয়র সিটিজেনদের? কেন নয়! ঋতুটিকে সত্যি উপভোগ করতে চাইলে কিছু নিয়ম মানুন| শীত আপনার বশে থাকতে বাধ্য—

রোগের ফিরিস্তি

১. ঠান্ডা আবহাওয়ায় শ্বাসনালী আর ফুসফুসে সংক্রমণজনিত রোগ বেশি হয়| যেমন, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া ইত্যাদি|

২. বাত বা আরথ্রাইটিসের ব্যথা বাড়ে|

৩. হৃদরোগ বা হাই ব্লাড প্রেসার থাকলে তার সমস্যাও দেখা দেয়|

৪. ত্বকের সমস্যা যেমন এলার্জি, চুলকানি, Rash বাড়াবাড়ি রকমের বেড়ে যায়|

৫. শীতে কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়ে|

৬. অতিরিক্ত ঠান্ডার মোকাবিলা করতে না পারলে হাইপোথারমিয়া-র মতো ভয়ানক অবস্থা তৈরি হতে পারে|

সমস্যা ও সমাধান

হাইপোথারমিয়া: শীতে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা আচমকা কমে গেলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গ যেমন, মস্তিষ্ক, হৃদয়, ফুসফুস-এর কাজ বন্ধ হয়ে যায়| এটাই হাইপোথারমিয়া| সঙ্গে বিভিন্ন পেশিতে টান ধরে| রোগী জ্ঞান হারাতেও পারেন| জীবন বাঁচাতে প্রথমেই শরীরের তাপ বাড়াতে হবে ঢিলেঢালা কিন্তু গরম পোশাক পরিয়ে| জ্ঞান থাকলে গরম পানীয় খাওয়াতে হবে| শীত প্রধান অঞ্চলে ঘরে রুম হিটের রাখতে হবে| শরীর গরম থাকলে দেখবেন বয়স্কদেরও ফুর্তির প্রাণ গড়ের মাঠ!

অ্যালার্জি: এই সময় জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে গিয়ে বাতাস খুব রুক্ষ হয়ে পড়ে| বাতাসে ধুলিকণার পরিমাণ বাড়ে| এই ধুলিকণা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে অ্যালার্জির সৃষ্টি করে| অ্যালার্জি হলে শ্বাসনালী সংকুচিত হয়ে পড়ে| এতে প্রথমে শ্লেষ্মা বাড়ে| হাঁচি-কাশি শুরু হয়| অ্যালার্জির প্রদাহ ফুসফুসে পৌঁছলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়| সমস্যা এড়াতে কুয়াশা এড়িয়ে চলুন| দরকারে মুখ ঢেকে নিন পলিউশন গার্ড মাস্ক-এ|

ব্রংকাইটিস: এই রোগে সকালের দিকে একটানা কাশি হয়| কাশির সঙ্গে শ্লেষ্মা থাকে| অতিরিক্ত কাশি হলে অনেক সময় রক্ত পড়ে| রোগ এড়াতে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে রাত আর একদম ভোরে রাস্তায় থাকা চলবে না| এতে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা তুলনায় কম থাকবে| রোগী বেশি অসুস্থ হলে নেবুলাইজার, ইনহেলার বা অক্সিজেন দিতে হতে পারে|

বাত: এমনিতেই শীতে শরীরের অস্থিসন্ধি আড়ষ্ট হয়ে পড়ে| স্বাভাবিক সচলতা হারিয়ে ফেলে| ফলাফল, শরীর জুড়ে ব্যথা| অস্টিওপোরেসিস, অস্টিওআর্থাইটিস বা ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থেকে গাঁটে ব্যথা, হাঁটু, কোমরে ব্যথা বাড়তে পারে। এই সময়ে বয়স্ক মানুষদের একটা সাধারণ সমস্যা হল পা অবশ হয়ে পড়ে যাওয়া। আবার হাঁটাচলা একেবারে বন্ধ করে দিলে শরীরের অস্থিসন্ধি আড়ষ্ট হয়ে পড়বে আরও বেশি। তাই হাঁটাচলা করতে হবে। পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে লাঠি বা কারোর হাত ধরে  হাঁটতে হবে। কেউ যদি পাশে থাকেন, তাহলে আরও ভাল। পাশাপাশি ব্যায়ামও করা দরকার। বয়স্ক মানুষদের হাড়ে ক্যালসিয়াম কম থাকে। তাই পড়ে গেলে হাড়ে চিড় ধরা বা হাড় ভেঙে যাওয়ার ভয় থেকেই যায়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ খেতে হবে।

অন্যান্য সমস্যা: অতিরিক্ত ঠান্ডায় রক্তের ধমনীগুলি সঙ্কুচিত হয়। তাই রক্ত়চাপে তারতম্য হতে পারে। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এই সময়ে নিয়মিত প্রেসার পরীক্ষা করা উচিত। শীতের আমেজে তেলেভাজা, চর্বিজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া হয়। এ ধরনের খাবারে সমস্যা বাড়তে পারে। বরং মরসুমি শাক, আনাজ, ফল খেলে অনেকটাই ভাল থাকা যায়। নিয়মিত স্যালাড খাওয়া উচিত। যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাঁদের এই সময়ে প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে। ইসবগুলের ভুসি বা তন্তু বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, যেমন— পাকা বেল, বেলের মোরব্বা খুব উপকারী।

ত্বকের সমস্যা: এমনিতেই বয়স বাড়লে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা আলগা হয়ে যায়. এবং টানটান থাকার বদলে হাত-পা-মুখের চামড়া ঝুলে পড়ে| তার উপর শীতে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হয়ে ভাঁজ পড়ে বেশি। হাতের তালু, পায়ের তলা ফেটে যায়। এর দাওয়াই নিয়মিত ক্রিম, ভেসলিন, নারকেল তেল ব্যবহার।

তাজা ঘরোয়া টোটকা: বেশি বয়সে দেশি চিকিৎসা বা ঘরোয়া টোটকা খুব ভালো| পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় রোগী সুস্থ হন তাড়াতাড়ি| যেমন, মধু, তুলসী পাতা, তেজপাতা, মিছরি, গোলমরিচ, লবঙ্গ, আদা দিয়ে তৈরি ‘ক্বাথ’ খেলে কাশিতে আরাম মেলে। নিয়মিত মধু খাওয়া যেতে পারে। মধু শরীরকে যেমন গরম রাখে তেমনই প্রচুর শর্করা থাকায় তাৎক্ষণিক শক্তি বর্ধক হিসাবেও উপযোগী। কিন্তু ডায়াবেটিসের সমস্যায় মধু খাওয়া যাবে না। এ ছাড়া চ্যবনপ্রাশও খেতে পারেন। তবে বাড়াবাড়ি হলে কিন্তু ডাক্তারবাবুর পরামর্শ ছাড়া গতি নেই |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.