সাগর আই লাভ ইউ (পর্ব ২৫)

ছবি - দেবব্রত ঘোষ

শক্তি চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ফুটপাথ বদল হয় মধ্যরাতে। আমি ফুটপাথ বদল করলাম দুপুরবেলা। 
ফুটপাথ বদল মানে শুধু ফুটপাথ বদল নয়,মানুষও বদল করলাম। এতক্ষন ছিলাম বড়লোকদের চক্করে। এবার যাব যাদের টাকাপয়সা নেই তাদের কাছে। বড়লোকরা নানা যুক্তি দেখিয়ে আমার ফেরত দিতে চাওয়া টাকা প্রত্যাখান করেছে। দরিদ্র মানুষ তা করতে পারবে না। ‘‌মহান’‌ সাজবার ক্ষমতা তাদের নেই। টাকা তাদের লাগে। তাদের কাছে, ‘‌টাকা,মোরে তুমি করেছো মহান।’‌
আমি লাফ দিয়ে সেমি চলন্ত একটা বাসে উঠে পড়লাম। বালিগঞ্জ স্টেশনে যাব। সিটও পেয়ে গেলাম। বসলাম আরাম করে। বাসে আরাম করে বসে জানলা দিয়ে পাশে চলা প্রাইভেট গাড়ির দিকে তাকালে মনে এক ধরনের তৃপ্তি হয়। অক্ষমের তৃপ্তি। গাড়িতে চড়া লোকদের বোকা মনে হয়। কয়েক লাখ টাকা খসিয়ে তবে একটা বসবার জায়গা পেয়েছে বেচারি। আমি পেয়ে গেলাম মাত্র কয়েক টাকায়। অথচ আমরা দুজনেই একপথে যাচ্ছি,এক দৃশ্য দেখছি,এক সিগন্যালে আটকাচ্ছি। অনেকে বিদ্রুপ করে বলে,‌আমাদের দেশে গরিব হওয়াটা অহংকারের। অন্য দেশে কেউ গাড়ি চললে পথে হাঁটা মানুষ ভাবে,আমিও কবে গাড়ি কিনব। আমিও কবে গাড়ি চড়ব। এখানে ভাবে,গাড়ি চড়ে বড়লোকেরা। বেটা বদমাইশ। পান থেকে চুন খসলেই বেটাকে মারো। আমি এমন ভাবি না। আমার গাড়ির ওপর কোনও রাগ নেই। আবার হেদিয়ে পড়া আদিখ্যেতাও নেই। 
কলকাতার বাস দুরকম। খুনী বাস এবং ঘুমপাড়ানি বাস। হয় তারা পাঁই পাঁই করে ছুটে মানুষের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে,নয় ঢিকিঢিকি চালে চলে যাত্রীদের ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি ঘুমপাড়ানি বাস পেয়েছি। দুপুরে যাত্রী নেই,তার কোনও তাড়াও নেই। আগুপিছু কোনও বাস নেই যে টপকাতে হবে। তাই সে চলেছে ঝিমোতে ঝিমোতো। তার চলার মধ্যে একটা মায়াভরা,ঘুম পাড়ানো ভঙ্গি আছে। ইঞ্জিনের ভ্যাস ভ্যাস আওয়াজ যেন লোরি। মনে হয়,ফর্টি ফোর বাই টু রুটের বাস গাইছে— ‘‌নান্‌ না নান্‌ না লোরি, দুধ কী কাটৌরি\‌ দুধ মে বাতাসা, মুন্নি করে তামাশা’। জীবন যুদ্ধে ক্নান্ত,ঘর্মাক্ত,রিক্ত কলকাতার মানুষ পরম ভরসায় বাস মায়ের কোলে বসে ঘুমোতে ঘুমোতে চলেছে। 
 আমি ঘুমোলাম না, চোখ বুঁজে মনফোনে রেবাকে ধরলাম।
‘‌‌রেবা,কেমন আছো?‌’‌
রেবা বলল,‘‌কী ব্যাপার সাগর?‌ এরকম উদ্ভট সময় ফোন করেছো কেন?‌’‌
‘‌রেবা,আমি একটা উদ্ভট কাজে বেরিয়েছি।’‌
রেবা বলল,‘খানিক আগেই তো বললে ফ্লাইওভার না কোথা থেকে ‌টাকা ওড়াবে। উড়িয়েছো?‌‌’‌
আমি বললাম,‘‌না ওড়াতে ঠিক নয়,এক ধরনের পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে চলেছি। আমার পকেটে টাকা,পেটে খিদে। আমি দু’‌জনকে আলাদা করতে চাইছি।’‌
রেবা তু্ছ হেসে বলল,‌‘এটা পরীক্ষা না পাগলামি ‌সাগর?‌’‌
আমি বললাম,‘‌পরীক্ষা এবং পাগলামি দুটোই। যাবতীয় পরীক্ষাই আসলে পাগলামি। এমন কোনও আবিস্কারককে তুমি দেখাতে পারবে, যে পাগল নয়?‌  সে দেশ‌ আবিস্কারই বল,এরোপ্লেন আবিষ্কারই বল, কুইনাইন আবিষ্কারই বল। এই যে তুমি আমাকে তোমার মনের ভিতর থেকে আবিষ্কার করেছ,তাও তো এক ধরনের পাগলামি। নয় কি?‌’‌
রেবা বলল,‘‌বাজে কথা ছাড়। তোমার এই পরীক্ষার কারণ জানতে পারি?‌’‌
আমি বললাম,‘‌তেমন জোরাল কারণ কিছু নেই। সভ্যতার কঠিন একটি রহস্য নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করছি বলতে পার। অমীমাংসিত রহস্য। যাকে বলা যায় আনসলভড্‌ মিস্ট্রি। অর্থ এবং খিদের পারস্পরিক সম্পর্ক আজও কেউ স্পষ্ট করতে পারেনি।’‌
রেবা আমাকে কথার মাঝখানে থামিয়ে বলল,‘‌পরীক্ষা কতদূর এগোল?‌’‌
আমি হেসে বললাম,‘‌ভালই এগোচ্ছে। আমার পকেটে টাকা আবার পেটে খিদে। এ ওর কাছে আসতে চাইছে। ও তার কাছে যেতে চাইছে। আমি আটকে রেখেছি। খিদের এনার্জি আর টাকার ফোর্স নিয়ে খেলা করছি বলতে পারও। তুমি তো আমার মতো মূর্খ নয়,তুমি তো জানো রেবা, ক্লাসিকাল এনার্জিতে ফোর্স ইজ ইকুয়াল টু মাস ইনটু অ্যাক্সিলারেশন। কিন্তু নিউটন বলেছিলেন এখানে অ্যাক্সিলারেশন আসলে একটা ভেক্টর,যে দিক নির্ণয় করে। তাহলে.‌.‌.‌।’‌
রেবা আমাকে আবার থামিয়ে দিল। নিচু গলায় বলল,‘‌সাগর,তুমি আমাদের সম্পর্কের কোনও ফর্মুলা বের করতে পারবে?‌’‌
আমি থতমত খেয়ে বললাম,‘ফর্মুলা দিয়ে ‌কী হবে?‌’‌
রেবা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,‌‘‌তোমাকে বুঝতে পারতাম।’‌
আমি হেসে বললাম,‘‌এ তোমার অভিমানের কথা। ভালবাসার কোনও ফর্মুলা হয় না। তারপরেও যদি জোর কর,আমি চেষ্টা করে দেখতে পারি।’‌
রেবা গাঢ় স্বরে বলল,‌‘‌আমাদের সম্পর্ক কি আদৌ ভালবাসার?‌’‌
আমি চুপ করে রইলাম। রেবা খানিকটা উত্তেজিত হয়ে বলল,‘‌কী হল চুপ করে আছ কেন?‌ কথা বল। জবাব দাও। আমাদের সম্পর্ককে তুমি কী বলবে?‌’‌
আমি এবারও চুপ করে রইলাম। কী উত্তর দেব আমি?‌ আমি তো উত্তর জানি না। সঠিক ভালবাসার সম্পর্ক এমনই হয়। যার কোনও সহজ উত্তর হয় না।  
মনফোনের ওপাশে রেবা ফিসফিস করে বলে,‘‌সাগর তুমি বল, একবার বল,আমি তোমাকে ভালবাসি। সাগর,আই লাভ ইউ।’‌
আমি ফোন কেটে দিই।
বাস বালিগঞ্জে আমাকে নামিয়ে দিল। নামানোর আগে একটা ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটল। কণ্ডাক্টরদাদাকে ভাড়া দিতে গেলে তিনি হাই তুলে বললেন,‘‌ভাড়া লাগবে না।’‌
আমি অবাক হয়ে বললাম,‘‌সেকি!‌ ভাড়া লাগবে না কেন!‌ আমি তো স্টুডেণ্ড নই যে কনসেশন পাব।’‌
 কণ্ডাক্টরদাদা বললেন ‘‌আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি সাগরবাবু। আপনি বোতামকে লেখাপড়া শেখান। আমি বোতামের পিসেমশাই।’‌
এই প্রসঙ্গে বলে রাখি,বোতাম একটি এগারো–‌বছরের অতি বুদ্ধিমান বালক। আমাদের পাড়ার চায়ের দোকানে থাকে। তার মামার দোকান। সেই মামা তাকে খুবই ভালবাসে। তাকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছে। আমি তাকে মাঝে মধ্যে অঙ্ক টঙ্ক দেখিয়ে দিই।
আমি হেসে বললাম,‘‌তাতে কী হয়েছে?‌ বোতামের কি আমাকে মাইনে দেওয়ার ক্ষমতা আছে?‌ আমার কিন্তু বাসভাড়া দেওয়ার উপায় আছে।’‌
কণ্ডাক্টরদাদা বিরক্ত গলায় বললেন,‘‌আমারও আপনার কাছ থেকে ভাড়া না নেওয়ার উপায়। উপায় শুধু আপনার থাকবে,আমার থাকবে না,এ কেমন কথা?‌ এবার নামুন দেখি,বালিগঞ্জ স্টেশন এসে  গেছে।’‌
আমি বাস থেকে নামতে নামতে ভাবতাম, কী অদ্ভুত!‌ আজ বাসভাড়াও দিতে পারছি না!‌
আমি এসেছি কুঞ্জর কাছে। কুঞ্জ বালিগঞ্জ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বসে ভিক্ষে করে। চোখে দেখতে পায় না। বয়স আমারই মতো। ওদিকে গেলে মাঝে মাঝে গল্পগুজব করে আসি। কুঞ্জর সঙ্গে আলাপের ঘটনা খুব অদ্ভুত। একবার বালিগঞ্জ স্টেশনে বিপদে পড়েছিলাম। ট্রেনের টিকিট কাটতে গিয়ে দেখি,পকেটে রাখা একমাত্র কুড়ি টাকার নোটটা ছেঁড়া। কাউন্টারের ছেলেটিকে অনুরোধ করলাম।
‘‌ভাই,আমার কাছে আর টাকা পয়সা কিছু নেই। দেখুন না এটা যদি নিতে পারেন?‌’‌  
সেই ছেলে বলল,‌‘ছেঁড়া নোট নিতে পারি,আপনি যদি ছেঁড়া ট্রেন চড়তে রাজি হন।’‌
আমি অবাক হয়ে বললাম,‌‘‌ছেঁড়া ট্রেন!‌ সেটা কীরকম হবে?‌’‌
ছেলেটি নির্বিকার ভাবে বলল,‘‌এই ধরুন মাঝপথে ট্রেন বাতিল হয়ে গেল।’‌
এরপর আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই। আমি যে হেঁটে যাব তার কোনও উপায় নেই। কারণ স্টেশনে ঢোকবার মুখে গর্তে পা ফেলে মচকে ফেলেছি। হাঁটতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মের আশেপাশে যে খানকতক দোকান ছিল,সেখানেও নোটটার কোনও গতি করতে পারলাম না। উলটে তারা খেদিয়ে দিল। হঠাৎই চোখে পড়লাম কুঞ্জকে। প্ল্যাটফর্মের এক কোনায় বসে আছে। তখনও তার নাম জানি না। আমি তার সামনে গেলাম। ঝুঁকে পড়ে বললাম—
‘‌ভাই,একটা অ‌নুরোধ করতে পারি?‌’‌
কুঞ্জ মুখ নামিয়ে বলল,‘‌তাড়াতাড়ি করেন। ব্যস্ত আছি।’‌
আমি সংসকোচে বললাম,‘‌আমি কি আপনার কাছ থেকে বারোটা টাকা ধার পেতে পারি?‌’‌
কুঞ্জ মাথা নিচু অবস্থায় অবাক গলায় বলল,‘‌আপনি জানেন আমি কে?‌‌’‌
আমি বললাল,‘‌কে জানি না।’‌
‘টাকা কী হিসেবে নেবেন?‌ ভিক্ষা হিসেবে না ধার হিসেবে?‌’‌
আমি বললাম,‘‌অবশ্যই ধার হিসেবে। কাল এসে আপনাকে আমি ফেরত দিয়ে যাব। ভিক্ষা হিসেবেও নিতে পারি। কোনও সমস্যা নেই।’‌
কুঞ্জ মুখ না তুলেই বলল,‘‌আমার পেশা কী আপনি বুঝতে পারছেন?‌’‌
আমি বললাম,‘আপনি পেশায় একজন ভিক্ষুক।’‌
‌কুঞ্জ বলল,‘‌ভিখিরির কাছ থেকে ধার নেওয়ার কথা কি আপনি কখনও শুনেছেন?‌’‌
আমি সামান্য হেসে বললাম,‘‌ভাই,আমরা সকলেই নানা ভাবে ভিক্ষুক। এ কথা আমি বলছি না,দুনিয়ার বড় বড় মানুষরা একথা বলেছেন।’‌
‌কুঞ্জ বলল, ‘‌ও। তা আমাকে আমার পছন্দ হল কেন?‌’‌
আমি বললাম,‘মানুষকে বিশ্বাস করে আপনাকে চলতে হয়। আমার ধারনা, আমার টাকা ফেরত দেওয়ার কথাটা আপনি বিশ্বাস করেছেন। এখানে অন্য কেউ এই বিশ্বাসটুকু করবে না। কারণ তারা ভিক্ষে করলেও মানতে চায় না।’
‌‌কুঞ্জ একটু চুপ করে থেকে বলল,‘‌ঠিক আছে,আপনি বরং আমার চাটাইতে পড়ে থাকা টাকা পয়সা থেকে যতটা দরকার নিয়ে নিন।’
‘‌আপনি নিজের হাতে দিন।’‌
এবার ‌‌কুঞ্জ মুখ তুলল। আমি চমকে উঠলাম। মানুষটা দৃষ্টিহীন। অল্প হেসে বলল,‘‌আমি টাকা পয়সা গুনতে পারি না। মানুষকে অনেক বেশি বিশ্বাস করে চলতে হয় আমাকে।’‌
এরপর থেকেই ‌‌কুঞ্জর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়। পরদিন তার টাকা ফেরত দিতে গিয়ে দুজনে মিলে চা খেলাম। তাকে আগেরদিনের ছেঁড়া টাকার গল্প  বললাম। সে বলল,‘‌আমাকে ওই টাকাটা দিয়ে যান। অন্ধ বলেই অনেকে ছেঁড়া,ফাটাফুটি নোট ফেলে দিয়ে যায়। আমার লোক আছে। বিশ্বাসের লোক। সে নোট বদলে আনে। কমিশন নেয়।’‌
আমি হেসে বলেছিলাম,‘‌দরকার নেই। ও টাকা আমি খরচ করব না।’‌
‌‌কুঞ্জর কাছে তার জীবনের গল্প শুনি। তার বউয়ের পালিয়ে যাওয়ার গল্প শুনি।
সেই ‌‌কুঞ্জর কাছে আজ এসেছি। কিন্তু প্ল্যাটফর্মে ঢুকে চমকে উঠলাম। ‌‌কুঞ্জর পাশে ও কে বসে আছে!‌ একটি মেয়ে। সাজপোশাক বেশ চকচকে। হাঁটু মুড়ে বসে পান সাজছে। কাছে যেতে মেয়েটিকে আরও স্পষ্ট করে দেখতে পেলাম। বেশ একটা ঢলঢলে রূপ আছে। নাকটা বোঁচা হলে কী হবে,চোখদুটো বড়। গায়ের রঙ ফর্সা না হলেও,ফর্সার দিকে। গোলপানা মুখ। ঠোঁটদুটো পানের রাঙা হয়ে আছে। সব মিলিয়ে একটা চটক আছে।
কুঞ্জ আমার পায়ের আওয়াজ শুনে এক গাল বলল,‘‌এসো সাগর। বস। মায়া ওকে চাটাই দাও।’
দ্বিতীয় দিন থেকেই আমার পায়ের আওয়াজ চিনতে পারে কুঞ্জ। কোনও দিন ভুল হয়নি। এই মেয়েটির নামই তাহলে মায়া। ‌‌কুঞ্জর পালিয়ে যাওয়া বউ!‌ মায়া পাশে ভাঁজ করে রাখে একটা চাটাই বের করে দিল। আমি বসলাম।
‘‌সাগর,এই হল মায়া। আমার পরিবার।’
আমি হাত তুলে নমস্কার করলাম। মায়া জিভ কেটে বলল,‘‌ছিছি। আপনে আমাকে নমস্কার করেন কেন সাগরদা!‌‌’‌
মেয়েটির গলার স্বর চিনচিনে।‌ চেহারার সঙ্গে কন্ঠস্বরেও একধরনের চটক আছে।
‌‌কুঞ্জ হেসে বলল,‘‌মায়া তিন বছর পর ফিরে এসেছে।’‌
মায়া নামের মেয়েটি আহ্লাদি গলায় বলল,‘ইস্‌ ‌তিন কেন বলছো?‌ দু’‌বছর আটমাস বল।’‌
‌‌কুঞ্জ গদগদ গলায়,‘‌আচ্ছা বাবা,ভুল হয়েছে,আমায় মাপ কর।’‌
মায়া ঠোঁট থেবড়ে বলল,‘‌আচ্ছা,মাপ করলাম।’
‌কুঞ্জ গলায় হাসি রেখেই বলল,‘‌মায়া,সাগররে পান খাওয়া। বুঝলে ভায়া,পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পানটা মায়াই বানাতে পারে। এখন যদি নবাব বাদশার আমল হত,মায়াকে মাথায় তুলে রাখত। ও চলে যাওয়ার পর ওর জন্য যত না দুঃখ পেয়েছিলাম,ওর পানের জন্য বেশি দুঃখ পেয়েছি।’‌
মায়া গাল ফুলিয়ে বলল,‘‌এই কথা বললে তো?‌’
কুঞ্জ আবার গদগদ গলায়,‘‌আচ্ছা বাবা,ভুল হয়েছে,আমায় মাপ কর।’‌   
আমি বেশ বুঝতে পারছি, এই ভিখিরি দম্পত্তির আহ্লাদ,অভিমান, মাপ চাওয়া এখন চলবে। এখানে আমার থাকা উচিত নয়।

চলবে…

গত পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-24/

২৩ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-23/

২২ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-22/

২১ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-21/

২০ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-20/

১৯ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-19/

১৮ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-18/

১৭ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-17/

১৬ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-16/

১৫ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-15/

১৪ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-14/

১৩পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-13/

১২ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-12/

১১ পর্বের লিংক –  https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-11/

১০ পর্বের লিংক –  https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-10/

৯ম পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-9/

৮ম পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-8/

৭ম পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-7/

৬ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-6/

 
৪র্থ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-guptapart-4/

৩য় পর্বের লিঙ্ক –https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-guptapart-3/

২য় পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/novel-by-prachet-gupta-2/

প্রথম পর্বের লিংক – https://banglalive.com/novel-by-prachet-gupta/

Advertisements
Previous articleরবিজীবনে জার্মান শিক্ষিকা, যে রমণীর নাম কোনওদিনও আসেনি প্রকাশ্যে
Next articleকেতজেল পাখি (দ্রোহজ ২) পর্ব ২
প্রচেত গুপ্ত
জন্ম : ১৪ অক্টোবর, কলকাতায়, ১৯৬২ সালে | কলকাতার গায়ে বেড়ে ওঠে শহরতলি বাঙুর এভিনিউতে স্কুলের পড়াশোনা, বড় হওয়া | স্কুলজীবন থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে লেখালেখির নেশা | প্রথম লেখা মাত্র ১২ বছর বয়সে আনন্দমেলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় | তারপর বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখা চলতে থাকে | গোড়ার দিকে ছোটদের জন্য লেখাতেই বিশেষ ঝোঁক ছিল | স্কুল শেষ হলে স্কটিশ চার্চ কলেজ | এরপরই একটা দুটো করে বড়দের জন্য লেখার শুরু | অর্থনীতিতে স্নাতক হয়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়া | বিভিন্ন পত্রিকায় গল্প প্রকাশিত হতে থাকে নিয়মিত | প্রথম উপন্যাস 'আমার যা আছে' প্রকাশিত হয় আনন্দলোক পত্রিকায়, ২০০৪ সালের পূজাবার্ষিকীতে |

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.