সাগর আই লাভ ইউ (পর্ব ২৭)

670
ছবি - দেবব্রত ঘোষ

মেয়েটি কি কোনও পোশাক পরেনি?  

আমি চোখ কচলে তাকালাম। না, পরেনি। অপরূপ রূপসী তরুণীটি সম্পূর্ণ নিরাবরণ। তার মেদহীন ছিপছিপে শরীর উন্মুক্ত। মেয়েটি আমার সামনে দাঁড়িয়ে মিটমিটি হাসছে। যেন বলছে, ‘‌কেমন আছো সাগর? হে‌ ঘাবড়ে দেওয়ার সম্রাট, তুমি কি আমাকে দেখে ঘাবড়ে গেলে?‌’‌

না, আমি ঘাবড়াচ্ছি না। মুগ্ধ হচ্ছি। নগ্নতা এত সুন্দর!‌ মেয়েটির‌ স্তন, কটি, নিতম্বজঙ্ঘা ও যোনি আমার সামনে স্পষ্ট। তারা যেন একেকটা মুহূর্ত। আমাকে দেখে থমকে গেছে। কেউ বাঁক নিতে গিয়ে ফিরে তাকিয়েছে, কেউ লজ্জায় আড়াল খুঁজেছে। স্তন যদি ভেসে থাকে, কটিদেশ গভীরে প্রবেশ করেছে নিশ্চুপে। আমি অবাক হচ্ছি। নারীর নগ্নতা এত শান্ত! এত সমাহিত!‌‌

ধ্যুস এসব তো শিল্পবোদ্ধাদের মতো ভাবনা। কেউ যদি আমার মনের ভিতর ঢুকে একথা শুনতে পায়, হেসে মরবে। 

‘‌তুই সাগর। ফালতু, ফ্যা ফ্যা গঙ্গারাম। নগ্ন শরীরের শিল্পবোধ বা রসবোধ অনুধাবন করবার তুই কে রে বেটা?’‌

 কথাটা সত্যি। পোশাকহীন নারী দেখবার অভিজ্ঞতা আমার অতি সীমিত। হাতে গোনা কয়েকবার। তাও রেবা বারবারই একটা হাত আমার চোখ চেপে ধরেছে।

‘‌না। তুমি দেখবে না। কিছুতেই দেখবে না আমাকে।’‌

আমি ফিসফিস করে মিনতি করেছি,‘‌প্লিজ রেবা। একবার, মাত্র একবার দেখব। এক ঝলক।’‌

বেরা আরও জোরে তার হাত চেপেছে। গাঢ় স্বরে বলেছে, ‘‌না না। লক্ষ্মীটি। এমন বলে না। আমার লজ্জা করছে।’

‘‌আমার কাছে লজ্জা কী রেবা?’‌

‘‌তোমার কাছেই তো লজ্জা। তোমার জন্যই তো নিজেকে সাজিয়ে রাখি। এলোমেলো করে ফেলি তোমার জন্যই।’‌‌‌

এরপরেও আমি হাত সরিয়েছি রেবার। জোর করেই সরিয়েছি। রেবা তখন চোখ বুঁজেছে। 

এই মেয়েটি তার আয়ত কাজল চোখ সরু করে বলল,‘‌তুমি আমাকে চিনতে পারছো না ?‌ ভাল করে তাকাও সাগর। মন দিয়ে তাকাও।’

আমি ভাল করে তাকালাম। এবার খেয়াল হল তরুণীর চুলে গোলাপি ফুল‌। গলায়, হাতে কালো সরু বন্ধনী। পায়ে জুতো। এই সাজে তার নগ্নতা আরও সুন্দর, আরও স্নিগ্ধ লাগছে। 

মেয়েটি আহ্লাদি গলায় বলল,‘কী গো চুপ করে গেলে কেন?’‌

আমি বললাম,‘‌তুমি কে?‌’‌

মেয়েটি এবার ঘরের কোনে রাখা সোফায় গিয়ে বসল। পুরোনো দিনের হ্যালানো কৌচ। তাতে সাদা কাপড়ে মোড়া বড় বড় তাকিয়া। এই জিনিস আমার ঘরে এল কী করে!‌ আমার ঘরে তো মোটে তিনটে ফার্নিচার। একটা পায়া নড়বড়ে তক্তাপোষ, একটা বেত ছেঁড়া মোড়া, আর একটা ফিনফিনে টেবিল। ফিনফিনে কারণ টেবিলে কোনও ড্রয়ার নেই। দেখলেই মনে হয়, ভারি কিছু রাখলে এক্ষুনি হুড়মুড়িয়ে পড়বে।

মেয়েটি আশ্চর্য হওয়া গলায় বলল,‘এখনও ‌চিনতে পারছো না?‌’‌

এবার আমি আমতা করে বললাম,‘চেনা চেনা লাগছে। পুরোটা বুঝতে পারছি না।’

‘‌আগে কখনও দেখনি আমাকে?‌’‌

আমি মনে মনে হাসলাম। এই অবস্থায় কোনও মেয়েকে কতবার দেখা যায়?‌ তবে এই তরুণী যে সহজ ভঙ্গিতে কথা বলছে, তাতে অবাকই হতে হয়। নগ্নতা তার কাছে আলাদা কিছু নয়। 

তরুণী এবার ছদ্মরাগ দেখিয়ে বলল,‘‌আমাকে চিনতে পারবে কেন?‌ সর্বক্ষণ মাথার মধ্যে রেবাকে নিয়ে থাকলে অন্য মেয়েদের চেনা যায়?‌’‌

আমি হেসে ফেললাম। এই কথাটা সত্যি নয়। রেবাকে আমি সারাক্ষণ মাথার্ ভিতরে রাখবার কে?‌ সে আমার কে তাই তো জানা নেই। রেবাও জানে না। কখনও ওর টানে পাগল হয়ে যাই। মনে হয়, এ‌কছুটে চলে যাই। কখনও তাকে মনেই পড়ে না। দিনের পর দিন দেখা নেই, কথা নেই। রেবারও তাই। উল্টোটাই বেশি। আমি কখনও মন খারাপ করে ঘন ঘন যোগাযোগ করলে সে বিরক্ত হয়।

‘‌সাগরকে এমন মানায় না। আমারও তো তোমার জন্য মন কেমন করে। আমি কি তোমার কাছে ছুটে যাই?‌ যত মন কেমন করে তত তোমাকে ভালবাসি। আমি তোমাকে নিয়ে নয়, তোমার জন্য আমার এই মন কেমনকে নিয়ে বাঁচতে চাই সাগর।’‌

এই চরিত্রের মেয়ের কথা সারাক্ষণ মাথায় রাখা যায়?‌ রাখতে চাইলেই বা সে থাকবে কেন?‌

‌‘‌কী হল চিনতে পারছো?‌’‌

তরুণীর ঠোঁটের কোনায় এবার হাসি। আমাকে পরীক্ষা করছে?‌ সে আধশোয়া হয়েছে। জুতো পরা নগ্ন বঁা পা তুলে দিয়ে দিয়েছে ডান পায়ের ওপর। জীবনানন্দের নগ্ন নির্জন হাতের মতো তার দুই পাও নির্জন। শরীর ফুলের কুঁড়ির মতো। পেলব ও অনাঘ্রাতা। রূপ জলের ফোঁটা হয়ে গড়িয়ে পড়েছে পেট, নাভি, জঙ্ঘা চঁুইয়ে। 

এবার মেয়েটিকে একটু একটু করে চিনতে পারছি। কোথায় দেখেছি ‌যেন .‌..‌।‌‌

চোখ চেপে ধরলেও সেইসব গোপন ও আপন সময় আমি রেবাকে দেখবার সুযোগ পেয়েছি। সেই নগ্নতা সুন্দর। তবে তা আত্মসর্মপনের। হাত, পা, স্তন, উরু ও কটিদেশ দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে রেবা। আত্মসর্মপনের নগ্নতা আসে আরেক সৌন্দর্য নিয়ে। রেবাও এসেছে।

কিন্তু এই মেয়েটি তার শরীর নিয়ে দূরের কেউ। ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বাঁ হাত দিয়ে গোপনীয়তা আড়াল করেছে। এতে আরও সুন্দর লাগছে। 

‘‌কী হল সাগরবাবু?‌ একেবারে চুপটি মেরে গেলে যে।’‌ মিটিমিটি হাসছে তরুণী।

অস্ফুটে বললাম, ‘‌মনে হয় চিনতে পারছি।’‌

মাথার ফুল থেকে গোলাপী আভা সুন্দরীর গাল, গলা, বুক ধরে গড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ছে শরীর জুড়ে। একধরনের আলো তৈরি করেছে। যা আমার মত সাধারণের পক্ষে বর্ণনা বা ব্যাখা অসম্ভব। তুলিতে রঙ লাগিয়ে কেউ মাখিয়ে দিয়েছে। নাকি এ শুধু আলো নয়, শরীরের আবরণ?‌ ঠিক বুঝতে পারছি না। আলো আর অন্ধকারের মাঝখানে একধরনের স্বচ্ছ‌ আবরণ থাকে। তাকেই সম্ভবত বলে টোয়েলাইট। সূর্য ডুবতে থাকলে সেই মায়াবী আলো ভুবন ভোলায়। 

আমি বললাম,‘‌আমি তোমাকে চিনতে পেরেছি।’‌

তরুণী হেসে বলল,‘ধন্যবাদ।’

তার ভঙ্গী বলল, এটাই স্বাভাবিক। আমার তাকে চিনতে পারারই কথা। এতক্ষন কেন লাগবে !‌ ‌

‘‌তুমি কেন এসেছো?‌’‌

তরুণী একথার কোনও জবাব দিল না। বলল,‘‌আমার এই রূপে তুমি কি নিস্পৃহ সাগর?‌’‌

আমি হেসে বললাম,‘‌খেপেছো ?‌ তোমার এই রূপে গোটা দুনিয়া বিভোর।’‌

তরুণী ডানদিকের হাঁটু তুলে একটু আড়াল তৈরি করল।

‘‌দুনিয়ার কথা ছাড়। তোমার কথা শুনতে চাই।’‌

আমি বললাম,‘‌একবারেই নিস্পৃহ নই।’‌

তরুণী মুচকি হেসে বলল,‘‌তবে কি উত্তেজিত? আমাকে কামনা করছো? শরীরে পেতে চাইছো?‌‌‌’

আমি বললাম,‘‌কামনা কি সর্বদা শরীর দিয়েই মেটাতে হয়?‌ এই যে তোমার সান্নিধ্য, তা কি আমার যোগ্যতার থেকেও বেশি নয়?‌ এই যে তোমার রূপ তা কি আমার কল্পনার থেকে অনেক বেশি নয়?‌ মনে মনে একে কি কখনও কামনা করেছিলামভাবতে পেরেছিলাম তোমার মত সুন্দরী একদিন আমার ভাঙা ঘর আলো করে এসে‌ পেরেছিলাম?‌ তারপরেও তো পেলাম।’‌

তরুণী খানিকটা বিরক্ত ভঙ্গিতে বলল,‘‌এসব তোমার প্যাঁচানো কথা সাগর। সহজ ভাবে উত্তর দাও।’‌

আমি বললাম,‘‌তোমার রূপ শান্ত। তোমার এই শরীর দিঘীর জলের মত টলটলে। চুপটি করে আছে।’‌

তরুণী আগ্রহ নিয়ে বলল,‌‘ইচ্ছে করছে না দিঘিতে ঝাঁপ দিই?‌ শান্ত জল উথাল পাথাল করে ফেলি? ডুব সাঁতারে হারিয়ে যাই?‌‌’‌

আমি একটু হেসে বললাম,‘‌না। তোমাকে তার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। তুমি শুধু পুরুষের নও। একজন মেয়ে যখন তোমাকে দেখে, একই ভাবে মুগ্ধ হয়। সেই দেখায় তো কাম থাকে না।’‌

তরুণী অধৈর্য ভাবে বলে ‘‌কামও কি সৌন্দর্য নয় সাগর?‌ বিশ্বের বড় বড় ছবি, সাহিত্য, ভাষ্কর্যে কামকে তো সুন্দর করেই দেখানো হয়েছে। সেক্স ইজ দ্য পার্ট অব আর্ট। নরনারীর মিলনের মত মধুর আর কী আছে সাগর? শরীরকে দিয়ে শরীর ভালবাসা যত তীব্র, যত হাহকারের, ভালবাসার আর কোনও পদ্ধতি তার ধারে কাছে যেতে পারে?‌‌’

আমি একটি চুপ করে থেকে বললাম,‘‌তুমি কি কোনও‌ কারণে অভিমান করেছো?‌’

‘‌জানি না।’‌

অভিমানভরা গলায় তরুণী এইটুকু বলে মুখ ফিরিয়ে নিল। আমি নড়বড়ে তক্তাপোষ থেকে নামলাম। এগিয়ে গেলান কৌচের দিকে। যতই হোক এই মেয়ে তো এখন আমার অতিথি। তার মান–‌অভিমান ভাঙানোর দায় আমারই। কৌচের পাশে বসলাম হাঁটু মুড়ে। তরুণীর ডান হাতটা ধরে নিচু গলায় বললাম,‘‌আমি কি তোমাকে একটা চুমু খেতে পারি?‌’‌

তরুণী কিছু বলল না। সে মুখ ফিরিয়েই রইল। আমি উঠে দাঁড়ালাম। ঝুঁকে পড়লাম তার স্তন পেরিয়ে। মুখের ওপর নামালাম আমার ঠোঁট। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রকর এডোয়ার্ড মানেটের (‌‌ অনেকে বলে মানে)‌‌ ‘‌অলিম্পিয়া’‌ ছবির নগ্ন সুন্দরীকে চুমু খাবার আগে আমি লম্বা করে শ্বাস নিলাম এবং চোখ বুঁজলাম।

সেই মুহূর্তে আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমি চোখ খুলে ড্যাব ড্যাব করে তাকালাম। সব তাহলে স্বপ্ন! স্বপ্নে রঙ দেখলাম কী করে?‌ গন্ধও তো পেয়েছি। হালকা আতরের গন্ধ। অলিম্পিয়া মেখে এসেছিল। স্বপ্নে তো রঙ, গন্ধ কিছুই থাকবার কথা নয়। মরুক গে যাক। যা খুশি থাকুক বা না থাকুক। এই চরম সুখের মুহূর্তে আমার ঘুমটা ভাঙল কোন হারামজাদা?‌ আর একটু অপেক্ষা করা গেল না?‌ চুমু পর্বটা মিটে যেত। কোনও সুন্দরীর অভিমান ভাঙানো যে কোন যুবকের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। কে আমার ঘুম ভাঙাল?‌

একটুক্ষনের মধ্যে বুঝতে পারলাম কে?‌ সে মোবাইল ফোন। কোথায় যেন  বাজছে। বাজছে না গাইছে।

চোখের আলোয় দেখেছিলেম চোখের বাহিরে।’‌

গলা পুরুষমানু্ষের এবং ভাঙা। সে হোক, কিন্তু আমার ঘরে এই হতচ্ছাড়া মোবাইল ফোনটা এল কোথা থেকে?‌ এটাও কি মানেটের আঁকা নগ্ন অলিম্পিয়ার মত কোনও স্বপ্ন ? আমি ধড়মড় করে উঠে বসলাম। ওই তো আমার ফিনফিনে টেবিলের ওপর মোবাইল ফোন পড়ে আছে। 

এবার মনে পড়ে গেল, ফোনটা শসার। শসা আমার লেকের বন্ধু। রাতে আমি মাঝে মাঝে লেকে ঘুমোতে গেলে শসার সঙ্গে দেখা হয়। সে এসে আমার সঙ্গে কিছুক্ষন গল্পটল্প করে। গরম চা খাই। সে একজন তরুণ পকেটমার। পকেটমার না বলে তাকে একজন প্রতিভাবান শিল্পী বলা উচিত। ছিপেছিপে চেহারা। ঝকঝকে চোখ। সবসময় প্যান্টের মধ্যে ফুল হাতা জামা গুঁজে পরে। চুল আঁচড়ানো। পালিশ করা জুতোয় টিপটপ হয়ে থাকে। হাতে থাকে একটা ফাইল। জামার পকেটে কলম। ভিড় বাসে,ট্রামে বা মেট্রোতে উঠেই সে বসে থাকা কোনও যাত্রীকে মিনতিভরা গলায় বলে,‘‌স্যার, দয়া করে একটু বসতে দেবেন?‌ একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছি। একটু পড়াশোনা করে নিতাম। ট্যাক্সিতেই যেতাম স্যার, অত টাকা সঙ্গে নেই বলে যেতে পারলাম না।’‌

স্বাভাবিক ভাবেই বসে থাকা যাত্রী সিট ছেড়ে দেয়। ছেড়ে দিয়ে ওঠবার মুহূর্তে শসা তার পকেট থেকে মানিব্যাগ তুলে নেয়। যার পাশে গিয়ে বসে তারও মানিব্যাগও হাতাতে বেশি সময় লাগে না। লাগবার কথাও নয়। সেই লোক তো তখন, শসার ফাইল থেকে বেরোনো কাগজে মন দিয়েছে। তাতে চাকরির পরীক্ষার সাজেশনস্‌। গাদাখানেক ‘‌রিজনিং টেস্ট’‌। সেই টেস্ট জটিল—

 ‘‌সন্ধ্যেবেলা তুমি বসে আছ বারান্দায়। ডুবে যাওয়া সূর্যকে দেখছো। এমন সময় তোমার ভাই এসে তোমার পাশে এসে বসল। দক্ষিণের আকাশে উড়ে গেল পাখি। উত্তরের আকাশ থেকে ভেসে এল ঠাণ্ডা বাতাস। তোমার ভাই বলল, ‘‌দাদা, দেখ কী সুন্দর!‌’‌ এবার বল তোমার ভাই কোনদিকে মুখ করে বসেছে?‌’‌‌

শসা পাশের যাত্রীকে অতি নরম গলায় বলে,‘‌স্যার, একটু দেখুন তো। এটা সলভ্‌ করতে পারেন কিনা। আজ আমার চাকরির পরীক্ষা। শুনছি এই প্রশ্নটা আসবেই।’‌

সেই যাত্রী মাথা চুলকোতো চুলকোতে সমস্যার মধ্যে ঢুকে পড়ে। সেই ফাঁকে শসা তার মানিব্যাগ সরায়। নামবার সময়ও শসা ‘‌কাজ’। বাসের গেটের পাশে দাঁড়ানো বয়স্ক মহিলাকে হাসিমুখে বলে,‘‌দিদি, মাথায় হাত রেখে ছোটো ভাইটাকে আশীর্বাদ করুন। এবার যেন চাকরিটা পেয়ে যাই। দিন ব্যাগটা ধরি। আপনি আপানার মাথায় হাত রাখুন। দিদি, আপনার মুখটা অবিকল আমার মায়ের মত। দিন ব্যাগটা দিন।’‌ শসা নামবার সময় ব্যাগ থেকে মহিলার মানিব্যাগটা সরিয়ে নেয়। রাস্তা পেরিয়ে ‌আবার কোনও ভিড় বাসে ট্রামে মেট্রোতে ওঠে। পাশে দঁাড়িয়ে থাকা মাঝবয়ী মানুষটাকে এক গাল হেসে বলে,‘‌মেসোমোশাই, একটা ভাল খবর আছে। একটা চাকরি পেয়েছি। আমার মানত করা ছিল, চাকরি পেলে সুখবরটা প্রথম কোনও অচেনা মানুষকে জানাব।’‌

মাঝবয়সী মানুষটি শসার এই কথায় এতটাই ঘাবড়ে যায় যে তার পকেট থেকে যে মানিব্যাগটা চলে যাচ্ছে তা বুঝতে পেরেও কিছু বলতে পারে না।

এই শসাকে প্রতিভাবান না বলে উপায় আছে?‌ কিন্তু শসার মোবাইল ফোন আমার কাছে কেন?‌

চলবে…

গত পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-26/

২৫পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-25/

২৪ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-24/

২৩ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-23/

২২ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-22/

২১ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-21/

২০ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-20/

১৯ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-19/

১৮ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-18/

১৭ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-17/

১৬ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-16/

১৫ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-15/

১৪ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-14/

১৩পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-13/

১২ পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-12/

১১ পর্বের লিংক –  https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-11/

১০ পর্বের লিংক –  https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-10/

৯ম পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-9/

৮ম পর্বের লিংক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-8/

৭ম পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-7/

৬ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-gupta-part-6/

 
৪র্থ পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-guptapart-4/

৩য় পর্বের লিঙ্ক –https://banglalive.com/sagar-i-love-you-bengali-novel-by-prachet-guptapart-3/

২য় পর্বের লিঙ্ক – https://banglalive.com/novel-by-prachet-gupta-2/

প্রথম পর্বের লিংক – https://banglalive.com/novel-by-prachet-gupta/

Advertisements
Previous articleবিয়েতে বলিউডি কানেকশন ! ঐশ্বর্যর গাউনে সেজে সঙ্গীত অনুষ্ঠানে এলেন হবু কনে
Next articleকেতজেল পাখি (পর্ব ৫)
প্রচেত গুপ্ত
জন্ম : ১৪ অক্টোবর, কলকাতায়, ১৯৬২ সালে | কলকাতার গায়ে বেড়ে ওঠে শহরতলি বাঙুর এভিনিউতে স্কুলের পড়াশোনা, বড় হওয়া | স্কুলজীবন থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে লেখালেখির নেশা | প্রথম লেখা মাত্র ১২ বছর বয়সে আনন্দমেলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় | তারপর বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখা চলতে থাকে | গোড়ার দিকে ছোটদের জন্য লেখাতেই বিশেষ ঝোঁক ছিল | স্কুল শেষ হলে স্কটিশ চার্চ কলেজ | এরপরই একটা দুটো করে বড়দের জন্য লেখার শুরু | অর্থনীতিতে স্নাতক হয়ে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়া | বিভিন্ন পত্রিকায় গল্প প্রকাশিত হতে থাকে নিয়মিত | প্রথম উপন্যাস 'আমার যা আছে' প্রকাশিত হয় আনন্দলোক পত্রিকায়, ২০০৪ সালের পূজাবার্ষিকীতে |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.