সলমন খান আর ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের লাভ স্টোরিতে বলিউডের যে কোনো হিট ছবির সব রকমের উপাদান উপস্থিত ছিল‚ যেমন প্রেম‚ দুঃখ‚ রাগ‚ অভিমান এবং শেষে মনস্তাপ | ওঁদের দুজনের প্রেম আরম্ভ হয় সঞ্জয় লীলা ভনসালির হম দিল দে চুকে সনম ছবির সেটে | কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ওঁরা বুঝতে পারেন ওঁরা একে অপরের জন্য ঠিক নয় | ঐশ্বর্য এটা বোঝা মাত্র নিজেকে সরিয়ে নেন সলমনের জীবন থেকে | কিন্তু সলমন কিছুতেই এটা মেনে নিতে পারছিলেন না | কিন্তু ঐশ্বর্য কোনদিন ভাবতে পারেননি এর ফলে ওঁর কেরিয়ার কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে |

Banglalive

সেই সময় উনি শাহরুখ খানের সঙ্গে চলতে চলতে ছবির শ্যুটিং করছিলেন | একদিন রাতে শ্যুটিং চলছিল | সলমন মদ্যপ অবস্থায় শ্যুটিং স্পটে হাজির হন এবং সেট ভাঙচুর করেন | সেই সাড়ে চার ঘন্টা যেন দানব ভর করেছিল ওঁর ওপর | কেউ সলমনকে সামলাতে পারছিল না | নিরুপায় হয়ে ছবির পরিচালক আজিজ মির্জা সেদিন শ্যুটিং বন্ধ করে দেন | যদিও ছবির কোরিওগ্রাফার ফারহা খান এবং ঐশ্বর্য অনেক বার অনুরোধ করেছিলেন শ্যুটিং না বন্ধ করার জন্য | কিন্তু পরিচালক কারুর কথা শুনলেন না |

পরদিন ঐশ্বর্য‚ শাহরুখ আর আজিজ মির্জার কাছে ক্ষমা চেয়ে ফোন করেন | সলমনও তার আগের রাতের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন | সেই সময় আজিজ মির্জার অ্যাসোসিয়েট হারুণ জানিয়েছিলেন  ছবির সেটে এমন ঘটনা কেউই চায় না | সলমন খান সকালেই ফোন করে ক্ষমা চেয়েছিলেন | কিন্তু এখন আপাতত ৮-১০ দিন আমরা শ্যুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি | 

এই ঘটনার পর শাহরুখ প্রথমে ঠিক করেছিলেন ঐশ্বর্যের সঙ্গে একটা লিখিত চুক্তি করবেন যেখানে লেখা থাকবে এরপর যদি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে ওই ছবি থেকে ঐশ্বর্য বেরিয়ে যাবেন এবং ক্ষতিপূরণ দেবেন | কিন্তু আজিজ মির্জা শাহরুখকে বোঝান সলমন ভীষণ আবেগপ্রবণ এবং উনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না | ফলে শাহরুখ দোটানায় পড়ে যান |

ঐশ্বর্য ছবিতে থাকবেন কি না সেই সিদ্ধান্ত শাহরুখের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয় | শোনা যায় শাহরুখ ঐশ্বর্যকে রাখতেই চেয়েছিলেন | কিন্তু ছবির মঙ্গলের কথা ভেবে উনি ঐশ্বর্যকে সরিয়ে রানি মুখার্জিকে এই ছবির প্রধান নায়িকা হিসেবে নির্বাচন করেন |

অবশ্য শুধু এই ছবিই নয় সলমনের সঙ্গে ব্রেক আপের পর অনেকেই অ্যাশকে তাদের ছবি থেকে বাদ দিয়ে দেন | পরে একটা সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্য জনিয়েছিলেন সলমনের সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীন ওঁর গায়েও নাকি হাত তুলতেন সলমন | ওঁর কথায় আমাদের গত মার্চে ব্রেক আপ হয়ে যায় | কিন্তু সলমন এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না | আমাদের ব্রেক আপের পর ও আমাকে ফোন করে গালিগালাজ করেছে‚ হুমকি দিয়েছে | আমার নাকি অন্য কারুর সঙ্গে অ্যাফেয়ার আছে এমন সন্দেহ করত ও | অনেকবার সলমন আমার গায়ে হাতও তুলেছে | আমার ভাগ্য ভালো যে মারের কোনো চিহ্ন থাকত না | পরেরদিন যেন কিছুই হয়নি এমন মনোভাব নিয়ে আমি শ্যুটিং করতে যেতাম | 

ওই একই সাক্ষাৎকারে ঐশ্বর্য সলমনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগও তোলেন | উনি বলেন  সলমন পরোক্ষভাবে আমার কাছে স্বীকার করে যে আমার সঙ্গে সম্পর্কে থাকাকালীন ও অন্য মহিলার সঙ্গে প্রেম করছিল | পরে একটা সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে অ্যাশ বলেন আমার এবং আমার পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে এর পর অর কোনো দিন আমি সলমন খানের সঙ্গে কাজ করব না | সলমন খানের চ্যাপ্টার আমার জীবনে দুঃস্বপ্নের মতো ছিল | এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ভগবানকে ধন্যবাদ | 

আরও পড়ুন:  ‘শর্টলেস’ জাহ্নবী! শুধু টপ পরে রাস্তায় শ্রী-কন্যে?

NO COMMENTS