প্রিয়বন্ধুর পিঠে চেপে ৬ বছর ধরে স্কুল করছে এই অশক্ত ছাত্র

95

বন্ধুত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে চিনের এক স্কুলছাত্র। চলাফেরায় অক্ষম এক ছাত্র গত ছয় বছর ধরে স্কুলে যেতে পারছে শুধুমাত্র তার সহপাঠী ও সবচেয়ে প্রিয়বন্ধুর জন্যই। জু বিংইয়াং তার সহপাঠী ঝ্যাং জি-কে পিঠে করে বয়ে স্কুলে নিয়ে যায় প্রতিদিন। জু এবং ঝ্যাং হিবাজি টাউন সেন্ট্রাল প্রাইমারি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। চার বছর বয়সে মাংসপেশীর বিরল এক অসুখে চলাচলের শক্তি হারিয়ে ফেলে ঝ্যাং । কিন্তু, ভাগ্যক্রমেই প্রথম শ্রেণিতে
জু-য়ের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর থেকে তার স্কুলে যেতে কোনও সমস্যা হয়নি। শুরু থেকেই ঝ্যাংকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে জু ।

জু তার বন্ধুকে বিদ্যালয়ের এক শ্রেণি থেকে আরেক শ্রেণিও নিয়ে যায় পিঠে করে। ঝ্যাংয়ের চেয়ে অনেকখানি লম্বা এবং শক্তিশালী জু। জু জানায়, আমার ওজন চল্লিশ কেজির বেশি। আর ঝ্যাংয়ের ওজন পঁচিশ কেজি। অতএব ওকে বয়ে নিয়ে বেড়াতে আমার কষ্ট হয় না। উল্টে বন্ধুর অবলম্বন হতে পেরে সে সত্যিই আনন্দিত সে। ঝ্যাংকে বয়ে নিয়ে চলেফেরা করাটা মোটেও কঠিন নয় বলে জানায় সে।


এ বিষয়ে অন্যদিকে, ঝ্যাং বলে, ” জু বিংইয়াং আমার প্রিয়বন্ধু। প্রতিদিন ও আমার সঙ্গে পড়াশুনো করে, গল্প করে আর খেলে। প্রতিদিন আমার দেখাশোনা করার জন্য ওকে ধন্যবাদ “। জু জানিয়েছে, ” আমি ওর চেয়ে লম্বা-চওড়া । আমার মনে হয়েছে, আমি যদি ওকে সাহায্য না করি, অন্য কেউ করবে না । “

টয়লেটে যেতেও জু-এর সাহায্যের প্রয়োজন হয় ঝ্যাং-এর। এ সময় তারা খুব ধীরে ধীরে এগোয়। ঝ্যাংয়ের জলের বোতল ভরা, হোমওয়ার্ক জমা দেওয়াতেও সাহায্য করতে হয় জু-কেই। প্রায় তিন বছর ধরে ঝ্যাং-কে, জু ছাড়াও আরেকটি ছেলে সাহায্য করেছে। কিন্তু, ক্লাস থ্রিতে থাকার সময় ওই ছেলেটি জানায়, পড়া আর খেলার জন্য সে সময় পাচ্ছে না। এ কারণে ঝ্যাং-এর পাশে আর সে থাকতে পারেনি।

তবে জু সব সময় রয়েছে ঝ্যাংয়ের পাশে। জু-এর মাও শুরুতে জানতেন না তার ছেলের এই নিঃস্বার্থ কাজের কথা। কারণ পরিবারের সদস্যদের এই নিয়ে কখনো কিছুই বলেনি জু। অন্য ছাত্রদের থেকে জু-এর মা জানতে পারেন ঝ্যাংয়ের কথা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে জু বলে, সে তার আশেপাশের মানুষকে সাহায্য করে যেতে চায় এবং বড় হলে সমাজের জন্য স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে নিয়োজিত হতে চায়।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.