৮০০০ বছর আগে অতলান্তিকে তলিয়ে যাওয়া দেশের খোঁজ পাওয়া যাবে শীঘ্র

এক যে ছিল দেশ। না, কোনও রূপকথার দুনিয়ায় নয়। আমাদের এই নীল রঙের গ্রহেই ছিল সেই দেশ। হাজার হাজার মানুষ সেই দেশে বাস করতেন। তারপর শুরু হল উত্তরমেরুর বরফ গলা। বিপুল পরিমাণে বরফ গলতেই সমুদ্রের জল ফুলে উঠল আরও। আর সেই দেশ গেল তলিয়ে জলের তলায়। প্রায় আট হাজার বছর আগে হারিয়ে যাওয়া প্রস্তর যুগের সেই মানুষদের দেশকে এবার খুঁজে পেতে চলেছেন গবেষকরা।

ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মাঝামাঝি আটলান্টিক মহাসাগরের তলায় রয়েছে সেই বিস্তৃত ভূমি— ডগারল্যান্ড। সমুদ্র বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী ও প্রত্নতাত্ত্বিকরা একযোগে লাগাতার কাজ করে চলেছেন গত পনেরো বছর ধরে। অবশেষে সাফল্যের একেবারে কিনারায় পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা, দাবি গবেষকদের।

গত সপ্তাহে ব্রিটিশ ও বেলজিয়ান বিজ্ঞানীদের একটি দল আটলান্টিক মহাসাগরের অন্তর্গত নর্থ সি-র দিকে যাত্রা করেছেন। সাড়ে সাত হাজার বছর আগে তলিয়ে যাওয়া দেশটিকে তাঁরা এবার খুঁজে বের করবেনই। এমনটাই বিশ্বাস তাঁদের।

ব্রিটেন ও উত্তর ইউরোপের মধ্যবর্তী এক সেতুর মতো অবস্থান ছিল সেই দেশটির। উন্নত চাষের জমি ছিল দেশজুড়ে। ফলে অধিবাসীরা বেশ সুখেই ছিলেন, তা সহজেই অনুমেয়। কিন্তু সব শেষ হয়ে যায় ভয়ঙ্কর বন্যায়। সমুদ্র ফুঁসে উঠে যেন গ্রাস করে নেয় তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্যে ভরা দিনযাপনের সবটুকু।

সমুদ্রের তলা থেকে সেই দেশের হদিশ পাওয়ার কাজটা অত্যন্ত কঠিন। মাটির তলা হলে খননকার্য করে সাফল্য পাওয়া যায়। কিন্তু সমুদ্রের গভীর তলদেশে তো আর সম্ভব নয়। তাহলে উপায়? সমুদ্রের তলায় সম্ভাব্য স্থান জুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোনও ধাতব পদার্থকে নামিয়ে তারপর তাকে তুলে এনে পরীক্ষা করে দেখা। যদি কোনও ‘ক্লু’ মেলে তাহলে সেই মতো সমুদ্রের তলায় আরও গভীর অন্বেষণ— তাহলেই মিলে যেতে পারে সাফল্য।

এতদিনের গবেষণার পরে সাফল্যের একেবারে কিনারে গবেষকরা। বলা হচ্ছে আধুনিক ইউরোপের একটি দেশের মতোই আকারের ভূমিখণ্ড ছিল সেই দেশ। কিন্তু তাদের সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানা যায় না।

এই আবিষ্কার হলে সারা পৃথিবীতে শোরগোল পড়ে যাবে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন করে সমুদ্রগর্ভে হারানো দেশকে পুনরাবিষ্কার করার ঘটনা আগে ঘটেনি। আপাতত সেই আবিষ্কারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন গবেষকরা। তাকিয়ে সারা পৃথিবীর ইতিহাসপ্রেমীরাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here