মাত্র পাঁচ বছর থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল মা বাবার সঙ্গে । সেই স্মৃতিই তাড়া করে ফেরে বাকি জীবন । দেখতে অবিকল মায়ের মতো , ভাবভঙ্গিও । সেই সূত্রই ৩৫ বছর পর আবার দেখা করাল হারিয়ে যাওয়া মা-মেয়ের ।

Banglalive

জন্মের পর নাম রাখা হয়েছিল লক্ষ্মী । বাবা মা উভয়েই মানসিক দিক থেকে হীনবুদ্ধিসম্পন্ন হওয়ায় দাদুর কাছে পাঠানো হয় দুই ভাইবোনকে । কপালের ফের , ৮ বছর বয়সেই দাদু মারা যেতে দুই ভাইবোনের ঠাঁই হয় মামার বাড়ি । কিছুদিন পর মামার বাড়ি থেকেও আশ্রয়হীন হয়ে ঠাঁই মেলে ‘দি ব্যানিয়ান’ নামক সেচ্ছাসেবী সংস্থার ছত্রছায়ায় । কিশোরির নাম দেওয়া হয় সোনিয়া।

ঘরের কাজ , রান্নার কাজ ও বয়স্ক মানুষদের পরিচর্যাতেই কেটেছে বাকি বছরগুলি । তবে যত দিন যায় বয়স্ক মানুষগুলোর মধ্যে খুঁজতেন নিজের হারিয়ে যাওয়া মা-কে । গত তিন বছর ধরে প্রকট হয়ে আসে মায়ের স্মৃতি । দি ব্যানিয়ানের হাত ধরে এত মানুষ পরিবারের দেখা পান , আশায় থাকতেন তিনিও হয়তো কোনোদিন দেখা পাবেন মায়ের ।

সোনিয়ার ইচ্ছের সব কথাই জানতেন বেনিয়ানের কর্তৃপক্ষ বা অন্যান্য সদস্যরা । সম্প্রতি কাজের সুত্রেই কর্ণাটকের রাঘবেন্দ্র স্বামী মন্দিরে যান সংস্থার চিকিৎসক ডঃ শান্তা । সেখানেই হঠাৎ দেখা পান অবিকল সোনিয়ার মত দেখতে এক বৃদ্ধার । মন্দির চত্বরে প্রসাদ বিতরণ করছিলেন তিনি । আলাপ করে ছবি ও ভিডিও দেখাতেই সন্দেহ সত্যি হয় । তিনিই সোনিয়ার হারিয়ে যাওয়া মা ।

এবার মা মেয়েকে মেলানোর পালা । সংস্থার আধিকারিক ডঃ কে ভি কিশোর কুমারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সোনিয়ার মা ও ভাইকে নিয়ে আসা হয় বেনিয়ানে । এতদিনের অনিশ্চিত আকাঙ্খার হঠাৎ প্রাপ্তি । ৩৫ বছর পর আবার মা -কে কাছে পাওয়া । মা-কে দেখভালের সুযোগ পাওয়া । এতদিন বহু মানুষকে ঘর ফিরে পেতে দেখেছে । এবার নিজের পরিবারকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ । চোখের জলে যেন বাঁধ মানছে না । সব কিছুই সম্ভব হল ডঃ শান্তার জন্য ।

আরও পড়ুন:  অভিনব পন্থায় ৭৫ বছর আগে করা চুরির অপরাধ কবুল করলেন ৯০ বছরের বৃদ্ধ

আপাতত সোনিয়ার মা ও ভাইকে ব্যানিয়ানেই আশ্রয় দেওয়া হয়েছে । সোনিয়া এখন থেকে সপরিবারেই ব্যানিয়ানে থাকবেন । ব্যানিয়ানের আরেক আধিকারিক কমলা ইয়াসওয়ারান জানান , ব্যানিয়ান এমন এক সেচ্ছাসেবী সংস্থা , যেখানে দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে দুঃস্থ আশ্রয়হীন মহিলাদের উদ্ধার করে আশ্রয় দেওয়া হয় । বর্তমানে প্রায় ২০০০ মহিলা এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত । পাশাপাশি ১৭০০ মহিলা সংস্থার উদ্যোগে আবার পরিবার ফিরে পেয়েছে ।

NO COMMENTS