‘শাহজাহান রিজেন্সি’ : সৃজিতের ছবি দেখতে গিয়ে রীতিমত শকিং ঘটনা হল!

কোন ঘটনা, সেটা লেখার আগে সিনেমার একটা বিশেষ দৃশ্যের কথা লিখি এখানে, দাঁড়ান।

‘শাহজাহান রিজেন্সি’ সিনেমার শেষ দিকে একটা গান রয়েছে দেখবেন ‘ঘুরে তাকাও’। এই গানের মধ্যে রয়েছে সেই দৃশ্যটা। সেখানে দেখতে পাবেন সমীরণ বোস (অভিনয়ে আবীর চট্টোপাধ্যায়) তার প্রেমিকা সুপ্রীতাকে (ঋত্বিকা সেন) নিয়ে একটা সিনেমা হল-এ ঢুকেছে ছবি দ্যাখার জন্য।

কী ছবি? খেয়াল করলে বুঝতে পারবেন যে, সেখানে স্ক্রিনে চলছে সৃজিতেরই সিনেমা ‘নির্বাক’। দর্শক বলতে পুরো একতলাটায় ওরা দু’জন ছাড়া হাতে গোনা জনা চারেক আর লোক! তাদের কেউ কেউ এর মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছে আর ‘নির্বাক’ দেখতে দেখতে এবার ঢুলতে শুরু করে দিল সুপ্রীতাও। কয়েকবার ঢুলবার পরে সমীরণের কাঁধে মাথা রেখে পুরোপুরি ঘুমিয়েই পড়ল ও।

সৃজিত এই সিনটা এই সিনেমায় ঠিক কী ভেবে রেখেছেন, জানি না। তবে খেয়াল করলে দেখবেন যে, ঠিক এর পরের একটা সিনে, সৃজিত ওই সুপ্রীতা মেয়েটিকে দিয়ে এটাও বলিয়ে নিচ্ছেন যে, রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যাপারটাও নাকি খুব বোরিং, রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে গেলেই নাকি ওর ঘুম এসে যায় চোখে।

তো’ পাশাপাশি যদি এই ‘নির্বাক’ দেখে ঘুমিয়ে পড়ার সিন আর রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে কমেন্ট করার সিন দুটো রাখেন আর এর সঙ্গে যদি আবার সুপ্রীতার ডিস্কো থেক গিয়ে ঝিঙ্কু স্টাইলে নাচের সিনগুলোও ম্যাচ করে দ্যান তো এটা বেশ স্পষ্ট হবে যে, পরিচালক সুপ্রীতাকে দ্যাখাতে চাইছেন এই জেনারেশনের হালকা-ফুলকা মস্তিবাজ মেয়ের মাপমত। রবীন্দ্রনাথের গান কিংবা সৃজিত মুখুজ্জের সিনেমা বোঝার ম্যাচিওরিটি আসে নি যার এখনও।

এভাবে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে নিজের তৈরি ছবিকে রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গে একসারিতে বসিয়ে দেওয়ার ব্যাপারটা ঠিক কতটা শোভন, সেটা নিয়ে আলাদা করে বলার নেই কিছু। তবে এটুকু এখানে লিখতে আমার দ্বিধা নেই যে, ফাঁকা হল-এ সৃজিতের ছবির স্ক্রিনিং হওয়ার এই সিনটা যা ভেবেই সৃজিত রাখুন না কেন, সিনটা আমার প্রফেটিক বলে মনে হচ্ছিল প্রায়।

কারণ ঠিক ওইরকম একটা ফাঁকা হল-এ বসেই যে ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ দেখলাম আমি! ভাবুন একবার শুধু! রিলিজের ফার্স্ট উইকেন্ড এটা! ভর দুপুরবেলা! হল-এর বাইরে কলকাতার জমজমাট কর্মব্যস্ত পাড়া! অথচ হল-এর মধ্যে গোটা ফ্লোরে হাতে গুণে দশজন লোক মোটে!

সৃজিতের সিনেমা দেখতে গিয়ে প্রথমবার এই শকিং অভিজ্ঞতা হল!

একেকবার মনে হচ্ছিল যে সৃজিতকে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, ছবির যে এমন হালও হতে পারে, ছবি তৈরির সময়েই তিনি সেটা বুঝতে পেরেছিলেন কিনা। আর সেটা আঁচ করতে পারার পরেই ফাঁকা হল-এ নিজের ছবি চলার সিনটা এই ছবিতে রেখেছিলেন কিনা।

আবার একেকবার নিজেকে এটাও জিজ্ঞেস করছিলাম যে, সত্যি সত্যি ‘শাহজাহান রিজেন্সি’ কি এত খারাপ সিনেমা যে দশজনের বেশি লোক আসবে না হল-এ?

এমনিতে ছবির ফ্রেমগুলো দেখতে তো খুব ভাল। ক্যালেন্ডারের ছবির মত প্রায়। কয়েকটা কম্পোজিশন তো এরকম যে দেখে বলতে ইচ্ছে করে, বাহ! তার ওপর এতদিন ধরে এত প্রমোশন, কাগজে কাগজে ছবি। আর সিনেমায় তো যাকে বলে, গুচ্ছ গুচ্ছ স্টার! এত কিছু থেকেও কি তবে শেষটায় গিয়ে লাভ হল না কো কিছু?

শংকরের লেখা ‘চৌরঙ্গী’ ছেপে বেরিয়েছিল ১৯৬২ সালে প্রথম। মানে এটা ধরতে অসুবিধে নেই যে, হোটেলের যে গল্প ওখানে শোনানো হয়েছে, সেটা আসলে পঞ্চাশের দশকের স্টোরি। এবার কথা হচ্ছে, ষাট-পঁয়ষট্টি বছর পেরিয়ে এসে সেই গল্পকে হাল আমলের পাঁচতারাতে পোরার জন্যে হোটেল নিয়ে তো রিসার্চ লাগে অগাধ। সিনেমাটা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, সত্যি এই ছবির পেছনে অত রিসার্চ আদৌ হয়েছে কি?

এই তো ক’মাস আগেই এল সৃজিতের ছবি ‘উমা’। সেটার ধাক্কা যেতে না যেতেই তার পরের ছবি ‘এক যে ছিল রাজা’। আবার তার তিন মাসের মাথায় মাথায় পরের ছবি ‘শাহজাহান রিজেন্সি’। ছবির সাবজেক্টগুলো তো এরকম যে প্রত্যেকটা ছবিতেই রিসার্চ লাগার কথা বিরাট। কিন্তু তিন-চার মাসের ফারাকে টপাটপ ছবি নামাতে লাগলে তো মনে হয় যে, রিসার্চ-ফিসার্চ গুলি মারুন, কারখানা থেকে একের পর এক অর্ডারি মাল তৈরি হচ্ছে যেন!

‘শাহজাহান রিজেন্সি’ দেখতে গিয়ে মনে হচ্ছিল, তাড়াহুড়োর ছাপটা সোজা গিয়ে পড়েছে স্ক্রিপ্টে। এমন এমন সব ঘটনা ঘটছে, মাথামুণ্ডু খুঁজে পাচ্ছি না যার কিছু।

উদাহরণ দিচ্ছি এখানে, দাঁড়ান। মূল উপন্যাসে বা সেটা নিয়ে তৈরি ছবি ‘চৌরঙ্গী’তে (১৯৬৮) দ্যাখান হয়েছিল, হোটেল কর্মীদের থাকার ঘরটা হল একেবারে ছাদের ওপর, মামুলি দেখতে সারি সারি সব ঘর। সে সব ঘরের ভেতর যখন ক্যামেরা ঢুকছে, স্পষ্ট এটা বোঝা যাচ্ছে যে ফাইভ স্টার মার্কা রুম সেগুলো নয়। আম-জনতা টাইপ মানুষজনের ডেলি থাকার ঘর। এবার এক রাতে হঠাৎ যখন মূল হোটেলে কোন রুম না পেয়ে এয়ার হোস্টেস সুজাতা মিত্র সেই ছাদের ঘরে থাকতে এলেন – তখন তাঁর মুখে এই স্বগতোক্তিটা খুব ন্যাচারাল শোনাল যে, ‘কার ঘর আমি জোর করে দখল করলাম?’

এবার এখানে সৃজিতের এই ‘শাহজাহানে’ কাণ্ড কী হল শুনুন। এখানে কিন্তু আলাদা করে ছাদে কোন স্টাফ কোয়ার্টার নেই! মুখে বলা হচ্ছে ঠিকই যে, হোটেল কর্মচারীদের থাকার জন্যে নাকি আলাদা ‘উইং’ আছে। কিন্তু সে উইং আদৌ আলাদা কিনা, স্ক্রিনে তার কোন চিহ্ন নেই! উলটে দেখে তো এটা মনে হচ্ছে যে, ওদের থাকার কামরাগুলোও হোটেলের বাকি বোর্ডারদের রুমের মতই প্রায়। এবার আসুন সেই বিপর্যয়ের রাতে। হঠাৎ যখন বিপাকে পড়ে এয়ার হোস্টেস সুপ্রীতা ওদের হোটেলে থাকতে এল, সমীরণ ওর জন্যে যে রুমটা খুলে দিল, দেখে মনে হল সেটা তো নিত্যিদিন ইউজ হওয়া অগোছাল ঘর নয়! বরং টিপটপ সাজিয়ে রাখা বাকি আর পাঁচটা হোটেল রুমের মতই। এবার আপনি বলুন, এমন ঘরে ঢুকতে গিয়ে সুপ্রীতা কোন লজিকে বলবে এটা যে, ‘কার ঘর আমি জোর করে দখল করলাম?’

পুরনো সেই ছবিটা থেকে কাট-পেস্ট করে সিকোয়েন্স আর ডায়ালগ এনে বসানো হয়েছে এখানে। কিন্তু সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে ব্যাক-এন্ডে যে আয়োজনটা দরকার ছিল, সেখানে নেহাতই ভাঁটা!

মূল উপন্যাসে যিনি ছিলেন হোটেলের ব্যান্ড মাস্টার প্রভাত চন্দ্র গোমেজ, এখানে এই ছবিতে তাঁর জেন্ডার পালটে হয়ে গ্যাছে গায়ত্রী চক্রবর্তী (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত)। সেটা নিয়ে আমার আপত্তি নেই কোন। এটুকু শুধু বলতে চাই যে ঋতুপর্ণার মত শক্তিশালী অভিনেত্রীকে দিয়ে এরকম গুরুত্বহীন এক্সট্রার রোল করাতে হাত কাঁপল না ভায়া? যতই স্পেশ্যাল অ্যাপিয়ারেন্স বা ক্যামিও বলে চালান না কেন, যে দেখবে সেই তো বুঝবে, এটা এমন একটা রোল, যেটা ছবিতে না থাকলেও ছবির ক্ষতি হত না কোন!

আর একটা কথা বুঝতে পারছিলাম না, পাঁচ তারা হোটেলগুলোতে কথায় কথায় সবাই এত জ্ঞানের ভাষণ ছড়াতে থাকে কিনা। একবার চান্স পেলে আর জ্ঞান বিলোতে ছাড়ছিল না তো কেউ!

ওটার কথা মনে পড়ছে? গায়ত্রীর সঙ্গে রুদ্রের (পরমব্রত) সেই প্রথম দ্যাখার সিন। বাজনা বাজিয়ে চলার ফাঁকেই গায়ত্রী খুলে বসল লম্বা জ্ঞানের খাতা! তাঁর হাতে ধরা বাদ্যযন্ত্রের আসল নাম কী, সেটা তো জানাল বটেই, তার পরেই সোজা মহিলা পৌঁছে গেলেন আওরংজেবের যুগে! বা রে, সেই ভদ্রলোক যে কী বাজাতেন, সেই কথাটাও জানাতে হবে না বুঝি! পরের দিকের একটা সিনে এই মহিলাকেই দেখবেন আবার ভোরের কলকাতা নিয়ে দফা-দফায় জ্ঞান দিচ্ছেন দ্রুত। সামনে তখনও সেই রুদ্রবাবুই হাজির। দেখে তখন মনে হচ্ছিল, জ্ঞান দেওয়ার জন্যে এই বিশাল হোটেলে আর কাউকে পান না নাকি তিনি?

চলুন আরেকটা সিনে যেখানে মকরন্দ পালকে (অঞ্জন দত্ত) বিশেষ একটা কারণে আপনি দেখতে পাবেন কাঁদতে। এবার এমন একটা দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে রুদ্রকে সমীরণ ডায়ালগ কী ছাড়ছে শুনুন! ‘পুরুষমানুষ মানেই যে কাঁদা যায় না, এরকম একটা মান্ধাতার আমলের সেক্সিস্ট ধারণার আর কোন মানেই নেই’! মনে হচ্ছিল, এমন মহান বাণী কপচে দেওয়ার মহামানব কোনখান থেকে এলি রে তুই ভাই?

এবার চলুন নিতাই ব্যানার্জির (সুজয়প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়) সিনে। হোটেলের বালিশ-বিছানা তদারকি করার হেড। হালকা একটু চান্স পেলেন কী জ্ঞানের গামলা উপুড় করে ঢেলে দিলেন তিনিও। স্বভাবে তিনি ‘গে’। তাই তাঁর জ্ঞানের বিষয় হল আমাদের এই সমাজের হোমোফোবিক রূপ!

আর কলগার্ল কমলিনী গুহের (স্বস্তিকা মুখার্জি) কথা তো ছেড়েই দিন ভায়া! তিনি আস্ত জ্ঞানের খনি। প্রথমবার যেদিন তাঁকে ডাকার জন্যে তাঁর দোরে নক করেছে রুদ্র, অমনি খপাৎ করে রুদ্রকে ধরে রুমের মধ্যে পুরে ফেলে তাঁর জ্ঞানবর্ষণ শুরু। ডায়ালগের নমুনা শুনুন একটা। ‘আচ্ছা আপনি কি জেনারেলি মহিলাদের দেখে এরকমই টেনশন করেন, না আমি হোস্টেস বলে আপনার মধ্যবিত্ত রুচিশীল বড় হয়ে ওঠা আপনাকে তোতলাতে বাধ্য করছে?’

ফেসবুকে যে সব আপডেট আপনাকে দিতে দেখি সৃজিত, তা’ দেখে তো মনে হয় দেশ-বিদেশের নানা মুলুকে বড়-বড় হোটেলে বহু বহু দিন থেকেছেন আপনি। সত্যি করে বলুন তো, কোথাও এমন কোন লোক দেখেছেন, রিয়্যাল লাইফেও যে এরকম কথায় কথায় ‘জ্ঞানের গুঁতো’ দ্যায়? নাকি ছবির ডায়ালগ লেখার সময় এই অ্যাজেন্ডা নিয়ে রেখেছিলেন যে, নানাপ্রকার বাণীসমূহ যে করে হোক এই ছবির স্থলে স্থলে ঠুসে দিতেই হবে!

মূল উপন্যাসে মার্কোপোলোকে দ্যাখান হয়েছিল হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে। গপ্পের শেষে মার্কোপোলো হোটেল থেকে সরে দাঁড়ান বিশেষ একটা কারণে। গল্পে সেটা ডিটেল বলা আছে। কেলেঙ্কারি হল এই সিনেমায়, কারণ শুরুতেই বলে দেওয়া হল, (মার্কোপোলোর আদলে তৈরি) মকরন্দ পাল নাকি এই হোটেলের মালিক। সংলাপের এক খোঁচায় ম্যানেজার থেকে মালিক হওয়ার ব্যাপারে আমার আপত্তি নেই কোন। কিন্তু সিনেমার শেষে কেন তাঁর হোটেল অন্যের হাতে গেল, এবং কেন ভদ্রলোক ক্ষমতাচ্যুত হলেন, সিনেমায় তার কোন লজিক পেলাম না খুঁজে!

আরও মজা শুনুন। এক লাইন ডায়ালগ থেকে জানতে পারলাম এটা যে, হোটেল মালিক মকরন্দ পাল প্রথম জীবনে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন নাকি হোটেল বয় হয়ে। এই লাইনটা ‘দ্য গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেল’ (২০১৪) থেকে ছেঁকে তুলে আনা, না? কিন্তু সেই ছবিতে এই একটা লাইনের আড়ালে যে ঢাউস একটা গল্প ছিল, সাহেব! এখানে ‘শাহজাহান রিজেন্সি’তে তো সেটারও কোন বালাই পাট নেই!

আরও অদ্ভুত সব খটকা লাগছিল ছবিটা দেখতে দেখতে, জানেন! ষাট-সত্তর বছর আগে কী হয়েছে ছাড়ুন। আজকের দিনে এতবড় হোটেলে চাকরি শুধু একটা খুচরো গোয়েন্দার (বরুণ রাহার ভূমিকায় রুদ্রনীল ঘোষ) মুখের কথায় হয়? হোটেল ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রি নিয়ে একটা শব্দ অবধি বলে না এখানে কেউ? কাজে জয়েন করার পরে রুদ্রের তো দিনকয়েক নাকানি-চোবানি খাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিনেমায় দেখতে পাবেন সিনের পরে সিন যাচ্ছে, গায়ে কেমন মিষ্টি মিষ্টি হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও!

পঞ্চাশের দশকে হয়তো এটা সম্ভব ছিল, স্যর! যে একটা হোটেলে রুম না পেয়ে বিদেশি অতিথিদের কোথায় নিয়ে তুলবেন ভেবে আকুল শিল্পপতি! কিন্তু এটা কি আর আজকের এই কলকাতাতে হয়? একটা হোটেলে রুম না পেলে শহরে তো আরও দশটা হোটেল আছে! পাঁচ তারা হোটেলের তো আর কমতি নেই কিছু!

স্ক্রিপ্ট লেখার সময় কি এই কথাগুলো খেয়াল ছিল না নাকি?

বা ধরুন আজকের দিনের পোড় খাওয়া কলগার্ল। বেশ্যাবৃত্তি করার ফাঁকে কমবয়সী একটা ছেলের প্রেমে পড়ে গেল দ্রুত। এই অবধি মেনে নেওয়া গেল সব। কিন্তু হবু শাশুড়ির তরফ থেকে সেই সম্পর্কটা ভাঙার একটা কথা উঠলেই প্রেমিকটিকে একটি কথাও না জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটি অমনি সুইসাইড করতে রেডি?

কোন সিচুয়েশনে কোন ক্যারেকটার যে বিহেভ করবে কেমন, সিন লিখতে বসার আগে সেটুকু অবধি ভাবার যেন সময় নেই কারুর!

এ লেখার শুরুর দিকেই বলতে চেয়েছি যেটা। ধর-তক্তা-মার-পেরেক স্টাইলে বাংলা বাজারে তৈরি হচ্ছে ছবি। ‘শাহজাহান’ রিলিজের আগেই সৃজিতের পরের ছবি ‘ভিঞ্চিদা’ও রেডি। সেটার রিলিজ এপ্রিলের মাঝে। এর মধ্যেই দুদ্দাড়িয়ে শুরু হচ্ছে সেটারও পরের ছবির কাজ। যেটার আবার শিডিউল্‌ড রিলিজ পুজো! একটু দূর থেকে দেখুন। আর্টিস্ট বলে মনেই হবে না কাউকে যেন। বরং কারখানার মাল তৈরির মেশিন বলে মনে হলেও হতে পারে।

কোয়ান্টিটি বাড়াতে গিয়ে কোয়ালিটি যদি খারাপ হয়, তাতেও এখন বোধহয় যায় আসে না কিছু। খেয়াল করবেন ‘শাহজাহান’-এর শুরুর ক্রেডিটগুলো। দেখতে পাবেন বড় টিভি চ্যানেলের লোগো। ওই লোগো প্রেজেন্স ডিকোড করতে পারলে বুঝে যাবেন, রিলিজ করার আগেই নামী চ্যানেলে এ ছবির বিক্রিবাটা সারা। একটা সূত্রে খবর পেলাম, সে বিক্রিটাও এমন দামে হয়েছে যে তারপরে বক্স অফিসে ছবির ব্যবসা সে রকম আর না জমলেও চলে!

কেন জানি মনে হচ্ছে, বাংলা ছবিরও এখন বোধহয় ‘শাহজাহান হোটেল’ দশার যুগ। ঠাটবাট আর ঝলমলানির প্যাকেজ আছে পুরো। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ওপরচালাকি ঠাসা। ভেবে দেখুন, এরই চোটে ডকে উঠেছিল ‘শাহজাহান হোটেল’। বাংলা ছবির সংসারে সেই ঘটনার না পুনরাবৃত্তি হয়।

2 COMMENTS

  1. একটা ফালতু পরিচালক যার কোন সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি নেই, শুধু নিজের জ্ঞানের কচকচানি দিয়ে সিনেমা বানায় আর একদল আঁতেল পাবলিক সেগুলো গপাগপ গিলে বাহঃ বাহঃ করে তার সম্পর্কে এত শক্তি ও সময় ক্ষয় করে লেখার কোন মানে নেই যদিনা কাগজের উক্ত বিভাগে চাকরি করার দায় বা কোন বানিজ‍্যিক উদ্দেশ্য থাকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.