১০ বছরের লরা মারে খেলছিল তার ন্যানির সঙ্গে | আমেরিকার সিনসিনাটি শহরে তাদের বাড়ির সামনের বাগানে | এ সময় এলেন তাঁর মা | মেয়ের হাতে দিলেন একটি ছোট্ট ভায়াল | ভর্তি ধূসর গুঁড়োয় | ছোট্ট লরা শুনল কোনও একজন নিল আর্মস্ট্রং দিয়েছেন এই উপহার | এতে ভরা আছে চাঁদের মাটির গুঁড়ো | বালিকার লরার কাছে তখন শুকনো ধুলোর থেকে অনেক বেশি প্রিয় সবুজ বাগান আর নিজের খেলনাগুলো | 

Banglalive

মায়ের হাতে ওই ভায়াল ফিরিয়ে দিল লরা | তারপর ভুলেই গেল সেই ভায়াল | যার গায়ে লেখা“To Laura Ann Murray – Best of Luck – Neil Armstrong Apollo 11” | 

সেদিনের লরা মারে আজ লরা সিক্কো | বছর পাঁচেক আগে মারা গিয়েছেন তাঁর বাবা মা | তাঁদের জিনিসপত্র খুঁজতে গিয়ে লরা পান সেই ভায়াল | এক লহমায় মনে পড়ে যায় সবকিছু | উত্তেজিত লরা তাঁর স্বামীকে বলেন‚ অতুল ঐশ্বর্য আছে তাঁদের কাছে | একমুঠো চাঁদের মাটি !

তখন মারে দম্পতি জানতেন না কী করবেন ওই ভায়াল নিয়ে | এখন লড়ছেন আইনি যুদ্ধ | বিপরীতে নাসা-র মতো সংগঠন | নাসা ওই ভায়ালের মালিকানা দাবি করেনি | তবে ইতিহাস বলছে ব্যক্তিগত মালিকানা থেকে চাঁদের উপাদান নিয়ে নিয়েছে নাসা | তাই সতর্ক মারে দম্পতি এবং তাঁদের আইনজীবী |

লরার আইনজীবীর দাবি‚ ওই ভায়াল ছিল আর্মস্ট্রং-এর তরফে উপহার | তিনি এবং লরার বাবা ছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর বৈমানিক | সহকর্মীর বালিকা মেয়েকে ভায়াল ভর্তি চাঁদের মাটি উপহার দিয়েছিলেন নিল আর্মস্ট্রং | প্রমাণ স্বরূপ আছে আর্মস্ট্রং-এর নিজের হাতে লেখা এবং অটোগ্রাফ | এরকম কোনও আইন নেই যেখানে বলা হয়েছে সাধারণ নাগরিক নিজের কাছে চাঁদের উপাদান রাখতে পারবে না |   

এখনও দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয়নি | তার আগে লরা ভায়ালটিকে নিজের কাছ থেকে সরিয়ে ফেলেছেন | তিনি এখন থাকেন টেনেসি শহরে | ভায়াল রেখেছেন তাঁর আইনজীবী | নিরাপদ কোনও জায়গায় | 

আরও পড়ুন:  বাবার ওপর অভিমানে পালিয়ে যাওয়া ছেলে ঘরে ফিরে এলো ১০ বছর পরে

NO COMMENTS