বৃদ্ধার আজীবনের সঞ্চয়ে আস্ত হাসপাতাল

রাজমিস্ত্রির জোগাড়ে, বাড়ির আয়া, সব্জি বিক্রেতা | বিভিন্ন সময়ে এগুলো ছিল সুভাষিণী মিস্ত্রির পেশা | পেটের ভাত জোটাতে নানা ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি | আজ, ৭০ বছরে পৌঁ্ছে একটা দোতলা সাদা বাড়ির সামনে দাঁ্ড়িয়ে তৃপ্তির স্বাদ পান তিনি | তাঁ্র সারাজীবনের সঞ্চয়ে তৈরি হাসপাতাল্ | ২৩ বছরের তরুণী সুভাষিণী ঠিক এই স্বপ্নটাই দেখেছিলেন্ | যখন বিনা চিকিৎ্সায় মারা গিয়েছিলেন তাঁ্র স্বামী | সেদিন থেকে সুভাষিণী ভেবেছিলেন কী করে কম খরচে গরিবদের চিকিৎ্সার ব্য়বস্থা করা যায়্ |

কলকাতার কাছেই হাঁ্সপুকুর গ্রামে মূলত ডোনেশনের টাকায় চলা ২৫ শয্য়ার এই হাসপাতালে ১২ জন ডাক্তার আছেন্ | যাঁ্দের মধ্য়ে সুভাষিণীর ছোট ছেলে অজয় একজন্ |

স্বামীকে হারানোর পর শোকে ভেঙে পড়েও এই তরুণী ঠিক করেছিলেন যে করে হোক একদিন গরিবদের জন্য় হাসপাতাল তৈরি করতে হবে | সহায় সম্বলহীন মায়ের স্বপ্ন সত্য়ি করতে পাশে দাঁ্ড়িয়েছিল চার সন্তান্ |

সদ্য় বিধবা সুভাষিণীর বড় ছেলের বয়স তখন সাড়ে চার্ | সবথেকে ছোট মেয়েটি দেড় বছরের শিশু | অন্ন সং্স্থান করতে না পেরে বাধ্য় হয়ে দুই সন্তানকে পাঠাতে হল অনাথ আশ্রমে |

নিরক্সর সুভাষিণী তখন ঘড়ি দেখে সময়টাও বুঝতে পারতেন না | তাই কিছু না পেয়ে শুরু করলেন স্থানীয় পাড়ায় আয়ার কাজ্ | ক্রমে পাশাপাশি তিনি শুরু করলেন রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ্ | হাত লাগালো দুই ছেলেও |

শত অভাবেও তিল তিল করে বাড়তে থাকল সঞ্চয়্ | হাজারো অসুবিধের মধ্য়েও এক ছেলের উচ্চশিক্সার ব্য়বস্থা করেছিলেন সুভাষিণী | সেই অজয় আজ চিকিৎ্সক্ |

অবশেষে ৩০ বছরের সঞ্চয়ে কেনা গেল এক বিঘা জমি | ১৯৯৩-এ তৈরি হল Humanity Trust | এরপর শুরু হল সুভাষিণীর ‘ভিক্সা’ | দরজায় দরজায় গিয়ে সাহায্য় ভিক্সা |

আবেদনে সাড়া মিলল | কেউ দিলেন অর্থ, কেউ আসবাবপত্রের কাঠ, কেউ আবার শুধু দাঁ্ড়িয়ে দাঁ্ড়িয়ে কাজের তদারকি করলেন্ |

প্রথমে তৈরি হল একটা ঘর্ | তিনজন ডাক্তার বিনা পারিশ্রমিকে রোগী দেখা শুরু করলেন্ | অবশেষে ১৯৯৬-এ হাঁ্সপুকুরে পুরো হাসপাতালের উদ্বোধন করলেন তৎ্কালীন রাজ্য়পাল কে ভি রঘুনাথ রেড্ডি |

এই হাসপাতালে বিনামূল্য়ে দরিদ্রদের চিকিৎ্সা করা হয়্ | স্বল্প সং্খ্য়ক কর্মীর মধ্য়ে আছেন সুভাষিণী দেবী নিজে এবং তাঁ্র এক মেয়েও |

কিন্তু হাসপাতালে সমস্য়াও বহু | টাকার অভাব তো আছেই | এছাড়া ডাক্তারদের সং্খ্য়াও কম্ | কারণ এখানে চিকিৎ্সা করে কোনও পারিশ্রমিক মেলে না |

এতসব সমস্য়ার জেরে চালু করা যায়নি ICU | সুভাষিণী দেবী চান,তাঁ্র হাসপাতলেও সবরকম সুবিধে থাকুক্ | রাউন্ড দ্য় ক্লক মিলুক ডাক্তার্-নার্স্ |

এই বৃদ্ধার দৃঢ়তা দেখলে মনে হয়, শুধু ৮ মার্চ না, বছরের ৩৬৫ দিনই সেলাম জানানো হোক মহিলাদের প্রত্য়য়কে |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here