নদীর জল সরতেই বেরিয়ে এল এক সহস্র শিবলিঙ্গ

8396

নদীর জল সরতেই দেখা গেল সহস্র শিবলিঙ্গ | এই অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে কর্নাটকের উত্তরে সিরসি অঞ্চলে | এখানে তীব্র ক্ষরায় শুকিয়ে যায় শল্মল নদী | তার পরেই নদীবক্ষে দেখা যায় পাথরে খোদাই করা শিবলিঙ্গ | এবং তার সামনে বসে আছে ষাঁড় নন্দী |

ঐতিহাসিকরা মনে করেন‚ এই ভাস্কর্য হয়েছিল ১৬৭৮ থেকে ১৭১৮-র মধ্যে‚ রাজা সদাশিব রায়ের শাসনে | মহাদেব ছিলেন তাঁর আরাধ্য দেবতা | সম্ভবত তখন শল্মল নদী অন্যখাতে বয়ে যেত | পরে কোনও প্রাকৃতিক কারণে নদীর প্রবাহ বদলে বইতে থাকে শিবলিঙ্গের উপর দিয়ে | লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায় ভাস্কর্য | তীব্র ক্ষরায় নদী শুকিয়ে গেলে বেরিয়ে আসে অসংখ্য শিবলিঙ্গ এবং নন্দীর প্রস্তরমূর্তি |

অনেকটা একই দৃশ্য দেখা যায় ভারতের বাইরে‚ কম্বোডিয়ায় আঙ্কোরভাটেও | এই জায়গা এমনিতেই প্রাচীন বিষ্ণুমন্দিরের জন্য বিখ্যাত | যা পরিচিত আঙ্কোরভাটের মন্দির নামে | পাশাপাশি উত্তরপূর্ব আঙ্কোরভাটে নদীবক্ষে পাথরের উপর খোদিত আছে শিবলিঙ্গ‚ বিষ্ণুমূর্তি‚ রামসীতার মূর্তি এবং লক্ষ্মী ও হনুমানের প্রতিরূপ |

কেউ পুজো না করলেও স্থানীয়রা মনে করেন এই ভাস্কর্য আসলে জমির উর্বরতার প্রতীক | খ্রিস্টীয় একাদশ-দ্বাদশ শতকে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এই দেশগুলো জয় করে শাসন করতেন দাক্ষিণাত্যের ভারতের নৃপতি ও সেনাপতিরা | তাঁরাই এই ভাস্কর্য নির্মাণ করান বলে মনে করেন ঐতিহাসিকরা |

কম্বোডিয়ার গৃহযুদ্ধে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নষ্ট হয়েছে | কিন্তু রক্ষা পেয়েছে সহস্রলিঙ্গ | সৌজন্যে‚ ঘন বনাঞ্চল | তারাই মানুষের লোলুপ দৃষ্টির হাত থেকে আড়াল করে রক্ষা করে এসেছে মানুষেরই শাশ্বত সৃষ্টিকে |

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.