দেবাশীষ দেব
স্বনামধন্য এই অঙ্কনশিল্পী নিজেই এক সম্পূর্ন প্রতিষ্ঠান | তাঁর হাত ধরে নতুন করে প্রাণ পেয়েছে বাংলার কার্টুন শিল্প | সিগনেচার বেড়াল আর স্ব-নেচারটি কোমল, আত্মবিশ্বাসী, রসিক | বেড়ানো তাঁর নেশা | তাই ঝুলিতে রয়েছে বহু গল্প, সঙ্গে অসাধারণ সব স্কেচ | সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তাঁর নিরলস সাধনার অমর ফসল ‘রঙ তুলির সত্যজিৎ’ |
উন্নয়নের পথে সেলেরিগাঁও

রেনুজির কটেজের নিচে অবধি গাড়ি চলে যায় | আমরা দুজনে দুটো স্যাক পিঠে নিয়ে কায়দা করে মহিলার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম | আমাকে দেখে চিনতে না পারলেও বাঁদুরে টুপি পরা রেনুজির হাসি কিন্তু দুকান অবধি পৌঁছে গেল এবং হাসতে হাসতেই জানিয়ে দিলেন ওই আধুনিক কটেজটা শুধু একদিনের জন্য পাওয়া যাবেকাল থেকে সব বুকড |

Banglalive
রেনুজির বারান্দা থেকে প্রথম স্কেচ

তিন দিন থাকব বলে এসেছি খামোখা দুবার নড়ানড়ি করার মানে হয় না ফলে গোমড়া মুখে পাশের মূল বাড়িটার একটা ঘরে ঢুকে পড়লাম‚ আধুনিক নয় বটে তবে সামনে বিশাল চওড়া বারান্দা রয়েছে বসে বসে শুধু চারপাশের দৃশ্য দেখে কাটিয়ে দেওয়া যায় |

একটা ছোট্ট দোকান চালায় এই দুই বোন

গিন্নি অবশ্য ভালো করে ওই কটেজগুলো দেখেশুনে এলোএরা যেখানে থাকে‚ রাঁধে-বাড়ে সেখান থেকে কিছুটা দূরে‚ পাহাড় ঠেঙিয়ে যেতে হয়‚ তার চেয়ে বরং এই ভালো | আমরা সত্যি ওই বারান্দাটাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম | শুধু তিনবেলা খাওয়াই নয়‚ ওখানে গুছিয়ে বসে ছবি আঁকাও হয়েছে বেশ কয়েকটা | ওদিকে কাঞ্চনজঙ্ঘাও ছিলেন তেমনি দিলদরিয়াটানা তিনদিন আমাদের সামনে পোজ দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন | 

রেনুজির বারান্দা থেকে দ্বিতীয় স্কেচ

রেনুজির হেল্পিং হ্যান্ড ওঁর পুত্রবধূ আরতি আমাদের সঙ্গে বেশ জমিয়ে নিল | একদমই বাচ্চা মেয়ে‚ বর আছে ফৌজে‚ বাড়ি প্রায় আসেই না তাই ভারী মন খারাপ | বললাম‚ “বোসো তোমার ছবি আঁকি”অমনি ছুট্টে পালাল‚ ব্যাপার কী? কিছু মনে করল নাকি?

ছবি আঁকব বলে সেজেগুজে এলো আরতি

একটু পরেই দেখলাম সেজেগুজে লিপস্টিক লাগিয়ে চুলে কায়দা করে ফিরে এসেছেবলল অভি বানাইয়ে| ঘরের পিছনে একটু উঠে একটা ছোট্ট বাঁশের গেট পেরোলেই পাইনের জঙ্গল‚ সরু রাস্তার চারপাশে নানা রঙের অজস্র ফুল ফুটে আছে‚ চোখ ফেরায় কার সাধ্যি! আমরা গেলাম দু কিলোমিটার পেরিয়ে ডামসাং টপে লেপচা রাজার দরবারের ভগ্নাবশেষ দেখতে‚ বিশাল গর্তের মধ্যে কিছু ইঁটের নড়বড়ে দেওয়াল ছাড়া আর কিছুই নেই | তারই মধ্যে একটা জায়গাকে ঠাকুর ঘর বানিয়ে দেখলাম এরা নিয়মিত পুজো-টুজো করে | সেলেরিগাঁওতে ইদানিং বিদ্যুৎ এসে গেছে‚ তাছাড়া সিল্ক রুটের যাত্রীরা অনেকেই এখানে এক রাত্রি কাটিয়ে যায় ফলে নিরিবিলি ভাবটা কমেছে | কপাল তেমন মন্দ হলে পাশের কটেজেই হয়ত এসে উঠবে ছেলে ছোকরার দল আর মাঝরাত অবধি তারস্বরে বক্স লাগিয়ে গান চালাবে | ঘর থেকে বেরিয়ে চাঁদনি রাতে কাঞ্চনজঙ্ঘার মায়াময় রূপ দেখার ইচ্ছেটা তখন সযত্নে বানচাল করা ছাড়া উপায় থাকবে না | উন্নয়ন আর কাকে বলে!

আরও পড়ুন:  চিকেন গোল্ড কয়েন

1 COMMENT

  1. Sei rong er gondher sathe , ashadharon biborn ta mon take narye dilo, Mumbai te boshe Janlar samne darye nijekei nije jigesha korlam unnayon mane ki..? Ki jani..aonek sohor aonek mukh dekhchi..sobai ki chay, ki jani ..na dhobi akar Khata dakche…