গলছে মেরুপ্রদেশের বরফ সমুদ্র, ধরা পড়ল গ্রিনল্যান্ডে স্লেজ কুকুরদের জল ভাঙা ছবিতে

416
Greenland Melting Ice

গ্রিনল্যান্ডের সমুদ্র গলছে। বরফ গলা জলের ভেতর স্লেজ কুকুরদের হাঁটার ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই ছবি যথেষ্ট উদ্বেগজনক পরিবেশবিদদের কাছে। উষ্ণায়নের ফলে উত্তর মেরুর প্রকৃতি কীভাবে বদলে যাচ্ছে তারই পরিচয় দিচ্ছে এই চিত্র। এই ছবির চিত্রগ্রাহক স্টিফেন ওলসেন নামক এক ব্যক্তি। তিনি যখন তাঁর স্লেজ কুকুরদের উত্তর মেরুর বরফ গলা সমুদ্রের ওপর দিয়ে হাঁটাচ্ছিলেন, তখনই এই ছবি তোলেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন বর্তমান বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে উত্তর মেরুতে রেকর্ড হারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রিনল্যান্ডেও এর প্রভাব দেখা গেছে। সেখানে বিশাল পরিমাণ বরফ গলে গেলে সারা পৃথিবীর উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি সমুদ্রের তলায় চলে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। উত্তর মেরুতে ২০১২ সালের উষ্ণায়ন জনিত গলনের রেকর্ড ভাঙতে পারে বর্তমান ২০১৯ সাল। ‘এই বছরের আবহাওয়ার গতি প্রকৃতি তেমনই’ জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

জুন মাসের মাঝামাঝি উত্তর পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডে একজন ডিএমআই বিজ্ঞানী তুলেছেন এই বরফসমুদ্র গলনের ছবি। সমুদ্রবিজ্ঞান ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করার সময়ে স্টিফেন ওলসেন এই ছবিটি তোলেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কিছু স্লেজ কুকুর একটি সামুদ্রিক খাঁড়ির মধ্যে হোঁচট খেয়ে খেয়ে চলছে। তাদের পা ঢুকে গেছে কয়েক সেন্টিমিটার গভীরে। অর্থাৎ জমাট বাঁধা বরফের সমুদ্র গলে যাচ্ছে। চারিদিকে বরফমুক্ত পর্বতের প্রেক্ষাপটে উন্মুক্ত নীল আকাশের নীচে শ্লেজ কুকুরেরা জলের ওপর হেঁটে যাচ্ছে, এই আপাত অপরূপ দৃশ্যের পেছনে রয়েছে এক বিশ্বের ভয়ানক সংকটের বার্তা। ওলসেনের অভিযানে সাহায্যকারী স্থানীয় লোকজনের কাছেও এই দৃশ্য বিস্ময়কর। তারা কখনই দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি এই সমুদ্রের বরফ এত তাড়াতাড়ি গলতে শুরু করবে। এই বরফ-কঠিন সমুদ্রের ওপর দিয়েই এতদিন তারা অবাধে চলাফেরা করত কারণ সমুদ্রের ওপর বরফের আস্তরণ এতটাই পুরু ছিল ! কিন্তু বরফ গলতে শুরু করলে আর ওই পথ দিয়ে যাওয়া যায় না। জল গভীর হতে থাকলে তারা পথ বদল করতে বাধ্য হলেন।

গ্রিনল্যান্ডের বরফ গলার ফলে প্রতি বছর ১৩.৭ মিলিমিটার করে সমুদ্রতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই কারণে মেরু প্রদেশে মেরু ভালুকের সংখ্যাও ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে বিগত বছরগুলোতে। প্রসিডিং অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমী অব সায়েন্স-এ প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে ২০০০ এবং ২০১০ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে আকস্মিকভাবে বরফ গলার হার সাংঘাতিক ভাবে বেড়ে গেছে মেরুপ্রদেশে। ১৯৮০ সালের চেয়ে এখন ছয় গুণ বেশি হারে বরফ গলছে। আর ভবিষ্যতের পূর্বাভাস আরওই বিপজ্জনক। ২০১৪ সালেই ইউ এন আন্তঃসরকারি সভায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে এই আশঙ্কা ঘোষিত হয়েছিল যে একবিংশ শতকের শেষ দিকে উষ্ণায়নের প্রভাবে জলবায়ুর ভয়াবহ বদল হবে এবং সমুদ্রতল অন্তত এক মিটারেরও বেশি বেড়ে গিয়ে অচিরেই উপকূলবর্তী শহর গ্রাম সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই গলছে উত্তর মেরু। জলবায়ুর এই অস্বাভাবিক বদলের কারণ মানুষের কৃতকর্ম। তাই মানুষকেই সাবধান হতে হবে। বিলাসে আর ভোগে সংযমী হতে হবে। উষ্ণায়নের ব্যাপারে আরও সতর্ক হতে হবে। না হলে ধ্বংসের দিন আর বেশি দূরে নেই।

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.