সন্তান পড়াশুনোয় অমনোযোগী? সারাক্ষণ মোবাইলে ব্যস্ত? সমস্যা সমাধানে হাজির ‘মন নিয়ে’ (পর্ব ৫)

মুখে যতই বলিবয়স একটা সংখ্যা মাত্রজীবন কিন্তু অন্য গল্প শোনায়বয়স যত সামনের দিকে গড়ায় তত জমে থাকা নানা স্মৃতি মনকে ধূসর করেএকইভাবে টিনএজ সমস্যার দিক থেকে এখনো আমরা মুখ ফিরিয়ে| ফলে, ছোট থেকেই নানা সমস্যায় জেরবার এই বয়স| যন্ত্রণা চাপতে গিয়ে বড়রা যেমন হারিয়ে ফেলেন সৌজন্যের মাত্রা বোধ, ছোটরা সবার থেকে সরিয়ে নেয়গুটিয়ে নেয় নিজেদের| অনেকসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়| এই সমস্যা কি আপনার বাড়িতেও? মন বিশ্লেষক পারমিতা মিত্র ভৌমিক রয়েছেন আপনাদের পাশে—

ঘটনা ১: যত দিন যাচ্ছে খাওয়া-ঘুম-শোয়ার মতই রোজের প্রয়োজনের অন্যতম উপাদান মোবাইল| whatsapp, instagram, facebook-এর নেশায় বড়রাই যেখানে যান্ত্রিক সেখানে ছোটদের দোষ কী? তারা তো আরও বেশি করে ডুব দেবে অজানাকে জানতে! তেমনই আনন্দিনী ভোজানি| ১৪ বছরের মেয়েটি দক্ষিণ কলকাতার এক নামী স্কুলের ছাত্রী| পড়াশোনায় এক সময় খুবই ভালো ছিল| এখন মোবাইল তাকে ‘গিলিয়াছে গোটা’| পড়া ছেড়েছে| বন্ধুদের সঙ্গে মেশা বন্ধ করেছে| কথা বলে না বাড়ির কারোর সঙ্গে| আনন্দিনী কি কোনদিন আবার আগের মতো হবে?  

কেন হয়েছে— কারণ অনেক| এক, উচ্চ মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী বাড়ির জয়েন্ট ফ্যামিলির মধ্যে সবার থেকে একদম ছোট মেয়েটি মুখ থেকে কথা খসালেই হাতের মুঠোয় সব পায়| দুই, বাড়িতে শাসন করা হয় না একেবারেই| তিন, মেয়েটি স্কুলে লাগাতার মানসিক অত্যাচারের শিকার| সারাক্ষণ তাকে শুনতে হয় সে ‘বোকা’, ‘আনস্মার্ট’, ‘ছেলেমানুষ’|

এই তিন কারণে বিরক্ত আনন্দিনী মোবাইলে আশ্রয় খুঁজেছে| আরও একটা কারণে সে যন্ত্রটি ঘাঁটে| এর থেকে যদি চটপট করে বড় হওয়ার উপায় খুঁজে পায়! এই একই কারণে বন্ধু, বাড়ি সবার সঙ্গে মেশা, কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে| পড়াশোনাতেও উত্সাহ পায় না|  

সমাধান— আনন্দিনীকে নিয়ে আমার সঙ্গে বাড়ির লোক দেখা করতেই প্রথমে পুরো ব্যাপারটা মন দিয়ে শুনি| তারপর শুরু করি ট্রিটমেন্ট| Impulse control skills (ধৈর্য বাড়ানোর চিকিত্সা), anger management skills (রাগ কমানোর চিকিত্সা) and social skills (মেলামেশা বাড়ানোর চিকিত্সা) দিয়ে শুরু হয় ট্রিটমেন্ট| কাউন্সেলিং-এর সঙ্গে ফোনেও কথা বলতে থাকেন এক্সপার্টরা| যাতে মেয়েটির মনে ক্ষোভ না জমে| সেই সঙ্গে স্কুলের প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলি, রাগিং বন্ধ করার জন্য| প্রিন্সিপালও আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেন| কড়া নজর রাখেন স্কুলের অন্য মেয়েদের ওপর| যাতে কেউ আনন্দিনীকে বিরক্ত করতে না পারে|

একইভাবে কথা বলি পরিবারের বাকি লোকেদের সঙ্গে| তিনটি সেশনে তাঁদের শেখাই, কীভাবে টিনএজ ছেলেমেয়েদের সামলাতে হয়| এভাবে ৪ মাস চিকিত্সা চলার পরে আনন্দিনী অনেকটাই আগের মতো| পড়াশোনায় মন দিয়েছে আবার| বন্ধুদের সঙ্গে মিশছে| বন্ধুদের সংখ্যাও বেড়েছে| বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলছে| মোবাইল নিয়ে নাড়াচাড়া তুলনায় কমিয়েছে|

পড়ার পাশাপাশি এখন টেনিস খেলা শিখছে সে| আপাতত ২ মাস অন্তর একবার আসে আমার কাছে| আনন্দিনীর হাসিমুখ দেখে খুশি অর বাড়ির লোক| আমাদের দেশ এখনও বোঝে না, বয়ঃসন্ধি খুব স্পর্শকাতর| একে ঠিকমত বুঝতে না পারলে, ঠিকমত যত্ন নিতে না পারলে অভিমানে ঝরে যেতে পারে অনেক তাজা প্রাণ|           

যোগাযোগ: ৯৮৩০০-২১৫৬৭      

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Please share your feedback

Your email address will not be published. Required fields are marked *

spring-bird-2295435_1280

এত বেশি জাগ্রত, না থাকলে ভাল হত

বসন্ত ব্যাপারটা এখন যেন বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেছে। বসন্ত নিয়ে এত আহ্লাদ করার কী আছে বোঝা দায়! বসন্তের শুরুটা তো