আজকের ভারতবর্ষে দাঁড়িয়ে আপনি আপনার ভিউ জানাতে পারেন!? – সোহিনী সরকার

Sohini Sarkar interview

ছোট পর্দা অথবা বিশেষত বড় পর্দায় নিজের কাজের মাধ্যমে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করে নিতে পেরেছেন সোহিনী | মন খোলা আড্ডা দিলেন বাংলালাইভের জন্য |

সাক্ষাৎকারঃ তন্ময় দত্তগুপ্ত

হ্যাপি পিলরিলিজ  করেছিল।সেই সময় একটা ইন্টারভিউতে বলেছিলেন যে আপনার কোনও হতাশা নেই।আজকেও কি তাই বলেবেন?

সোহিনী সরকার : আমি জানি না আপনি কোন ইন্টারভিউ দেখেছেন।ওই সময় এই ধরনের কথা অনেক শোনা গেছিল।ডিপ্রেশন হল মানুষের মনের নিম্নগতি বা অবসাদ।কাজের চাপে আমি ডিপ্রেশনকে  কমই এ্যাক্সেপ্ট করি।সাংবাদিকদের সঙ্গে অনেক কথাই হয়।কোন কথার মধ্যে কোনটাকে  তুলে ধরা হয়েছে,সেটা ঠিক জানি না।আপনিও সাংবাদিক।আমার কথাগুলো রেকর্ড করছেন।ভিডিও ইন্টারভিউ দিতে সুবিধা হয়।কিন্তু লেখার সময় যেটা ঠিক বলতে চেয়েছি, সেটা অনেক সময় লেখা হয় না।তাই ইন্টারভিউ দিতে আমার একটু সমস্যা হয়।দেখুন আমার ডিপ্রেশন ডেফিনেটলি হয়।ডিপ্রেশনের জন্য আমি সাইক্রিয়াটিস্টও দেখিয়েছি।এটা নিয়ে আমার কোনও দ্বিধা নেই। কিন্তু কাজের সময় আমি অবসাদের স্বীকার হইনি।

কাজের মধ্যে থাকলে হতাশা আপনাকে ছুঁতে পারে না?

সোহিনী সরকার : কোনও অসুবিধা হলে কাজের মধ্যে গেলে সেটা কেটে যায়।কাজের জায়গায় চেষ্টা করি হতাশা  যাতে না আসে।এখন অবসাদ সবার আসে।আমি অভিনেত্রী বলে  অন্যরকম কিছু হয় না।যারা শিল্পবোধ সম্পন্ন এবং অনুভূতিপ্রবণ তাদের ডিপ্রেশন আরো আসে। সাধারণ মানুষের থেকে শিল্পীর অনুভূতি তো একটু আলাদা।

এবারে ভোটের রেজাল্ট বেরোলো।দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে শাসক দলের পাশাপাশি আরেকটা দল উঠে আসছে।বাম আমল,তৃণমূল, আরএখন বিজেপির উত্থান।টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রি সব আমলেই কি রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবিত ?  

সোহিনী সরকার : শুধু এই ইন্ডাস্ট্রি কেন,দলের পরিবর্তন হলে সে প্রভাব পড়বেই।এই বিষয়টার ক্ষেত্র অনেকটাই বড়।সিপিএমের প্রভাব যখন ছিল,তখন এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমি সবে কাজ শুরু করেছি।আমি ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পরে পরিবর্তন আসে।তৃণমূল আসে।তারপরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তৃণমূলের প্রভাব খুবই আছে।এটা সবাই জানে।এরপর অন্য দল এলে তাদের প্রভাব আসবে।এখন এর ফলে কি ভালো বা কি খারাপ?সেটা সবাই জানে।এখন এটা বলার দায় আমার নেই।অন্তত এই ইন্টারভিউতে আমার বলার দায় নেই।

তারকারাও নিজেদের প্রচার করে।তাদের এভারেজ বিষয়গুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানোর চেষ্টা করে।বা যেটা পজিটিভ নয়,সেটাও পজিটিভের মতো করে প্রোজেক্ট করতে চায়।এখন পলিটিক্যাল লিডারও নিজের নেগেটিভ দিকগুলোকে হাইড করে বা নেগেটিভ দিকগুলোকে পলিটিক্যালি পজিটিভ করে তোলে।তাহলে প্রশ্ন এখানেই; নেতা এবং অভিনেতাদের  প্রচারে আদৌ কি কোনও ফারাক থাকে?

সোহিনী সরকার : এটা খুব আপেক্ষিক বিষয়।ফারাক আছে কি নেই,এই প্রশ্নের চেয়ে বড় আরেকটা দিক আছে।সকলের মধ্যেই আমিত্ব আছে।এই আমি‘-টা সকলের আছে।এখন এই আমি‘-কে কতরকম ভাবে দেখানো যায়,তার একটা লড়াই চলে। ছবির প্রচারের ব্যাপারে বলব,একটা ভালো ছবি মানুষ দেখবেই।এতে প্রচারের দরকার কি!আমার এরকম মনে হয়।আবার প্রচার না করলে,কেউ হয়ত ছবি সম্পর্কে জানবেই না। এখনকার সময়ে মানুষকে ডেকে ডেকে বলতে হয়,দেখো আমি অমুক।আমি তমুক।এই ভোটের রেজাল্ট দেখলেই বুঝতে পারবেন প্রচার কতটা জরুরি।সব দলের ক্ষেত্রেই এটা সত্যি।এতেই আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি।ফেসবুক খুলে দেখুন,শুধু অভিনেতা অভিনেত্রী নয়।মানুষ কীভাবে নিজের প্রচার করছে।আরো চারটে কথা আমি বলতে চাই

হ্যাঁ, অবশ্যই বলবেন। কী কথা?

সোহিনী সরকার : বলতে চাইলেও বলতে পারব না।আমার যখন পঞ্চাশ বছর বয়স হবে,যখন কোনও কিছুর সঙ্গে লেনা দেনা থাকবে না তখন বলব।তখন কাউকেই জবাবদিহি করতে হবে না।ফোন নাম্বারটাও চেইঞ্জ করে নেব।এখন আমি এই সব কথা বলব না।আপনি আমায় যতই খোঁচান, বলব না।

আমি খোঁচাচ্ছি না।আপনার নিজস্ব তো একটা ভিউ আছে।সেটাই জানতে চাইছি।

সোহিনী সরকার : আজকের ভারতবর্ষে দাঁড়িয়ে আপনি আপনার ভিউ জানাতে পারেন?এখনই এই  ইন্টারভিউ পড়ে পাঁচশো গালিগালাজ আসবে।আমার শিরদাঁড়া আছে।কিন্তু লোকজনের লাথি ঝাঁটা খেতে পারব না।

সোহিনী আপনার সাথে আমার ফারাক হল আমি সাধারণ মানুষ।আমি বলতে পারি।কিন্তু আপনি সেলিব্রিটি।সেলিব্রিটিদের অনেক কিছু  মেনটেন করতে হয়।ঠিক আছে অন্য প্রসঙ্গে যাই

সোহিনী সরকার : সাধারণ মানুষের মধ্যে আমার মাও রয়েছে।আরো অনেকে রয়েছে।তাহলে ধরে ধরে তাদের কথা বলতে হয়।তাই এসবের মধ্যে যেতে চাই না। ফড়িংযখন করেছিলাম, তখনও ছবির প্রচার হয়েছিল।ফড়িংএখন করলে কতটা ভালো হত সেটা অন্য প্রশ্ন।এখন আমার সেই সারল্য নেই।এখন আমার সরলতা অনেক কেটে গেছে।ফড়িংএখন হলে অনেক বেশি হাইলাইটেড হত।এখন সোহিনী,ঋত্বিকের নামেও ছবি চলে।সেই সময় আমরা অত নাম করিনি।কলকাতার কিছু মানুষ বাদে পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীকেও কেউ জানত না।ফলে ফড়িংএখন রিলিজ করলে হয়ত অনেকদিন চলত।

আপনি ফ্ল্যাটে থাকতে ভালোবাসেন না।বাড়িতে থাকতেই বেশি পছন্দ করেন।কারণ কী?

সোহিনী সরকার : ফ্ল্যাটে গাছপালা লাগানো যায় না।যদিও আমি ফ্ল্যাটেই থাকি।সেটা বাড়ির মতো হয়ে গেছে।আমি খুব বিড়াল ভক্ত।ফ্ল্যাটে বিড়াল রাখা সমস্যার।একটা একতলা বাড়ির মধ্যে ছড়ানো ব্যাপার থাকে।বড় ছাদ থাকে।সেটা ফ্ল্যাটে পাওয়া যায় না।

বাড়ির মধ্যে সকলে মিলে থাকার রীতি আছে।সেটা কি আপনার মনে কাজ করে?

সোহিনী সরকার : দেখুন,সবাই আমি থেকে আমরা হতে চায়।আবার আমরাও আমি হতে চায়।এটা আমাদের মধ্যে সব সময় থাকে।আমি সবার মধ্যে থাকার সময়,একা হতে চেয়েছি।আবার একা থাকার সময়,সকলের সঙ্গে থাকতে চেয়েছি।এটা আমার মধ্যে প্লে করে।এটার কোনও ব্যাকরণ নেই।মনে কতো কিছু হয়।এক কথায় সেটা বলা যাবে না।আমার বাবা খবরের কাগজ পড়ছে।আর আমার মা শনিবার মাংস রান্না করছে।এই পরিবেশে আমি থাকতে চাই।কিন্তু যখন ওই পরিবেশে ছিলাম,তখন আবার একা থাকতে চেয়েছিলাম।

আপনি কি বৈচিত্রের সন্ধানী?

সোহিনী সরকার : একঘেয়েমি কে চায়?বৈচিত্র সবাই চায়।বৈচিত্র চাই বলেই আমি অভিনেত্রী।বহু চরিত্রে অভিনয় করি।খাদ্যের ক্ষেত্রে আমি বৈচিত্র চাই না। ৩৬৫ দিন আমাকে এক খাবার খেতে দিলে আমি খাব।সেই ব্যাপারে আমি এক্সপেরিমেন্টাল নই।আমি একই রেস্টুরেন্টে গিয়ে ২৫ বার একই খাবার অর্ডার করেছি।আমার এ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে একটা অ্যাকাউন্ট ছিল।সেটা এখনও আছে। অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও আমি বৈচিত্র চাই না।ছোটবেলা থেকেই আমার পছন্দের বই হল পথের পাঁচালী।সেই বইয়ের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র চাই না।

আপনার কাছে ভালো থাকার কনসেপ্ট কী?

সোহিনী সরকার সব সময় আমি ভালো থাকতে চাই  না।সব সময় ভালো থাকলে জীবনে আর কীভাবে বৈচিত্র আসবে!আমরা সবাই বলি —‘ভালো থাকতে চাই।কিন্তু সব সময় কি ভালো থাকা যায়?

স্টারডম নিয়ে বাঁচাটা খুব দম বন্ধ করা মনে হয়‘—এটা আপনার কথা।স্টারডম এনজয় করেন না?

সোহিনী সরকার আমরা কেউ স্টার নই।বুম্বা দা,দেব,জিত স্টার।রাস্তায় গেলে ওনাদের লোক ছেঁকে ধরে।

সে তো আপনি রাস্তায় গেলেও লোকে ছেঁকে ধরবে।তার বেলায়?

সোহিনী সরকার না, না, ওরকম হয় না।আমি যথেষ্ট এদিক ওদিক ঘুরি।নরম্যাল হেয়ার স্টাইলে।আর মেক আপ ছাড়া।তাই আমি কোনওদিন স্টারডম ফিল করিনি।একাডেমিতে নাটক দেখতে গেলাম।মাঝপথে ইন্টারভ্যালে সিগারেট খেলাম।দশজন এসে বলল —‘সেলফি তুলব।তখন স্লাইটলি ডিপ্রেশন হয়।খারাপ মুডে থাকলেও ছবি তুলি।কাউকে নাবলিনি।রাস্তার পাশে আমার ফ্ল্যাট।ফ্ল্যাটের সামনে পঞ্চাশ জন দাঁড়িয়ে তো থাকে না।

ইন্ডাস্ট্রিতে  সুচিত্রা সেন,সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের, সুপ্রিয়া চৌধুরীদের সময় হেলদি কম্পিটিশন ছিল।আপনি পাওলি,স্বস্তিকা,মিমি,নুসরত বা অন্যান্যদের মধ্যে কি সেই হেলদি কম্পিটিশন আছে?

সোহিনী সরকার আপনি পাশাপাশি যখন দৌড়াচ্ছেন,তখন কে প্রথম হল সেই নিয়ে কম্পিটিশন থাকে।আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কম্পিটিশন হয় কী করে?আমাকে ভালো করে কাজ করতে হবে।মিমি কি ছবি পাচ্ছে বা না পাচ্ছেসেটা তো আমার ওপরে নয়।আমার ভালো করাটা;ইন্ডিভিজুয়াল ভালো করা।আমার নিজেকে গ্রুম করতে হলে,সেটা ইন্ডিবিজুয়াল গ্রুমিং।ধরুন টিচার ক্লাস নিচ্ছে।ক্লাসে বহু ছাত্র ছাত্রী। যে পড়া পারল না,টিচার তাকে বলল — ‘তুমি ফোটোসিন্থেসিসটা ভালো করে পড়ে আসোনি।তখন অন্যান্য ছাত্রের মধ্যে কম্পটিটিভ মনোভাব তৈরী  হল।এরকম তো আমাদের হয় না। 

ধরুন কালবেলা‘-র মতো সিনেমা ।যেখানে মাধবীলতার চরিত্রে পাওলির অসামান্য অভিনয়।সেটা কখনও ভাবায় যে ওরকম একটা চরিত্র পেলে খুব ভালো হত?

সোহিনী সরকার : হ্যাঁ, সেটা হয়।ওরকম একটা চরিত্র কেন পেলাম না? যদিও ওই সময় আমি কাজ করতে শুরু করিনি।অপুর সংসার‘-এ পার্ণোর অভিনয় দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে।অপুর সংসার‘-এ পার্ণোর কিছু দৃশ্য দেখলে খুব হিংসা হয়।পার্ণোকে অপুর সংসার‘-এ খুব সুন্দর লেগেছে।এই ছবির  কিছু ক্লিপিংস মাঝে মধ্যেই ফেসবুকে আসে।সেই ক্লিপিংসগুলো আমি বার বার দেখি।তেমন মিমিকেও গানের ওপারেতেখুব ভালো লেগেছে।

আপনার যা কিছু  নিষিদ্ধ  তার ওপরে আকর্ষণ।এই নিষিদ্ধ তালিকায় কী কী আছে?

সোহিনী সরকার : বিবাহ বার্ষিকীতে আমার মাকে আমার বাবা তসলিমা নাসরিনের লজ্জাউপহার দিয়েছিল।যে বইয়ের তাকে আমাদের বই থাকত,সেখানে না রেখে  সেই বই মা অন্যখানে সরিয়ে রেখেছিল।আর তাই বইটার প্রতি আমার আগ্রহ বাড়ল।আমি খুব ছোট তখন।আমি লজ্জালুকিয়ে পড়া শুরু করি।ওখানে ধর্ষণ শব্দটা বার বার পড়ি।কিন্তু ধর্ষণের মানে বুঝিনি।তখন সবে খবরের কাগজ পড়া শুরু করেছি। খবরের কাগজেও এই শব্দ পেয়েছি।মনে হত ধর্ষণ মানে একটা কিছু বাজে হয়েছে।কিন্তু কী বলতে চাইছে, বুঝতে পারতাম না।একবার খুব দুপুর বেলায় টিভিতে জুলি‘  দিয়েছিল।পাশের বাড়ির কাকিমাকে মা বলছিল —‘এ বাবা টিভিতে জুলি দিয়েছে! কী করে দেখব‘? আমি এই কথা শুনে ঘুমিয়ে পড়ার ভান করলাম।এভাবেই ছবিটা দেখলাম।কিন্তু মা জুলিদেখে যে  রকম করল,ছবিটা দেখে তেমন হয়নি।জুলি‘-তে একজন আনম্যারেড মেয়ে প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়।নিষিদ্ধ‘-র ডেফিনিশন যুগ অনুযায়ী বদলায়।এখন ফেসবুকে,টিভির এ্যাডে  নিষিদ্ধ বলে কিছু নেই।সবই দেখানো হয়। 

আপনার আপকামিং প্রোজেক্ট হল মানভঞ্জনআর বিবাহ অভিযান।এগুলো কি ওয়েবসিরিজ?

সোহিনী সরকার না, এটা ওয়েবসিরিজ নয়।এটা হৈচৈয়ের জন্য ফিল্ম।বিবাহ অভিযানরুদ্র দার লেখা।এটা ওই দূরদর্শনের  শঙ্কর চক্রবর্তীর বিবাহ অভিযাননয়।

আপনি ফড়িংথেকে শুরু করে নানান ধরনের ছবিতে অভিনয় করেন।অভিনয় করা আপনার পেশা।এই পেশার দিকে তাকিয়ে আপনি কি সব ধরনের ছবিই এ্যাকসেপ্ট করেন?নাকি এখানে একটু চুজি হন?

সোহিনী সরকার : সব ধরনের ছবি আমাকে করতে হবে।ফড়িংয়ের মতো ছবিও করতে হবে।আবার অন্যান্য ছবিও করতে হবে।প্রথম দিকে আমি খুব চুজি ছিলাম।এখন দেখুন সব কাজ যে দারুণ হবে,তার কোনও মানে নেই।একদম ননসেন্স ছবি করতে পারব না।বিশ্বাসযোগ্যতা নেই; এমন ছবিও করতে পারব না। 

পথের পাঁচালীর কথা আপনি বললেন।পঞ্চাশ,ষাট,সত্তর দশকে অধিকাংশ বাংলা ছবিতে সময়ের শব্দ ছিল।আজকের বাংলা ছবি হয়  থ্রিলার ধর্মী,নয় কোনও ভূতের গল্প বা নারী পুরুষের প্রেম যৌনতা কেন্দ্রিক।আজকের বাংলা ছবিতে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কোনও প্রতিফলন ধরা পড়ে না।কেন এরকম হচ্ছে বলে মনে হয়?

সোহিনী সরকার : দেখুন, শিল্প পলিটিক্স বাদে হতেই পারে না।এটা উৎপল দত্ত বলে গেছেন।থিয়েটার হোক,ফিল্ম হোক সেটা রাজনৈতিক এ্যাঙ্গেল বাদে হতে পারে না।আপনি যেটা বললেন,সেটা আমিও দেখতে পাচ্ছি না।সেটা কেন এরকম হচ্ছে?সেটার উত্তর পাওয়া সহজ নয়।

পলিটিক্যাল স্যাটায়ার ভবিষ্যতের ভূতরিলিজ করল,তখন তাকেও হল থেকে তুলে দেওয়া হল।আজকের রাজনীতি কি প্রতিবাদ প্রতিরোধের ভাষাকে বরদাস্ত করতে পারছে না?

সোহিনী সরকার খুবই নিন্দনীয়।ছবি ভালো না খারাপ সেটা স্বতন্ত্র প্রশ্ন।এটা সব দল সব সময় করেছে।বামফ্রণ্ট সরকারের সময়েও থিয়েটার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এটা তৃণমূলেও হয়েছে।বিজিপিতেও হবে।এতে প্রোডিউসারের ক্ষতি হয়।যে কোনও সভ্য সমাজে এটা কাম্য নয়।কিন্তু আমাদের ভারতবর্ষ কি আদৌ সভ্য?

বহু অভিনেতার সঙ্গে আপনি কাজ করেছেন। আবীর,ঋত্বিক, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী এবং আরো অনেকে।এ প্রশ্ন করব না যে কার সাথে কাজ করে আপনার ভালো লেগেছে।জানতে চাইব যে কার সাথে কালচারাল এক্সচেইঞ্জ করে আপনি সমৃদ্ধ হয়েছেন?

সোহিনী সরকার : আবীর দা খুব কঠিন কথা সহজ ভাবে বলে দিতে পারে।আবীর দা আমাকে প্রচুর বই পড়তে বলে।অনির্বাণ আমার সমবয়সী। অণির্বাণ থিয়েটার নিয়ে,অভিনয় নিয়ে কথা বলে।ঋত্বিক দা কীভাবে একটা ক্যারেক্টার পোট্রে করে, সেটা  আউটডোরে বলেছে।সমমনস্ক মানুষ থাকলে ঋত্বিক দা অনেক কিছু বলে | একেকজনের বলার অভিব্যক্তি একেকরকম।অনির্বাণের মধ্যে সব সময় একটা গম্ভীর ব্যাপার আছে।ওর সঙ্গে আড্ডাটা এইসব নিয়েই হয়।মানে কী পড়লাম?কী দেখলাম?রাজনীতি থেকে শুরু করে দেশ, সভ্যতা ইত্যাদি বিষয়ক কথা।সেটা আবীর দার সাথে সব সময় হয় না। 

আপনি অনেক ক্যারেক্টারে অভিনয় করেছেন।এমন কোনও ক্যারেক্টার আছে যেটা করতে খুব ইচ্ছা করে?

সোহিনী সরকার : প্রচুর আছে।কোনটা ছেড়ে কোনটা বলব?অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজেপ্রিয় উপন্যাস।এটা ছবি হলে খুব ভালো হবে।অনেক চরিত্র,অনেক লেয়ার দয়াময়ীর কথাআমার ফেবারিট।এরকম অনেক আছে।সব এই মুহূর্তে মাথায় আসছে না। প্রচুর পুরুষ চরিত্রও আমার পছন্দের। অপুর চরিত্র আমার খুব প্রিয়।ছোটবেলায় পড়েছিলাম,অপু বঙ্গবাসীতে পড়ে।তখন জানতামও না  বঙ্গবাসী কেমন?আর আমি বড় হয়ে বঙ্গবাসীতেই পড়েছি।

আপনাকে খুব একটা বুদ্ধিজীবীদের  প্রতিবাদ মিছিলে দেখা যায় না।আপনার প্রতিবাদের ধরন কেমন ?

সোহিনী সরকার : ‘ভবিষ্যতের ভূতনিয়ে যখন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল,সেই নিউজ আমি আমার ফেসবুক পেইজে শেয়ার করেছিলাম। আমার কথা ফুরিয়ে যায়।নইলে মনে হয় কথার শেষ নেই।আমি প্রতিবাদের বিষয় নিয়ে লিখেছি।কখনও আবার সাবকনশাসে ভয় পাই। জানি না কি হয়! ঠিক বুঝে উঠতে পারি না।নিজের সঙ্গে নিজের হয়ত একটা প্রতিবাদ চলে।

আপনি বিরতিহীন জীবনে বিশ্বাসী।কিন্তু অন্তহীন বিরতি এলে তখন কী করবেন?

সোহিনী সরকার : মৃত্যু দিয়ে থামা হতেই পারে।দেখুন জীবনের নিজস্ব একটা নিয়ম আছে।সেই নিয়মের কথা এখনই আমি বলতে পারব না। হতে পারে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব কিছু থেমে গেল।আবার প্রবল গতিতে চলল।এর জন্য আমি কোনও নিয়ম তৈরী করতে চাই না।

আপনি কি নিয়তি বিশ্বাসী?

সোহিনী সরকার : আমি ঈশ্বর বিশ্বাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here