বিভিন্ন সময়ে কাজের ক্ষেত্রে অন্যজনের দায়িত্বজ্ঞান না থাকার জন্য সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের | কিন্তু যদি ব্যাপারটি হয় কোনও মেডিক্যাল এমারজেন্সি সংক্রান্ত‚ তাহলে সেখানে ঠান্ডা মাথায় ঠিক সময়ে ঠিক কাজ করার প্রয়োজন হয় | অনেক সময়ই দেখা যায় রাস্তাঘাটে যানজটের জন্য প্রাণ হারাচ্ছেন বা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কোনও আশঙ্কাজনক অবস্থার রোগী | কিন্তু তাই বলে ৭ ঘণ্টা দেরিতে অ্যাম্বুল্যান্সের ঘটনাস্থলে পৌঁছনো  এমন গাফিলতির নজির বিরল |

কিন্তু ঘটল ঠিক এমনটাই | মা পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই লন্ডন থেকে দেভনের দিকে রওনা হয়েছিলেন ছেলে মার্ক ক্লেমেন্টস | স্থানীয় সময়ানুসারে সকাল ৯ টার সময় পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার পরে অ্যাম্বুল্যান্সকে খবর দেওয়া হয়েছিল মার্কের মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য‚ কারণ তিনি একেবারেই উঠতে পারছিলেন না | লন্ডন থেকে এক্সমাউথ অর্থাৎ ২০০ মাইল বা ৩২০ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে পৌঁছতে মার্কের সময় লাগে ৩ ঘন্টা ৪০ মিনিট | কিন্তু মায়ের কাছে পৌঁছে মার্ক দেখতে পান তখনও পর্যন্ত এসে পৌঁছয়নি অ্যাম্বুলেন্স | মার্কের পৌঁছনরও ৫০ মিনিট পর অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁর মা মার্গারেটকে নিতে পৌঁছয় |

এমন ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে সাউথ ওয়েস্টার্ন অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা | মার্ক এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান দীর্ঘ সময় ঠান্ডার মধ্যে থাকার ফলে তাঁর ৭৭ বছরের বয়স্ক মা মানসিকভাবে খুবই ভেঙে পড়েন এবং ব্যথার চোটে বলতে থাকেন এর চেয়ে মরে যাওয়াই তাঁর পক্ষে ভাল ছিল | মার্গারেটের বাড়ি থেকে অ্যাম্বুল্যান্স স্টেশনের দূরত্ব ১০ মিনিটেরও কম বলে জানিয়েছেন মার্ক |

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়  সাউথ ওয়েস্টার্ন অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা জানিয়েছে পরিষেবা পৌঁছতে দেরি হওয়ায় তারা ক্ষমাপ্রার্থী | দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে ওই দিন নাকি অনেকগুলি মেডিক্যাল এমারজেন্সি ছিল | এবং মার্গারেটের অবস্থার থেকেও বেশি সংকটজনক অবস্থায় থাকা রোগীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য এত দেরি করে মার্গারেটকে নিতে পৌঁছয় অ্যাম্বুল্যান্স | যদিও মার্গারেটের অবস্থা খুব সংকটজনক ছিল না এবং তাঁর অস্ত্রোপচারের পর তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করছেন‚ দেরি করার যে সাফাই অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা দিয়েছে তা অর্থহীন |

আরও পড়ুন:  জনশূন্য মৃতপ্রায় গ্রাম শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় এখন পুতুল উপত্যকা

NO COMMENTS